ভারতে পাচার হচ্ছে পাবদা মাছ



গনেশ দাস, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
পাবদা মাছ/ ছবি: বার্তা২৪.কম

পাবদা মাছ/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতে পাচারের তালিকায় এবার যোগ হয়েছে পুকুরে চাষ করা পাবদা মাছ। বগুড়া অঞ্চল থেকে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫ ট্রাক পাবদা মাছ অবৈধ পথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাচার হয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাট, দয়ারামপুর, কলকাতা, মালদহ, হাওড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বগুড়ায় চাষ করা পাবদা মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভারতে বিক্রি করে দাম ও বেশি পাওয়ায় দিন দিন পাচারের পরিমাণ বাড়ছে। ভারতে পাচার হওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারে পাবদা মাছের সংকট দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বগুড়ার কাহালু উপজেলার মালঞ্চা, আদমদীঘি উপজেলা সদর এবং পার্শ্ববর্তী আবাদ পুকুর থেকে পাবদা মাছ ট্রাকযোগে রাতের আঁধারে জয়পুরহাট জেলার আটাপাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে ভারতে পাচার হয়ে থাকে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বরফ দিয়ে পাবদা মাছ ১০ কেজি করে প্যাকেট করা হয়। এরপর ২৫-৩০ মণ মাছ ট্রাকে বোঝাই করে রাতে নিয়ে যাওয়া হয় সীমান্তে। সেখানে ভারত এবং বাংলাদেশের শ্রমিকরা প্রস্তুত থাকেন। সুযোগ বুঝে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ট্রাক থেকে মাছের প্যাকেট ভারতীয় ট্রাকে স্থানান্তর করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতে মাছ পাচারকারীরা জানান, এক ট্রাক মাছ পাচার করতে সীমান্তে তাদেরকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গুণতে হয়। তারপরও তাদের ট্রাক প্রতি লাভ থাকে ১০-১২ হাজার টাকা। গত ২-৩ মাস ধরে চোরাই পথে পাবদা মাছ ভারতে যাচ্ছে ।

বগুড়ার কাহালু উপজেলার মালঞ্চা এলাকার মাছ ব্যবসায়ী বিধান চন্দ্র সরকার বার্তা২৪.কম-কে বলেন বগুড়ার বাজারে পাবদা মাছ পাইকারি ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। ঢাকা পাঠালে ৩২০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে দর পাওয়া যায়। আর ভারতে চোরাই পথে পাঠাতে পারলে ৪০০ টাকা থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়। তাতে সব খরচ মিটিয়ে ট্রাক প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা লাভ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ছোট সাইজের মাছ ভারতে চলে না। সেখানে কেজিতে ৩০টি, এমন সাইজের মাছের চাহিদা বেশি। শুধু মালঞ্চা বাজার থেকেই সপ্তাহে ৩-৪ ট্রাক পাবদা মাছ ভারতে যাচ্ছে। এ ছাড়াও আদমদীঘি ও আবাদপুকু হাট থেকে পাবদা মাছ ভারতে পাচার হচ্ছে। আর এ কারণে স্থানীয় বাজারে পাবদা মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। যারা পুকুরে মাছ চাষ করেন, তারা বাজারে বিক্রি করার আগেই পাচারকারীরা পুকুর থেকেই মাছ কিনে নিচ্ছেন।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, কাহালু বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি অসংখ্য ট্রাকযোগে বিভিন্ন প্রজাতির মাছে সরবরাহ হয়ে থাকে। তবে ভারতে পাচারের বিষয়টি জানা নেই। অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ উদ্দিন বার্তা২৪.কম-কে বলেন বগুড়ায় পাবদা মাছের চাষ দিন দিন বাড়ছে অবৈধ পথে পাচারের বিষয়টি জানা নেই।তবে বৈধ পথে বেনাপোল ও আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে পাবদা মাছ ভারতে রফতানি হয়।