রাসেল মানে ব্যাট হাতে সবকিছুই সম্ভব!

স্পোর্টস এডিটর, বার্তা২৪.কম
নাটকীয় জয় এনে দিয়ে সতীর্থদের অভিনন্দনে সিক্ত আন্দ্রে রাসেল -ছবি: বিসিবি

নাটকীয় জয় এনে দিয়ে সতীর্থদের অভিনন্দনে সিক্ত আন্দ্রে রাসেল -ছবি: বিসিবি

  • Font increase
  • Font Decrease

৩৬ বলে চাই ৮৩ রান।

এমন পরিস্থিতিতে উইকেট হাতে যতই জমা থাকুন না কেন- বেশিরভাগই বোলিং দলের পক্ষেই বাজি ধরবেন। কিন্তু আন্দ্রে রাসেল যতক্ষণ ব্যাট হাতে উইকেটে আছেন ততক্ষণ আপনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার জন্য অপেক্ষা করতেই পারেন!

নইলে বাজি হারবেন নিশ্চিত!

বুধবার রাতে মিরপুরে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আন্দ্রে রাসেলের ব্যাট আরেকবার জানান দিল-ম্যাচ জেতাতে পারেন তিনি যে কোনো পরিস্থিতিতে!

হ্যাঁ আপনি ঠিক পড়ছেন যে কোনো পরিস্থিতিতে! ৩৬ বলে ৮৩ রানের পরিস্থিতিতে যখন ম্যাচ তখনো রাসেল একটি ছক্কা মারেননি। তার রান তখন ৩ বলে ১। ইনিংসের ১৫ নম্বর ওভারের শেষ বলে ম্যাচে নিজের প্রথম ছক্কা হাঁকান তিনি। সেটি ছিল তার ইনিংসের ৬ নম্বর বল। পরের ১৬ বলে আরো ৬ ছক্কা ও ২ বাউন্ডারি। অর্থাৎ ৮ টি বিগশটে তুলে নিলেন ৪৪ রান! রাসেলের মারের চোটে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পেসাররা খেই হারিয়ে বসলেন। ওয়াইড, নো তো ছিলই সেই সঙ্গে ছিল প্রচুর শর্ট বল, ব্যাটের সামনে দেওয়া লোপ্পা বল!

এমন সুযোগ রাসেল কেন মিস করবেন?

রুবেল হোসেনের করা ইনিংসের ১৬ নম্বর ওভার থেকে এলো ১৯ রান। রায়াদ এমরিট পরের ওভারে দুটো উইকেট তুলে নিলেন। কিন্তু তিন ছক্কায় তার খরচা হলো ২০ রান। মজার বিষয় হলো এমরিটের এই খরুচে ওভারে রাসেল কিন্তু একটি বল খেলারও সুযোগ পাননি। এই ওভারে তিন ছক্কা হাঁকালেন তিনজন! নওয়াজ ও ফরহাদ রেজা ছক্কা হাঁকিয়ে আউট হলেন। কামরুল ইসলাম রাব্বী ওভারের শেষ বলটাও পাঠালেন মাঠের বাইরে।

শেষ ১৮ বলে রাজশাহীর প্রয়োজন দাঁড়াল ৩৭ রানের। এই ৩৭ রানের মধ্যে ২৯ রানই করলেন রাসেল। ৫ রান আবু জায়েদের। বাকি তিন রান ওয়াইড ও নো বলের খরচা থেকে এলো।

শেষ তিন ওভারে যখন ৩৭ রান চাই তখন রুবেল হোসেন এলেন বোলিংয়ে। তার প্রথম বলেই কামরুল ইসলাম রাব্বী আউট। পরের চার বলে রাসেল কোনো রানই নিতে পারলেন না! শেষ বলটা লো ফুলটস পেলেন। বুম! ছক্কা!!

১২ বলে চাই ৩১ রান। কঠিন টার্গেট। মেহেদি হাসান রানার সেই ওভারের প্রথম বলে এক রান নিয়ে আবু জায়েদ রাহী স্ট্রাইক দিলেন রাসেলকে। পরের দৃশ্যে শুধুই মেহেদি হাসান রানার করুণ মুখ! ছক্কা-চার-ছক্কা! সবমিলিয়ে সেই ওভারে মেহেদি হাসান রানার খরচ ২৩ রান। ম্যাচের সবচেয়ে খরুচে ওভার ওটাই।

শেষ ওভারে তখন ম্যাচ জয় থেকে হাত বাড়ানো দূরত্বে দাঁড়িয়ে রাজশাহী রয়্যালস। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে অ্যাসেলা গুনারত্নেকে আরেকটি ছক্কা হাঁকিয়ে রাসেল রাজশাহীকে ফাইনালে তুলে দিলেন।

টুর্নামেন্টের পেছনের ম্যাচগুলোতে লম্বা ব্যাটিংয়ের তেমন সুযোগ পাচ্ছিলেন না রাসেল। পেলেও রান পাচ্ছিলেন না। কিন্তু দলকে ফাইনালে তুলে আনার বড় মঞ্চ যেন তার জন্যেই সাজানো হয়েছিল।

২২ বলে ৭ ছক্কা, ২ বাউন্ডারিতে ম্যাচজয়ী ৫৪ রান করে রাসেল জানিয়ে দিলেন এটাই আমার ব্যাটিং স্টাইল। বললেন-‘রান রেট যখন ওভারপ্রতি ১২/১৩ বা ১৪’র মতো লাগে তখন সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আমি ভালোবাসি। আবার কখনো কখনো আস্কিং রানরেট ১৫/১৬’র ঘরে পৌঁছায় তখনো আমি চ্যালেঞ্জটা নিতে পছন্দ করি। নিজের শক্তি সম্পর্কে আমরা পরিষ্কার ধারণা আছে। জানি শেষ পর্যন্ত থাকতে পারলে সম্ভব।’

আসলেই আন্দ্রে রাসেল ব্যাট হাতে উইকেটে আছেন মানেই-সবকিছুই সম্ভব!

আপনার মতামত লিখুন :