‘দ্য গ্র্যান্ড ডটার প্রজেক্ট’এর রচয়িতা শাহীন চিশতীর সাক্ষাৎকার



এরশাদুল হক টিংকু
দ্য গ্র্যান্ড ডটার প্রজেক্ট-এর প্রচ্ছদ

দ্য গ্র্যান্ড ডটার প্রজেক্ট-এর প্রচ্ছদ

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহীন চিশতি, বিখ্যাত সুফি সাধক খাজা মইনুদ্দিন চিশতীর এই বংশধর লন্ডনে বসবাসরত একজন লেখক। তিনি বরাবরই নারী ক্ষমতায়ন বিষয়ক একজন সাহসী প্রবক্তা। বিশ্ব-সমাদৃত এই ব্যক্তিত্ব কিছুদিন আগে তার প্রথম উপন্যাস ‘দ্য গ্র্যান্ড ডটার প্রজেক্ট’ প্রকাশ করেছেন। যা লিঙ্গ বৈষম্য, জাতিগত নিপীড়ন, যুদ্ধকালীন দুর্দশা ও নারী মুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর লেখা।

লেখকের ভাষ্যমতে, যাদের জীবন মেয়ে, নাতনী অথবা যে কোনো নারীর সাথে সম্পৃক্ত, এ বইটি তাদের জন্য। দ্য গ্র্যান্ড ডটার প্রজেক্ট-এ তিনটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের তিনজন নারীর বাস্তব ঘটনার আলোকে লেখা অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে। যেখানে তারা নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেন, কারণ তারা নিজেদের নাতনিদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে

শাহীন চিশতীর সাক্ষাৎকারটি হুবহু বার্তা২৪.কম এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

কোন ভাবনা থেকে দ্য গ্র্যান্ডডটার প্রজেক্ট লেখা শুরু করেছিলেন?

শাহীন চিশতী: একটা স্বপ্ন থেকে। আমি এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখি যেখানে আমার মেয়ে এবং ভবিষ্যত নাতনীরা সম্মানের সাথে বাঁচবে। যেখানে তাদের কোন অন্যায়ের মুখোমুখি হতে হবে না, শুধুমাত্র তাদের নারী পরিচয়ের কারণে ভয় করতে হবে না। সমাজ সংস্কার কিংবা চিন্তা-ভাবনায় যদিও আমরা অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছি; কিন্তু তারপরও আমি বলতে চাই, এ পথ এখনও শেষ হয়নি। ভবিষ্যতে আমাদের নাতনিরা যাতে পুরুষের ভয়ে ভীত না থাকে, নিজেদের প্রতিভা দমিয়ে না রাখে, সেজন্য আমাদের আরও অনেকটুকু পথ যেতে হবে।

আমি তরুণীদের অধিকার ও ক্ষমতায়ণের পথ দেখাতে চেয়েছি। আমি চেয়েছি, তারা যাতে নিজেদের হারিয়ে না ফেলে। অসংখ্য নারী বর্তমানে মাথা উঁচু করে চলতে পারছে কারণ তাদের আগের প্রজন্মের সাহসী নারীরা সে পথ তৈরি করে গিয়েছেন বলে। সেই প্রজন্মের দাদী-নানীদের নির্মোহ আত্মত্যাগ আজ তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তবে দুঃখের কথা হচ্ছে, সেই দাদী-নানীদের অনেকেই পারিবারিক ও সামাজিক চাপে তাদের জীবনের গল্পগুলো না বলেই পৃথিবী থেকে বিদেয় নিয়েছেন। কেউ সাহস করে উঠতে পারেনি, কেউ হয়তো সে সুযোগই পাননি। আমি মনে করি এখন সময় এসেছে তাদের সেই ঘটনাগুলো বলার।

নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে লেখার অনুপ্রেরণা?

শাহীন চিশতী: আমার জন্ম রাজস্থানের আজমীরে। প্রচলিত হিন্দু ও মুসলিম সমাজব্যবস্থায় নারীদের জীবন আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। গ্রামের অনেক পরিবারের সাথে আমার সখ্যতা ছিলো। নারীদের অনেক সমস্যা আমার চোখের সামনেই ঘটেছে। এসব ঘটনা আমার ভেতরটাকে ওই বয়সেই নাড়িয়ে দিয়েছিলো। এরপর আমি অল্প-বয়সে ইংল্যান্ড চলে আসি। সেখানে স্বাধীনচেতা নারীদের দেখা পাই, যারা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য বদ্ধপরিকর, অধিকার আদায়ে সচেতন। দুই দেশের নারীদের প্রত্যক্ষ করে আমি বুঝতে পারি আসলে দু’দিকের নারীরাই বিভিন্ন সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এই সমাজ আমাদের মা, বোন, কন্যা, স্ত্রীদের সাথে অন্যায় করে আসছে যুগের পর যুগ। এই ভাবনা থেকেই আমি বইটি লেখার সিদ্ধান্ত নিই। যেখানে আমি বিভিন্ন সামাজিক ব্যবস্থায় মেয়েদের প্রতি অন্যায় এবং দমিয়ে রাখার কথাগুলো তুলে ধরবো।

শাহীন চিশতী

দ্য গ্র্যান্ডডটার প্রজেক্ট নিয়ে আপনার সবচেয়ে বড় ভয় কোনটি?

শাহীন চিশতী: আমার বইতে লেখা নারীদের প্রতি সুবিচার না করা। আরও বিস্তারিত বলতে যে সব নারীদের কথা লিখেছি, তাদের হতাশ করা। কারণ তারা অগাধ বিশ্বাস নিয়ে আমাকে তাদের জীবনের নির্যাতন ও কষ্টের কথাগুলো বলেছেন। আমার এ বই সমাজের নারীদের একটা প্রতিফলন। এবং বইতে লেখা অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে অনেক নারীকেই যেতে হয়েছে। আমি তাদের গোপন এবং গভীর কথাগুলো ধরতে চেষ্টা করেছি। কোনও কোনও পাঠকের ক্ষেত্রে এমন বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়তো অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এই অস্বস্তির ভেতর দিয়ে অসংখ্য নারী সমাজে বাস করছে। সমাজের উন্নতি আনতে পুরানো ভুল থেকেই আসলে শিক্ষা নেয়া উচিত।

বই প্রকাশের জন্য আপনি সমর্থন পেয়েছেন?

শাহীন চিশতী: অবশ্যই। এই বই লঞ্চের পেছনে একটা চমৎকার টিম কাজ করে যাচ্ছে। লেখার সময় আমার যেসব নারীদের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে; কাজটা আমি তাদেরই উৎসর্গ করেছি। বইয়ের ঘটনা কাল্পনিক হলেও পৃথিবীব্যাপী অসংখ্য নারীর বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকেই এটা লেখা। তারাই আসল হিরো, আমি নই।

আমার পরিবারের প্রতিও আমি অনেক কৃতজ্ঞ। বিশেষত সেসব নারীদের প্রতি, যারা আমার জীবনে অবদান রেখেছেন। সৌভাগ্যবশত আমি কিছু দৃঢ় মানসিকতার নারীদের মধ্যে বড় হয়েছি। আমি আজ যা, তা তাদেরই অবদান।

এই বই লেখার সময় আপনি কি কি শিখেছেন?

শাহীন চিশতী: মেয়েরা কিভাবে শত নির্যাতন ও লাঞ্ছনা মুখ বুজে সহ্য করে, বিশেষ করে যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ এবং দারিদ্রতার সময়; তা নিয়ে বিস্তর ধারণা হয়েছে। সত্যি বলতে গেলে, এই অভিজ্ঞতাগুলো আমার চোখ খুলে দিয়েছে। এটা এমন একটা ব্যাপার যা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত অনুভব বা বিশ্বাস করা যায় না যতক্ষণ না বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা করা হয়। কিছুক্ষেত্রে এ জাতীয় হয়রানিকে সৈন্য অথবা শত্রুপক্ষের সাথে গুলিয়ে ফেলি আমরা। মাঝে মাঝে দেখা যায় এই যৌন হয়রানির পেছনে এরা নয় বরঞ্চ দায়ী বাবা, ভাই এবং বন্ধুরা। যুদ্ধের মোড়কে এই ঘটনাগুলোকে আড়াল করা খুব সহজ। কিন্তু কিছু পুরুষ এমন অবস্থার সুযোগ নিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চায়।

শাহীন চিশতী

এসব নিয়ে কাজ করার সময় কিছু নিয়ে অবাক হয়েছেন কি?

শাহীন চিশতী: ভবিষ্যত প্রজন্মের উপর ইতিহাসের প্রভাব। আমার বইতে লেখা দাদী-নানীদের কষ্টের অভিজ্ঞতা সরাসরি তাদের নাতনী এবং পরিবারের উপর প্রভাব ফেলে। এই মানসিক যন্ত্রণার অবসান ঘটতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়, কিন্তু এই আঘাত তাদের আরও দৃঢ় করে গড়ে তোলে, যা তাদের নাতনীদের সাথে বন্ধনকেও মজবুত করে। এমনকি তাদের মৃত্যুর পরও নাতনীরা তাদের দাদী-নানীর সাথে একটা কানেকশন অনুভব করে, গর্ব করে। কারণ তারা ভবিষ্যত প্রজন্ম কে যে অনুপ্রেরণা দিয়ে যান, তা অটুট থাকে চিরকাল।

বইয়ের নামদ্য গ্র্যান্ডডটার প্রজেক্টহবার কারণ?

শাহীন চিশতী: এই নাম আমাকে অনেকখানি পথ হেঁটে আসা দাদী-নানীদের, এবং তাদের নাতনীদের জন্য কিছু একটা করার অদম্য ইচ্ছাকে মনে করিয়ে দেয়। এটা অনেকটা তাদের কাছে একটা আশার বাণী পৌঁছে দেয়ার মতো। তারা একটা পরিবর্তন আনতে চাইতো। তাদের মনে একটা বদ্ধপরিকর ধারণা ছিলো যে, তারা এটা করতে পারবেন।

বইয়ের চরিত্রগুলো কি বাস্তব? যদি বাস্তব হয়ে থাকে তবে আপনি তাদের কথা কেন লিখেছেন, এবং তাদের অভিজ্ঞতাগুলোও কি বাস্তব?

শাহীন চিশতী: হ্যাঁ, অবশ্যই। বইয়ের প্রতিটি দাদী-নানী চরিত্র আসলে অনেকগুলো চরিত্রের সংমিশ্রণ। যারা প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছেন। প্রতিটি ঘটনা এমন হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতিধ্বনি। চরিত্রগুলো আমার পরিচিত আসল কিছু মানুষের উপর ভিত্তি করে বানানো। তাদের ঘটনা আমাকে মুগ্ধ করে, নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। সেসব ঘটনা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এ বই। এ চরিত্রগুলোকে আমি গত ১৩০ বছরে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা চিত্রায়ণ করতে ব্যবহার করেছি। যেমন ৪৩ এর বাংলার দুর্ভিক্ষ, হলোকাস্ট এবং ১৯৫৮ সালের নটিং জাতির দাঙ্গা। এসবকিছুই নারীর ক্ষমতায়ণের জন্য ব্যবহার করা এবং ওই সময়ের নারীদের দুর্দশাগুলো তুলে ধরা।

লেখার জন্য কেন এই ঘটনাগুলো বেছে নিলেন?

শাহীন চিশতী: ছোটবেলা থেকেই আমি বাংলার ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে পড়ে আসছি, যা নিয়ে খুব বেশি একটা লেখালেখি হয়নি; অন্তত আমার বইয়ে আমি যতটুকু তুলে ধরেছি, ততটুকু না। ইন্ডিয়াতে থাকার সময় হলোকাস্ট নিয়েও খুব অল্প বয়েসেই একটা ধারণা হয়ে গিয়েছিলো। আমার বয়স যখন ৬, তখন এডলফ হিটলারের উপর একটা ডকুমেন্টারি দেখেছিলাম। আর এই বিষয়ে পড়াশোনাও করেছিলাম বেশ কয়েকবার। সৌভাগ্যবশত আমার খুব ভালো কিছু ইহুদি বন্ধু ছিলো; যাদের সাথে আমাদের সামাজিকতার অনেক মিল খুঁজে পেয়েছিলাম। আর লন্ডনে আসার পর স্কুলের যাওয়ার পথে নটিং হিল পড়তো। তাই এই জায়গাটা সবসময়ই আমার হৃদয়ের কাছাকাছি ছিলো। এবং ঠিক এখানেই আমি প্রথমবারের মতো বর্ণবৈষম্য প্রত্যক্ষ করেছিলাম।

আপনার পাঠক মূলত কারা?

শাহীন চিশতী: যাদের মেয়ে আছে, নাতনী আছে কিংবা জীবনে কোন নারী আছে; যারা চায় এই নারীরা তাদের স্বপ্ন নিয়ে নির্দ্বিধায় এগিয়ে যেতে পারে তাদের জন্য। আমার দু’জন মেয়ে আছে। আমি তাদের বোঝাতে চাই যে লিঙ্গ, জাতি, সমাজ, বর্ণ, ধর্ম - এসবের উর্ধ্বে তারা একই রকম গুরুত্ব বহন করে। আমরা সবাই মানুষ। এবং মানুষ মানুষের জন্য।

বই শেষের পর আপনি চরিত্রগুলোর কেমন পরিণতি আশা করেন?

শাহীন চিশতী: মায়া, রেবেকা, তানিয়া - আমি ভাবতে ভালোবাসি যে আমার বইয়ের এই তিন চরিত্র তাদের দাদী নানীদের মতোই সবসময় নিজেদের ভেতর যোগাযোগ রেখেছে, ভালো বন্ধু হয়েছে। তাদের একীভূত শক্তি তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে, যে সিদ্ধান্ত সমাজ তাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দিবে না। আমি চাইবো তারা আরও এগিয়ে যাক, ও অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক।

বইয়ের প্রিয় চরিত্র?

শাহীন চিশতী: ইনগ্রিদ আমার প্রিয় চরিত্র। যখন কেউ হেলগার পাশে দাঁড়ায়নি, তখন সে যে সাহস আর শক্তির নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অনুপ্রেরণাদায়ক। সমাজের চোখ রাঙানি, আইনের বাঁধা উপেক্ষা করে সে যা করেছে তা চিন্তা করাও অকল্পনীয়। এবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে হচ্ছে এর বিনিময়ে সে কিছু আশাও করেনি। শুধুমাত্র বিবেকের তাড়নায়, খাঁটি অন্তর থেকেই সে কাজটা করেছে। সবাই নৈতিক সাহসিকতার কথা বলে। কিন্তু এ নৈতিকতা দেখানো সবসময় দেখানো যায় না। অনেক বাঁধা থাকে। সবথেকে সহজ হচ্ছে কিছু না করে থাকা। কিন্তু ইনগ্রিদ তা করেনি। সবাই যদি ওর মতো ভাবতে পারতো, সাহস করতে পারতো তাহলে আমরা আরও সহনশীল একটা সমাজে বাস করতে পারতাম।

ভবিষ্যতে আরও বই লেখার পরিকল্পনা আছে?

শাহীন চিশতী: হ্যাঁ। আমার আরেকটা বই লেখার প্ল্যান আছে। সঠিক সময় এলেই বিস্তারিত জানানো হবে।

বইয়ের কেমন প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?

শাহীন চিশতী: খুবই ইতিবাচক। আমার মেয়েরা এই বই খুবই পছন্দ করেছে। এবং ওরা আমাকে নিয়ে গর্বিত। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব - মোটামুটি সবার কাছ থেকে ভালো প্রশংসা পেয়েছি।

এই বই লিখতে কতদিন সময় লেগেছে?

শাহীন চিশতী: দেড় বছর। যেহেতু আমি ফুল টাইম কাজ করি, তাই শুধু ছুটির দিনগুলোতেই লেখার সময় পেতাম। একটা পরিবারের খেয়াল রাখার পাশাপাশি বই লেখার খুব সহজ কাজ না। আমার এই পরিশ্রম তখনই সার্থক হবে যখন এই বই কারও জীবনে একটু হলেও পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

যারা বই লিখতে চায় তাদের জন্য কোন পরামর্শ?

শাহীন চিশতী: লেখা শুরু করে দিতে হবে। মাথার শব্দগুলো কাগগজের উপর নিয়ে আসা খুব কঠিন। নিজের লেখা বারবার পড়তে হবে, আইডিয়া নিয়ে বারবার কাজ করতে হবে। তাহলেই কাজে সফলতা আসবে। হৃদয় থেকে লিখতে পারলেই লেখায় ন্যাচারাল আবহ আসে। লেখায় কোন ঐতিহাসিক ঘটনা থাকলে বর্ণনাগুলো যেন সঠিক হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

দ্য গ্র্যান্ডডটার প্রজেক্টকীভাবে কেনা যাবে?

শাহীন চিশতী: প্রায় সব দেশ থেকেই অ্যামাজনে পাওয়া যাবে। এছাড়া অন্যান্য অনলাইন বুকশপেও আছে। চাইলে সরাসারি প্রকাশনীর মেইল-এ ([email protected]) অর্ডার করা যাবে।

‘প্রতিবন্ধী নারীদের বাধা দূর করতে একসঙ্গে সাইরেন বাজাতে হবে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), অ্যারো ও সিএনএস এর যৌথ উদ্যোগে ‘প্রতিবন্ধী নারী ও কিশোরীদের প্রতি সহিংসতা রোধ’ বিষয়ক একটি কর্মশালা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডিআরইউ সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিবের সঞ্চালনায় বেলা ১১টায় ডিআরইউ’র নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

এ সময় তিনি বলেন, বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন প্রতিবন্ধী নারীরা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং স্পিকারসহ শীর্ষ পর্যায়ে নারী ক্ষমতায় থাকলেও নারীরা এখনও তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। এই নারীরাই যখন প্রতিবন্ধী হয় তখন তারা আরো নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হন।


নারীদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না এমন মন্তব্য করে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, রাস্তাঘাটসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রজেক্ট থাকলেও মানুষের দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো মেগা প্রজেক্ট নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবন্ধীদের নিয়েও পর্যাপ্ত পরিমানে প্রকল্প নেই। আমার মনে হয়, রাষ্ট্র একটা ভুল মডেলের দিকে যাচ্ছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে একসঙ্গে বাঁশি এবং সাইরেনটা বাজাতে হবে, আওয়াজ এক সঙ্গে করতে হবে।

এসময় তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, একটি সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমে সরকার, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ এগিয়ে আসলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

কর্মশালাটিতে প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি ও ইউএন উইমেন বাংলাদেশ প্রকল্প সমন্বয় বিশেষজ্ঞ তুশিবা কাশেম মূল বিষয়ের উপরে আলোচনা করেন এবং অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এছাড়াও বক্তব্য দেন ডিআরইউ’র তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক কামাল মোশারেফ।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র যুগ্ম সম্পাদক শাহনাজ শারমীন, অর্থ সম্পাদক এস এম এ কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি, নারী বিষয়ক সম্পাদক তাপসী রাবেয়া আঁখি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কামাল উদ্দিন সুমন, আপ্যায়ন সম্পাদক মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান ও কল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলু, কার্যনির্বাহী সদস্য সোলাইমান সালমান, সুশান্ত কুমার সাহা, মো: আল-আমিন, এসকে রেজা পারভেজ ও মোহাম্মদ ছলিম উল্লাহ (মেজবাহ) উপস্থিত ছিলেন।

;

ইরানে আন্দোলনরত নারীদের সমর্থনে বিএনএসকে’র মানববন্ধন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইরানে আন্দোলনরত নারীদের সমর্থনে বিএনএসকে’র মানববন্ধন

ইরানে আন্দোলনরত নারীদের সমর্থনে বিএনএসকে’র মানববন্ধন

  • Font increase
  • Font Decrease

ইরানি তরুণী মাহ্সা আমিনি’র মৃত্যুর ঘটনায় উপযুক্ত বিচার এবং দেশটিতে চলমান নারী নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকরা।

রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। একই সাথে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ ওই দেশে বিভিন্ন শহর ও বিশ্বব্যাপী চলমান আন্দোলনের সাথে তারা একাত্মতা পোষণ করেন।

ইরানে আন্দোলনরত নারী সমাজ ও জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ করে সংগঠনের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, ‘সঠিক উপায়ে হিজাব না পরার অভিযোগে ইরানি তরুণী মাহ্সা আমিনীকে সম্প্রতি গ্রেফতার ও পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পুরো ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে অজুহাতে ইরানে দীর্ঘদিন ধরে নারীরা এরকম নৃশংস জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, শত শত নারী কারাগারে দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছেন। ইরানের নারীরা ইরানের জনগণ এই জুলুম নির্যাতনের অবসান চায়। বাংলাদেশেও একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে মেয়েদের ওপর বিরাট বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। আমাদের এই বিষয়গুলোকে এভাবেই শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে।’

মানববন্ধনে নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের দপ্তর সম্পাদক দিলরুবা খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহনাজ পারভীন এলিস, সদস্য আফরোজা সরকারসহ নারী সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন।

এসময় তারা পোশাকের জন্য নারীর ওপর খবরদাবি নারীর মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মানববন্ধন থেকে নারী ওপর এ ধরনের খবরদারি ও জুলুম-নির্যাতন বন্ধসহ মাসা আমিনী হত্যা ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়।

;

'আগের পক্ষের স্ত্রী, সন্তানের যত্ন না নিলে দ্বিতীয় বিবাহ নয়'



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
'আগের পক্ষের স্ত্রী, সন্তানের যত্ন না নিলে দ্বিতীয় বিবাহ নয়'

'আগের পক্ষের স্ত্রী, সন্তানের যত্ন না নিলে দ্বিতীয় বিবাহ নয়'

  • Font increase
  • Font Decrease

"প্রথম বা আগের পক্ষের স্ত্রী এবং সন্তানের যত্ন না নিলে দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারবেন না মুসলমান পুরুষরা।"

বুধবার (১২ অক্টোবর) এ রায় জানিয়ে দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। যুগান্তকারী রায়ের প্রসঙ্গে পবিত্র কোরানেরও উল্লেখ করেছে হাই কোর্ট।

মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরানকে উদ্ধৃত করে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে জানায়, "আগের পক্ষের স্ত্রী, সন্তানদের যত্ন না নিলে মুসলমানদের দ্বিতীয় বিবাহ করা ধর্মবিরুদ্ধ।" এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি প্রকাশ কেশরওয়ানি এবং রাজেন্দ্র কুমার তাঁদের পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, “যদি কোনও মুসলমান পুরুষ বুঝতে পারেন যে, তিনি আগের পক্ষের স্ত্রী সন্তানদের দায়িত্ব নিতে অক্ষম, তবে তাঁর দ্বিতীয় বিবাহ করার ভাবনা থেকে সরে আসা উচিত।"

অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ধর্মীয় দিক থেকে উত্তেজক এই রায়ের প্রসঙ্গে আদালতের সাফ পর্যবেক্ষণ হলো, "ধর্মনির্বিশেষে কোনও পুরুষ যদি প্রথম পক্ষের স্ত্রীর আপত্তি সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তবে তিনি প্রথম পক্ষের স্ত্রীকে তাঁর সঙ্গে থাকতে বাধ্য করতে পারেন না।"

কিছু দিন আগেই উত্তরপ্রদেশ নিবাসী আজিজুর রহমান প্রথম পক্ষের স্ত্রীর কাছ থেকে দাম্পত্যের অধিকার দাবি করে আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রদত্ত রায়ে আদালত জানায়, "প্রথম পক্ষের স্ত্রীর অজান্তেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন ওই ব্যক্তি। তাই ওই ব্যক্তি প্রথম স্ত্রীকে তাঁর সঙ্গে থাকতে কিংবা প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে দাম্পত্যের অধিকার দাবি করতে পারেন না।"

ভারতের বিচারালয় আগেও তিন তালাক, খোরপোশ ও হিজাব সম্পর্কে বিভিন্ন রায় দিয়েছে, যা নিয়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতণ্ডা ও বাদানুবাদ হয়েছে। তবে দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে দেওয়া আদালতের রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা কোনও প্রতিক্রিয়া জানায় নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রায়ের এক অংশে "ধর্মনির্বিশেষে কোনও পুরুষ যদি প্রথম পক্ষের স্ত্রীর আপত্তি সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তবে তিনি প্রথম পক্ষের স্ত্রীকে তাঁর সঙ্গে থাকতে বাধ্য করতে পারেন না" মর্মে উল্লেখ করায় তা কেবল মাত্র মুসলিম সম্প্রদায়কে টার্গেট করে দেওয়া হয়েছে বলা যায় না। তদুপরি, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরানকে উদ্ধৃত করে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে "আগের পক্ষের স্ত্রী, সন্তানদের যত্ন না নিলে মুসলমানদের দ্বিতীয় বিবাহ করা ধর্মবিরুদ্ধ" উল্লেখ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে প্রণিধানযোগ্য। সবকিছু মিলিয়ে নারীর অধিকার ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামনে চলে আসায় রায়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয় আবেগের চেয়ে নারীর ক্ষমতায়নের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে।

;

'আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি, শান্তিতে বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিন': বিলকিস



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
গণধর্ষণের ন্যায়বিচার প্রার্থী বিলকিস। সংগৃহীত

গণধর্ষণের ন্যায়বিচার প্রার্থী বিলকিস। সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০ বছর আগে বিলকিসের বয়স ছিল ২১। এখন ৪১। অপ্রত্যাশিত এই পট পরিবর্তনের পরে বুধবারই (১৭ আগস্ট) প্রথম সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেন তিনি। সংস্থার বরাতে সেই মর্মন্তুদ ভাষ্য প্রকাশ করেছে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা।

কুড়ি বছর আগের বিভীষিকা আর ক্ষত আবার দগদগে হয়ে উঠছে তাঁর মনে। ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতার 'আজাদির অমৃত মহোৎসব'-এর দিনটি তাঁর কাছে হয়ে দাঁড়াল ভাষা আর ‘ন্যায়ের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলা’র দিন। ভয় না পেয়ে শান্তিতে বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিন, গুজরাত সরকারের কাছে আর্জি জানাচ্ছেন তিনি।

১৫ আগস্ট গুজরাতে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে সেই ১১ জন, যারা ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ করেছিল। তাঁর তিন বছরের মেয়েকে আছড়ে মেরেছিল তাঁর চোখের সামনে। ‘খুন’ করেছিল তাঁর পরিবারের মোট ৮ জনকে।

২০০৮ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত সেই ১১ জন আজাদির স্বাদ পেয়েছে এই ১৫ আগস্ট। আর বিলকিসকে আবার নতুন করে ঘিরে ধরেছে আতঙ্ক আর নৈরাশ্য।

২০ বছর আগে বিলকিসের বয়স ছিল ২১। এখন ৪১। অপ্রত্যাশিত এই পট পরিবর্তনের পরে বুধবারই (১৭ আগস্ট) প্রথম সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেন তিনি। বললেন, ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা তাঁর নড়ে গিয়েছে। বললেন, ‘‘দু’দিন আগে ১৫ আগস্টের দিন বিগত ২০ বছরের আতঙ্ক আবার আমায় গ্রাস করল, যখন আমি শুনলাম আমার জীবন, আমার পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া ১১টা লোক মুক্তি পেয়ে গেল। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখনও বোবা হয়ে আছি।’’

প্রতিটি শব্দে হতাশা ঝরে পড়েছে বিলকিসের বিবৃতিতে। তিনি বলেছেন, ‘‘একজন মহিলার প্রতি ন্যায়বিচার এই ভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে? আমি তো শীর্ষ আদালতে বিশ্বাস রেখেছিলাম, সিস্টেমে বিশ্বাস রেখেছিলাম, একটু একটু করে আমার ক্ষতগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচতে শিখছিলাম। দোষীদের মুক্তি আমার শান্তি ছিনিয়ে নিল, ন্যায়ের প্রতি আমার বিশ্বাস নড়ে গেল। আমি শুধু আমার কথা বলছি না। প্রতিটি মেয়ে যারা আদালতে ন্যায়ের জন্য লড়ছে, তাদের সকলের জন্য কষ্ট হচ্ছে আমার।’’

বিলকিসের স্বামী ইয়াকুব রসুলও বলছেন, ‘‘এক লহমায় ১৮ বছরের লড়াইটা শেষ হয়ে গেল। আমাদের খুব ভয় করছে। কী করব জানি না।’’ বাসস্থান পরিবর্তন করতে হবে কি না, বুঝতে পারছেন না এখনও।

গুজরাত সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার জন্য অবশ্য অনুরোধ জানিয়েছেন বিলকিস। লিখেছেন, ‘‘আমাদের এই ক্ষতিটা করবেন না। ভয়হীন, শান্তির জীবন বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিন।’’

তবে গুজরাতের বাস্তব চিত্র থেকে তাঁর আবেদন ফলপ্রসূ হবে এমন আশা খুব দেখা যাচ্ছে না। গুজরাত প্রশাসন এক দিকে আইনের খুঁটিনাটি দেখাচ্ছে, অন্য দিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ধর্ষকদের মালা পরিয়ে মিষ্টি খাইয়ে সংবর্ধনা দিচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ মনে করছেন, ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে, ২০০২ বিজেপির কাছে খাতায়কলমেও আর কোনও ‘কলঙ্ক’ নয়। তিস্তা শেতলবাদেরা জেলে গিয়েছেন। সামনে ভোট। ২০০২-এর ‘বীর’দের পুনর্বাসিত করাই এখন মেরুকরণের নতুন তাস। বিরোধীদের মতে, শান্তিতে বাঁচার অধিকার খুইয়ে ফেলা বিলকিস বানোদের জন্য আজাদির অমৃত-উপহার এ-ই।

;