সায়নীর রাজনৈতিক অ্যাকশন!



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
চলচ্চিত্রের মতো রাজনীতিতেও অনেক দূর যাবেন সায়নী ঘোষ

চলচ্চিত্রের মতো রাজনীতিতেও অনেক দূর যাবেন সায়নী ঘোষ

  • Font increase
  • Font Decrease

পর্দায় ড্যামকেয়ার নায়িকা রূপে অনেক অ্যাকশন দেখিয়েছেন। পরিচালকের অ্যাকশন শুনে শুনেই গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ক্যারিয়ার। সায়নী ঘোষ এবার বাস্তবের মাঠে দেখাচ্ছেন রাজনৈতিক অ্যাকশন।

অ্যাকশনের শুরু অবশ্য রাজনীতিতে যুক্ত হয়েই আরম্ভ করেন তিনি। কয়েক লক্ষ ফলোয়ার নিয়ে সরব হন ফেসবুক পেজে ও লাইভে। নির্বাচনে লড়তে গিয়ে আসানসোলের রুক্ষ জমিনে নিজের পায়ের ছাপ রাখেন। বিজেপির ডাকসাইটে নেত্রী, ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পলের কাছে অল্প ভোটে হেরেও জয় করেন জনচিত্ত।

হারকে জয়ে রূপান্তরিত করে হয়েছেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় প্রধান। পদ পেয়েই শুরু করেন অ্যাকশন। প্রতিদিন অফিস করছেন। রাজ্যের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন। পালন করছেন একের পর এক কর্মসূচি। বারাসাত তৃণমূল যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে বারাসাত হরিতলা মোড়ে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন।

কোলকাতার যুব সংগঠনের তরফ থেকে ২২ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে চালু করেছেন কমিউনিটি কিচেন। নদীয়া ও কল্যাণীতে জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজন করেছেন রক্তদান শিবির। গয়েশপুরে চালু করেছেন মা ক্যান্টিন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমুল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে 'টিম অভিষেক'-এর দ্বারা কুলটি, বারাবনি বিধানসভার বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ থেকে বিভিন্ন গ্রামে সেনিটাইজেশন, অক্সিমিটার চেক, মাস্ক বিতরণ করে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে সায়নীর উদ্যোগে। যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের প্রতিদিনের ওষুধ কিনতে অক্ষম তাদেরকে ওষুধ কেনার জন্য আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে তার নেতৃত্বে।

সায়নী মিডিয়ায় বলেছেন, 'মানুষের ও পার্টির সহকর্মীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা আমি পেয়ে চলেছি তার জন্য সকলকে একান্ত ধন্যবাদ জানাই। করোনা পরিস্থিতির জন্য সকলের সঙ্গে একসঙ্গে দেখা করা সম্ভব হচ্ছে না। খুব শীঘ্রই জেলা সফর শুরু করবো তখন সকলের সঙ্গে দেখা করতে পারবো এই আশা রাখি।'

'বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ২৩ টি জেলার বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় ভাবে তৃণমূল যুব কংগ্রেস নিজস্ব পরিসরের মধ্যে যে ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছে তার জন্য সকলকে জানাই কুর্ণিশ। সকলে এই ভাবেই মানুষের পাশে থাকুন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের বার্তা সকল ক্ষেত্রে পৌঁছে দিন। আগামী দিনে যুব সংগঠনকে আরও সুদৃঢ় করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা করব', বলেন সায়নী ঘোষ।

সায়নী ঘোষকে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্ব দিয়ে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল করেন নি, এমনই মন্তব্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদেরও। দায়িত্বে এসেই যুব সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ময়দানে নেমে তা প্রমাণ করেছেন সায়নী। প্রতিদিন তৃণমূল ভবনে দলের সাংগঠনিক বৈঠক করছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দিক নির্দেশনা নিচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও একটা সময় যুব সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন। ফলে তৃণমূলের যুব শাখাকে শক্তিশালী করার জন্য সায়নীকে একাধিক পরামর্শ দিয়েছেন নেত্রী। সংগঠনের সকলকে নিয়ে উন্নয়নকে সামনে রেখে এগিয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ পড়ুয়া এবং চলচ্চিত্র জগৎসহ নানা পেশার যুব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার উপদেশ দিয়েছেন নেত্রী। এরই পাশাপাশি সায়নীকে সতর্ক করে নেত্রীর বার্তা—দলীয় কোনও ব্যক্তির নিজস্ব কার্যকলাপ যাতে তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট না করতে পারে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।

করোনা পরিস্থিতির এই সঙ্কুল পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ পেয়ে সায়নী জানান, 'নেত্রীর দেখানো পথেই উন্নয়নের লক্ষ্যে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাবো।'

রূপালি পর্দা থেকে রাজনীতিতে এসে অতীতে অনেকেই ছিলেন অতিথি পাখির মতো। ইমেজ দিয়ে দূর থেকেই রাজনীতি করেছেন তারকারা। সায়নী সেই চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক অ্যাকশনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হচ্ছেন সায়নী ঘোষ। অবিরাম তৎপরতায় চলচ্চিত্রের মতোই রাজনীতিতেও অনেক দূর যাবেন এই তরুণ নেত্রী, মন্তব্য বিশ্লেষকদের।