পীরগাছায় তালিকা তৈরিতে ব্যস্ত প্রশাসন, বিতরণ হয়নি ত্রাণ!



আমিনুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পীরগাছা (রংপুর)
সকাল থেকে না খেয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় রিকশাচালকেরা/ছবি: বার্তা২৪.কম

সকাল থেকে না খেয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় রিকশাচালকেরা/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রংপুরের পীরগাছায় দুস্থদের জন্য ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। উপজেলার একশ পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা বিতরণ করা হয়নি। উপজেলা প্রশাসন এখনও বিতরণের জন্য তালিকা তৈরি করতে পারেনি। এ ঘটনায় চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সরেজমিনে জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশনা মানতে গিয়ে ঘরবন্দি নিম্ন আয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে রিকশা ও ভ্যানচালক, দিনমজুর ও হোটেল শ্রমিকসহ খেঁটে খাওয়া মানুষ বিপাকে পড়েছে। অনেকে খাদ্য সংকটে পড়েছেন। সেজন্য সরকার তাদের খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দেয়। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দুস্থ মানুষদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্য সহায়তার প্রতি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু ও দুই কেজি মসুর ডাল প্রদান করা হচ্ছে। শনিবার জেলার আট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পীরগাছা উপজেলায় পরিবার প্রতি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পাঁচ কেজি চাল। একশ পরিবারের জন্য বরাদ্দ ৫০০ কেজি। কোন নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অপরদিকে জেলার বাকি সাত উপজেলায় পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য পৌঁছে দিয়ে আসছে। কিন্তু করোনাভাইরাস রোধে পীরগাছা উপজেলা প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোন কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। জেলা প্রশাসন ত্রাণ বরাদ্দ দিলেও তালিকা তৈরিতে ব্যস্ত উপজেলা প্রশাসন। এর আগে বিদেশ ফেরতদের তালিকা গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্যদের হাতে তুলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা হয়। বাড়িতে সঙ্গরোধে থাকতে বাধ্য করার কোন উদ্যোগ ছিল না। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে দোকানপাট বন্ধের ক্ষেত্রেও ছিল না কোন পদক্ষেপ। তবে সেনা মোতায়েনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবরের পর উপজেলাজুড়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এসব বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কোনো নজরদারি করেনি। বাজারে সকল পণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকলেও দাম আকাশ ছোঁয়া। নিম্নআয়ের কর্মহীন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।

অনন্তরাম উচাপাড়া গ্রামের ভ্যান চালক শামছুল হক বলেন, ‘তিনদিন থাকি কোন ভাড়া নাই। সকালে না খায়া বাড়ি থাকি বাইর হইছি। দুপুর একটা পর্যন্ত কোন ভাড়া হয় নাই। নিজে না খায়া আছি। বাড়িতেও একই অবস্থা। কেউ কোন সাহায্য সহযোগিতা করতেছে না। আরো কয়দিন এ অবস্থা থাকে আল্লাহ জানে। বাঁচার কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’

চৌধুরাণী বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তবুও উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি নেই।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের বরাদ্দ করা ত্রাণ এখনও বিতরণ শুরু হয়নি। বিতরণের জন্য তালিকা তৈরি কাজ চলছে। তালিকা শেষে বিতরণ করা হবে। তবে উপজেলায় কিছু ভাসমান দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমীন প্রধানের মোবাইল নম্বরে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

 

গড়াই নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি প্রতীকী

ছবি প্রতীকী

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার খোকসায় গড়াই নদীতে ডুবে সুমন (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে খোকসা উপজেলার গনেশপুর অংশে গড়াই নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত সুমন কুমারখালী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

খোকসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, সকালের দিকে গড়াই নদীতে মাছ ধরতে যান সুমন। মাছ ধরার এক পর্যায়ে নদীতে ডুবে যান তিনি। বিকেলের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

;

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে সাফায়েত হোসেন (১৯) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সালাউদ্দিন (২২) নামের আরেক যুবক গুরুতর আহত হন।

রোববার (৫ এপ্রিল) এই বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ি দক্ষিণপাড়া স্কুল বাড়ির আবদুল আউয়ালের ছেলে সাফায়াত হোসেন এদিন বিকেলে সহপাঠীদের সাথে পার্শ্ববর্তী ঘোড়াময়দান গ্রামের একটি মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। বিকাল ৫টার দিকে খেলা চলা অবস্থায় আকস্মিক বজ্রপাতে সাফায়েতের পুরো শরীর ঝলসে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে উদ্ধার করে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেয়া হলে সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া বজ্রপাতে ওই ঘোড়াময়দান গ্রামের নুরুল হকের ছেলে সালাউদ্দিন (২২) গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব ঘটনার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

;

লক্ষ্মী ভাইয়েরা বাসায় যান, নিজেসহ দেশকে বাঁচান



নাহিদ রেজা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ওসি তানভিরুল ইসলাম।

ওসি তানভিরুল ইসলাম।

  • Font increase
  • Font Decrease

আমার লক্ষ্মী ভাইয়েরা দয়া করে বাইরে ঘোরাঘুরি না করে বাসায় যান। নিজে বাঁচেন, পরিবারকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান। সচেতন হোন।

ঠিক এসব কথা বলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে এভাবে সচেতন করায় সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি ওষুধ কেনার জন্য স্থানীয় বাজারে এসেছিলাম। কিছুক্ষণ পর থানার একটি গাড়ি বাজারের সামনে এসে দাঁড়ায় এবং ওসি তানভিরুল সবাইকে বাসায় থাকার জন্য অনুরোধ করেন। এর আগে কখনো জনগণের সঙ্গে পুলিশের এমন ভালো আচরণ দেখি নাই।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চৌড়াস্তা মোড়ে কথা হয় জয়নাল নামে এক পথচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জেলার পুলিশ সাধারণ জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে। তাদের ভাই বলে বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে। ওসিসহ পুলিশের সদস্যরা নিজেদের কথা চিন্তা না করে আমাদের জন্য এ কাজটি করে যাচ্ছেন। তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

স্থানীয় সাহাদত হোসেন নামে একজন বলেন,‘তানভিরুল ভাই একজন মানবিক পুলিশ অফিসার। তার জন্য শুভকামনা ও দোয়া রইল।’

ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকার যেসব দিক নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো মেনে চলতে হবে। জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করে তাদের সচেতন করা হচ্ছে। এতে কাজও হচ্ছে।’

;

ডিবি পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই, যুবক গ্রেফতার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
গ্রেফতার আবেদ আলী।

গ্রেফতার আবেদ আলী।

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার অপরাধে আবেদ আলী (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবেদ আলী সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া গ্রামের খয়রাত হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামে মোকছেদুল ইসলামসহ কয়েক যুবক মোবাইলে ভিডিও গেম খেলছিলেন। এ সময় আবেদ আলী নিজেকে সৈয়দপুর থানার ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক পরিচয় দিয়ে ওই যুবকদের কাছ থেকে মোবাইলটি নিয়ে যান। পরে এ বিষয়ে মোবাইলের মালিক মোকছেদুল ইসলাম সদর থানায় অভিযোগ করেন।

এরপর রোববার ভোরে আবেদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি খেলনা পিস্তল ও ওয়্যারলেস সেট, একাধিক মোবাইল সিম এবং দুটি পরিচয়পত্র জব্দ করে পুলিশ।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার সত্যতা স্বীকার করেছেন আবেদ আলী। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

;