‘অমানুষিক নির্যাতন করেছিল কুড়িগ্রামের আরডিসি’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৃদ্ধ খালেকুজ্জামান মজনু, ইনসেটে কুড়িগ্রামের আরডিসি নাজিম উদ্দীন/ছবি: বার্তা২৪.কম

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৃদ্ধ খালেকুজ্জামান মজনু, ইনসেটে কুড়িগ্রামের আরডিসি নাজিম উদ্দীন/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী নদীতে মাছ ধরা নিয়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে এক গ্রুপের পক্ষ নিয়ে ছেলেকে না পেয়ে বাবা খালেকুজ্জামান মজনু ও আর একটি পরিবারের বিশ্বনাথ নামের আর একজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন ও জেল দেয় কুড়িগ্রামের আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দীন। ভুক্তভোগীদের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দন ইউনিয়নের পঞ্চপাড়া গ্রামে।

নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে খালেকুজ্জামান মজনু বার্তা২৪.কমকে বলেন, রাতে হঠাৎ আমার বাড়িতে দরজায় ধুমধাম শব্দ, ঘুম থেকে উঠে দেখি আরডিসি নাজিম উদ্দীনসহ কয়েকজন বিজিবি সদস্য। এসময় তারা বলে এদেরকে গ্রেফতার করো, আমি বললাম আমার কি অপরাধ স্যার? চুপ কথা বলবি না, এই কথা বলে আমাকে দুইজন বিজিবি ধরলো। আমি বললাম স্যার আমি অসুস্থ আমার হার্টের অসুখ। আমার উচ্চ রক্তচাপ আছে। এসব বলার পরও আমাকে ওষুধও নিতে দেয়নি। শুধু তাই নয় অমানুষিক নির্যাতন করেছিলো।

তিনি বলেন, ধাক্কাতে ধাক্কাতে আমাকে গাড়িতে উঠিয়ে বলে দুই লাখ টাকা দিবি না জেল দিব। আমি বললাম স্যার আমি গরিব মানুষ এতো টাকা কই পাবো। কোনো কথা শুনলো না। রাত দুইটার দিকে আমাকে ডিসি অফিসে নিয়ে গেল। সেখানে আদালত বসিয়ে আমাকে ৬ মাসের জেল দেয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরডিসি নাজিম উদ্দীনের বিচার চাই।

খালেকুজ্জামান মজনুর নাতি প্লাবন বার্তা২৪.কমকে জানান, রাতে দাদুর কথায় ঘরের দরজা খুলি। দরজা খোলার পরপরই বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে মারধর করে। আমার দাদুকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর কি হয়েছে আমি আর জানি না।

এ বিষয়ে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম খন্দকার বাচ্চু বার্তা২৪.কমকে বলেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে কুড়িগ্রামের আরডিসি স্যার আমার ইউনিয়নের খালেকুজ্জামান মজনু নামের এক বয়স্ক লোককে ধরে নিয়ে যায়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ওনার ছেলে নদীর মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত কিনা সঠিক জানি না। ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন ও জেল দেয়া ঠিক হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রামের আরডিসি নাজিম উদ্দিন ইতোপূর্বে কক্সবাজারে এসিল্যান্ডে ছিলেন। অপকর্মে জড়িত থাকার কারণে সেখান থেকে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, সাধারণ মানুষের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। সাংবাদিক নির্যাতনকারী নাজিম এক বছর আগে কক্সবাজার সদরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

গত ১৩ মার্চ রাতে অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ওই দিন আনসার নিয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দরজা ভেঙে আরিফুলের বাসায় ঢোকেন৷ এরপর তাকে মারধর শুরু করেন৷ পরে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নিয়ে ‘বিবস্ত্র' করে নির্যাতন করা হয়৷ তার ভিডিও ধারণ করা হয়৷ রাত দুইটার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ১৫০ গ্রাম গাঁজা ও আধা বোতল মদ রাখার অভিযোগ দেখিয়ে মাদক মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রাতেই তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পুরো ঘটনায় নেতৃত্ব দেন আরডিসি নাজিম উদ্দীন।

অবশেষে রোববার (১৫ মার্চ) সকালে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে ২৫ হাজার টাকা জামানত রেখে জামিন দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আপনার মতামত লিখুন :