আ.লীগ সর্বত্র ভ্যাট ছড়িয়ে দিয়েছে: খন্দকার মোশাররফ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যারা ভ্যাটের বিরুদ্ধে হরতাল দিয়েছিল এবং সংসদে ওয়াক আউট করেছিল, তারাই তা সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

শুক্রবার বিকেলে (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোশাররফ বলেন, ‘সাইফুর রহমান সাহেব ভ্যাট প্রথা নিয়ে প্রথম যখন পার্লামেন্টে বললেন তখন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে। তারা ওয়াক আউট করল, হরতাল করল। কিন্তু তখন অনেকেই বলেছিল তিনি অনেক সাহসী অর্থমন্ত্রী হিসেবে ভ্যাট প্রবর্তন করার সাহস করেছেন। চিন্তা করে দেখেন, আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতি ওই ভ্যাটের উপরে দাঁড়িয়ে। এতো বড় বাজেট হয়, এই টাকাটা আসে কোথা থেকে?’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানের অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ব্যবসায়ীর একজন। দেশের ইতিহাসে এটা হয়নি। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে শীর্ষ ধনীদের মধ্যে থেকে অর্থমন্ত্রী করা হয় না। এটা করা হলে তাদের শ্রেণির, তাদের গোষ্ঠীর সার্থই তারা দেখবে। তারা আজকে সেটা দেখাচ্ছে। ব্যাংক লুট করে নিয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই, অথচ একটা কৃষক কৃষি ঋণ না দিতে পারলে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়ে যাচ্ছে।’

একই অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘সাইফুর রহমান সাহেব দেশপ্রেমিক ছিলেন, দেশকে ভালোবাসতেন। নিজের বা দলের লাভবান হওয়ার জন্য দেশের সার্থকে জলাঞ্জলি দেননি, এটা খুব বড় কথা যে দেশ বিক্রি করে দেননি। আজকে সাইফুর রহমান সাহেবরা থাকলে রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ব্যাঙের ছাতার মতো ব্যাংক, রুপপুরে এভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতো না। এক হাসপাতালে (ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে) ৩৭ লাখ টাকায় একটি পর্দা কেনা হতো না। বালিশ তো পর্দার কাছে হেরে গেছে। এই হচ্ছে অবস্থা, চতুর দিকে শুধু লুট ও লুটেরা। এই অবস্থায় চলছে এখন বাংলাদেশ।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে বন্দী রেখেছে শুধু মাত্র একটি কারণে, কি? উনি যদি বাইরে থাকেন তাহলে লুটপাট চলবে না। মানুষর অধিকারকে বিনষ্ট করা যাবে না। উনি ঠিকই সমস্ত মানুষদের নিয়ে প্রতিহত করতেন। দেশের মানুষ অবশ্যই দেশনেত্রীকে বের করে আনবেন, গণতন্ত্রকে মুক্ত এবং তাদেরকে (আওয়ামী লীগকে) প্রতিহত করবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :