Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

হাত কাটল বাবার, স্বপ্ন পুড়ল মেয়ের

হাত কাটল বাবার, স্বপ্ন পুড়ল মেয়ের
আজিদা ও তার বাবা। ছবি: বার্তা২৪.কম
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)


  • Font increase
  • Font Decrease

‘বাবা ছিলেন দরিদ্র কাঠুরে। তার গাছ কাটার আয়ে পড়াশোনার খরচ তো দূরের কথা, ঠিকমতো সংসার চলত না। তাই জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পাশ করার পর টিউশনি ও বেত বুনে কিছু টাকা আয়ের পথ বের করি। ওই টাকা থেকে কিছুটা সংসারে দিতাম, আর বাকিটা নিজের ও ছোট ভাইয়ের পড়াশোনায় খরচ করতাম। অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে এভাবেই নিজের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম।

কিন্তু হঠাৎ একদিন গাছ কাটার সময় ডাল পড়ে বাবার ডান হাত ভেঙে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা বাবার জীবন বাঁচাতে ডান হাত কেটে ফেলেন। এরপর কর্মক্ষম হয়ে যায় বাবা। সংসারের বোঝা পড়ে আমার কাঁধে। এখন নিজের পড়াশোনা, বাবার চিকিৎসা ও সংসারের খরচ যোগাতে গিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’

বার্তা২৪.কমের সঙ্গে কথাগুলো বলার সময় বারবার চোখ ভিজে আসছিল গৌরীপুর ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদরাসায় ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজিদা আক্তারের (২০)। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামে। তার বাবা আবুল কাশেম একজন কাঠুরে। মা সাহেরা খাতুন গৃহিণী।

সোমবার (৬ মে) বিকেলে সুনামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় বাড়ির উঠানে বসে আজিদা বেত বুনছেন। বেত বুনতে বুনতেই বার্তা২৪.কমের সঙ্গে কথা চালিয়ে যান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আর বাবা টানাটানি করে সংসারটা চালিয়ে নিচ্ছিলাম। গত ২২ মার্চ বাবা তাতীর পায়া গ্রামে একটি রেইনট্রি গাছ কাটতে গিয়ে ডাল ভেঙে আহত হন। এরপর বাবার ডান হাত কেটে ফেলা হয়। আমরা ষাট হাজার টাকা ঋণ করে বাবার চিকিৎসা করিয়েছি। বাবা সুস্থ থাকা অবস্থায় সংসারের খাবার-দাবার নিয়ে চিন্তা করতে হতো না। কিন্তু এখন তো তিনবেলা খেতেও পারি না। আমি মাসে যা আয় করি তার সবটাই সংসার ও বাবার ওষুধ কিনতেই চলে যাচ্ছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/07/1557226924962.JPG

সুনামপুর গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঘরে আজিদার পরিবারের বসবাস। তার সাত ভাই-বোনের মধ্যে চার বোন ও এক ভাই বিয়ে করে আলাদা হয়েছে। তারা পরিবারে কোনো সাহায্য করে না। ছোট ভাই শাহীন আলম এবার আলিম পরীক্ষা দিয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে পড়তে বসেন আজিদা। পড়া শেষে বাঁশ কেটে বেত বুনে চাটাই তৈরির কাজে বসেন। এরপর ক্লাস করতে মাদরাসায় যান। সেখান থেকে ফিরে টিউশনি করান। কিন্তু বাড়ি থেকে মাদরাসায় যেতে প্রতিদিন তার ষাট টাকা গাড়ি ভাড়া লাগে। প্রতিদিন মাদরাসায় আসলে বাবার ওষুধ কিনতে কষ্ট হয়। তাই কিছুদিন ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

আজিদা আক্তার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-ফাইভ পেয়েছেন। আলিম শ্রেণিতে পড়ার সময় অভাবের তাড়নায় বই কিনতে পারেননি। তাই রেজাল্ট কিছুটা খারাপ হয়। বর্তমানে আজিদা ফাজিল প্রথম বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। তার পড়াশোনায় মাদরাসার শিক্ষকরাও সহযোগিতা করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/07/1557226945145.gif

আজিদার সঙ্গে কথা বলতে বলতে বিকেলের বেলা সন্ধ্যায় গড়িয়েছে। লাল বর্ণ ধারণ করা সূর্যটা তখন অস্ত যাওয়ার অপেক্ষায়। এমন সময় ছোট ভাই শাহীনে কাঁধে ভর দিয়ে ঘরে থেকে বেরিয়ে আসেন আজিদার বাবা। তিনি বলেন, ‘গাছের ডাইল যহন শইলে পড়ছিল তহন মইর‌্যা গেলেই ভালো অইতো। সংসার চালাইতে গিয়া মাইড্যা যে কষ্ট করতাছে আর সহ্য অয়না।’

বাবার কথা থামিয়ে দিয়ে ছোট ভাই শাহীন বলেন, ‘সন্ধ্যার সময় কী সব কথা বলো বাবা। আপা যখন পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষক হবে। তখন আর কষ্ট থাকবে না।’

ছোট ভাইয়ের কথার রেশ টেনে আজিদা বলেন, ‘গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করব এমন স্বপ্ন ছোট বেলা থেকেই দেখতাম। কিন্তু এখন যে অভাবে পড়েছি ভাই, শিক্ষক হওয়া তো দূরের কথা পড়াশোনাই ছেড়ে দেয়া লাগবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার

গণধর্ষণ মামলার আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার
আসামি বাদশা হোসেন। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

ঝিনাইদহে ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা হোসেনকে (৩১) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার খাজুরা জোয়ার্দ্দার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বাদশা খাজুরা এলাকার মৃত মন্তেজ হোসেনের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান জানান, গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশা খাজুরা এলাকায় অবস্থান করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাদশা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে বাদশা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে বের হয়। এ সময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মণ্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শহরের ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক

জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক
শকুনি লেক। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

যেকোনো উৎসব বা আয়োজনকে সামনে রেখে আনন্দ-বিনোদনে মেতে উঠেন মাদারীপুরবাসী। বিশেষ করে সেখানের শকুনি লেক এলাকাবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই যেকোনো উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে লেকে।

গেল ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য লেকের রাইডে যোগ হয় পায়ে চালানো নৌকা বা প্যাডেল বোট। লেকের টলটলে পানি, আশপাশের মনোরম পরিবেশ সব কিছুই যেন দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। তাই সেখানে এখনো রাত ও দিনে ঈদের আমেজ বিরাজমান।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হলেও দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। ২০১৩ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে কাজের শতভাগ শেষ হয়েছে। লেকটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358494030.jpg

লেকটিতে ‘মাদারীপুর ঘড়ি’ নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহীদ চত্বর, মুক্তমঞ্চ, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলাসহ লেকটির বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শকুনি লেকের চারপাশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় রয়েছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবিও তুলছেন, কেউবা সেলফি তুলছেন। আবার কেউ প্যাডেল বোটে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরছেন।

বরিশালের গৌরনদী এলাকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে জনপ্রিয় এই শকুনি লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এখানের সৌন্দর্যে আমরা সবাই খুশি। বিশেষ করে প্যাডেল বোটে চড়তে পেরে সবার ভালো লেগেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566358514111.jpg

মাদারীপুর শহরের নিজাম উদ্দিন জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল-বিকেল তাকে হাঁটতে হয়। পার্কে হাঁটার জন্য সুন্দর পরিবেশও আছে। তাই তিনি প্রতিদিনই সেখানে যান।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘মাদারীপুর জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে লেকটির গুরুত্ব ব্যাপক। আমরা লেকটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি। তাছাড়া লেকের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার পাঠক জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের একটি দল লেক ও এর আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র