গণধর্ষণ: মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাকে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যশোরের শার্শার লক্ষণপুরে এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ থেকে অবশেষে বাদ দেয়া হয়েছে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা খায়রুল ইসলামকে। তবে তার সোর্স হিসেবে পরিচিত তিনজনের নামে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গণধর্ষণের শিকার ওই নারী বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাদী হয়ে শার্শা থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তবে ধর্ষিতা নারী প্রথমে শার্শার গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুলসহ তার সোর্সের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- শার্শার লক্ষণপুর গ্রামের মজিদের ছেলে কাদের, মাজেদের ছেলে লতিফ ও চটকাপোতা গ্রামের হামিজ উদ্দীনের ছেলে কামরুল।

শার্শা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, ধর্ষণের শিকার নারী জানিয়েছেন- তাকে যখন ধর্ষণ করা হয় তখন তিনি খায়রুল নামটা শুনেছিলেন। এ ধারণা থেকে তিনি এসআই খায়রুলের নাম প্রকাশ করেন। তবে এইআই খায়রুলকে তার সামনে হাজির করা হলে তিনি তাকে চিনতে পারেননি। এতে এ অভিযোগ থেকে এসআই খায়রুলকে বাদ দিয়ে অন্য তিনজনের নামে মামলা করা হয়েছে। আসামিদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে ধর্ষণের শিকার ওই নারী জানান, গত ২৫ আগস্ট রাতে শার্শার লক্ষণপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে তার স্বামী আশাদুজ্জামানকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে তুলে নিয়ে যান এসআই খায়রুল। পরদিন তার কাছ থেকে ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে তাকে আদালতে চালান দেন।

এরপর সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে এসআই খায়রুল ও তার কয়েকজন সোর্স ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে স্বামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বলে এসআই খায়রুল ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ বিষয়টি নিয়ে খায়রুলের সঙ্গে ওই নারীর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে খায়রুল ও তার সোর্স তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকেও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া হয়।

পরে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধর্ষিতা নারী যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা জানতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ধর্ষিতা নারী ও অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :