‘টেলিকম খাতের কর ব্যবস্থা ও ইকোসিস্টেম ব্যবসাবান্ধব করুন’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

টেলিকম খাতের কর ব্যবস্থা ও ইকোসিস্টেম ব্যবসা-বান্ধব করার আহ্বান জানিয়েছে এই খাতের নীতি-নির্ধারক ও প্রতিনিধিরা। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ খাত সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শ দেন তারা।

বুধবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে এমটব (অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের) ও বিআইজিএফ (বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভরনেন্স ফোরাম) আয়োজিত টেলিকম ট্যাক্স পলিসি ও ইকোসিস্টেম নিয়ে এক পলিসি ডায়লগে বক্তারা এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন বিআইজিএফের চেয়ারপারসন ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হাসানুল হক ইনু, এমপি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমাদের তরুণরা এখন ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা করছে। ডিজিটাল কানেক্টিভিটির অনেক সুবিধা রয়েছে। এ বিষয়ে আমি একমত যে উচ্চ কর দীর্ঘদিন ধরে একটি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, আমরা এনবিআরের কাছে টেলিযোগাযোগ খাতে উচ্চ করের প্রভাবের বিষয়টি সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারিনি। আমাদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চিন্তা করতে হবে, যেখানে যৌক্তিক হারে কর নির্ধারণের দিকে নজর দেওয়া দরকার।

হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশে টেলিকম খাতে কর খুব বেশি। এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কোষাগারে অনেক অর্থ দিচ্ছে, তাহলে তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে কেন? ট্যাক্স কমানো হলে সরকারের কোন ক্ষতি নেই, কারণ এতে পরোক্ষভাবে সরকারের আয় বাড়ে। মোবাইল খাতে করপোরেট ও ন্যূনতম টার্নওভার কর কমিয়ে অন্যান্য শিল্প খাতের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা উচিত।

হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, তামাক খাতের মতো ক্ষতিকর খাতে টার্নওভার ট্যাক্স যেখানে ১% সেখানে মোবাইল শিল্পে এই ট্যাক্স ২%, যা অবিবেচনাপ্রসূত। এটা ১% এর নিচে নামিয়ে আনা দরকার।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ওপর যে ভ্যাট রয়েছে তা তুলে দেওয়া দরকার। সরকার এ থেকে কতই বা আয় করে? আধুনিক জীবনে তথ্য সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি এবং মোবাইল খাত হলো এই তথ্য আদান প্রদানসহ সকল ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধানতম বাহন। গ্রাহকদের সেবা প্রদানের কথা বিবেচনায় রেখে এই খাতকে আরও কীভাবে জনবান্ধব করা যায় তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

পলিসি ডায়ালগে টেলিকম করনীতি ও টেলিকম ইকোসিস্টেম নিয়ে দুইটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম এবং এরিকসনের মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলংকার হেড অব নেটওয়ার্ক সল্যুশন এবং এরিকসন বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুস সালাম।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. খলিলুর রহমান বলেন, টেলিকম খাতকে সামনে এগিয়ে নিতে আমাদের বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। আমি মনে করি, কিছু কর যৌক্তিক করা দরকার। ট্যাক্স সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে প্রান্তিক গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমি এনবিআরের সাথে আলোচনা করব।

বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, দেশ বিদেশের সকল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যেন সঠিকভাবে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা অনুসরণ করেই তাদের ব্যবসা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। টেলিকম খাত শুধু সেবা প্রদানই নয়, দেশের প্রবৃদ্ধিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তাই তাদের প্রতি আমাদের ইতিবাচক মনোভাব সবসময়ই বজায় থাকবে। তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই আমরা বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি।

রবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিএফও এম. রিয়াজ রাশিদ বলেন, মার্কেটে যত বেশি প্লেয়ার থাকবে অপারেটরদের কাজের দক্ষতা তত বেশি কমবে। আর শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব গিয়ে পড়বে গ্রাহকদের উপর, কারণ এতে সেবা প্রদানের ব্যয় বেড়ে যায়। তিনি বিষয়টির উপর নজর দেওয়ার জন্য নীতি নির্ধারকদের মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন।

মূল প্রবন্ধে শাহেদ আলম বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের মোবাইল খাতের কর তুলনামূলকভাবে বেশি।তিনি আরও বলেন, অপারেটরদের বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন সন্তোষজনক নয়। একদিকে অপারেটরদের গ্রাহকপ্রতি গড় আয় কম অন্যদিকে মোবাইল ভয়েস ও মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে কম। আমরা আরও নতুন ধরনের সাশ্রয়ী সেবা প্রদান করতে চাই। কিন্তু সেবাদাতাদের যদি করের ভারে জর্জরিত করা হয় তাহলে তাদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যায়। আমরা এই খাতে যৌক্তিক হারে করারোপের দাবি জানাই। আমাদের মনে রাখা দরকার যে দেশের ৪৫ শতাংশ লোক নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও এখনও মোবাইল ব্যবহার করতে পারে না।

প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় আবদুস সালাম বলেন, দেশের নেটওয়ার্ক ক্রমশই বিকশিত হচ্ছে, পাশাপাশি নানা রকম সেবাও আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। অটোমেশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা মেশিন লার্নিং ইত্যাদি আমাদের এন্ড-টু-এন্ড সেবা প্রদানকে সহজ করে তুলছে। বাংলাদেশের টেলিকম ইকোসিস্টেমে অনেক বেশি সংখ্যক প্লেয়ার বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন নিয়ন্ত্রক, এমএনও, এনটিটিএন, টাওয়ারকো, গেটওয়ে প্রদানকারী, অ্যাকাডেমিয়া, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি ও আরও অনেকে। এদের যে কোন একটিকেও বাদ দিলে এই খাতের বিকাশ সম্ভব হবে না। ভবিষ্যৎ নেটওয়ার্ক ও সেবার জন্য সরকার এই শিল্পের সবার সঙ্গে বিশদভাবে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা বাংলাদেশে এই ইকোসিস্টেমের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, সরকারের 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' রূপকল্প বাস্তবায়নে টেলিকম অপারেটররা প্রধানতম সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। করের ভার এবং অন্যান্য অনেক চ্যালেঞ্জে থাকা সত্ত্বেও আমরা কোটি কোটি গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছি। আমরা সরকারের ভ্যাকসিন এবং বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার অংশীদার হতে পেরে গর্বিত। এখনও অনেক পথ যেতে হবে, কিন্তু আমরা জেনে খুশি যে সরকার লং ডিসট্যান্স টেলিকম নীতি নিয়ে কাজ করছে। আমাদের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এটি আমাদের আরও উৎকৃষ্ট সেবা দিতে সাহায্য করবে।

এ নিয়ে গ্রামীণফোনের অ্যাক্টিং সিসিএও হোসেন সাদাত বলেন, আমরা উচ্চ কর সমস্যা সমাধানের জন্য নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের প্রতি বছর বিপুল বিনিয়োগ করতে হয়। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনের জন্য, আমাদের খুব শিগগিরই টেলিকম খাতের ট্যাক্স ব্যবস্থার বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের অযৌক্তিক করের বৈষম্য দূর করতে হবে। ভালো ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে করের পরিমাণ কম হওয়া উচিৎ।তৃণমূল স্তরে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির জন্য, আমাদের কর যৌক্তিকীকরণ করতে হবে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বিটিআরসি’র স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল, রবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিএফও এম. রিয়াজ রাশিদ, ফাইবার এট হোমের চিফ টেকনোলজি অফিসার সুমন আহমেদ সাবির প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে শেষ করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.)।

‘গ্রাহক সেবা নিশ্চিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, গ্রাহকদের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করতে বিতরণ কোম্পানিগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। হয়রানিমুক্ত সেবা দক্ষতার সাথে দিতে হবে।

রোববার (৪ ডিসেম্বর ) ঢাকার একটি হোটেলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি নেসকো আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেচ কার্যে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ সোলারের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নিতে হবে। এলাকায় বা অকৃষি জমিতে নেসকো সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নিতে পারে। অগ্রাধিকার ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকরি জ্বালানি দক্ষতা অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করা আবশ্যক। ক্লীন এনার্জি প্রসারে ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিতরণ কোম্পানিগুলোকেও দায়িত্বশীল অবদান রাখতে হবে।

উত্তর বঙ্গের ১৬টি জেলায় নেসকো বিদ্যুৎ বিতরণ করে। ২০১২৫ কি:মি: বিতরণ লাইনের মাধ্যমে ৮৩০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করছে। সোলার পাম্প রয়েছে ২৭ হাজার ৫২৬টি, সোলার হোম সিস্টেম রয়েছে ১৩ হাজার ৯২৪টি।

সেমিনারে নেসকো পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি মো: মহসীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে বিদ্যুৎ সচিব মো: হাবিবুর রহমান ও পিডিবির চেয়ারম্যান মো: মাহবুবুর রহমান বক্তব্য রাখেন। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম। প্যানেল বক্তা হিসেবে ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো: নূরুল আলম, স্রেডার চেয়ারম্যান মুনিরা সুলতানা, বিপিএমআই-এর রেক্টর মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন।

;

বিআইজেএফ সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা দেবে ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতাল



সাব্বিন হাসান, আইসিটি এডিটর
বিআইজেএফ সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা দেবে ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতাল

বিআইজেএফ সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা দেবে ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতাল

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের (বিআইজেএফ) সঙ্গে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবায় চুক্তি সই করেছে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সই হয়।

ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন ও বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি নাজনীন নাহার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে চুক্তিতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরমান, নির্বাহী সদস্য এনামুর রহমান এবং ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স মোজাফফর হাসান খান মজলিস, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. হাফিজুর রহমান, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (বিপণন ও মিডিয়া) এইচএম দুলাল, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (করপোরেট) মো. হিরো মিয়া, মো. শেখ মোশতাক আহমেদ (জয়) ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যসেবায় চুক্তির মাধ্যমে বিআইজেএফ সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিবারের সদস্যরা ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা ও পরীক্ষায় বিশেষ ছাড়সহ করপোরেট সুবিধা নিতে পারবেন।

;

মেসি-নেইমারদের সাথে বিশ্বকাপে আছে ভিভো



মোজো ডেস্ক
মেসি-নেইমারদের সাথে বিশ্বকাপে আছে ভিভো

মেসি-নেইমারদের সাথে বিশ্বকাপে আছে ভিভো

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে উন্মাদনা। দেশেও লেগেছে ওই উন্মাদনার ঢেউ। প্রিয় দল নিয়ে সবাই ভাসছেন উত্তেজনার সাগরে। কেউবা ব্রাজিলের  সবুজ-হলুদ জার্সিতে নিজেদের সাজাচ্ছেন আবার কেউ আর্জেন্টিনার নীল-সাদায় আনন্দে ভাসছেন। এ নিয়ে সকাল থেকে মধ্য রাত অবধি চলছে চায়ের কাপে ঝড়।

কাতারে চলতে থাকা বিশ্বকাপ ফুটবলে আছে বিশ্বে জনপ্রিয় স্মার্টফোন ভিভোও। এবারের বিশ্বকাপের স্মার্টফোন স্পন্সর গ্লোবাল স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভো। স্টাইলিশ ও সাধ্যের মত দারুণ সব স্মার্টফোন এনে সারাবিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের তরুণদের মনও জয় করে নিয়েছে ভিভো।  

দেশে সম্প্রতি বেশি কিছু নতুন স্মার্টফোন নিয়ে হাজির হয়েছে ভিভো। ভি ২৫ সিরিজের নতুন দুইটি স্মার্টফোন অসাধারণ লুক ও পারফরমেন্সের কারণে সবার নজর কেড়েছে। এদিকে ওয়াই সিরিজের ওয়াই২২ এস অসাধারণ ফিচার ও  বাজেটবান্ধব হওয়ায়  তরুণদের আকৃষ্ট করেছে।

ভি২৫ সিরিজের দুইটি স্মার্টফোন ভি২৫ ও ভি২৫ ই এর ম্যাজিকাল ফিচার হলো এর কালার চেঞ্জিং গ্লাস। সূর্যের আলোতে গেলে অটোমেটিক স্মার্টফোনের পেছনের অংশের রং বদলে যায়। এই সিরিজে ব্যবহার করা হয়েছে ট্রিপল মেইন রেয়ার ক্যামেরা যার মেইন ক্যামেরাটি ৬৪ মেগাপিক্সেলের । ভি২৫ এর দাম ধরা হয়েছে ৪৭,৯৯৯ টাকা এবং ভি২৫ই এর মূল্য ধরা হয়েছে ৩১,৯৯৯ টাকা।

এদিকে স্টাইল ও প্রযুক্তির অনন্য সমন্বয়ে ভিভো এনেছে ওয়াই২২এস। শক্তিশালী প্রসেসর, নান্দনিক ডিজাইন, আর্কষণীয় ক্যামেরা স্মার্টফোনটিকে করে তুলছে অনন্য। স্মার্টফোনটির  দাম ধরা হয়েছে ২১, ৯৯৯ টাকা।

নজরকাড়া এই স্মার্টফোনগুলো মিলবে সারাদেশে ভিভোর অথোরাইজড আউটলেট বা ভিভো ই-স্টোরে।

;

নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৫৪



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২২ সালের নভেম্বর মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৬৩ টি। দুর্ঘটনায় নিহত ৫৫৪ জন এবং আহত ৭৪৭ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৭৮ জন এবং শিশু ৭১।

রোববার গণামধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৪ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২২৯ জন, যা মোট নিহতের ৪১.৩৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪১.৯০ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১২৩ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২২.২০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৭৯ জন, অর্থাৎ ১৪.২৫ শতাংশ।

এই সময়ে ৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত, ৭ জন আহত ও ২ জন নিখোঁজ রয়েছে। ৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ৩০.৬৬%, প্রাণহানি ৩১.৪০%, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৮.৭৯%, প্রাণহানি ১৮.৫৯%, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৪.৯০%, প্রাণহানি ১৪.২৫%, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৯.৫০%, প্রাণহানি ৯.৩৮%, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৭.১২%, প্রাণহানি ৬.৩১%, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪.১০%, প্রাণহানি ৩.৬১%, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.২০%, প্রাণহানি ৯.২০% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৬৯%, প্রাণহানি ৭.২২% ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১৪২টি দুর্ঘটনায় ১৭৪ জন নিহত। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ২৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং ময়মনসিংহ জেলায় সবচেয়ে বেশি ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে মানিকগঞ্জ, নড়াইল, ঝালকাঠি, লালমনিরহাট ও রাঙ্গামাটি জেলায়। এই ৫টি জেলায় ১১টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

রাজধানী ঢাকায় ১৮ টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়ছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন,  বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি, গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে-

১. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে;

২. চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করতে হবে;

৩. বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে;

৪. পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে;

৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্ব রাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি করতে হবে;

৬. পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে;

৭. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে;

৮. রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে;

৯. টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে;

১০.“সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮” বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

;