ভাতা নিতে ভোগান্তির শিকার গ্রাহকরা

জাহিদ হাসান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
ভাতা নিতে ভোগান্তির শিকার গ্রাহকরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

ভাতা নিতে ভোগান্তির শিকার গ্রাহকরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যশোর শহরের শেকহাটি অগ্রণী ব্যাংক শাখার বাইরের মেজেতে শুয়ে আছে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা আমেনা বেগম। বয়সের ভারে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। বয়স্ক ভাতা নিতে এসে ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি।
তার মতো আরো অনেকেই দীর্ঘ অপেক্ষায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা নিতে। সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও শেষ হচ্ছিল না লাইন। ভিড় ঠেলে কেউ বই জমা দিলেও সময়মতো টাকা নিতে পারছিলেন না। তাই আবারো লাইনে দাঁড়াতে হয়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) যশোর সদর উপজেলা এবং পৌরসভার কয়েক হাজার মানুষ আসেন অগ্রণী ব্যাংকের এ শাখায় ভাতা নিতে। ধীর গতিতে টাকা দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন অনেকেই। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এসব ভাতা মোবাইল ব্যাংকিং ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাংকগুলোর শাখা থেকে বিতরণ করা হলে ভোগান্তি কমবে তাদের।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যশোরের আট উপজেলার মোট ভাতাভোগীর সংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার। প্রতি তিন মাস অন্তর সোনালি, অগ্রণী ও কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ভাতার টাকা তুলতে আসেন ভাতাভোগীরা। নিয়মানুযায়ী তারা প্রতি তিন মাসে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা দেড় হাজার টাকা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে আড়াই হাজার টাকা পেয়ে থাকেন।

এদিন ব্যাংকে গিয়ে দেখা গেছে, ভাতার টাকার জন্য ব্যাংকগুলোর সামনের সড়ক আর আশেপাশের দোকান ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ও বসে আছেন সব ভাতাভোগী। সকালে বাড়ি থেকে এসে দিনভর প্রখর রোদে নাভিশ্বাস অবস্থা। তাছাড়া করোনভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম এড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোতে ভাতা নিতে আসা গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড়ে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই যায়।

ভাতা নিতে ভোগান্তির শিকার গ্রাহকরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

ভাতা নিতে আসা প্রতিবন্ধী আসলাম হোসেন, খায়রুল ও সালাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বসে আছি, কিন্তু ভাতার টাকার নিতে পারিনি।
তারা মোবাইল ব্যাংকিং ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ব্যাংকগুলোর শাখা থেকে এসব ভাতা বিতরণ করার অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে যশোর শেকহাটি অগ্রণী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক হযরত আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার কথাটি সত্য। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে আমরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছি না। সরকার যদি মোবাইল ফোন বা স্থানীয় শাখার মাধ্যমে ভাতা বিতারণ কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে ভাতা গ্রহীতাদের কষ্ট কম হয়।

এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অসিত কুমার সাহা বার্তা২৪.কমকে বলেন, সরকার ভাতাভোগীদের কষ্ট দূর করতে মোবাইল ব্যাংকিং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) কার্যক্রম শুরু করেছে। যার ফলে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তারা নিজেদের ইউনিয়ন থেকেই আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে খুব সহজেই টাকা তুলে নিতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন :