Alexa

নকলে বাধা দেওয়ায় ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত

নকলে বাধা দেওয়ায় ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত

কলেজ গেটের সিসিটিভি ফুটেজে শিক্ষকের ওপর ছাত্রলীগ নেতাদের হামলা/ ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান।

লাঞ্ছিত শিক্ষক বার্তা২৪.কম-কে জানান, গত রোববার (১২ মে) কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার পথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালান।

তিনি জানান, ৬ মে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার কক্ষে দুইজন পরীক্ষার্থীর অসুদপায় অবলম্বন চোখে পড়ায় তিনি তাদের খাতা সাময়িক সময়ের জন্য জব্দ করেন। এ ঘটনায় ওই পরীক্ষার্থীরাসহ ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা তার উপর ক্ষুব্ধ হয়।

হামলার জন্য শিক্ষক মাসুদুর রহমান শহীদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুনকে দায়ী করেন।

অভিযুক্ত শামসুদ্দিন জুন্নুন বুধবার (১৫ মে) রাতে বলেন, ‘এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করছিলেন, সে সময়ে ঐ শিক্ষককে উদ্ধার করতে এবং উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে এগিয়ে যাই।’

কলেজের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কলেজ গেট থেকে মোটরসাইকেলে করে বের হওয়ার সময় কয়েকজন যুবক এসে অতর্কিত হামলা চালান শিক্ষক মাসুদুর রহমানের ওপর। তাকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়। ফেলে দেওয়া হয় তার মাথার পাগড়িও। একপর্যায়ে তিনি বেরিয়ে যেতে চাইলে পেছন থেকে এসে তাকে লাথি মারে এক যুবক।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় ঐ দিনই (১২ মে) কলেজ কর্তৃপক্ষ ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. কৃষ্ণেন্দু কুমার পালকে প্রধান করে ও ড. ইসমত আরা ও সহকারি অধ্যাপক হারুনুর রশিদসহ কলেজের কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিয়ে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঐ দুই পরীক্ষার্থীর অসুদপায় অবলম্বনের সত্যতা মিলেছে। সিসিটিভি ফুটেজে ছাত্রলীগের বেশ কয়েক জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।‘

এই ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাশাপাশি শিক্ষকের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করায় কলেজ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠার পাশাপাশি উত্তেজনা রয়েছে।

এ বিষয়ে সর্বশেষ জানতে বুধবার রাতে শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ এস এম কুদ্দুসের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

তদন্ত কমিটির প্রধান কৃষ্ণেন্দু কুমার পাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্তের পর প্রাথমিকভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক নেতা ও কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বিষয়টা যেহেতু এভাবে সমাধান করা যচ্ছে না। উপরন্তু পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে, সেহেতু এখন এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেব।’

লাঞ্ছিত শিক্ষক মাসুদুর রহমানের ঘনিষ্ট একজনের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বুধবার (১৫ মে) রাতেই ছাত্রলীগ নেতা শামসুদ্দিন জুন্নুনসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নামে থানায় মামলা দায়ের করা হতে পারে।

এদিকে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক বলেন, ‘শুনেছি এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমাদের কাছে অভিযোগ আসেনি। লাঞ্ছিত শিক্ষক বা তদন্ত কমিটি নতুবা কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :