মাঝরাতে জয়পুরের পথে



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মধ্যরাতের রাজস্থান, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

মধ্যরাতের রাজস্থান, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

  • Font increase
  • Font Decrease

কলকাতা থেকে ইনডিগো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট জমজমাট জয়পুর বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালো রাত প্রায় ২টায়। টের পেলাম, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ ব্যবস্থা চরম ভাবে বিকশিত হয়েছে। অনেকগুলো কোম্পানি সকাল, দুপুর, সন্ধা, রাতে বহু ফ্লাইট পরিচালনা করছে ভারতের বড় বড় শহরগুলোর মধ্যে। দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, কলকাতার মতো আঞ্চলিক বড় শহর ছাড়াও ফ্লাইট চলছে ইন্দোর, ভূপাল, বেঙ্গালুরু, হায়দারাবাদ, আগরতলা ইত্যাদি প্রায় সকল শহরেই। কোনও কোনও রাজ্যের রাজধানী ছাড়াও বড় শহরে বিমানবন্দর আছে। সেখানেও অনায়াসে যাতায়াত করা যাচ্ছে।

কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে মাঝরাতেও বিরাট ভিড় দেখেছি। স্বল্প ব্যয়ে ভ্রমণের জন্য উপযোগী বিমান কোম্পানিগুলো বাজেট ক্যারিয়ার নামে পরিচিতি, যাদের মধ্যে ইনডিগো, স্পাইস জেট ইত্যাদি অন্যতম। এসব বিমানের টিকেট আগেভাগে কাটলে মোটামুটি কম খরচে দূরদূরান্তে যাওয়া যায়। ফলে ট্রেনের লম্বা সময়ের সফরের ধকল এড়িয়ে সামান্য কিছু টাকা বাড়িয়ে লোকজন প্লেনেই চলাচল করছেন আজকাল। তবে, এসব প্লেনে খাবার কিনে খেতে হয়, এটাই নিয়ম। এক-দুই বার পানি ছাড়া আর কোনও সার্ভিস নেই।

ইনডিগোর বিমান বেশ ঝকঝকে। ১৮০ আসনের এ-৩২০ এয়ারবাসটি বাজেট ক্যারিয়ার হলেও মোটামুটি সুপরিসর। মজার ব্যাপার হলো বিমানে কোনও এক্সিকিউটিভ ক্লাস নেই। টানা ইকোনমি ক্লাসের সিট দিয়ে বিমানটি সাজানো হয়েছে। ভেতরে স্টাফও কম। মাত্র চার জন পুরো বিমান সামলাচ্ছে। আমাদের দেশের বিমান সেবক-সেবিকার চেয়ে আচরণে, দক্ষতায়, পরিশ্রমে এরা বেশ এগিয়ে।

ঘোষণা থেকে জানলাম, যে পাইলট বিমান চালাচ্ছেন, তিনি জয়পুরবাসী। দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরার পথেও জানানো হয়েছিল, পাইলট কলকাতার বাঙালি। সম্ভবত বিমানের রুট অনুযায়ী পাইলট, স্টাফ নিয়োগ করা বিসনেস পলিসির অংশ।

বিমানে বসেই ভাষা বদলে যাওয়ার ধ্বনি-তরঙ্গের আঁচ স্পষ্ট হলো। যাত্রীদের মধ্যে অবাঙালির প্রাধান্যও পরিষ্কার দেখা গেলো। সহযাত্রী তম্বী তরুণী এক মনে একটি ইংরেজি বই পড়ছে। বইটির শিরোনাম আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। চমৎকার নাম বইটির: Don’t Make Me Think: A Common Sense Approach to Web and Mobile Usability লেখক Steve Krug.

আগ্রহী হয়ে এক সময় বইটি চেয়ে নিলাম। আমি ভেবেছিলাম, বইটি বিসনেস বা হিউম্যান রিসোর্সের হবে। কিন্তু সূচিপত্র ও ভূমিকায় চোখ বুলিয়ে বুঝলাম, জনসংযোগ ও বিজ্ঞাপন বিষয়ের বই। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ওয়েবসাইট ও মোবাইলের কত রকমের বাণিজ্যিক, গণযোগাযোগ ও বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত ব্যবহার করা যায়, সেসবই বইটি আলোচ্য বিষয়।

book

ওয়েবসাইট ও মোবাইলের ব্যবহার নিয়ে চমৎকার বই, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

 

এমন বই তো সবার পড়ার কথা নয়! আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে তরুণীর দিকে তাকাই। যার কাছ থেকে বইটি নিয়েছি, তাকে নিরীক্ষণ করতে আগ্রহী হলাম। কথা বলে জানলাম, তার নাম ভাবনা মোদি। কলকাতার বাসিন্দা। নিউ আলিপুরে বসবাস করে। কলকাতায় তাদের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা আছে। তার স্বামী কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনিও একই বিজ্ঞাপনী সংস্থায় আছেন।

আমার আগ্রহ আরও বাড়লো। আমি তার সঙ্গে আলাপে জড়িয়ে পড়ি:

-আপনি কি রাজস্থানী? রাজপুত জাতির সদস্য?

মিষ্টি হেসে উত্তর দিল মেয়েটি:

-না, আমি মাড়োয়ারি।

চট আমার করে মনে পড়লো কলকাতায় মাড়োয়ারিদের একটি শক্ত অবস্থান আছে। মুঘল আমল থেকেই বাংলায় মাড়োয়ারিদের দাপট। ঢাকা, মুর্শিদাবাদ, কলকাতায় কয়েক’শ বছর ধরেই তাদের শক্ত ঘাঁটি আছে। জগৎ শেঠের আমলে মাড়োয়ারিরা তো রাজনীতি ও ক্ষমতা বদলের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালেও ভারত বিভাগের সময় তাদের ভূমিকা অজানা নয়। বাংলাকে ভাগ করা ও কলকাতাকে ভারতের অংশ করার ক্ষেত্রে এদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। ভাবনা মোদির সঙ্গে কথা বলে জানলাম, ধর্মে সে জৈন। রাজস্থানের মাড়োয়ারের যোধপুরে তার আদিবাস। সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন।

সত্যি কথা বলতে কি, আমি জীবনে কোনও জৈনকে এতো কাছ থেকে দেখিনি। তার কাছ থেকেই জানলাম, জৈন ধর্মের প্রধান স্থান রাজস্থান। জৈনদের দশটি প্রধান তীর্থের পাঁচটিই রাজস্থানে। রাজস্থানের গুজরাত ও পাকিস্তান সীমান্তের মাড়োয়ারে জৈনদের প্রাধান্য রয়েছে।

রাজস্থান রাজপুতদের রাজ্য হলেও তা আসলে অনেকগুলো রাজ্যের মিলিত রূপ। ভারত বিভাগের সময় উপমহাদেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ’শ দেশীয় রাজ্য ছিল। এদের কয়েকটি মিলে হয়েছে রাজস্থান। সাধারণত দেশীয় রাজ্যের মধ্যে কাশ্মীর, হায়দারাবাদ, জুনাগড়ের নাম রাজনৈতিক সংঘাত ও সঙ্কটের কারণে অধিক প্রচারিত হলেও অন্য রাজ্যগুলোর কথা প্রায় জানাই যায় না। ভারত বিভক্ত হলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বল্লভ ভাই প্যাটেল রাজ্যগুলোকে শক্তি, বুদ্ধি ও কৌশলে ভারতের অন্তর্ভূক্ত করেন।

রাজস্থানের রাজপুতদের রাজপুতানা রাজ্য ছাড়াও মেবার, আজমির, মাড়োয়ার ইত্যাদি রাজ্য একাকার হয়ে বর্তমান কাঠামো পেয়েছে। ফলে রাজ্যটি বহু সংস্কৃতি ও ধর্মের উজ্জ্বল নিদর্শন। জয়পুরে রাজস্থানী বিষয়গুলো প্রাধান্য পেলেও যোধপুরে মাড়োয়ারি আর উদয়পুরে মিশ্র সংস্কৃতির দেখা পাওয়া যায়। ভাষা, ধর্ম, আচার-আচরণেও রাজস্থানের এলাকা বিশেষে কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ভাবনা মোদির কাছ থেকে রাজস্থানের আগাম তথ্য পেয়ে ভালো হলো। ভাবনা কলকাতার বৌ, সে পড়াশোনা করেছে পুনেতে। নিউ আলীপুর ছাড়াও কলকাতার অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত এলাকাগুলো মূলত মাড়োয়ারিদের দখলে। বড়বাজারের ব্যবসার মতো বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড, যোধপুর পার্ক, গার্ডেন রিচ, আলীপুর এবং অধুনা নিউ টাউন, সল্টলেকে মাড়োয়ারিদের মজবুত বসতি রয়েছে। মধ্য কলকাতার ইংলিশ মিডিয়াম নামী স্কুলগুলোও চলে প্রধানত মাড়োয়ারি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। শিক্ষা ও আর্থিক দিক থেকে মাড়োয়ারি জৈনরা যে কত এগিয়ে তা পরে চাক্ষুষ করেছি রাজস্থানের নানা স্থানে।

কলকাতাতে নানা কোম্পানি আর বড়বাজার, চৌরঙ্গীর ব্যবসাগুলো মাড়োয়ারিদের দখলে। কলকাতায় বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানরা প্রধানত চাকরিজীবী, পেশাজীবী। কিছু কিছু উদ্যোক্তা বাঙালি হলেও ক্ষমতা ও অর্থের মূল শক্তি মাড়োয়ারিদের দখলে। টালিগঞ্জের সিনেমা ব্যবসার প্রধান লগ্নীও মাড়োয়ারিদের। এই গোষ্ঠী যে এখনো কত পাওয়ারফুল তার প্রচুর দৃষ্টান্ত আছে। সিনেমা ছাড়াও ক্রিকেট, মিডিয়া ওদের করায়ত্ত।

কলকাতার বাঙালি মুসলমান নায়িকা নুসরাত জাহান রুহির কথাই বলা যাক। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে এসে লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের এই অভিনেত্রী-রাজনীতিবিদ বিয়ে করেছেন একজন মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী নিখিল জৈনকে। বিরাট আয়োজনের জমকালো বিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। পশ্চিমবঙ্গের সমাজ ও অর্থনীতিতে মাড়োয়ারিদের প্রভাব এ থেকেই আঁচ করা যায়।

কথায় কথায় বিমান জয়পুরের মাটি স্পর্শ করলো। আকাশ থেকে নগরের বিচ্ছুরিত আলোকচ্ছটা ছাড়া বিশেষ কোনও দ্রষ্টব্য চোখে পড়ল না। জয়পুরের সংঘানার বিমান বন্দরটি ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের মর্যাদা পেয়েছে। দুটি রানওয়ে নিয়ে বিমান বন্দরটি মূল শহরে ১৫ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। এখানে দুটি বিমান সংস্থার মূল অফিস। একটি সুপ্রিম এয়ার লাইন্স ও আরেকটি এলায়েন্স এয়ার।

বিমান বন্দরটির ভেতরের ডেকোরেশন সাজানো হয়েছে রাজস্থানী ইমেজে। গম্বুজ, অশ্বারোহী সৈনিক, হাতি, উট, ময়ূরের ছবি ও স্ট্যাচু লাউঞ্জের আনাচে কানাচে ছড়ানো। পুরো আবহকে রাজস্থানী আঙকে নিয়ে আসা হয়েছে চমৎকার ভাবে।

অল্প সময়ের মধ্যে বিমান বন্দরের বাইরে বেড়িয়ে আসা গেল। আবহাওয়ার পরতে পরতে শরতের হাল্কা শীত মেশানো। ড্রাইভার জানালেন, দিনে কিছুটা গরম থাকলেও পরিস্থিতি নাতিশীতোষ্ণ। ‘আপ লোক সহিহ মৌসুম ম্যা আয়া’। ড্রাইভারের হিন্দি শুনে ভারতের সবচেয়ে বড় অংশ হিন্দি বলয়ে অবস্থানের রেশ টের পেলাম। দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার মিলে যে হিন্দি বলয়, তা ভোটের বিচারে ভারতের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র। এখানে যারা সুবিধা করে, ক্ষমতার দৌঁড়ে তারাই এগিয়ে যায়।

রাতের বিমান বন্দর থেকে বাগান ও বৃক্ষ শোভিত নগরের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে কানে বাজলো মধ্যযুগের অশ্বধ্বনি। দূরে দেখা গেলো আলোক শোভিত প্রাসাদ। ঐতিহাসিক রাজস্থানের প্রাচীন রাজধানী শহরের পথ ডানে রেখে আমরা চলে এলাম রাজধানীর নতুন অংশের টঙ্ক রোডের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়।

আরও পড়ুন

উত্তর ভারতে সোনালি ত্রিভুজের ডাক

কলকাতায় বিকেল গড়িয়ে রাত

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর-ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর  চলতি বছরের ১ এপ্রিল সীমান্ত খুলে দেয় মালয়েশিয়া। মূলত ওইদিন থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এর ফলে ফের পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ‘ট্যুরিজম মালয়েশিয়া’ ২ থেকে ৭  জুন বাংলাদেশের  গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে প্রথমবারের মতো রোডশো’র আয়োজন করছে।

ঢাকায় রোববার (৫ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য  রোডশো’র আয়োজন করে মালয়েশিয়া পর্যটন উন্নয়ন বোর্ড- ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিবলুল আজম কোরেশী সহ স্বনামধন্য সকল ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটররের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এবং ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’র সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুর আলম।

এদিকে রোডে শো উপলক্ষে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক (কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ) সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এর নেতৃত্বে একটি মালয়েশীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মালয়েশিয়ার ৫টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং দুটি স্বাস্থ্যশিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম বক্তব্য রাখছেন

অনুষ্ঠানে রোড শো’র আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তরা জানান, মালয়েশিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করার সাথে সাথে এই রোডশো’র লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যার মাধ্যমে তারা পর্যটনকে পূর্বাবস্থায় বা আরো ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার এটি একটি দারুণ সময় এবং রোডশো আয়োজনের জন্য যথার্থ। বাংলাদেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য মালয়েশিয়ার সীমান্ত উন্মুক্তকরণ বলতে গেলে একই সময়ে সংঘঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানোর সূযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত। পর্যটকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রোমাঞ্চকর আকর্ষণগুলো সাশ্রয়ী খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ দুবছর পর পর্যটকরা এখন অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া আউটডোর থিমপার্ক, গেন্টিং স্কাইওয়ার্ল্ড, কুয়ালালামপূরে নতুন সাজে সজ্জিত সানওয়ে রিসোর্ট এবং জাকজমকপূর্ণ নতুন আকর্ষণ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু অট্টালিকা ‘মারদেকা ১১৮’। অনিন্দ্য সুন্দর সমূদ্রতট, চিত্তাকর্ষক পর্বতমালা ও বনোরাজিসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর কর্মকান্ড আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যার হিসেবে মালয়েশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথম দিকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন; যা মোট সংখ্যার ১৯.৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ণ কোর্স কোভিড টিকাপ্রাপ্ত বিদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণে কোন কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই। আসার আগে ও যাওয়ার পর  পর্যটকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা লাগবে না। ১৭ বছর বা তার নিচের বয়সী শিশুদের জন্যও করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাটিক এয়ার এবং এয়ার এশিয়া ঢাকা এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহে ৩ হাজার ৯১০ টির বেশি আসন অফার করছে।

;

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছর পর পুরোদমে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সীমানা সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা কর্মী যারা দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন তারা খুব সহজেই মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তাদের কোয়ারেনটিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের অবশ্যই যাত্রার দুই দিন আগে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এবং পৌঁছানোর পরে একটি দ্রুত পরীক্ষা (আরটিকে) করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের সীমানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

;

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করলেই যাওয়া যাবে মালদ্বীপ। বিশ্বের যেকোনো দেশের পর্যটকরাই এ সুযোগ নিতে পারবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো যাত্রী যদি করোনা প্রতিরোধ টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ (বুস্টার ডোজ প্রয়োজন নেই) নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ থেকে সেসব যাত্রীর মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আরটি-পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হলো। সূত্র: লয়ালটিলবি ডটকম

;

সাদা পানির ঝর্ণা



তৌফিক হাসান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধকার থাকতেই ভোর ৫টা নাগাদ হোটেল ছেড়ে নৌকা ঘাট পৌঁছে গেলাম। ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই কিছু জেলে নৌকা নিয়ে নেমে গেছে কাপ্তাই লেকের জলে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। আজকের যাত্রা সাদা পানির ঝর্ণা তথা ধুপপানির উদ্দেশ্যে। রাঙমাটির বিলাইছড়ি ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ আমাদের বোট ছাড়ল উলুছড়ির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকেই শুরু হবে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং। লোকালয়ের পাশ দিয়েই এগিয়ে চলছে আমাদের বোট। স্থানীয়রা কেউ কেউ লেক ঘেষা রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউ কেউ কৌতুহলী দৃষ্টি আমাদের বোটের দিকে তাকিয়ে আছেন। এবারের যাত্রায় আমরা মোট ৯ জন যাচ্ছি। সবারই পাহাড়ে হাঁটার অল্প বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন নন-এসি বাসে করে কাপ্তাই এসেছিলাম। কাপ্তাই ঘাট থেকে দুই দিনের জন্য ৫৫০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে আমরা রাঙ্গামাটির বিলাছড়িতে পৌঁছেছি। রাত্রিবাস হয়েছে ঘাট লাগোয়া স্মৃতিময় বোডিং-এ। কোনরকমে থাকা যায় সেরকম রুমের ভাড়া পড়েছে ১০০০ টাকা।

কাপ্তাই লেকের বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলছে। বিগত কয়েকদিন বৃষ্টিজনিত পাহাড়িঢলের কারণে সব পলিমাটি এসে জমা হয়েছে সুন্দরি কাপ্তাইয়ের বুকে, তাই পানি একেবারে ঘোলা। সুন্দর পানিপথের মাঝে মাঝে জংলার মতন আবার কখনো বা নাম না জানা জলজ ফুল দেখতে পাচ্ছি। সামান্য যাবার পর বিলাইছড়ি আর্মি সদর দফতরের নৌ-চেক পোস্ট পড়লো সেখানে যথাযথ পরিচয় লিপিবন্ধ করেই আবার সচল হলো আমাদের নৌকার ইঞ্জিন। নৌকা এবার নদী বা খালের মতো সরু পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। কি মনোরম এই পথ, সবুজে ঘেরা খাড়া পাহাড়কে পাশে রেখে চলছি। মাঝে মাঝে পাহাড়ের খাজে শুভ্র মেঘকে আটকে থাকতে দেখছি যেন সবুজ পাহাড় তার শুভ্রতায় ভরা প্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে। আমরা কেউ কোনো কথা বলছিনা, অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি।

কাদা মাটি মাড়িয়ে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং শুরু

এক পর্যায়ে আমরা আলীক্ষিয়াং নামক একটা স্থানে দাঁড়িয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। এখানে খুব কম সংখ্যক পরিবারই বাস করে যার মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার আছে বাঙালি। লাল মিয়া নামে এক বাঙালির হোটেলে ঝটপট নাস্তা করেই যাত্রা শুরু হলো। মিনিট ৫/৭ পরেই আবার দাঁড়াতে হলো আরেকটা আর্মি চেক পোস্টে, যথারীতি পরিচয় লিপিবদ্ধ করার পালা। এবারে চেক পোস্ট থেকে আমাদের সতর্ক করা হলো ফিরতি পথে বিকেল ৫টার মধ্যেই এই চেকপোস্ট পার হতে হবে। চেকপোস্ট পেরিয়ে সুন্দর নদীপথ ধরে যেতে যেতে মোটামুটি আড়াই ঘণ্টায় উলুছড়ি পৌঁছে গেলাম। ঘাট থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক ক্ষুদে গাইড বিচ্ছুকে সাথে নিয়ে শুরু হলো মূল ট্রেকিং। যাত্রা শুরুর পূর্বে মাঝির মাধ্যমে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করে গেলাম স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে, কারণ এখানে কোন খাবারের দোকান নেই। ২০০ টাকায় আমাদের ভাত, মুরগি, আলু ভর্তা আর ডাল খাওয়ার ব্যবস্থা হলো।

যাইহোক ট্রেকিং এর শুরুতেই পথটা বেশ খারাপ। খানিকটা পথ বেশ পিচ্ছিল, গ্রিপ পেতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আর বেশ খানিকটা পথ ভয়াবহ কর্দমাক্ত, মোটামুটি হাঁটুর সমান কাঁদা। এ ধরনের রাস্তার আলাদা একটা মজা আছে, আমরা পাহাড়ে আসি রোমাঞ্চের খোঁজে আর এরকম পথ, নালা, জংগল, চড়াই-উতরাই ও ঝর্না দেয় ভীষণ রকম আনন্দ। ধুপপানিতে বর্ষার শেষ দিকে যাওয়াই উত্তম বিধায় আমরা সেপ্টেম্বর মাসে যাচ্ছি এই পথে। অন্য সময় গেলে হয়তো অন্যরকম সৌন্দর্য দেখতে পাবো কিন্তু ঝর্ণায় বেশি পানি পেতে হলে এর থেকে দেরিতে যাওয়া ঠিক হবে না।

অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি

 

ট্রেকিং শুরুর খানিক পরেই একটা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গ্রাম পড়ল, চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে সমতল আর সেখানে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারন করে আছে। কি সেই সৌন্দর্য, সবুজের মাঝে খানিকটা সোনালি আভা একেবারে চিরায়ত বাংলার রূপ। গ্রামবাসীরা তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করছিল আমরা সেখান থেকে দেশি লাল পেয়ারা আর পেঁপে কিনে খেয়ে হাঁটা দিলাম।

এরপর প্রথমে একটা সিড়ি তারপর খাঁড়া তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে বেশ হাঁপিয়ে গিয়ে বিশ্রাম নেবো বলে চিন্তা করতেই দূরে তাকিয়ে দেখি দুটো শিশু কি যেন বিক্রি করছে! ওদের কাছে গিয়ে দেখি কলার ছড়ি ঝুলিয়ে রেখেছে, প্রতি পিস ৫ টাকা। অতঃপর বেশকিছু কলার সুব্যবস্থা করে সেখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হলো আমাদের। আরও কিছুদূর গিয়ে ধুপপানি গ্রামে পৌঁছে দেখি টেবিল পেতে রীতিমতো দোকান সাজিয়ে বসে আছে, জুস পানি চিপস শসা আর ফল-মূল কি নেই সেখানে! আবারও পেয়ারা কিনে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো আমাদের।

সাদা পানির ঝর্ণা

হাচরে-পাচরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছে গেলাম ধুপপানিতে। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে এর অবস্থান। খুব বেশিদিন হয়নি মানুষজন এই ঝর্ণার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু বছর আগে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এই স্থানে ধ্যান করার কারণে নয়নাভিরাম এই ঝর্ণাটি মানুষের নজরে আসে। তঞ্চঙ্গ্যা শব্দে ধুপ অর্থ সাদা আর পানিকে পানিই বলা হয় অর্থাৎ ধুপানির অর্থ সাদা পানির ঝর্ণা ।

মূলত এই ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ এবং যখন অনেক উঁচু (প্রায় ১৫০ মিটার) থেকে ঝর্ণার জল আছড়ে পড়ে তখন তা শুধু সাদাই দেখা যায়। তাই একে ধুপপানি ঝর্ণা বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝরনাগুলির মধ্যে অন্যতম এই ঝরনায় নিচের দিকে একটি গুহার মতন আছে। যা এই ঝরনাকে করেছে অনন্য।

;