পুলিশের উদ্যোগে দোকান পেলেন প্রতিবন্ধী

সাগর বাদশাকে দোকান হস্তান্তরকালে, ছবি: বার্তা২৪

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, লক্ষ্মীপুর, বার্তা২৪.কম

সেবাই পুলিশের ধর্ম। এ কথাটি শুধু একটি স্লোগান নয়, এটা এখন বাস্তবে প্রমাণ করেছেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন। অসহায় ও প্রতিবন্ধী সাগর বাদশার (৩৫) পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। প্রতিবন্ধী সাগর বাদশাকে একটি দোকানঘর তুলে দেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। তার এ আত্মমানবতায় একজন প্রতিবন্ধী কর্মজীবন পেয়েছেন। এই দৃষ্টান্ত আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের সোন্দরা গ্রামে ফিতা কেটে দোকানঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোতা মিয়া।

এসআই জহিরের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় প্রতিবন্ধী সাগর বাদশা কর্মজীবনে ফিরেছেন। এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয়রা এসআইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এদিকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে মালামালসহ নির্মিত দোকনঘরটি পেয়ে খুশি সাগর।

জানা গাছে, জন্ম থেকেই সাগর বাদশা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়–য়া গ্রামের মৃত আবদুল করিমের ছেলে। ছোটবেলা থেকে তিনি নানার বাড়ি রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের সোন্দরা গ্রামে বসবাস করছেন। তার পরিবারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/17/1547720577147.gif

শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি কোন কাজকর্ম করতে পারছেন না। এতে তার সংসারটি অভাব-অনটনের মধ্যে চলছিল। তার এ কষ্ট লাঘব করতে পুলিশের এসআই জহির উদ্দিন তাকে একটি দোকানঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে জহির উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মালামালসহ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি দোকানঘর নির্মাণ করে তাকে হস্তান্তর করেন।

এ সময় এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন দেওয়ান বাচ্চু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুরাইয়া আক্তার শিউলি, ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল মাল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, 'শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সাগর কোন কাজকর্ম করতে পারত না। এখন একটি দোকান পেয়ে তিনি কর্মজীবনে ফিরেছেন। এখন তার অভাবের সংসার আলোর মুখ দেখবে। তাকে একটি দোকান নির্মাণ করে দিতে উদ্যোগ নেওয়ায় পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে। এর মাধ্যমে সেবাই যে তাদের ধর্ম তা প্রমাণ করেছে। তাদের এমন দৃষ্টান্ত স্মরণীয় হয়ে থাকবে।'

জানতে চাইলে সাগর বাদশা বলেন, 'আমি এতদিন কাজ করতে পারতাম না। আমার সংসারে অনেক কষ্ট ছিল। জহির ভাইয়ের উদ্যোগে একটি দোকান পেয়েছি। আশা করছি এখন আর আমার সংসারে কোন কষ্ট থাকবে না।'

জেলা এর আরও খবর