নওগাঁর সব উপজেলায় ডাকবাংলো থাকলেও উপেক্ষিত মান্দা

কাজী কামাল হোসেন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
শতবছরের প্রাচীন জীর্ণ শীর্ণ একটি মাত্র ডাকবাংলো আছে মান্দায়/ছবি: বার্তা২৪.কম

শতবছরের প্রাচীন জীর্ণ শীর্ণ একটি মাত্র ডাকবাংলো আছে মান্দায়/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নওগাঁ-৪ মান্দার সংসদীয় আসন একটি মাত্র উপজেলা নিয়ে গঠিত। জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলা মান্দার জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। এখানে রয়েছে আত্রাই নদ, শিব নদ, রানী নদীর পাশাপাশি ঐতিহাসিক ঠাকুর মান্দার রঘুনাথ জিও মন্দির, সোনাবিবির মসজিদ ও দীঘি এবং ৫ টাকার নোটে মুদ্রিত কুশুম্বা মসজিদ ও দীঘি। এগুলো দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন এখানে। অথচ তাদের থাকার জন্য মান্দায় নেই কোনো হোটেল কিংবা মানসম্পন্ন সরকারি ডাকবাংলো।

সরেজমিনে জানা যায়, নওগাঁর ১১টি উপজেলার মধ্যে ১০টি উপজেলায় নতুন করে ১৩টি বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণ করা হলেও উপেক্ষিত হয়েছে মান্দা।

মান্দায় রয়েছে শতবছরের প্রাচীন জীর্ণ শীর্ণ একটি ডাকবাংলো। বৃটিশ আমলের এবং রাস্তা থেকে অনেক নিচে নির্মিত মাত্র দুই কক্ষের সেকেলে ডাকবাংলোটি ভেঙে নতুন করে আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণ করা জরুরি বলে মনে করছেন মান্দা উপজেলার সাধারণ মানুষ।

ডাক বাংলোটির অবস্থান মান্দা থানা ও মান্দা এসসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণে এবং মান্দা নিয়ামতপুর রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে। যেটা বিদেশি পর্যটকতো দূরের কথা দেশি পর্যটকদেরও বসবাসের অযোগ্য।

মান্দার ডাকবাংলোটি প্রকৃতপক্ষে কত সালে এবং কারা স্থাপন করেছেন এ বিষয়ে কোনো তথ্যই নেই জেলা পরিষদে। তবে স্থানীয় প্রবীণদের মতে এটি তাদের জন্মের অনেক আগের এবং বৃটিশ আমলে তৈরি।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদরে ১টি, আত্রাই, পত্নীতলা, সাপাহার ও নিয়ামতপুরে ২টি করে এবং রাণীনগর, বদলগাছি, মহাদেবপুর, পোরশা ও ধামুইরহাটে ১টি করে আধুনিক ডাকবাংলো রয়েছে। এগুলির কোনটিতে আবার একাধিক ভবনও রয়েছে। এছাড়াও সাপাহারে সড়ক ও জনপদ বিভাগের আলাদা একটি ডাকবাংলো রয়েছে।

এদিকে কুশুম্বা ভ্রমণে আসা চীনা পর্যটক দম্পতি পল সেং (Paul Sheng) এবং জিয়াং জিয়াও লিং (Jiang Xiao Ling) মান্দায় কোনো আধুনিক হোটেল বা ডাকবাংলো না পেয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন বার্তা২৪ এর কাছে।

দীপ্ত টিভির দীপ্ত কৃষি টিমের সহ-প্রযোজক মাহমুদুল হাসান মিথেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, মান্দায় আমাদের শুটিংয়ের জন্য নওগাঁ থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। অথচ অন্য উপজেলায় গেলে সেখানকার ডাকবাংলোয় থেকে শুটিং করতে পারি। এখানে একটা ডাকবাংলো থাকলে আমাদের এ হয়রানি হতোনা।

মান্দা সরকারি শহীদ মামুন হাইস্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম বার্তা২৪কে বলেন, জেলার অন্য সকল উপজেলায় আধুনিক ডাকবাংলো থাকলেও মান্দায় নেই। এজন্য এখানে একটা আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণ জরুরি।

উপজেলা আ'লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডঃ আব্দুল মান্নান বার্তা২৪.কমকে বলেন, মান্দা জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলা এবং দর্শনীয় স্থান হিসেবে অন্যান্য উপজেলায় হওয়ার অনেক আগেই এখানে একটি আধুনিক ডাকবাংলো নির্মিত হওয়া উচিত ছিল। কারণ এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের থাকার কোনো জায়গায় নেই।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আঃ হঃ মু আব্দুল্লাহেল বাকি বার্তা২৪.কমকে জানান, মান্দায় একটি আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ থেকে ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই ৬২২ নম্বর স্মারকে এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর প্রথম প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল। এরপর একইভাবে ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ৮৫৭ নম্বর স্মারকে একটি পত্র দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ এটি নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে গত ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর যায় স্মারক নম্বর ৬৬৭।

তিনি বলেন, এটি নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু চেষ্টা করার তা করা হয়েছে কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে তেমন কোনো সাড়া মেলেনি।

আপনার মতামত লিখুন :