জিদানের সেই ঢুস নিয়ে মাতেরাজ্জির ‘জবানবন্দি’



স্পোর্টস এডিটর, বার্তা২৪.কম
জিদানের ঢুস কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মাতেরাজ্জি, ছবি: সংগৃহীত

জিদানের ঢুস কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মাতেরাজ্জি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০০৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে মার্কো মাতেরাজ্জি যা করেছিলেন তার প্রতিদান নাকি বাকি জীবনে পাননি তিনি! বার্লিন স্টেডিয়ামে সেই ফাইনালে ইতালির বিশ্বকাপ জয়ে কূট-কৌশল থেকে মাঠের পারফরম্যান্স সবকিছুই দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। তা সত্ত্বেও ইতালির ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে যথাযথ সম্মান মেলেনি তার। সেই বিশ্বকাপ জয়ের ১৪ বছর পর এসে এখন মার্কো মাতেরাজ্জির এই উপলদ্ধি।

আগে জানি ২০০৬ সালের সেই বিশ্বকাপে কি করেছিলেন মাতেরাজ্জি?

প্রথমার্ধে জিদানের পেনাল্টি গোলে ফাইনালে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। সেই অর্ধেই কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে ফাইনালে সমতা ফেরান মাতেরাজ্জি। আর দ্বিতীয়ার্ধে জিদানকে আজেবাজে কথা বলে রাগিয়ে তোলেন। সেই রাগ সামাল দিতে না পেরে জিদান মাথা দিয়ে মাতেরাজ্জিকে প্রচন্ড একটা ঢুস দেন। জিদানের সেই ‘হেডবাটে’ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মাতেরাজ্জি। সহকারী রেফারির সঙ্গে আলাপ করে ঘটনার বিবরণী শুনে জিদানকে লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন রেফারি। একজন কম নিয়ে খেলে ফাইনালের বাকি সময়টা রক্ষণের মেজাজে কাটিয়ে দেয় ফ্রান্স। অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচে সমতা থাকে। শেষে টাইব্রেকারে গড়ানো ফাইনালে বিশ্বকাপ জেতে ইতালি। আর সেই ফাইনালে ভিলেন হয়ে থাকলেন জিদান। পারফরম্যান্সের সঙ্গে কূট-কৌশল যোগ করে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জি সেই বিশ্বকাপের বিতর্কিত একজন।

সেই বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের পর্যালোচনায় এতদিন পরে মাতেরাজ্জির কাছে মনে হচ্ছে প্রাপ্য সম্মানটা তিনি পাননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাতেরাজ্জি বলেন- ‘ফরাসিরা জিদানকে সমর্থন করল। আর আমার স্বদেশীরা আমাকে খুন করল। আমার তো মনে হয় যারা এই কাজ করল তারা সত্যিকারের ইতালিয়ান না। আমি সারা জীবনই ইতালির স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করে গেছি। আর তাই আমাকে নিয়ে স্বজাতিদের সমালোচনায় আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি।’

সেই বিশ্বকাপের ফাইনালের স্মৃতি টেনে মাতেরাজ্জি বলছিলেন- ‘আমি সেই বিশ্বকাপে সমতাসূচক গোল করেছিলাম। ইতালিয়ানদের উচিত ছিল ঐ মাঠের ঘাসে চুমু খাওয়া। কারণ আমি খেলেছিলাম সেই মাঠে!’

ফাইনালে জিদানের ঢুস খাওয়া প্রসঙ্গে মাতেরাজ্জি স্বীকার করেন- ‘আমি তাকে সেদিন বোকার মতো কিছু বলেছিলাম কিন্তু তার (জিদানের) অমন প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত হয়নি। রোম, নেপলস, মিলান বা প্যারিসের মাঠে আমরা এর চেয়ে অনেক আজেবাজে কিছু বলে থাকি। আমি তাকে (জিদানকে) তার বোন সম্পর্কে কিছু একটা জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু কয়েকটি পত্রিকায় খবর বেরোল আমি নাকি তার মা সম্পর্কে বাজে কিছু বলেছি। দেখুন আমি ১৫ বছর বয়সে আমার মাকে হারিয়েছি। তাই মাকে নিয়ে কিছু বলার মতো অতো ছোট মানসিকতার মানুষ আমি নই।’