সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লিচুর হলুদ কু‍ঁড়ি



নাছরিন আক্তার, গ্রাফিকস ডিজাইনার, বার্তা২৪.কম
সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লিচুর হলুদ কু‍ঁড়ি

সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লিচুর হলুদ কু‍ঁড়ি

  • Font increase
  • Font Decrease

রসালো ফল লিচু চাষে বিখ্যাত পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা। স্বাদে অতুলনীয় এখানকার লিচু। মাটির গুণাগুণ ভিন্ন হওয়ায় একই জাতের হওয়া সত্ত্বেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবাদকৃত লিচুর চেয়ে আকারে বড় হয় ঈশ্বরদীর লিচু। পরিপক্ক লিচুর রঙ ও গন্ধও হয় ভিন্ন।

সাধারণত মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঈশ্বরদীর বাগানগুলোতে লিচুর কু‍ঁড়ি আসা শুরু হয়। মাঘের শেষ ও চৈত্রের শুরুতে কু‍ঁড়ি থেকে ফুটবে মুকুল।

লিচুর হলুদ কু‍ঁড়ি

সেই নিয়ম মেনে এবারও বাগানে বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে লিচুর কু‍ঁড়ি। হালকা বাতাসে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে দুলছে হলদে রঙের কু‍ঁড়ি। কিছু বাগানে কু‍ঁড়ি ফুটতেও শুরু করেছে। তাতে ওড়াউড়ি করছে মৌমাছি। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মৌ মৌ গন্ধ।

এদিকে, লিচুর কু‍ঁড়ি আসার একমাস আগে থেকে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচু চাষিরা। প্রথম দিকে গাছের গোড়া পরিষ্কার, সেচ ও সার দিয়েছে তারা। এখন গাছের পাতা ও কু‍ঁড়িতে কৃষি অফিস অনুমোদিত ভিটামিন জাতীয় মেডিসিন স্প্রে করছেন।

লিচুর বাগান

বাগান মালিক ও চাষিরা বলছেন, এবার মাঘের শুরু থেকেই গাছে কু‍ঁড়ি এসেছে। মাঘ মাসে বৃষ্টি হওয়ায় গাছের কু‍ঁড়ি এবং পাতা আরও সতেজ হয়েছে। কু‍ঁড়ি ফুটে মুকুল এবং গুটি হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক পরিচর্যা করতে হবে।

ঈশ্বরদীর দীঘা ইউনিয়নের আওতাপাড়া গ্রামের লিচু চাষি আলতাব খান। প্রায় ১২ বিঘা জমিতে তার লিচু বাগান রয়েছে। তিনি বলেন, এবার ঠিক সময়ে লিচুর কু‍ঁড়ি এসেছে। মাঘ মাসে দু'বার বৃষ্টি হওয়ায় কু‍ঁড়ি সতেজ হয়েছে। ফলে গাছে ভিটামিনও কম স্প্রে করতে হচ্ছে।

বাগানে ঝুলছে লিচুর কু‍ঁড়ি

আলতাব খান বলেন, এখনও পর্যন্ত আবহাওয়া ঠিকঠাক আছে। মুকুল ফোটার পর কিংবা গুটি আসার পর খুব বেশি ঝড় বা খরা হলে লিচুর ক্ষতি হয়।

জয়নগরের লিচু চাষি সলিম সরদার বলেন, আমার প্রায় ৬ বিঘা জমিতে লিচু বাগান আছে। বাগানের সব গাছেই কু‍ঁড়ি এসেছে। আমরা স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বাগানের গাছের পরিচর্যা করছি।

বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে লিচুর কু‍ঁড়ি

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বলেন, চলতি বছর ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩০০ হেক্টর বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়-ক্ষতি কম হলে রেকর্ড পরিমাণ লিচু উৎপাদন হবে।

বাগানে ফুটতে শুরু করছে লিচুর কু‍ঁড়ি

তিনি জানান, উপজেলায় সবচেয়ে বেশি চায়না-৩ জাতের লিচু চাষ হয়। তাছাড়া মোজাফফর, বেদেনা, মাদ্রাজ, চায়না-৪ জাতের লিচুও এখানে চাষ করা হয়। বেদেনা জাতের লিচু বেশি সুস্বাদু। মোজাফফর জাতের লিচু আগে পাকে। আর চায়না-৩ ও চায়না-৪ জাতের লিচুর আটি ছোট হয়। এগুলো বিদেশেও ব্যাপক পরিমাণে রফতানি করা হয়।