বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী

আশরাফুল ইসলাম, অতিথি লেখক
বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর মন্দির, ছবি: সংগৃহীত

বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর মন্দির, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের ভূমিপটে মিশে আছেন অখণ্ড বাংলা সাহিত্যের একজন উজ্জ্বলতম প্রতিভা। ষোড়শ শতকের 'মনসামঙ্গল' রচয়িতা কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতী। যিনি বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি।

এই কবির রচিত রামায়ণ বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে রামায়ণ রচনার মাধ্যমে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার মূলে প্রথম কুঠারাঘাত করেন তিনি। এছাড়া চন্দ্রাবতীর বিস্ময়কর কাব্যপ্রতিভার পরিচয় মেলে দস্যু কেনারাম এবং মলুয়া পালাসহ তার রচিত অজস্র লোকসংগীতের ছত্রে ছত্রে।

গবেষকদের মতে, তাঁর কবিতা সুরভিত বনফুলের মতো। গভীর ও অর্থবোধক। মধ্যযুগের নিরিখে উপমায়, চিন্তায়, মননে তিনি ছিলেন অগ্রসর ও আধুনিক। এসব কারণেই সমগ্র বাংলা সাহিত্যে তাঁর স্থান অমলিন।

চন্দ্রাবতীর নিজের বর্ণনায় তাঁর বংশ পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে কাব্যভাষায়:

'ধারাস্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বহি যায়।

বসতি যাদবানন্দ করেন তথায়।

ভট্টাচার্য ঘরে জন্ম অঞ্জণা ঘরণী।

বাঁশের পাল্লায় তালপাতার ছাউনি।

ঘট বসাইয়া সদা পূজে মনসায়।

কোপ করি সেই হেতু লক্ষী ছাড়ি যায়।

দ্বিজবংশী বড় হৈল মনসার বরে।

ভাসান গাইয়া যিনি বিখ্যাত সংসারে।'

চন্দ্রাবতী মনসামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা। তাঁর মায়ের নাম সুলোচনা। একসময়ের খরস্রোতা ফুলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের পাতুয়াইর (কাচারিপাড়া) গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

পূর্ব মৈমনসিংহ গীতিকা অনুযায়ী, ১৫৫০ সালের দিকে তাঁর জন্ম, আর মৃত্যু ১৬০০ সালে। চন্দ্রাবতী একাধারে কবি এবং সাহিত্যের নায়িকা। বাংলা সাহিত্যের একজন সার্থক ট্রাজিক নায়িকা হিসেবে তিনি কিংবদন্তী হয়ে রয়েছেন। রোমান্টিক মনের অধিকারী চন্দ্রাবতীর বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া প্রেমের বিয়োগান্তক ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায় মৈমনসিংহ গীতিকার নয়ানচাঁদ ঘোষ রচিত চন্দ্রাবতী পালায়। ১২টি অধ্যায়ে ৩৫৪টি ছত্রের এ লোকগাঁথাটি চন্দ্রাবতীর জীবনীর তথ্যভিত্তিক লিখিত প্রামাণ্য দলিল।

নয়ানচাঁদ ঘোষের বর্ণনায়, সুন্দরী চন্দ্রাবতীর সাথে তাঁর বাল্যসখা জয়ানন্দের বন্ধুত্ব যৌবনকালে গভীর প্রেমে পরিণত হয়। ফলে চন্দ্রাবতীর প্রেমিক মন উদ্বেলিত হয়, যা বর্ণিত হয়েছে নিন্মলিখিত ছন্দে:

'তোমারে দেখিব আমি নয়ন ভরিয়া।

তোমারে লইব আমি হৃদয়ে তুলিয়া।

বাড়ীর আগে ফুইট্যা রইছে মল্লিকা মালতী।

জন্মে জন্মে পাই যেন তোমার মত পতি।'

অবশেষে সামাজিকভাবে দুই পরিবারের সম্মতিতে জয়ানন্দ ও চন্দ্রাবতীর বিয়ে ঠিক হয়। সে বিয়ের আয়োজনও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ ঘটে যায় আরেক ঘটনা। আসমানি নামে একটি মুসলমান মেয়ের রূপে মুগ্ধ হয়ে তাঁকেই বিবাহ করে চঞ্চলমতি জয়ানন্দ। এই মর্মান্তিক খবরে চন্দ্রাবতী স্তম্ভিত হয়ে নাওয়া-খাওয়া ত্যাগ করেন। নিদারুণ আঘাতে মুষড়ে পড়া চন্দ্রাবতীকে বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য বংশীদাস কন্যাকে একমনে শিবের নাম জপ করতে আর রামায়ণ লিখতে উপদেশ দিলেন।

এসময় চন্দ্রাবতী পিতা দ্বিজ বংশীদাশের কাছে দুটি প্রার্থনা করেন। একটি ফুলেশ্বরী নদীর তীরে মন্দির প্রতিষ্ঠা করা এবং অন্যটি চিরকুমারী থাকার ইচ্ছা। চন্দ্রাবতী পালায় তার বর্ণনা রয়েছে:

'অনুমতি দিয়া পিতা কয় কন্যার স্থানে

শিবপূজা কর আর লেখ রামায়ণে।'

দ্বিজ বংশীদাশ তাঁর দু’টি প্রার্থনাই মঞ্জুর করলেন। এভাবেই এক সময়ের খরস্রোতা নদী ফুলেশ্বরীর তীরে স্থাপিত হয় চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির। বিরহী প্রেমের স্মৃতিময় সে জীবন চন্দ্রাবতী কাটিয়ে দিয়েছেন সাহিত্যের ভেতর।

কিছুকাল পর জয়ানন্দ অনুতপ্ত হয়ে আবার তার কাছে ফিরে এলেও চন্দ্রাবতী আর তার সাথে দেখা করেন নি। প্রত্যাখাত হয়ে জয়ানন্দ চন্দ্রাবতীর উদ্দেশ্যে মন্দিরের দ্বারে লিখে যা:

'শৈশব কালের সঙ্গী তুমি যৌবনকালের সাথী।

অপরাধ ক্ষমা কর তুমি চন্দ্রাবতী।

পাপিষ্ঠ জানিয়ো মোরে না হইল সম্মত।

বিদায় মাগি চন্দ্রাবতী জনমের মত।'

চন্দ্রাবতী অনেক পরে মন্দির খুলে এ লেখা দেখতে পান। ওই লেখা ধুয়ে ফেলার জন্য চন্দ্রাবতী নদীর ঘাটে জল আনতে গিয়ে দেখেন আত্মঘাতী ও বিরহী জয়ানন্দের মৃতদেহ জলের উপর ভাসছে। জয়ানন্দের মৃত্যু থামিয়ে দেয় চন্দ্রাবতীকেও। নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে ফুলেশ্বরীতে ঝাঁপ দিয়ে জয়ানন্দের শেষ যাত্রায় সঙ্গী হলেন তিনি।

অন্যমতে, জয়ানন্দের মৃত্যুর অল্প কিছুদিন পরই শোকাভিভুত চন্দ্রাবতীও দেহত্যাগ করেন। ফলে রামায়ণে সীতার বনবাস পর্যন্ত লেখার পর আর লেখা হয়নি।

চন্দ্রাবতীর রামায়ণ মূলত একটি পালাবদ্ধ গীত। এটি তিনটি খণ্ডে মোট ১৯টি অধ্যায়ে রচিত হয়েছে। প্রথম খণ্ড হলো জন্মলীলা, এখণ্ডে মোট ৮টি অধ্যায় রয়েছে। চন্দ্রাবতী রামায়ণের দ্বিতীয় খণ্ডের আলাদা কোনো নামকরণ করা হয় নি। এই খণ্ডে সীতার কাহিনী প্রাধান্য লাভ করেছে। এই খণ্ডে শেষ দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রথম অধ্যায়ে বনবাস পূর্ববতী জীবনের কাহিনী এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে সীতার বনবাসের ঘটনা। চন্দ্রাবতীর রামায়ণের তৃতীয় খণ্ডটিও দ্বিতীয় খণ্ডের মতো নামকরণবিহীন। মোট নয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত।

প্রথম অধ্যায়ে সীতার বনবাসের পূর্ণ সূচনা, দ্বিতীয় অধ্যায়ে সীতার বিরুদ্ধে কুকুয়ার চক্রান্ত, তৃতীয় অধ্যায়ে রামচন্দ্রের কাছে সীতার বিরুদ্ধে কুকুয়ার মিথ্যা অভিযোগ দায়ের, চতুর্থ অধ্যায়ে রামচন্দ্রের সীতাকে পূনর্বার বনবাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত, পঞ্চম অধ্যায়ে সীতার বনবাস, ষষ্ঠ অধ্যায়ে সীতাকে বাল্মীকি মুনির আশ্রয় দান ও লব-কুশের জন্ম, সপ্তম অধ্যায়ে সীতার সঙ্গে হনুমানের সাক্ষ্য, অষ্টম অধ্যায়ে রামচন্দের সঙ্গে হনুমানের সাক্ষ্য এবং নবম অধ্যায়ে চন্দ্রাবতী রামায়ণ শেষ। এ অধ্যায়ে সীতার অগ্নীপরীক্ষা ও পাতালে প্রবেশের বর্ণনা রয়েছে।

চন্দ্রাবতীর এই রামায়ণ কাহিনীতে রাম নয় সীতাই হয়ে উঠছেন নায়িকা। সীতার জন্ম কাহিনী দিয়ে শুরু করে, তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো স্থান দিয়ে, তাঁর মানসিকতাকে সুনিপুণ ভাবে ব্যাখ্যা করে তাঁরই পাতাল প্রবেশ দিয়ে এ রামায়ণের ছেদ টেনেছেন কবি। রামায়ণের এই নবতর রূপ কল্পনা করতে গিয়ে নিজস্ব শিক্ষা এবং রুচি অনুসারে কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের চিরাচরিত বহু বিষয়কে যেমন বিমুক্ত করেছেন, তেমনই নতুন বহু বিষয়কে সংযুক্ত করেছেন, যে নবনির্মিতির মূল্য অপরিসীম। নিজের জীবন অভিজ্ঞতা তথা জীবনাদর্শকে জারিত করে চন্দ্রাবতী রামায়ণের গতানুগতিক ধারার মধ্যেই সংযুক্ত করেন তাঁর ব্যতিক্রমী রচনা- রামায়ণের মোড়কে সীতায়ন।

চন্দ্রাবতীর জীবন কাহিনী ও গাঁথার প্রথম আবিস্কার ও আলোচনা করেন মৈমনসিংহ গীতিকা’র প্রখ্যাত সংগ্রাহক চন্দ্র কুমার দে। কিশোরগঞ্জের সন্তান কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত সৌরভ নামে একটি মাসিক পত্রের ১৩২০ ফাল্গুন সংখ্যায় (১৯১৩) চন্দ্র কুমার দে 'মহিলা কবি চন্দ্রাবতী' শীর্ষক একটি নিবদ্ধ লেখেন। এ নিবন্ধটি পাঠ করে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিষয়ে আগ্রহী হন এবং পরবর্তীতে চন্দ্র কুমার দে’র সহযোগিতায় চন্দ্রাবতীর গাঁথাসহ সম্পূর্ণ জীবন কাহিনী, চন্দ্রাবতী রচিত রামায়ণের পাণ্ডুলিপিসহ অনেক গানই উদ্ধার করেন। চন্দ্রাবতীর লেখা রামায়ণের পান্ডুলিপি বর্তমানে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত রয়েছে।

চন্দ্রাবতীর রচনা আজ সারাবিশ্বে আলোচিত। পৃথিবীর একুশটি ভাষায় তাঁর লেখা অনুদিত হয়েছে। এখানেই থেমে নেই, কবি চন্দ্রাবতীর রচনা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে পৃথিবীর নানা দেশে। ড. আহম্মদ শরীফের মতে, চন্দ্রাবতীর গাথা নারী সমাজেরই সম্পদ, তারাই গায় ও শোনে। এটি অদ্ভুত রামায়ণের স্বাধীন ও সংক্ষিপ্ত অনুস্মৃতি অথবা লোকায়ত রাম-কাহিনী অনুবাদ নয়। ভাষার দিক থেকেও আধুনিক।

সাহিত্যিক নবনিতা দেব সেন চন্দ্রাবতীর রামায়ণ পাঠ করে বিস্মিত হয়ে বলেন যে, এ রচনাটি দুর্বল তো নয়ই এটি অসমাপ্তও নয়। এ রচনাটিতে রামের জয়গান না করে একজন নারীর দুঃখ ও দুর্দশাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যা তৎকালীন পুরুষশাষিত সমাজের বিরুদ্ধাচারণ হিসেবেও মনে করা যেতে পারে। নবনিতা দেব সেন চন্দ্রাবতী রচিত রামায়ণের ইংরেজি অনুবাদও করেন।

বর্তমানে ফুলেশ্বরী নদীর কোন চিহ্ণ না থাকলেও কালের সাক্ষী হয়ে চন্দ্রাবতীর স্মৃতিবিজড়িত শিবমন্দিরটি দাঁড়িয়ে আছে। মন্দির ও চন্দ্রাবতীর লেখার রামায়ণ সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা, মন্দিরের নির্মাণ শৈলী ও স্থানীয় অনুসন্ধান থেকে অনুমান করা হয়, মন্দিরটি ষোড়শ শতকের শেষ পাদে নির্মিত, যদিও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মন্দিরটি অষ্ট কোণাকৃতির। এটির উচ্চতা ১১ মিটার। আটটি কোণার প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ ১.৭ মিটার। নিচের ধাপে একটি কক্ষ ও কক্ষে যাবার জন্য একটি দরজা রয়েছে। ভিতরে হয় শিবপূজা। নিচের সরলরেখায় নির্মিত অংশটি দু’টি ধাপে নির্মিত। নিচের ধাপের চারদিকে প্রায় অর্ধ বৃত্তাকার খিলানের সাহায্যে নির্মিত প্রশস্ত কুলুঙ্গী রয়েছে। নিচের ধাপে কার্ণিশ পর্যন্ত উচ্চতা ২.৭০মিটার। কক্ষের ভিতরে সাতটি জানালা সদৃশ কুলুঙ্গি রয়েছে যার প্রস্থ ৫২সেন্টিমিটার এবং দৈর্ঘ ৯৯সেন্টিমিটার। কিছু কারুকাজও আছে। কক্ষের ব্যাস ২.৩৫মিটার। এর কার্ণিশ বরাবর অনুচ্চ ছাদ রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপটিও সরলরেখায় নির্মিত। এই পর্যায়েও অর্ধবৃত্তাকারের খিলানের সাহায্যে নির্মিত প্রশস্ত কুলুঙ্গি রয়েছে। কুলুঙ্গির ভিতরে একদা পোড়ামাটির অসংখ্য চিত্র ফলকের অলংকরণ ছিল যা আজ অবশিষ্ট নেই।

জানা যায়, অনেকদিন মন্দিরটি প্রায়-ভগ্ন অবস্থায় ছিল, কয়েক বছর আগে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ সংস্কার করায় এর প্রাচীন আমেজ আর নেই। মন্দিরের শিবলিঙ্গটিও চুরি হয়ে গেছে। ১৯৯৬ সালে জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে ‘মন্দিরটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্পত্তি’ এই সাইনবোর্ড টানিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। এর রক্ষণাবেক্ষণসহ নিরাপত্তার বিষয়টি এখন হুমকির সম্মুখীন। তবে সম্প্রতি চন্দ্রাবতীর স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উদ্যোগী হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মাঝে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একাধিক প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেও গেছে।

আরোজানা গেছে, এখনো বিষয়টি কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে।

মন্দিরসংলগ্ন স্থানে স্থাপিত হয়েছে কবি চন্দ্রাবতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় মাঠে প্রতি বছর বৈশাখ মাসের এক তারিখে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কবি চন্দ্রাবতীর স্মৃতিকে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে এলাকার তরুণদের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে চন্দ্রাবতী স্মৃতি সংসদ।