Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

যে অভ্যাসগুলো কমাবে বয়স বৃদ্ধির হার

যে অভ্যাসগুলো কমাবে বয়স বৃদ্ধির হার
বয়স বাড়ুক ধীর গতিতে, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বয়সকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সময়ের কাঁটায় আটকে রাখতে পারলে নিশ্চয় খুব ভালো হতো।

দুঃখের বিষয় হলো, সময় ও বয়সকে কোনভাবেই একই স্থানে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তবে এখানে খুব সুক্ষভাবে একটি ‘কিন্তু’ আছে। বয়সকে নির্দিষ্ট সময়ে বেঁধে রাখতে না পারলেও, বয়স বৃদ্ধিকে ধীর গতির করতে পারবেন খুবই উপকারী কয়েকটি নিয়মকে আত্মস্থ করার মাধ্যমে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

খুব সহজভাবে বললে- আমরা তাই, যা আমরা খাই। অর্থাৎ আমরা প্রতিদিন যে সকল খাবার গ্রহণ করছি, শারীরিকভাবে আমরা নিজেরা সেটাই হয়ে উঠছি। অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে অসুস্থ, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে সুস্থ। আমরা নিজেরাই যদি ফাস্ট ফুড, জাংক ফুড, প্রসেসড ফুড ও উচ্চমাত্রার চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে ফেলি, তবে সুস্থতা পাওয়ার আশা সেখানে একেবারেই অমূলক। যত বেশি অসুস্থতা দেখা দেবে, তত বেশি শরীরের বয়স বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

শরীরচর্চা করুন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557730365138.jpg
অল্প সময়ের জন্য হলেও দৌড়ানোর অভ্যাস করতে হবে 

 

শরীরচর্চা শুধুই শরীরকে ফিট রাখতে নয়, শারীরিক শক্তিকে বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ শরীরের পেশী ও হাড়কে মজবুত করে। এমনকি প্রতিদিন ১০-২০ মিনিটের শরীরচর্চা অথবা দৌড় আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।

কাজে লাগান মস্তিষ্ককে

আমাদের শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতোই মস্তিষ্ককে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না যায়, তবে মস্তিষ্ক তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে অনেকখানি। যে কারণে মস্তিষ্কের ব্যবহার সম্বন্ধে বলা হয়ে থাকে, ‘এটার যথাযথ ব্যবহার করো অথবা এটাকে হারিয়ে ফেলো’। আমরা ভাবি বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা তথা চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটবে। কিন্তু সঠিক বিষয়টি হলো, যেকোন বয়সেই মস্তিষ্ককে যদি ভালোভাবে কাজ করানো যায়, তবে তা চমৎকার পারফর্ম্যান্স দেখাবে। মস্তিষ্ককে সচল রাখতে পাজল গেম, ম্যাথ সলভিং গেম, নতুন ভাষা শেখার অভ্যাস রপ্ত করতে হবে।

ঘুমান পর্যাপ্ত

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557725924958.jpg
ঘুমাতে হবে পর্যাপ্ত

 

কাজের চাপ ও ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, ঘুমের ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেওয়া যাবে না মোটেও। ঘুম যত কম হবে, শরীরের ওপর তত বেশী চাপের সৃষ্টি হবে। এতে করে খুব স্বাভাবিকভাবেই শরীর বুড়িয়ে যেতে শুরু করবে সময়ের আগেই। প্রতিদিনের কর্মব্যস্তময় সময়ের মাঝে ঘুমের জন্য অবশ্যই ৭-৮ ঘন্টা সময় আলাদা করে রাখতেই হবে।

পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান

নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য অন্যান্য সকল কাজের মাঝে আরও যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে, সেটা হলো নিজেকে আনন্দিত রাখা, প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে রাখা। শারীরিক সুস্থতা যেমন বয়সের উপরে প্রভাব ফেলে, ঠিক একইভাবে মানসিক সুস্থতাও বয়সের উপর প্রভাব বিস্তার করে। একাকীত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। তাই চেষ্টা করুন নিজেকে সবসময় আনন্দিত রাখার জন্য। পছন্দের মানুষের সাথে সময় কাটানোর ফলে মানসিক প্রশান্তি শারীরিকভাবেও ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।

আরও পড়ুন: বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন?

আরও পড়ুন: জীবন হোক আনন্দ ও হাসিতে ভরপুর

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র