হাসপাতালের রান্নাঘর-গ্যারেজ নির্মাণে ব্যয় কোটি টাকা!



আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বান্দরবান
হাসপাতালের গ্যারেজ (বামে) ও রান্নাঘর (ডানে),  ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

হাসপাতালের গ্যারেজ (বামে) ও রান্নাঘর (ডানে), ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বান্দরবান সদর হাসপাতালে অস্থায়ী রান্নাঘর ও গ্যারেজ নির্মাণে কোটি টাকা ব্যয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন প্রকৌশলীর যোগসাজশে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে একটি ঠিকাদারী চক্র প্রকল্পের অধিকাংশ টাকা লোপাট করেছে। আর গণপূর্ত বিভাগের দাবি, টেন্ডারের বাইরে আরও অনেক কাজ করায় এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে একশ শয্যার বান্দরবান সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করে সরকার। এ জন্য হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণে ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরাতন রান্নাঘর ও গ্যারেজ। ফলে অস্থায়ীভাবে একটি রান্নাঘর ও গ্যারেজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে গণপূর্ত বিভাগ।

হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার চট্টগ্রামের রয়েল অ্যাসোসিয়েটকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে রান্নাঘর এবং ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্যারেজ ও সিকিউরিটি গেইট নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু টেন্ডারের ডকুমেন্টে আলোচিত যুবলীগ নেতা জি. কে শামীমকে ২ শতাংশ শেয়ার হোল্ডার দেখানো হয় এবং তার মালিকানাধীন জি. কে বিল্ডার্সের ওয়ার্কডান সার্টিফিকেট (কার্যসম্পন্ন অভিজ্ঞতাপত্র) ব্যবহার করা হয়। যদিও গণপূর্তের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, কাজটি করছে চট্টগ্রামের রয়েল অ্যাসোসিয়েট।

এদিকে হাসপাতালের অস্থায়ী রান্নাঘর ও গ্যারেজ নির্মাণ কাজে বিশাল অংকের অর্থ লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৭ ফুট বাই ৩৬ ফুটের আধা পাকা টিনশেড রান্নাঘর এবং ১৫ ফুট বাই ২৮ ফুটের আধা পাকা টিনশেড গ্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া পাশেই ২৮ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট উচ্চতার লোহার গ্রিলের একটি সিকিউরিটি গেইটও নির্মাণ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী ও স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করে জানান, টিনশেড রান্না ঘর, গ্যারেজ ও গ্রিলের সিকিউরিটি গেইট নির্মাণে নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার করা হয়েছে। যা নির্মাণে ২০-২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয়। কিন্তু গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা কিভাবে এত টাকা ব্যয় দেখালেন সেটা বোধগম্য হচ্ছে না। এটা উন্নয়নের নামে সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অংশৈ প্রু বলেন, ‘হাসপাতালের জন্য অস্থায়ী একটি রান্না ঘর ও গ্যারেজ নির্মাণে কত টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল এবং টেন্ডারে কী কাজ দেখানো হয়েছে- তা আমার জানা নেই। ইতোমধ্যে অস্থায়ী রান্নাঘর ও গ্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া কিছু সংস্কার কাজও করা হয়েছে। তবে আমরা এখনও কাজ বুঝে পাইনি।’

নির্মাণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকোশলী ফয়জুর রহমান বলেন, ‘২টি টেন্ডারে ৫০ লাখ টাকা করে কোটি টাকা ব্যয়ে রান্নাঘর ও গ্যারেজের কথা উল্লেখ আছে। তবে এর বাইরে সিকিউরিটি গেইট, হাসপাতাল ও আবাসিক কোয়াটারের জন্য টাইলস, থাইগ্লাস, ইলেকট্রিক ফিটিংস, সৌন্দর্যবর্ধন ও সীমানা প্রাচীর সম্প্রসারণের কাজ করা হয়েছে। কিন্তু টেন্ডারে এসব কাজ উল্লেখ ছিল না। ইতোমধ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদার ৬০ শতাংশ বিলও তুলে নিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কাজটি এখনও বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। কিন্তু গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কাজটি বুঝে নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আর অর্থ লোপাটের অভিযোগ সত্য নয়।’

অন্যদিকে, বান্দরবানের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌমেন মল্লিক বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিকভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সে অনুযায়ী শতভাগ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষকে কাজটিও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। কাজে কোনও অনিয়ম হয়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮০-৮৫ লাখ টাকার বিলও নিয়েছেন। কাজের সম্পূর্ণ বরাদ্দ না পাওয়ায় শতভাগ বিল দেয়া সম্ভব হয়নি।’

গড়াই নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি প্রতীকী

ছবি প্রতীকী

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার খোকসায় গড়াই নদীতে ডুবে সুমন (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে খোকসা উপজেলার গনেশপুর অংশে গড়াই নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত সুমন কুমারখালী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

খোকসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, সকালের দিকে গড়াই নদীতে মাছ ধরতে যান সুমন। মাছ ধরার এক পর্যায়ে নদীতে ডুবে যান তিনি। বিকেলের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

;

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে সাফায়েত হোসেন (১৯) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সালাউদ্দিন (২২) নামের আরেক যুবক গুরুতর আহত হন।

রোববার (৫ এপ্রিল) এই বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ি দক্ষিণপাড়া স্কুল বাড়ির আবদুল আউয়ালের ছেলে সাফায়াত হোসেন এদিন বিকেলে সহপাঠীদের সাথে পার্শ্ববর্তী ঘোড়াময়দান গ্রামের একটি মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। বিকাল ৫টার দিকে খেলা চলা অবস্থায় আকস্মিক বজ্রপাতে সাফায়েতের পুরো শরীর ঝলসে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে উদ্ধার করে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেয়া হলে সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া বজ্রপাতে ওই ঘোড়াময়দান গ্রামের নুরুল হকের ছেলে সালাউদ্দিন (২২) গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব ঘটনার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

;

লক্ষ্মী ভাইয়েরা বাসায় যান, নিজেসহ দেশকে বাঁচান



নাহিদ রেজা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ওসি তানভিরুল ইসলাম।

ওসি তানভিরুল ইসলাম।

  • Font increase
  • Font Decrease

আমার লক্ষ্মী ভাইয়েরা দয়া করে বাইরে ঘোরাঘুরি না করে বাসায় যান। নিজে বাঁচেন, পরিবারকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান। সচেতন হোন।

ঠিক এসব কথা বলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে এভাবে সচেতন করায় সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি ওষুধ কেনার জন্য স্থানীয় বাজারে এসেছিলাম। কিছুক্ষণ পর থানার একটি গাড়ি বাজারের সামনে এসে দাঁড়ায় এবং ওসি তানভিরুল সবাইকে বাসায় থাকার জন্য অনুরোধ করেন। এর আগে কখনো জনগণের সঙ্গে পুলিশের এমন ভালো আচরণ দেখি নাই।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চৌড়াস্তা মোড়ে কথা হয় জয়নাল নামে এক পথচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জেলার পুলিশ সাধারণ জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে। তাদের ভাই বলে বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে। ওসিসহ পুলিশের সদস্যরা নিজেদের কথা চিন্তা না করে আমাদের জন্য এ কাজটি করে যাচ্ছেন। তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

স্থানীয় সাহাদত হোসেন নামে একজন বলেন,‘তানভিরুল ভাই একজন মানবিক পুলিশ অফিসার। তার জন্য শুভকামনা ও দোয়া রইল।’

ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকার যেসব দিক নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো মেনে চলতে হবে। জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করে তাদের সচেতন করা হচ্ছে। এতে কাজও হচ্ছে।’

;

ডিবি পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই, যুবক গ্রেফতার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
গ্রেফতার আবেদ আলী।

গ্রেফতার আবেদ আলী।

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার অপরাধে আবেদ আলী (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবেদ আলী সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া গ্রামের খয়রাত হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামে মোকছেদুল ইসলামসহ কয়েক যুবক মোবাইলে ভিডিও গেম খেলছিলেন। এ সময় আবেদ আলী নিজেকে সৈয়দপুর থানার ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক পরিচয় দিয়ে ওই যুবকদের কাছ থেকে মোবাইলটি নিয়ে যান। পরে এ বিষয়ে মোবাইলের মালিক মোকছেদুল ইসলাম সদর থানায় অভিযোগ করেন।

এরপর রোববার ভোরে আবেদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি খেলনা পিস্তল ও ওয়্যারলেস সেট, একাধিক মোবাইল সিম এবং দুটি পরিচয়পত্র জব্দ করে পুলিশ।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার সত্যতা স্বীকার করেছেন আবেদ আলী। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

;