ভিক্ষুকদের থেকেও অতিরিক্ত কর নেন ইউপি চেয়ারম্যান!



শরিফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, নড়াইল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ভিক্ষুক ও হতদরিদ্রদের কাছ থেকে বসতবাড়ির উপরে অতিরিক্ত কর আদায়ের অভিযোগ উঠেছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্যা মোকাররম হোসেন হিরুর বিরুদ্ধে।

চৌকিদারসহ বহিরাগত লোক নিয়োগ করে চাপের মুখে ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কাছ থেকে ৩০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত কর আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, কালিয়া উপজেলার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চাপাইল গ্রামের বাসিন্দা আফরোজা বেগম (৬০), কচি বেগম (৫৫) ও কমরোন নেছা (৫০)। তারা তিন বোন বাকপ্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক। তাদের মধ্যে কচি বেগমের এক সন্তান থাকলেও স্বামী নেই। প্রতিবন্ধী হওয়ায় বাকি দু’বোনের বিয়েই হয়নি। বসতবাড়ির দু’শতক পৈত্রিক জমি ছাড়া তাদের কিছুই নেই। বড় বোন আফরোজার নামে রয়েছে সরকারি দুস্থ মাতার ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড। ফলে সরকারি সাহায্য ও ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনো রকমে চলে তাদের জীবন।

অভিযোগ আছে, তারাও চেয়ারম্যানের করের তালিকা থেকে বাদ যাননি। চেয়ারম্যানের ভাড়াটিয়া লোক ও চৌকিদার কওছার ৩০০ টাকা কর আদায় করতে দু’বার তাদের বাড়িতে যান। কিন্তু করের টাকা দিতে না পারায় ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কেটে নেয়ার হুমকি দেন তারা।

একই গ্রামের ভিক্ষুক মিরাজ খন্দকারের স্ত্রী বিনা বেগম জানান, কয়েকদিন আগে স্থানীয় চৌকিদার কওছারের সঙ্গে অপরিচিত দু’জন লোক এসে ১০০ টাকা কর নিয়ে গেছে।

একই গ্রামের মৃত আয়েন উদ্দিনের ছেলে বশির মিয়া অভিযোগ করে জানান, বাপ-দাদার রেখে যাওয়া দুই শতক বসতভিটা ছাড়া তার আর কিছুই নেই। শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তার সংসার চলে। চেয়ারম্যানের লোকেরা মামলার ভয় দেখিয়ে ৩০০ টাকা কর নিয়েছে।

মধুপুর গ্রামের রুবেল শিকদার, লবা শিকদার, বাগুডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিমসহ অনেকেই জানান, কোনো প্রচার-প্রচারণা বা আপিলের সুযোগ না দিয়েই প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে ৩-৫ গুণ কর আদায় করা হচ্ছে। আর্থিক অবস্থা দেখে নয়, মুখ দেখে কর নেয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে মামলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে।

কর আদায়ের কাজে নিয়োজিত হৃদয় নামে একজন জানান, ওই ইউনিয়নে কর আদায়ের জন্য তাদের ১০ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যন মোল্যা মোকারম হোসেন হিরু।

পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আজাহার উদ্দিন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা বসতবাড়ি থেকে কর আদায় করতে শতকরা ১৫ টাকা কমিশন দেয়ার শর্তে কিছু লোক নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক অবস্থা বুঝে একবাড়ি থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা কর আদায়ের সরকারি বিধান রয়েছে। তবে কার কাছ থেকে কী পরিমাণ কর আদায় করা হচ্ছে সেটা আমি বলতে পারব না।’

অভিযুক্ত পহরডাঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যান মোল্যা মোকারম হোসেন হিরু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এর আগেও বহিরাগত নিয়োগ করে উপজেলার সালামাবাদ ও ইলিয়াছাবাদসহ কয়েকটি ইউনিয়নে কর আদায় করা হয়েছে। তাই এবারো একইভাবে কর আদায় করা হচ্ছে।’

তবে অতিরিক্ত কর আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছরের বকেয়া থাকলে সে ক্ষেত্রে বেশি টাকা আদায় হতে পারে। ভিক্ষুক ও হতদরিদ্রের কাছ থেকে করের টাকা আদায় করা হয়েছে কিনা সেটা আমি জানি না। এ রকম কিছু ঘটে থাকলে খোঁজ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘হতদরিদ্র ও ভিক্ষুকদের কাছ থেকে কর আদায়সহ অতিরিক্ত কর আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

গড়াই নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি প্রতীকী

ছবি প্রতীকী

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার খোকসায় গড়াই নদীতে ডুবে সুমন (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে খোকসা উপজেলার গনেশপুর অংশে গড়াই নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত সুমন কুমারখালী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

খোকসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, সকালের দিকে গড়াই নদীতে মাছ ধরতে যান সুমন। মাছ ধরার এক পর্যায়ে নদীতে ডুবে যান তিনি। বিকেলের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

;

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে সাফায়েত হোসেন (১৯) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সালাউদ্দিন (২২) নামের আরেক যুবক গুরুতর আহত হন।

রোববার (৫ এপ্রিল) এই বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ি দক্ষিণপাড়া স্কুল বাড়ির আবদুল আউয়ালের ছেলে সাফায়াত হোসেন এদিন বিকেলে সহপাঠীদের সাথে পার্শ্ববর্তী ঘোড়াময়দান গ্রামের একটি মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। বিকাল ৫টার দিকে খেলা চলা অবস্থায় আকস্মিক বজ্রপাতে সাফায়েতের পুরো শরীর ঝলসে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে উদ্ধার করে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেয়া হলে সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া বজ্রপাতে ওই ঘোড়াময়দান গ্রামের নুরুল হকের ছেলে সালাউদ্দিন (২২) গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব ঘটনার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

;

লক্ষ্মী ভাইয়েরা বাসায় যান, নিজেসহ দেশকে বাঁচান



নাহিদ রেজা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ওসি তানভিরুল ইসলাম।

ওসি তানভিরুল ইসলাম।

  • Font increase
  • Font Decrease

আমার লক্ষ্মী ভাইয়েরা দয়া করে বাইরে ঘোরাঘুরি না করে বাসায় যান। নিজে বাঁচেন, পরিবারকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান। সচেতন হোন।

ঠিক এসব কথা বলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে এভাবে সচেতন করায় সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি ওষুধ কেনার জন্য স্থানীয় বাজারে এসেছিলাম। কিছুক্ষণ পর থানার একটি গাড়ি বাজারের সামনে এসে দাঁড়ায় এবং ওসি তানভিরুল সবাইকে বাসায় থাকার জন্য অনুরোধ করেন। এর আগে কখনো জনগণের সঙ্গে পুলিশের এমন ভালো আচরণ দেখি নাই।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চৌড়াস্তা মোড়ে কথা হয় জয়নাল নামে এক পথচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জেলার পুলিশ সাধারণ জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে। তাদের ভাই বলে বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে। ওসিসহ পুলিশের সদস্যরা নিজেদের কথা চিন্তা না করে আমাদের জন্য এ কাজটি করে যাচ্ছেন। তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

স্থানীয় সাহাদত হোসেন নামে একজন বলেন,‘তানভিরুল ভাই একজন মানবিক পুলিশ অফিসার। তার জন্য শুভকামনা ও দোয়া রইল।’

ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকার যেসব দিক নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো মেনে চলতে হবে। জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করে তাদের সচেতন করা হচ্ছে। এতে কাজও হচ্ছে।’

;

ডিবি পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই, যুবক গ্রেফতার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
গ্রেফতার আবেদ আলী।

গ্রেফতার আবেদ আলী।

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার অপরাধে আবেদ আলী (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবেদ আলী সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া গ্রামের খয়রাত হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামে মোকছেদুল ইসলামসহ কয়েক যুবক মোবাইলে ভিডিও গেম খেলছিলেন। এ সময় আবেদ আলী নিজেকে সৈয়দপুর থানার ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক পরিচয় দিয়ে ওই যুবকদের কাছ থেকে মোবাইলটি নিয়ে যান। পরে এ বিষয়ে মোবাইলের মালিক মোকছেদুল ইসলাম সদর থানায় অভিযোগ করেন।

এরপর রোববার ভোরে আবেদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি খেলনা পিস্তল ও ওয়্যারলেস সেট, একাধিক মোবাইল সিম এবং দুটি পরিচয়পত্র জব্দ করে পুলিশ।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার সত্যতা স্বীকার করেছেন আবেদ আলী। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

;