বান্দরবানে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে বন্য হাতি হত্যা, বনবিভাগের মামলা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বান্দরবান
হাতিটি এভাবে মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়, ছবি: সংগৃৃহীত

হাতিটি এভাবে মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়, ছবি: সংগৃৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বান্দরবানের লামায় বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে একটি বন্য হাতিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খাঁন বাদী হয়ে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এর ৩৬ (১) ধারায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। 

বনবিভাগ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার (১৬ নভেম্বর) জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি পূর্ব চাককাটা এলাকায় ঝিরিতে একটি বুনো হাতির মৃতদেহ পাওয়া গেছে। হাতিটির বয়স বড় জোর আড়ায় থেকে তিন বছর হবে। হাতিটির মৃতদেহ দেখতে বন বিভাগের লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন খান ও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মৃত বন্য হাতিটির দেহের বিভিন্ন ধরনের নমুনা সংগ্রহ করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) বনবিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা এবং অসীম মল্লিকের নেতৃত্বে আরেকটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ময়না তদন্ত রিপোর্টে বৈদ্যুতিক ফাঁদে বন্য হাতির বাচ্চাটির মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মামলার বাদী লামা রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ময়না তদন্ত রিপোর্টে বৈদ্যুতিক ফাঁদে বন্য হাতির বাচ্চাটি মারা গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রমাণিত হওয়ায় বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এর ৩৬ (১) ধারায় কৃষক আবদুল্লাহ’সহ হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার পিওআর মামলা নম্বর-৯।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস.এম. কায়চার বলেন, বন্য প্রাণী হত্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে একটি হাতির বাচ্চা হত্যা করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় দোষীর বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা করা হয়েছে।