খুঁটিতে বেঁধে কিশোর নির্যাতন: দুই আসামি কারাগারে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লক্ষ্মীপুর
আটক হওয়া দুই আসামি, ছবি: সংগৃহীত

আটক হওয়া দুই আসামি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরে চুরির অপবাদে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে কিশোর নিরব হোসেনকে (১৬) নির্যাতনের মামলায় গ্রেফতার দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চল (সদর) আদালতে তাদেরকে হাজির করা হয়। এসময় বিচারক মোহাম্মদ আবদুল কাদের আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. কাউছারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলার প্রধান আসামি মো. রাশেদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে রাশেদসহ অন্য আসামি ইসমাইল আহমেদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আসামি রাশেদ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে ও ইসমাইল একই এলাকার মৃত নাছির আহমেদের ছেলে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী নিরব একই এলাকার মৃত কিরন হোসেনের ছেলে। কিছুদিন আগে তার মাও মারা গেছেন। এখন সে নানি আলেয়া বেগমের সাথে বসবাস করছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্র জানায়, কিশোর নিরব গত ৬ মাস ধরে রাশেদের গরুর চামড়ার আড়তে কাজ করছে। কিন্তু সময়মতো রাশেদ তাকে পারিশ্রমিক দিতো না। এখনও রাশেদের কাছে তার ৩ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। এদিকে, শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দোকানে টাকা চুরির অপবাদে নিরবকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এসময় তার গলায় জুতা ও ঝাড়ুর মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহিউস সুন্নাহ জালালিয়া মাদ্রাসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটানো হয়। নির্যাতনের পরে নিরবকে পুলিশে তুলে দেয় আসামিরা। পরে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সালিসি বৈঠক বসিয়ে নিরবকে ৩০ হাজার টাকার জরিমানার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। কিন্তু নিরবের নানা নানি ওই টাকা দিতে পারবে না বললে রাশেদসহ আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বৈঠকেও তারা নিরবকে চড়-থাপ্পড় দেয়।

অন্যদিকে, জুতা ও ঝাড়ুর মালা গলায় দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নিরবকে নির্যাতনের সময় ধারণকৃত ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয় অভিযুক্তরা। এ ভিডিও স্থানীয়ভাবে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরে সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে নিরবের নানী আলেয়া বেগম বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৮ জনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।

নিরবের নানি আলেয়া বেগম জানান, রাশেদের চামড়ার আড়তে গত ৬ মাস ধরে নিরব কাজ করছে। কিন্তু রাশেদ ঠিকমতো তার পারিশ্রমিক দিচ্ছে না। এখনো নিরব প্রায় ৩ হাজার টাকা পায় তাদের কাছে। ওই টাকা না দিতেই নাটক সাজিয়ে তার নাতিকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।