করোনা-টরোনা বুঝি না, কাম কইরা খাই!

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মাদারীপুর
করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে স্বাভাবিক রয়েছে শিবচরের চরাঞ্চলের জীবনযাত্রা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে স্বাভাবিক রয়েছে শিবচরের চরাঞ্চলের জীবনযাত্রা

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশেও ভাইরাসটির সংক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে দেশে করোনাভাইরাসে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শিবচর উপজেলা। তবে মারাত্মক এ ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানেন না শিবচরের চরাঞ্চলের মানুষজন।

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলাটি কাঁঠালবাড়ি, চরজানাজাত, মাদবরের চর ও বন্দোরখোলা ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত চরাঞ্চলে হাজারো পরিবারের বসবাস। নিম্ন আয়ের এসব মানুষ এখনও জানেন না করোনাভাইরাস কী। জানেন না কিভাবে এটিকে মোকাবিলায় করতে হবে।

সঠিক তথ্য না জানায় ওই সব চরাঞ্চলের লোকজন আগের মতোই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। খেটে খাওয়া মানুষরা জীবিকার তাগিদে কাজ করছেন ক্ষেতে-খামারে।

অন্যদিকে গত চারদিন ধরে শিবচরের পৌর এলাকার ২টি ওয়ার্ড, বহেরাতলা ও পাঁচ্চর ইউনিয়নের ২টি গ্রামসহ উপজেলার অনেক এলাকা অবরুদ্ধ রয়েছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও পুলিশি চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে জনসমাগম। বাড়িতে সঙ্গরোধ মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। এলাকার বাজারে শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ও ফার্মেসিগুলো খোলা রয়েছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে স্বাভাবিক রয়েছে শিবচরের চরাঞ্চলের জীবনযাত্রা

সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায় অনেকেই আগের মতোই যাতায়াত করছেন।

মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন অধিকাংশ চরাঞ্চলের মানুষেরা। এখনো স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছেন তারা। মাঠে-ঘাটে কাজ করছেন শ্রমজীবী মানুষেরা। এ ছাড়াও অনেক মিলে এক সাথে চায়ের দোকানে আড্ডাও মারছেন।

চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে বিদেশফেরতরা বাড়িতে সঙ্গরোধে না থেকে অবাদে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাদবরেরচর ইউনিয়নের পুরানকান্দি চরের কৃষক মালেক মোল্লা বলেন, করোনা-টরোনা জানি না বাপু! আমরা কৃষক, কাম কইরা আমাগো খাওন লাগবো। কেউ তো আমাগো খাওন দিব না।

বন্দরখোলা ইউনিয়নের যুবক আবু সালেহ রওসাদ বলেন, শিবচর শহরের মানুষদের মতো চরাঞ্চলের মানুষকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। যদি দ্রুত এই মানুষদের করোনা সম্পর্কে  সচেতন করা না হয় তাহলে করোনা মহামারি আকার ধারণ করবে চরাঞ্চলে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিবচর উপজেলার সকল এলাকায় জনসচেতনতার জন্য মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যবার্তার লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হচ্ছে। তাছাড়া চরাঞ্চলে তেমন কোন ঝুঁকির খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়াও আমরা এলাকার চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যদের কমিটি করে দিয়েছি। মাঠপর্যায়ে কর্মরত সবাইকে এ বিষয়ে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কমিটি করে দিয়েছি। শিবচরের অনেক এলাকায় জনসমাগম রোধে পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমরা এখন বিষয়টি দেখব।

আপনার মতামত লিখুন :