Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘ফকিরের মেয়ের পড়া লাগবো ক্যান, বিয়া দিয়া দেও’

‘ফকিরের মেয়ের পড়া লাগবো ক্যান, বিয়া দিয়া দেও’
সানজিদা আক্তার। ছবি: বার্তা২৪.কম
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)


  • Font increase
  • Font Decrease

‘জামাই আমার ভিক্ষা করে। আমি মাইনষ্যের বাড়িত কাম করি। ঘরে একটা মাইয়্যা আছে, মাদরাসায় পড়ে। অভাবের ঠেলায় পড়ালেহার খরচ দিতারি না। ভালা একটা কাপড় পরাইতারি না। তবু মাইয়্যাডা কষ্ট কইর‌্যা পড়ালেহা করে। তয় গেরামের মাইনষ্যে কয়, ফকিরের মেয়ের এতো পড়ালেহা করা লাগবো ক্যান, বিয়া দিয়া দেও।’

বার্তা২৪.কমের কাছে কথাগুলো বলার সময় বারবার চোখ ভিজে আসছিল ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিশ্বরণ গ্রামের হতদরিদ্র নূরবানুর। তার স্বামী প্রতিবন্ধী মোকসেদ আলী একজন ভিক্ষুক। আর একমাত্র মেয়ে সানজিদা আক্তার গৌরীপুর ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদরাসার আলিম প্রথম শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

গতকাল শনিবার (১১ মে) বিকেলে এ প্রতিবেদক যখন নূরবানুর বাড়িতে পা রাখেন তখন ভেতর থেকে মৃদু পড়াশোনার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ভেতরে গিয়ে দেখা যায় দরজার সামনে পাটি বিছিয়ে বই পড়ছেন সানজিদা। পড়া শেষে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে কথা হয় তার।

বিকেল বেলা পড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছোট থাকতেই অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে বড় হয়েছি। কখনো প্রাইভেট পড়তে পারিনি। মাদরাসার এক বান্ধবীর কাছ থেকে বই ধার করে এনেছি। কাল ফেরত দিতে হবে। তাই পড়ছিলাম।’

মহিশ্বরণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে পিইসি, জেডিসি ও দাখিল পাশ করেছেন সানজিদা। বর্তমানে তিনি স্থানীয় মাদরাসায় আলিম প্রথম বর্ষে পড়ছেন। প্রতিদিন বাড়ি থেকে দশ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে মাদরাসায় যান সানজিদা। আসা যাওয়ার জন্য পথে অটোরিকশার সুবিধা থাকলেও টাকার অভাবে কখনো গাড়িতে উঠতে পারেন না তিনি।

মহিশ্বরণ গ্রামের ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ ঘরে সানজিদার পরিবারের বসবাস। বাবা, মা ও নানুকে নিয়ে তাদের চার সদস্যের সংসার। সানজিদার বাবা প্রতিবন্ধী ভাতা পান। কিন্তু ওই টাকায় তাদের সংসার চলে না। তাই সংসারের খরচ যোগাতে ভিক্ষা করেন তিনি। আর সানজিদার মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে সামান্য টাকা পান। এভাবেই চলছে তাদের সংসার।

সানজিদা আক্তার বলেন, ‘আমাদের জমি-বাড়ি নাই। ভবিষ্যতে আমি শিক্ষক হতে চাই। কিন্তু অভাবের জন্য পড়াশোনার খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। আর গ্রামের লোকজন বলে বেড়ায় গরিবের মেয়েকে পড়ালেখা করিয়ে লাভ কী? ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দাও। এসব আচরণে আমি খুব কষ্ট পাই।’

সানজিদার সঙ্গে কথা বলতে বলতে বিকেলের বেলা সন্ধ্যায় গড়িয়েছে। ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে আসছে গ্রামের চারপাশ। এমন সময় বাড়িতে প্রবেশ করেন সানজিদার নানু বৃদ্ধা মরিয়ম নেছা। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। নাতিডারে ঠিকমতো পড়াইতারি না। সরকার যদি একটু সাহায্য করতো, তাইলে তো পড়ালেহাডা ঠিকমতো চলতো।’

কথার রেশ টেনে সানজিদা বলেন, ‘আমি কষ্ট করে পড়ালেখা করছি। আমার দুরবস্থার কথা জানতে পারলে কেউ না কেউ সাহায্য করবেই। কিন্তু তোমরা লোকের কথায় আমাকে বিয়ে দিও না। আমি কিন্তু পড়ালেখা করে শিক্ষক হতে চাই।’

ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদরাসার উপাধ্যক্ষ এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা সানজিদার দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তার উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। সে একজন মেধাবী ছাত্রী। সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিরা যদি সহযোগিতা করে তাহলে সানজিদার অনেক উপকার হয়।’

আপনার মতামত লিখুন :

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু
ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি রফতানি শুরু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (১৯ আগস্ট) থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফিতানি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে গত ৯ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি সহ মোট দশদিন বন্দরে সকাল প্রকার পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু

তবে বন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, টানা দশদিন বন্ধ থাকার পর এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা নিখোঁজ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা, ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের চুনিয়াখালিপাড়া মহল্লার কাপড় ব্যবসায়ী আল মুবিন জনের স্ত্রী রুমকি পারভীন (২৬) ও একমাত্র কন্যা জাহরা খাতুন (৩) বেড়াতে গিয়ে চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ঘটনার পর গত শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে ব্যবসায়ী আল মুবিন শাহজাদপুর থানায় একটি জিডি করেছেন।

এই বিষয়ে আল মুবিন জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ভেরুয়াদহ গ্রামে খালার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ রুমকির মা জিনাত রেহানা রিনা বলেন, 'নিখোঁজের দুই ঘণ্টা পর বগুড়া থেকে বুলবুল তালুকদার নামের এক যুবক আমার বোন জাহানারা বেগম মিনির কাছে ফোন দিয়ে জানায়, রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুন তার হেফাজতে আছে। এরপর থেকে ওই ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে।'

আল মুবিন জানান, মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে ওই যুবক তার স্ত্রী ও কন্যাকে অপহরণ করেছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করতে না পারলে তাদের হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আমরা নিখোঁজ রুমকি ও শিশু জাহরা খাতুনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের উদ্ধারে সক্ষম হব।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র