কুঁচিয়া রফতানি বন্ধে বিপাকে পীরগাছার শতাধিক আদিবাসী পরিবার

আমিনুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পীরগাছা (রংপুর)
কুঁচিয়া

কুঁচিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে রংপুরের পীরগাছায় শতাধিক আদিবাসী পরিবার চরম বিপাকে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবারগুলো খাদ্য সংকটে রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। অথচ যেকোনো দুর্যোগে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদেরকেই সহযোগিতা করা হয়।

সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের আদিবাসী পল্লীর প্রায় শতাধিক পরিবার কুঁচিয়া ধরে স্থানীয় আড়তে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আদিবাসীদের সংগ্রহ করা কুঁচিয়া চীন, হংকং, তাইওয়ানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়ে আসছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে আদিবাসীদের সংগ্রহ করা কুঁচিয়া রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরিবারগুলো চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে কর্মহীন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদিবাসীরা বংশপরম্পরায় খাল, বিল, নদী ও ডোবাসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে কুঁচিয়া সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। তবে আগে বাজারে কুঁচিয়ার তেমন চাহিদা ছিল না। দামও ছিল কম। বিদেশে রফতানি শুরু হওয়ার পর থেকে কুঁচিয়ার কদর বেড়ে যায়। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছিল। কুঁচিয়া কেনার জন্য উপজেলা কল্যাণী ইউনিয়নের তালুক কল্যাণী গ্রামে গড়ে উঠে আড়ত। স্থানীয় আড়ত থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রচুর পরিমাণে কুঁচিয়া বিদেশে রফতানির জন্য ঢাকায় পাঠানো হতো। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরে চীনে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় আড়তে আর কুঁচিয়া ক্রয় করা হয় না।

আদিবাসী পল্লির কুঁচিয়া শিকারি নিমাই বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে আড়তে কুঁচিয়া কেনা বন্ধ রয়েছে। গত আড়াই মাস থেকে বেকার বসে আছি। কোথাও থেকে কোন সহযোগিতাও পাচ্ছি না।’

আদিবাসী শিকারি সরেন প্রিয় বার্তা২৪.কম-কে জানান, ‘কাজ করলে খাবার জোটে, না করলে নাই। কর্ম নেই, তাই কারো কাছে ১০০ টাকা ধার চাইলেও দিবে না।’

আড়তদার আনোয়ার হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবরের পর বিদেশে কুঁচিয়ার চাহিদা নেই, তাই রফতানি বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে আদিবাসীদের সংগৃহীত কুঁচিয়া আর ক্রয় করা হচ্ছে না।’

আপনার মতামত লিখুন :