অবশেষে তারাই খুঁজে নিলো ত্রাণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ত্রাণ নিচ্ছেন তাজরীন দুর্ঘটনায় আহতদের পরিবার, ছবি: বার্তা২৪.কম

ত্রাণ নিচ্ছেন তাজরীন দুর্ঘটনায় আহতদের পরিবার, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যারা কর্মহীন শুধু তাদের খোঁজই করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। কিন্তু যাদের কর্ম নেই কিংবা কর্মস্থলের কোনো দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে রঙিন স্বপ্ন, তাদের খোঁজ নিচ্ছে না কেউ। তেমনি তাজরীন দুর্ঘটনায় আহতদের এখনো খোঁজ নেয়নি কেউ। তবে তারাই খুঁজে নিলো তাদের ত্রাণ।

তাজরীন ফ্যাশন দুর্ঘটনায় আহতদের অনেকেই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে আজও বেঁচে আছে। বসবাস করছে তাজরীন ফ্যাশনের আশপাশেই। গত কয়েকদিন ধরেই ঘরে খাবার কিছু ছিল না তাদের। অপেক্ষায় ছিল জনপ্রতিনিধিদের। কেউ খবর নেয়নি। কোনো জনপ্রতিনিধির সঙ্গে পরিচয়ও নেই তাদের। ছিল শুধু স্থানীয় সাংবাদিককে ফোন নম্বর।

গত তিন দিন ধরে সাংবাদিককে ফোন দিয়ে ত্রাণের আবেদন জানাচ্ছিলেন তারা। প্রায় ৩০টি পরিবারের ত্রাণের আকুতি আসতেই থাকে। পরে সংবাদ কর্মীর উদ্যোগে স্থানীয় যুবলীগ নেতা রাজন ভুঁইয়ার সহায়তায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আগুনে পোড়া তাজরীনের জরাজীর্ণ ভবনের সামনে ওই ৩০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয় ত্রাণ। এসময় তাজরীনের আগুনে আহত শ্রমিকসহ প্রায় ২০০ জনের মধ্যে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, তেল ও সাবান বিতরণ করা হয়।

তাজরীন দুর্ঘটনায় আহত রেহানা বলেন, ‘আমি ওই দুর্ঘটনায় আমার বোনসহ তিনজনকে হারিয়েছি। আমিও জীবন বাঁচানোর জন্য ৪তলা থেকে লাফ দিয়েছিলাম। এখন বেঁচে আছি কিন্তু তেমন কাজ করতে পারি না। কোনো কারখানায় চাকরির জন্য গেলে পঙ্গু বলে তাড়িয়ে দেয়। খুব কষ্টে দিন পার করছি আমরা। ঘরে খাবার ছিল না। কেউ খোঁজও নিচ্ছিল না। তা এক সাংবাদিককে ফোন দেই। ওই সাংবাদিক আমাদের দু’দিনের খাবার ব্যবস্থা করে দেয়। দু’দিন পর কী খেয়ে বেঁচে থাকবো তা আল্লাহ্‌ ভালো জানে। এ সময় আমাদের পাশে কেউ না দাঁড়ালে করোনায় নয়, না খেয়ে মারা যাব আমরা।’

ত্রাণ বিতরণকারী রাজন ভুঁইয়া বলেন, ‘আসলে তাজরীন দুর্ঘটনায় আহতদের কথা মাথায় ছিল না। তারা যোগাযোগও করেনি। তাই কেউ তাদের সহযোগিতা করতে পারেনি। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী দু’দিনের খাদ্য সরবরাহ করেছি। আমার বিশ্বাস খবর পেলে অনেকেই তাদের পাশে দাঁড়াবে।’

আপনার মতামত লিখুন :