“নিজেকে অবগুণ্ঠিত করে পুরুষতন্ত্রকে সহায়তা করছে নারীরা”

ক্যামেলিয়া আলম
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

শামীম আখতারের কর্মজীবনে নানান পেশার সমাবেশ থাকলেও তিনি সাংবাদিকতাকেই তার প্রধান পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন। অনন্যা পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন দীর্ঘ সাত বছর। সংবাদের মেয়েদের পাতাকে নতুন মাত্রা দিয়ে নারীর রাজনীতির পাতা হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন। নারী অধিকার, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী অবস্থান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রভৃতি আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এবং আজ অবধি ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করেন বলে তিনি নিজেকে এ্যাকটিভিস্ট বলেই দাবি করেন। তবে তাঁর বর্তমান কাজ সিনেমা বানানো এবং পড়ানো। পত্রিকার পরবর্তীকালে হেড অব ডকুমেন্টারিজ হিসেবে কাজ করেছেন ইলেক্ট্রকিনক মিডিয়া যমুনা টিভি ও মাছরাঙা টিভিতে। ৮ মিনিটের ছোট ছবি ‘সে’ দিয়ে শুরু তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণের ইতিহাস। শামীম আখতারের কাহিনী নিয়ে তারেক মাসুদের সাথে যৌথ উদ্যোগে চলচ্চিত্রটি করেন ১৯৯১ সালে। এরপর পূণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রসমূহ করেন ১৯৯৮ তে ‘ইতিহাস কন্যা’, ২০০১ এ ‘শিলালিপি’ এবং ২০১৬ তে ‘রীনা ব্রাউন’। এছাড়াও ২০টির ওপরে প্রামাণ্যচিত্র রয়েছে তাঁর। দুটো বই মৃত্তিকা কন্যা ( অনুবাদ ) ও ‘আমাদের সনাক্ত কর (মৌলিক) রয়েছে। বর্তমানে সিনেমা, মুক্তিযুদ্ধ, নারী বিষয়ক প্রকাশিত লেখাগুলো নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশের কাজ চলছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিভাগীয় সম্পাদক-নারীশক্তি, ক্যামেলিয়া আলম


বার্তা২৪: নারী আর পুরুষের ইকুয়িলিটির অবস্থান কী আপনার চোখে?
শামীম আখতার: নারী আর পুরুষকে দেখাবার দৃষ্টিভঙ্গি পাঁচ বছর আগেও যা ছিল, তার প্রেক্ষাপট এখন আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে। নারী পুরুষের ইকুয়িলিটির চিন্তাধারার ফোকাসটাই পাল্টে গেছে। নারীকে উপস্থাপন করা হচ্ছে অনেক চটুলভাবে। ইকুয়িলিটির মূল লক্ষ্য থেকে নারীকে সরানো হয়েছে। দেখানো হচ্ছে জোলো আকারে। গভীরভাবনার বদলে চটকদার বিষয় হিসেবে নারীকে দেখাবার ট্রেন্ড চালু হয়েছে। বর্তমানে নারীর খবর প্রচারিত হয় তার জীবনাদর্শকে উপলব্ধিকরণের জন্য না, বরং কী কী খবর দিলে তা রমরমা হবে, পত্রিকার নিউজটি সাধারণের কাছে কতটা চটকদার হবে সেই বোধ থেকে। ফলে নারী খবর কাগজগুলোর পণ্যে পরিণত।
বার্তা২৪: বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় এই প্রতিযোগিতার কালে আমরা সবাই কী পণ্য নই?
শামীম আখতার: হ্যাঁ, মানুষ মাত্রই পণ্য। কিন্তু নারীকে নিয়ে চলছে অসুস্থতা। হুজুগ তৈরি হচ্ছে, ফোকাস করা হচ্ছে নারীর এমন কোনো ইস্যু যা নারীর অবস্থান পরিবর্তন বা তাঁর কাজের মূল উদ্দেশ্যকে তুলে ধরছে না। পোশাকি আবরণ দিয়ে, ভিন্নমাত্রার উপস্থাপন ভঙ্গি দিয়ে তাঁকে উপস্থাপন করাবার প্রয়াস রীতিমতো নারীকে তার মূল লক্ষ্য বা কেন্দ্রবিন্দু হবার চিন্তাধারা থেকে পিছিয়ে দিচ্ছে।

বার্তা২৪: কোন অভিপ্রায় থেকে তা দিচ্ছে?
শামীম আখতার: অবশ্যই প্যাট্রিয়ার্কি টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে। দীর্ঘদিন নারী আন্দোলনের সাথে সক্রিয় থেকেছি। আমাদের উদ্যোগ থাকত অচলায়ন ভাঙা। বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে। স্থির লক্ষ্যকে সামনে রেখে। এখন নারীদের সেই সমস্ত লক্ষ্য তৈরির স্পেস থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে নানা ইস্যুকে একইসাথে দাঁড় করিয়ে। একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যপথে যাবার জন্য লাগে চিন্তাভাবনার পরিসর, কিন্তু এখন নিউজগুলো সব মতামত বেইজড। এর এই মত, তার সেই মত, আর যার মত যত চমকদার করে বহুজনের কাছে পৌঁছানো যায় সেই চেষ্টা হচ্ছে। কোনো বিশ্লেষণ ছাড়া, উৎপত্তির মূল বিষয় চিহ্নিত করা ছাড়া সেই সব মতামত প্রকাশ পাচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়নের মূল উৎস কোথায় এর কোনো গবেষণালব্ধ দৃষ্টিভঙ্গি বা দিকনির্দেশনা গড়ে উঠতে দিচ্ছে না।

বার্তা২৪: পত্রিকাগুলোতে নারীপাতা বা নারীর ওপর ফোকাস করা কিছু বিষয় থাকে, তাহলে তা কী নারী উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখবে না?
শামীম আখতার: ভূমিকা রাখত। কিন্তু বলছি যে সেই পাতাগুলো এখন সেলিব্রেটিং ওরিয়েন্টেড হয়ে যাচ্ছে। সাহিত্যের পাতায় সাহিত্য, আর্টের পাতায় আর্ট, তেমন নারীও এমন এক বিষয়। সেখানে সংবাদপত্রগুলোর উপস্থাপন দিয়ে নারীর ভূমিকা নির্ধারিত হচ্ছে। কোনটা সেলিব্রেট আর কোনটা লড়াই তা স্পেসিফিক হচ্ছে না। কোনো উদ্দেশ্যকে আইডেন্টিফাই করার চেষ্টা হচ্ছে না। ইকুয়িলিটি চাচ্ছি তার মূল লক্ষ্য কী, কী করে সেই লক্ষ্যে একসাথে পৌঁছানো যেতে পারে তা কি নারী পাতাগুলো করতে সক্ষম হচ্ছে? আমরা নিউজ হিসেবে নারীকে দেখাচ্ছি, উপলব্ধিকরণের জায়গা থেকে তাকে উপস্থাপিত হতে দিচ্ছি না।

বার্তা২৪: সমাজের প্রতি সেক্টরে নারীর অবস্থা কি পরিবর্তন হয় নাই? আগের চাইতে অধিক সংখ্যক নারী এখন পাবলিক সেক্টরে কাজ করছে না?
শামীম আখতার: হ্যাঁ, করছে। নারীদের বহুক্ষেত্রে অন্তুর্ভুক্ত করা হচ্ছে, প্রমোট করা হচ্ছে। তবে তাঁরা যথাস্থানে ক্যাপেবল কিনা তা বিবেচনা না করেই। ফলে অযোগ্য আর অদক্ষ বলে সেই সব জায়গায় পুরুষতন্ত্র নানা পন্থায় তাদের কাঠামো টিকিয়ে রাখছে। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যে নারী আসছে, সে ফিল্মটি কার উদ্দেশ্যে করছে, কোন লক্ষ্যকে সামনে রেখে তা জানছে না, কারণ তাঁর আসাটি কোটায়।

বার্তা২৪: এখানে একটা প্রশ্ন করি, বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নারী যে কর্মকর্তাগণ আছেন, তারা কিন্তু দক্ষতার প্রমাণ ইতোমধ্যেই রেখেছেন। ৬৪ জেলার মাঝে মাত্র ৮ বা ৯টি জেলায় নারী, খুবই কম, কিন্তু তাদের জেলাগুলোর আইনশৃংখলা পরিস্থিতির রিপোর্ট কিন্তু বাকি জেলাগুলোর চাইতে ভালো। এমন কি কোনো নারী কর্মকর্তা বলেছেন, রাত্রি ১২টা অবধি কাজ করতে গেলেও তারা নারী হিসেবে অসহযোগিতা পায়নি। এ তি তবে পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোতে সমঝোতা করে চলবার জন্য?
শামীম আখতার: মেয়েদের জন্য দুইটা অপশন সোসাইটিতে রাখা আছে। যা একজন পুরুষের জন্য নাই। তাদের একদল বিয়ে শাদি করে হোম মেকিংয়ে যায়, অন্য আরেক দল—লেখাপড়া করে ক্যারিয়ার গড়ার দিকে। সেই হোম মেকিংয়ের অপশনটাও এদেশে নারীর ওপর চাপানো হয় বহুক্ষেত্রে। তা ভিন্ন ব্যাপার। এখন যারা ক্যারিয়ার গড়ার দিকে যায়। তাঁরা লেখাপড়া করে, নিজেদের যোগ্য করে তোলে কোনো জবের জন্য। ফলে তাঁরা যখন চাকরি বা ক্যারিয়ারিস্ট কোনো অপশনের দিকে যায়, তাঁরা অধিক যোগ্যতাবান বলেই যেতে পারে। কারণ তাকে প্রতি মুহূর্তে নিজেকে প্রমাণ করতে হয় পুরুষটির পাশে। যেমন সোসাইটাল ভ্যালুজের জন্য একজন মাকে সারাক্ষণই এক মানসিক প্রেশারে থেকে ভালো মা হবার লড়াইয়ে পড়তে হয়। ঠিক তেমনই একজন নারীর কাজের যোগ্যতা, তাঁর সীমানা প্রুভ করতে হয় বিভিন্নভাবে। ফলে নারীদের দেখা যায়, তারা আন্তরিক, একাগ্র হয়ে যে কোনো কাজ করে। এও কিন্তু এক ধরনের রণক্ষেত্র।

বার্তা২৪: এই রণক্ষেত্র কি নারীর জন্য বাড়তি প্রেশারের নয়?
শামীম আখতার: অবশ্যই প্রেশারের। কিন্তু যতদিন নারীর অবস্থানের পরিবর্তন না হবে। তাদের এই বাস্তবতা থেকে সরে দাঁড়াবার অপশন নাই। নারীদের বহু লিমিটেশন মাথায় নিয়ে প্রতিটি কাজ করতে হয়। একজন নারীর ঘরের প্রেশার নিতেই হচ্ছে এখনো, এছাড়াও তাদের শারীরিক পর্যুদস্ত করার মতো বিষয় অহরহ, মর্যাদাহানির মতো ঘটনাগুলো তো আছেই। সমগ্র নারীকে এক পুরুষতান্ত্রিক সিস্টেমকে কন্ট্রোল করে তার অপটিমাম হয়ে বেটার কন্ডিশনে আসতে হয়। এখনো নারীকে এসব পরিস্থিতি সামলাতে হয় হাসিমুখে, অমায়িক হয়ে, ভালোবাসা দিয়ে।

বার্তা২৪: নারীদের এ থেকে মুক্তির পথ তাহলে নাই?
শামীম আখতার: মুক্তির পথ হয়তো সামনে আসবে। কিন্তু লড়াই চালিয়ে যেতে হবে সব নেগেটিভিটি মাথায় রেখে। লোকেট করতে হবে, অরগানাইজড হতে হবে, হোম ওয়ার্ক করে তাঁকে পথ বের করতে হবে। কারণ বুঝতে হবে যে সমাজের বাহ্যিক পরিবর্তন হওয়া মানেই অন্তর্গত পরিবর্তন হয়ে যাওয়া না। মোড অব প্যার্টিয়ার্কি তাকে বুঝতে হবে। নারীদের এতসংখ্যক অবস্থানের পরেও কিন্তু পিতৃতন্ত্রের সাথে তার সংযোগ নষ্ট হয়নি। সমাজ আজও নারীর পোশাক, বাচ্চা কোন স্কুলে যাবে, বাচ্চার অভিভাবকত্ব সবই নিয়ন্ত্রণ করে।

বার্তা২৪: তাহলে বলতে চাইছেন, পিতৃতন্ত্র যে কাঠামো সৃষ্টি করেছে তা নারী ভাঙতে ব্যর্থ?
শামীম আখতার: হ্যাঁ, অন্ততপক্ষে এখনো। কারণ এখনো পুরুষ স্রষ্টা আর নারী তাঁর ক্যারিয়ার। এখানে বারেবারে বলি, পুরুষতন্ত্র মানে কিন্তু একক কোনো পুরুষের দায়ভারের বিষয়টি না। বরং পুরুষের চেয়েও নারীরা ভয়ংকর রকমভাবে পুরুষতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে। নারী নিজের জন্য কখনো চর্চা করছে না, নিজেকে প্রশ্ন করছে না, ক্রমশ সে অদৃশ্য হবার আবরণে নিজেকে অবগুণ্ঠিত করার মধ্য দিয়ে পুরুষতন্ত্রকে এক প্রকার সহায়তা করছে। আজ মা হয়ে সন্তানকে কী শেখাচ্ছি? কৈশোরে আমার মন কী চাইত তা না ভেবে সন্তানকে চলমান ভাবাদর্শে অবগুণ্ঠিত করে দিচ্ছি। রোল মডেল হিসেবে এমন নারীদের সামনে আনছে মিডিয়া বা ফোকাস করছে সমাজ যারা মূলত নারীদের পিছিয়ে দিচ্ছে। আজ ওয়াসফিয়ার কথা কেন বারেবারে আলোচনায় আসবে না? এই মেয়েকে কী বারেবারে এভারেস্টে উঠে লাইম লাইটে আসতে হবে? কেন বিভিন্ন আলোচনায় সে নানাভাবে আসবে না। চোখের সামনে এনলাইটেনমেন্টের উদাহরণগুলো না আসলে উদ্বুদ্ধকরণের কাজটি কী করে আসবে?

বার্তা২৪: এক্ষেত্রে মিডিয়াগুলোর ভূমিকা তো অনেক থাকার কথা। তারা কতটা করছে কাজটি?
শামীম আখতার: এ তো শুরুতেই বললাম। সংবাদপত্রগুলো বা মিডিয়াই নারীদের ভূমিকায়নে সবচেয়ে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তারা মানুষের ইমোশন তৈরি করে এমন বিষয়নির্ভর যা নারীকে স্বাবলম্বী হবার পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে আসে। কনজিউমার পলিটিক্সে সবাই ঝাপিয়ে পড়ছে। বস্তুনিষ্ঠতার চাইতে মুনাফার প্রতি ঝুঁকে পড়ার এই সংস্কৃতি ভয়াবহ। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল আগামীর কথা ভেবে। সমন্বিত একটা চিন্তাচেতনা সেখানে ছিল। কিন্তু নারীদের এই লড়াইয়ে সমন্বিত চিন্তাচেতনা নাই। মিনি স্কার্ট পরা মেয়েটাকে আমরা ফোকাস করছি, কিন্তু তাঁর আসল মানসিক অবস্থানকে সমন্বিত করতে ব্যর্থ হচ্ছি। এর দায়ভার অবশ্যই মিডিয়ার।

বার্তা২৪: নতুন এই প্রজন্ম বর্তমান অচলাবস্থাকে ঠেকাতে পারবে কি? কী ধরনের কর্ম উদ্যোগ নিতে পারে তারা?
শামীম আখতার: নতুন প্রজন্মকে আগে একনলেজড হতে হবে যে তারা বিপর্যস্ত কাঠামোর মাঝে আছে। প্রাথমিক কাজই হবে তাদের পিতৃতান্ত্রিক ধ্যানধারণার বিপরীতে অবস্থান নেওয়া। একটা সময় দেখেছি যে নানা দাওয়াতী ডাক এসেছে। এক্ষেত্রে রক্ষণশীলেরা যেমন ছিল, কিছু এনজিও ভূমিকা রেখেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক সময় শাহরিয়ার কবিরের প্রয়াসে ১০১ জন ইন্টেলেকচুয়েল একসাথে হয়ে প্রতিহত করার চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু তা আর টিকে থাকেনি পরবর্তীতে। বর্তমানে এই ভয়াবহতা তো আরো অনেক বেশি বেড়েছে। ইরানের কন্ডিশনিং হবার আগেই এদেশের মেয়েদের সুস্পষ্ট কয়েকটি কাজ সংঘবদ্ধ হয়েই করতে হবেই। একা বা গুটিকয়েক করলে হবে না।
পর্দার ভাবাদর্শ পরিবর্তন, শিক্ষানীতিতে পাঠ্যপুস্তকের ভাষা ব্যবহারে সাংস্কৃতিক চর্চা জরুরি—হিন্দু শব্দ, মুসলিম শব্দ এই কালচার ভাঙা, মুক্তচর্চার পথ অবশ্যই খুলতে হবে, তবে মুক্তচর্চার নামে অপচর্চার সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ করবে মিডিয়া, গণতন্ত্র মানেই কেবল ভোটের অধিকার নয়, নারীর তা বুঝতে শেখা, ক্রিয়েটিভ লিটারেচারে তাদের নিজেদের কথা নিজেদের বারবার বলা, যৌক্তিকভাবে নিজের মতো উপস্থাপন করা, রণকৌশলে কৌশলী হওয়া, মা হিসেবে এমপাওয়ারড করা, স্কুল বাচ্চার সাথে কী আচরণ করছে, কী শেখাচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করা, ধর্ষণের আগ্রাসনকে চিন্তা দিয়ে, কথা বলার মাধ্যমে, ভালোবাসা দিয়ে বা চড়ের মধ্য দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা, সমাজ আর পরিবারে নারী কতটা প্রয়োজনীয় সেই উপলব্ধিকরণের চেষ্টা। আর এই সব কাজগুলোর জন্য দরকার সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা। ব্যক্তিক লড়াই দিয়ে তা সম্ভব না, সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই বিষয়গুলো তুলে ধরতে।

বার্তা২৪: সবশেষে কী বলবেন?
শামীম আখতার: নারীদের প্রতি আহবান থাকল সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে, একযোগে একই সাথে কাজ করবার প্লাটফর্ম গুরুত্বের সাথে গড়ে তুলতে।

আপনার মতামত লিখুন :