Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

অমনোযোগে বেশি খাওয়া হচ্ছে?

অমনোযোগে বেশি খাওয়া হচ্ছে?
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বেখেয়ালে কিংবা অবচেতনে অনেকেই বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন।

বিরক্তি বোধ, মানসিক চাপ, অবসন্নতা কিংবা রাগের ফলে অনেকেই মনকে ভিন্ন দিকে সরানোর উদ্দেশ্যে খাবার খেয়ে থাকেন। এতে করে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খাবার খাওয়া হয়ে যায়।

অমনোযোগে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু যে বেশি খাওয়া হয় তা নয়, অস্বাস্থ্যকর, পুষ্টিহীন, উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়া হয় বেশি। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি করার পাশপাশি ওজনকে বাড়িয়ে দেয় অনেকটা।

ক্ষুধা না থাকা সত্ত্বেও অনবরত খাবার খাওয়ার ফলে শরীরের চাহিদার তুলনায় বাড়তি ক্যালোরি ও ফ্যাট জমে যায়। যা পরবর্তীতে ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরল লেবেল সহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যার সূত্রপাত ঘটায়।

এমন সমস্যা যদি আপনারও থাকে, তবে এখন থেকে সতর্ক হয়ে যাওয়া প্রয়োজন। অমনোযোগে খাবার খাওয়ার এই অভ্যাসটি কীভাবে দূর করবেন বলে ভাবছেন? আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো অমনোযোগে খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার পাঁচটি পরিকল্পিত ধাপ।

চোখের সামনে থাকুক চার্ট

রিমাইন্ডার হিসেবে চোখের সামনে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকাকে রেখে দিলে, অমনোযোগে খাবার খাওয়ার অভ্যাসটি কমে যাবে অনেকখানি। সকালে কোন খাবার কতটুকু খাওয়া যাবে, দুপুরে কোন খাবারগুলো খেতে হবে কিংবা রাতের জন্য কোন খাবারগুলো উপকারী- এই তালিকা খাবার টেবিল কিংবা নিজের ঘরের দরজাতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এছাড়াও কোন খাবারে কত ক্যালোরি এবং কোন জাংক ফুডটি খেলে কত ক্যালোরি গেইন হয়- এমন কোন তালিকা চোখের সামনে থাকলেও, অকারণে ও অমনোযোগে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাসটি দূর হবে।

প্লেট ছোট, গ্লাস বড়

খাবার খাওয়ার নিজস্ব প্লেট হিসেবে নির্বাচন করুন হাফ প্লেট এবং পান করার গ্লাস হিসেবে নির্বাচন করুন তুলনামূলক বড় আকৃতির গ্লাস। হাফ প্লেট ভর্তি খাবার নিলেই মনে হবে যে অনেক খাবার নেওয়া হয়ে গেছে। এই সিগন্যালের জন্য পরিমাণে কম খাবার খেলেও মস্তিষ্ক জানান দিবে যে পেট ভরে গেছে। এছাড়াও অমনোযোগে যদি খাওয়া হয়, হাফ প্লেটে খাবার নেওয়ার ফলে পরিমাণে কম নিতে হবে।

অন্যদিকে পানি পান করার গ্লাসটি আকারে বড় হলে বেশি পানি কিংবা তরল পা করা হবে। যা পেট ভরা রাখতে কাজ করবে।

খাবারের টেবিলে থাকুক বৈচিত্র

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/11/1549878296352.jpeg

খাবারের টেবিলে বিভিন্ন ধরণের খাবার রাখুন। কিন্তু সকল খাবার হতে হবে স্বাস্থ্যকর। যেমন: চলতি সময়ের কয়েক ধরণের ফল, ডায়বেটিক কুকিজ, সুগার ফ্রি জুস প্রভৃতি। যখন কোন কাজ নেই, কিংবা মন খারাপ কিংবা অকারণে কোন খাবার খেতে ইচ্ছা করছে, তখন খাবার টেবিলের সামনে গেলে অফুরান খাবার থেকে যেকোন খাবার খেতে পারবেন। কিন্তু সকল খাবারই স্বাস্থ্যকর।

মাল্টিমিডিয়া দূরে রাখুন

মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ কিংবা টিভিতে বুঁদ হয়ে থাকলে সম্পূর্ণ মনোযোগ স্বাভাবিকভাবে সেদিকেই থাকবে। একদিকে গ্যাজেট চালানো এবং অন্যদিকে খাবার খাওয়া- দুটো কাজ একইসাথে চালিয়ে যাওয়ার মতো ভুল কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে যথাসম্ভব। কেমন টিভিতে যখন পছন্দের সিরিজটি দেখছেন, তখন মনের ভুলে প্রয়োজনের চাইতে বেশি খাবার খাওয়া হয়েই যায়। এই অভ্যাসতিকে বাদ দিতে হবে সম্পূর্ণভাবে।

নিজেকে ব্যস্ত ও মনযোগী করার চেষ্টা করুন

এই সমস্যাটির মূল সমাধান আসবে সতর্ক ও সাবধান হওয়ার মাধ্যমে। বহু উপায় ও পদ্ধতি মেনে চললেও, দিন শেষে যদি নিজের থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা না হয় তবে ফলাফল খুব একটা ইতিবাচক হবে না মোটেও। যে কারণে নিজেকে ব্যস্ত রাখার ও মনযোগী করার চেষ্টা করতে হবে সবার আগে। মনোযোগ শুধু খাবার খাওয়ার সময় নয়, সকল ক্ষেত্রেই প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: তিনগুণ দ্রুততায় ওজন কমবে সহজ ‘একটি’ অভ্যাসে

আরও পড়ুন: গাড়িতে অবস্থানকালে যে কাজগুলো করা বারণ

আপনার মতামত লিখুন :

অবিবাহিত নারীরাই সবচেয়ে সুখী!

অবিবাহিত নারীরাই সবচেয়ে সুখী!
একা থাকলেই সুখে থাকা যাবে সবচেয়ে ভালোভাবে, ছবি: সংগৃহীত

এই ২০১৯ সালে এসে ‘কুড়িতেই বুড়ি’ প্রবাদটি না খাটলেও,

বয়স পঁচিশের গণ্ডি পেরোনোর আগেই এ দেশের প্রতিটি মেয়ের বিয়ের জন্য তোরজোড় শুরু হয়ে যায়।

নিজের পরিবার, সংসার, সন্তানসন্ততির স্বপ্ন সবারই থাকে। জীবনের একটা পর্বে এসে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই চায় বিয়ে করে থিতু হতে। কিন্তু সমস্যাটা হলো, বিয়ে করে সুখী কতজনে? নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, বিয়ে করে সুখী কতজন নারী?

নিজের চিরচেনা গণ্ডির বাইরে এসে সম্পূর্ণ অথবা আধা-পরিচিত একটি পরিবারের সাথে মানিয়ে নেওয়া, দায়িত্ব নেওয়া, সবকিছু সামলানোর ঝক্কি মাথায় নেওয়া, সবার মন রক্ষা করে চলা- একজন নারীর জন্য কতটা সুখ বয়ে আনে?

এতদসত্ত্বেও বান্ধবীর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, ছোট ভাই-বোনদের বিয়ে আটকে আছে, বয়স বেড়ে যাচ্ছে, সময় চলে যাচ্ছে- এমন নানান চিন্তায় বিয়ে করার জন্য প্রতিটি অবিবাহিত নারীই নিজের ভেতর থেকে বিয়ে করার তাগিদ অনুভব করেন, পুরোপুরিভাবে বিয়ে জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত না হলেও।

তবে এ বিষয়ে একটি চমৎকার সুখবর জানানো যায়। বিহাভিয়েরাল সায়েন্সের প্রফেসর পল ডল্যান দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘অন্যান্য গোষ্ঠীর মাঝে বিবাহিতরা তুলনামূলক সুখী। তবে তা শুধু তখনই, যখন সঙ্গী তাদের সাথে একই ঘরে থাকে এবং তাদের সামনে প্রশ্ন করা হয়- কেমন আছেন তারা। কিন্তু যখনই সঙ্গী ঘরে থাকেন না বা ঘরে থেকে বাইরে যান, তখনই ঘটনা পাল্টে যায়।’

এই বক্তব্যের সাথে তিনি যোগ করেন, ‘সবচেয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও সুখী হলেন অবিবাহিত ও নিঃসন্তান নারীরা।’

তার লেখা ‘হ্যাপি এভার আফটার: এস্কেপিং দ্য মিথস অব দ্য পারফেক্ট লাইফ’ বইটা প্রকাশের কিছুদিন পরেই তিনি এমন বক্তব্য রাখেন। দ্য গার্ডিয়ানের মতে যেখানে অ্যামেরিকান টাইম ইউজ সার্ভে (ATUS) এর তথ্য ও পরিসংখ্যান উঠে আসে। যে পরিসংখ্যানে অবিবাহিত, বিবাহিত, সেপারেটেড, ডিভোর্সি ও বিধবাদের সুখে থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল।

চমকপ্রদভাবে দেখা গিয়েছে, বিবাহিত পুরুষরা বেশ সুখী হয়। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, বিয়ে ও বিবাহিত জীবনের ফলে নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি সুবিধা পেয়ে থাকেন।

ডল্যান বলেন, ‘পুরুষরা গাঁটছড়া বাঁধার পর তুলনামূলক কম ঝুঁকি নেন, কাজ করেন, টাকা আয় করেন এবং তাদের আয়ুও বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে বিয়ের ফলে নারীদের আয়ু কমে যায় বেশ অনেকটা।’

এ বিষয়ে আরও বড় ও বিষয় গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহের কাজে জোরেশোরে নামবেন বলেও জানান প্রফেসর।

আরও পড়ুন: নারীদের জন্য বিশ্বের সেরা ১৯ দেশ!

আরও পড়ুন: মস্তিষ্কের সুস্থতায় মিউজিক!

কীভাবে দূর হবে অবসাদ?

কীভাবে দূর হবে অবসাদ?
অবসন্নতা দূর করতে সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।

শারীরিক অবসাদ বা ক্লান্তি, পরিশ্রান্ত বোধ হওয়ার সমস্যাটি মূলত মধ্যবয়স্কদের মাঝে বেশি দেখা দিলেও,

এখনকার সময়ে তরুণদের মাঝেও শারীরিক অবসাদ দেখা দেওয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। শারীরিক কাজের চাপ অথবা মানসিক চাপের দরুন অবসাদ তৈরি হয়। কিছু ক্ষেত্রে লুকায়িত শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় অবসাদ। যেমন- রক্তস্বল্পতা, হৃদরোগ, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়বেটিস ইত্যাদি। দীর্ঘদিন যাবত অবসাদভাব অনবরত দেখা দিতে থাকে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরাপন্ন হতে হবে এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী পথ্য গ্রহণ করতে হবে।

কাজের চাপ, মানসিক অশান্তি ও দুশ্চিন্তা থেকে যদি কিছুদিন পরপরই এই অবসাদভাব দেখা দিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রেও নিজেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

শারীরিক কার্যক্রম শুরু করতে হবে

গবেষণায় তথ্য জানাচ্ছে, শারীরিক কার্যক্রম এনার্জির মাত্রা বৃদ্ধিতে অনেকখানি অবদান রাখে। প্রতিদিন পনেরো মিনিটের হালকা ঘরানার শারীরিক কার্যক্রমও শারীরিক অবসাদ দূর করার পাশাপাশি হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষণার ফলাফল সুপারিশ করে, শারীরিক কার্যক্রম শারীরিক অবসাদ দূর করার সঙ্গে আত্মবিশ্বাসকেও দৃঢ় করতে কাজ করে।

এছাড়া অফিসে কর্মরত অবস্থায় যখনই শ্রান্তিভাব দেখা দেবে, চেয়ার ছেড়ে উঠে অফিস পরিসরে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করতে হবে। সম্ভব হলে বাইরে থেকে মিনিট পাঁচেকের জন্য ঘুরে আসতে হবে। এতে অবসন্নতা কমে যাবে।

পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561616943465.jpg

জানেন কি, শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়া থেকেও অবসন্নতা ও ক্লান্তিভাবের তৈরি হতে পারে। কাজের চাপে, সারাদিনের ব্যস্ততায় অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পানের বিষয়টি একেবারেই ভুলে যান। যা থেকে শরীরে দেখা দেয় তরলের অভাব। যেহেতু আমাদের শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য পানি প্রয়োজন হয়, তাতে ঘাটতি দেখা দিলেই এই অবসন্নতা কাজ করে।

ঘুমাতে হবে দ্রুত

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561617035879.jpg

সবসময় পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে, নিয়ম করে প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর জন্য। একজন প্রাপ্ত বয়স্কের শরীরে চাহিদা অনুযায়ী ঘুমে কমতি থাকলেই অবসন্নতা দেখা দিয়ে থাকে। ২০০৪ সালে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা জানাচ্ছে, অপরিমিত ঘুম অবসন্নতা দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। কাজের চাপ ও বিভিন্ন ধরণের চিন্তা ও দুশ্চিন্তার দরুন ঘুমের কমতি শরীর একেবারেই নিতে পারে না।

অল্প পরিমাণে কয়েকবারে খেতে হবে

যারা দিনের মাঝে দুই-তিনবারে অনেক বেশি খাবার খান তাদের চাইতে যারা দুই-তিন ঘন্টা অন্তর অল্প পরিমাণ খাবার গ্রহণ করেন, তাদের মাঝে শারীরিক অবসন্নতা কম দেখা দেয়। এমনকি এই অভ্যাসের দরুন রক্তে চিনির মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে থাকে। কয়েকবার খাবার খাওয়া হলেও প্রতি বারেই অল্প পরিমাণে খাবার খেতে হবে।

যোগব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561619951015.jpg

যেকোন ঘরানার যোগব্যায়ামই অবসন্নতাকে দূর করতে কার্যকর। শুধু দূর করতেই নয়, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ-ছয় দিন যোগব্যায়ামের অভ্যাস শরীর ও মনকে প্রাণবন্ত রাখতে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: প্রতিনিয়ত অকাল মৃত্যুকে ডেকে আনছি যার মাধ্যমে!

আরও পড়ুন: সুস্থতার জন্যে বিশ্রাম ও ঘুম কতটা জরুরি?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র