ঘরের ‘নিরাপদ’ জিনিস থেকেও ছড়ায় ভাইরাস

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শীতের শুরুতেই বিভিন্ন ধরণের ঠাণ্ডার সমস্যা ও ফ্লুতে আক্রান্ত হবার সম্ভবনা বেড়ে যায় তুলনামূলক বেশি।

আবহাওয়াগত সমস্যা যতটা না বেশি থাকে, নিজের চারপাশের পরিবেশ তার চাইতেও বেশি সমস্যাযুক্ত হয়।

হয়তো ভাবছেন বদ্ধ লিফটের ভেতর কেউ হাঁচি দিলে, সেখান থেকেই ভাইরাস ছড়ায়। আপনার ভাবনা অবশ্যই সঠিক। কিন্তু নিজের বাসার ভেতরের তথাকথিত ‘নিরাপদ’ জিনিসপত্র ও স্থান থেকেও ঠাণ্ডা ও ফ্লুয়ের ভাইরাস ছড়াতে পারে অবলীলায়।

রিমোট কন্ট্রোল

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/11/1541918904041.jpg

টিভি কিংবা এসির রিমোট কন্ট্রোল শেষ কবে পরিষ্কার করা হয়েছে সেটা কী মনে আছে? রিমোট কন্ট্রোল পরিষ্কার করার বিষয়টি নিশ্চয় মাথাতেই আসেনি আপনার। ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনার ইনভারোমেন্টাল বায়োলজিস্ট কেলি রেইনল্ডস জানান, প্রতিদিন এই সকল রিমোট কন্ট্রোল জীবাণুনাশক তরলের সাহায্যে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। অনেক মানুষের হাতে রিমোট কন্ট্রোল থাকার ফলে, এর মাধ্যমে খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

স্টেশনারি জিনিসপত্র

প্লাস্টিকের মতো শক্ত পদার্থেও ঠাণ্ডা ও ফ্লুয়ের ভাইরাস দিনের পর দিন বেঁচে থাকতে পারে। ফলে খুব সহজেই ব্যবহৃত পেন্সিল, কলম, মার্কার অথবা অন্যান্য স্টেশনারি জিনিসের মাধ্যমে এই ভাইরাসগুলো ছড়িয়ে থাকে। নর্থওয়েল হেলথ এর অ্যাসোসিয়েট মেডিকেল ডিরেক্টর জে. ডি. জিপকিন বলেন, ‘চোখ, নাক ও মুখ খুবই স্পর্শকাতর অংশ এই ধরণের ফ্লুয়ের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের জন্য। কর্মক্ষেত্রে থাকার সময়ে এই সকল অংশে হাত ছোঁয়ানো থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করতে হবে’।

টুথব্রাশ হোল্ডার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/11/1541918918776.jpg

ঠাণ্ডায় আক্রান্ত কেউ যখন টুথব্রাশ হোল্ডার থেকে ব্রাশ নেন ও পুনরায় রেখে দেন, তখনই ঠাণ্ডার ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে টুথব্রাশ হোল্ডারে ও অন্যান্য টুথব্রাশে। সে কারণে কেলি পরামর্শ দেন, ঠাণ্ডার সমস্যা দেখা দিলে নিজের টুথব্রাশ অন্যান্যদের টুথব্রাশ থেকে আলাদা করে রাখার জন্য।

বেসিনের কল

আমেরিকান মাইক্রোবায়োলজি সোসাইটির সমীক্ষা মতে, ৩৯ শতাংশ মানুষ কাশি ও হাঁচি দেওয়ার পর হাত ধুয়ে থাকেন। এটা থেকে খুব সহজেই অনুমেয়, কীভাবে বেসিনের কল থেকে ঠাণ্ডা ও ফ্লুয়ের ভাইরাস ছড়ায়। শুধু বেসিনের কল নয়, দরজার নব ও ইলেকট্রিক সুইচ থেকেও একইভাবে এই ভাইরাসগুলো অন্যের শরীরে ছড়িয়ে থাকে।

গ্লাস, কাপ ও অন্যান্য বাসন

বাসার প্রত্যেককের আলাদা আলাদা প্লেট, গ্লাস ও কফি খাওয়ার মগ থাকার পরেও ঠাণ্ডা ও ফ্লুয়ের ভাইরাস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কোন বাসন কিংবা গ্লাস বহন করে সিংকে রাখা, বা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে খুব সহজেই। কেলি তাই পরামর্শ দেন, আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে কোন ধরণের জিনিসপত্র আদান-প্রদানের পর অবশ্যই জীবাণুনাশক সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়ার জন্য।

আপনার মতামত লিখুন :