করোনা নিয়ে শ্রমিক-মালিকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মাহিদুল মাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারা দুনিয়া যখন স্থবির, তখন শিল্পাঞ্চল সাভারের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষসহ শ্রমিকরা ভুগছেন উপার্জনের ক্ষেত্র হারানোর সংশয়ে। করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে রেখেছে চিন্তিত, কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বিশ্ব তথা দেশের অর্থনীতি। বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস পোশাক কারখানাসহ গণজমায়েত হয় এমন সকল প্রতিষ্ঠান।

পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে অনেক বিদেশি ক্রেতা। এর প্রভাবে মুখ থুবরে পড়তে পারে দেশের ছোট ছোট পোশাক কারখানাসহ শ্রমিকদের আয়ের উৎস। এমন চিত্রই উঠে আসে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার শ্রমিক, মালিক ও শ্রমিক নেতার প্রতিক্রিয়াতে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে বিভিন্ন শ্রমিক, মালিক ও শ্রমিক নেতা বার্তা২৪.কম-কে জানিয়েছেন তাদের প্রতিক্রিয়া। করোনাভাইরাসের প্রভাবে তাদের জীবনে নেমে আসতে পারে দুর্দশা। হারাতে পারেন তাদের কর্মের জায়গা। বেকার হতে পারেন অনেকেই এমনটাই দাবি করে সংশয় প্রকাশ করেন তারা।

রেজা ফ্যাশনের শ্রমিক মানিক তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আমাদের কারখানা এমনিতেই দুর্বল। আগে থেকেই কোনমতে চলছে। তাতে আবার করোনার থাবা। এমনিতেই ৪ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এখন ছুটি ৪ এপ্রিল পর্যন্ত, কাজ না করিয়ে বেতন কিভাবে দেবেন এটাই ভাবছি। খুব চিন্তায় আছি, কারখানা বন্ধ হলে কোথায় যাবো কী খাবো, পরিবার কীভাবে চালাবো।

আরেক কারখানার শ্রমিক সাইদুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমি এখন ছুটিতে আছি। ছুটির আগে আমাদের বেতনের কোন টাকা দেওয়া হয় নি। মাসের শেষ, খুব কষ্টে আছি। করোনা পরিস্থিতির কবে উন্নতি হবে, করোনা বাংলাদেশ থেকে চিরতরে নির্মূল হবে কি না এটাও ভাবছি বসে বসে। আর কিছু না হোক করোনা আমার মত শ্রমিকদের পুরোপুরি পথে বসিয়ে দেবে এটা বোঝা যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দেশের বাইরে যারা ছিলেন তাদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমাদের এই ভাইরাস কিছু করতে পারবে না। আর আল্লাহ্ যেভাবে মৃত্যু লিখে রেখেছেন সেভাবেই হবে এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কিছু নেই।

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার প্রিয়াঙ্কা ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন তার প্রতিক্রিয়া। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন কারখানার ক্রয়াদেশ স্থগিত কিংবা বাতিল হয়েছে। তাতে করে লোকসানে পরেছে পোশাক খাত। এর ওপরে আবার কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় কাজ না করিয়ে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা প্রায় দুষ্কর। কোনো ধরনের সহযোগিতা না পেলে এমন পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশে গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় সহস্রাধিক শিল্প কারখানা আছে। এসব কারখানায় কাজ করে প্রায় ১৫ লক্ষ শ্রমিক। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে কারখানা গুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার যে প্রণোদনার টাকা দিয়েছে তার সঠিক বণ্টন না হলে অনেক কারখানা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

আপনার মতামত লিখুন :