ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-১৪



মাহফুজ পারভেজ
ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-১৪

ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-১৪

  • Font increase
  • Font Decrease

[চতুর্দশ কিস্তি]

বেশ কিছুদিন ধরেই মহাজাগতিক নানান রহস্যের সঙ্গে পৃথিবীর মানুষকে আলাপ করিয়ে দিচ্ছে নাসা। নানা ছবি দিয়ে বাড়িয়ে তুলছে কৌতূহল ও বিস্ময়! লাইব্রেরির কাজের ফাঁকে ম্যারি এসব তথ্য আগ্রহ নিয়ে পড়েন। সম্প্রতি নাসা একটি গ্রহের ছবি পোস্ট করেছে। যে সে গ্রহ নয়! রংধনু রঙের এক গ্রহ! মহাকাশ সংস্থার সাম্প্রতিক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এই রঙবেরঙের গ্রহটিকে দেখে তাজ্জব ম্যারি! গ্রহের বিভিন্ন অঞ্চল বিভিন্ন রঙের। এই গ্রহ আসলে সবারই খুব চেনা! চেনা প্লুটোই অচেনা রঙের ক্যানভাস হয়ে দেখা দিয়েছে ছবিতে। নিউ হরাইজনস বিজ্ঞানীরা গ্রহের নানা অঞ্চলগুলোর মধ্যে অনেক সূক্ষ্ম রঙের পার্থক্য তুলে ধরেছেন ছবিতে।

ম্যারি দেখলেন, প্লুটোর পৃষ্ঠ জটিল, বৈচিত্র্যময়। কোথাও পাহাড়, কোথাও অজস্র উপত্যকা, নতুন, মসৃণ বরফের সমভূমির ঠিক পাশেই পুরনো গর্তযুক্ত জমি এবং এমনকি বায়ু প্রবাহের ফলে গঠিত টিলাও রয়েছে।

উৎক্ষেপণ করা একটি মহাকাশযান ছ’মাস ধরে প্লুটো এবং অন্যান্য উপগ্রহ নিয়ে বিশদে অধ্যয়ন করে এসব তথ্য ও ছবি পাঠিয়েছে। মহাকাশযানটি দূরবর্তী সৌরজগতের অন্বেষণ চালিয়ে কুইপার বেল্টের দিকে এগিয়ে যায় এবং অসংখ্য ছবি ও  বিস্তারিত বর্ণনা পাঠায়।

পর্যবেক্ষকগণ বলেছেন, “প্লুটোকে রংধনু রঙে দেখানো হয়েছে গ্রহের বিভিন্ন অঞ্চলকে আলাদা করে ব্যাখ্যার প্রয়োজনে। গ্রহের বাম দিকটি বেশিরভাগই বেগুনি-নীল-সবুজ, ডান দিকটি শীর্ষে উজ্জ্বল হলুদ-সবুজ থেকে নীচের দিকে লাল কমলা রঙের হয়ে গিয়েছে।”

নাসার ব্লগ অনুযায়ী, “প্লুটো একটি বামন গ্রহ যা কুইপার বেল্টে অবস্থিত। প্লুটো খুব ছোটো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থের অর্ধেকও নয় এবং এর বৃহত্তম উপগ্রহ চ্যারন প্লুটোর আকারের প্রায় অর্ধেক।”

‘রংধনু গ্রহ’ দেখে স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত মানুষ। তাই ঝড়ের বেগে শেয়ার হয়েছে নাসার এই পোস্ট। কয়েক ঘণ্টায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ ‘লাইক’ করেছেন রংধনু প্লুটোকে। এই তথ্যটিই ম্যারিকে আকর্ষণ করেছে সবচেয়ে বেশি। তিনি অনুভব করেন. মাটির পৃথিবী বা শূন্যের মহাকাশে রঙধনু-সদৃশ্য কিছুর সন্ধান পেলে মানুষ প্রচণ্ড আগ্রহ বোধ করে।

মানুষের আগ্রহ বড় অদ্ভুত। অজানাকে জানার আগ্রহের পাশাপাশি জানা বিষয়কেও নতুন করে জানার তৃষ্ণা মানুষের চিরকালের। আশেপাশে প্রতিদিন দেখা হয় এমন বহু কিছুর বিস্তারিত তথ্য মানুষ জানে না। কখনো সেসব জানা হলে বিস্ময়ের রেশ আর কাটতে চায় না। বাগানে হাঁটতে হাঁতে ম্যারিকেও একদিন প্রচণ্ডভাবে বিস্ময়াবিষ্ট করেছিল পল্লবী। একটি ছোট্ট চারাগাছের কাছে থমকে পল্লবী বলেছিল,

“এই গাছটিকে আমাদের দেশে বলা হয় কাঞ্চন। তুমি জানতে যে কাঞ্চনফুলের গন্ধ আছে?”

হেসে উত্তর দেয় ম্যারি,

“গাছগুলো আমার ও ক্যাভিনের হাতে রোপিত। ক্যাভিন খুঁজে খুঁজে বিচিত্র গাছ এনে লাগিয়েছে বাগানে। গাছটির কাছে এলে হালকা একটি গন্ধ পাই। এর বেশি জানা নেই আমার।”

“তাহলে শোন। শুধুমাত্র রানি কালারের তোমাদের বাগানের রেয়ার এই কাঞ্চনেই একটা মৃদু গন্ধ পাওয়া যায়। সাদা কাঞ্চনে কোনও গন্ধ নেই। অথচ বেশির ভাগ সাদা ফুলেই মিষ্টি গন্ধ থাকে। যেমন, বেল, জুঁই, গন্ধরাজ, গুলঞ্চ, শিউলি। কাঞ্চন ব্যতিক্রম। সাদা হয়েও গন্ধহীন আর রঙিন হলে সৌরভময়।”

“কাঞ্চন তাহলে সবার চেয়ে আলাদা। তাই না! কারণ সাদা কাঞ্চনের গন্ধ নেই। কিন্তু রঙিনের গন্ধ আছে।”

“নিজেই পরখ করে দেখ না।”

পল্লবীর কথায় ফুলে ফুলে ঢেকে থাকা গাছটার একটা ডাল নুইয়ে ধরেন ম্যারি। তিনি সেই ফুলের গন্ধ নেওয়ার আগে একবার পল্লবীর দিকে তাকান। মুখে কিছু বলেন না। তার প্রয়োজনও নেই। তবে একটা দুটো ফুলে নাক ডুবিয়ে বুঝতে পারেন গন্ধ একটা আছে। ম্যারি বলেন,

 “খুবই হালকা একটা গন্ধ। তবে গন্ধটা কিন্তু খুব চেনা।”

রহস্যময় চোখে ম্যারিকে দেখে পল্লবী অকপটে বলে,

“পুরুষমানুষের বুকে এই গন্ধটা পাওয়া স্বাভাবিক।”

চমকে উঠেন ম্যারি। অবাক গলায় বলেন,

“তুমি এই বয়সে এতো কিছু জানো?”

“সিরিয়াসলি বলছি, জানি! একটুও ঠাট্টা করছি না। তবে জানাটা প্র্যাকটিক্যাল নয়, থিওরিটিক্যাল। তোমার সঙ্গে আমিও একমত, এই গন্ধটা খুব চেনা। আসলে একটা পারফিউমের সঙ্গে মেলে। সেটা কোনও পুরুষের গায়েই পাওয়া সম্ভব। গন্ধটা একটা মেল পারফিউমের খুব কাছাকাছি। আমি বিজ্ঞাপনের লেখা পড়ে জেনেছি।”

ম্যারি এবার বেশ আশ্বস্ত কণ্ঠে বলেন, “তাই বলো। অন্তত আমার এখন সে রকমই মনে হয়। খুব পপুলার একটা ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ড আছে, কঠিন ফরাসি নামটা ঠিক মনে পড়ছে না। বিশ্বের সর্বত্র পাওয়া যায়। এই কাঞ্চনের গন্ধটা তার খুব কাছাকাছি।”

ফুল ও গন্ধ নিয়ে আর কথা হয় নি পল্লবীর সঙ্গে। সন্ধ্যা নামতেই চা খেয়ে বিদায় নিয়েছে মেয়েটি। পল্লবী চলে যাওয়ার পর ম্যারি অনুভব করেন, শীত এখনও পুরোপুরি পড়েনি, আসি আসি করছে। বাতাসে হালকা শিরশিরে ছোঁয়া। করোনাকালে আত্মগোপন করে থাকা ক্যাম্পাস শহরটা যেন একটু একটু করে আড়মোড়া ভাঙতে শুরু করেছে। পাশের লন আর ছোট্ট সরোবর নামের জলাভূমি সংলগ্ন জায়গায় হাল্কা খেলাধুলায় মগ্ন লোকজন। বয়সীরা রঙিন জামা-কাপড়ে সান্ধ্য ভ্রমণে বের হতে শুরু করেছেন। পাখিদের কোলাহল দিনে দিনে কমছে। কদিন বাদে বরফের দিন শুরু হবে। প্রকৃতির পালাবদলে মানুষ ও পাখি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। শীতার্ত প্রকৃতির আবাহনে সব কিছু নিশ্চুপ ও স্তিমিত হতে চলেছে।

শীতের টান কিংবা ক্লান্তির কারণে ম্যারি অন্যরকম একটা অনুভূতি টের পেলেন। শীতের প্রকৃতিতে একটা নির্জনতা আছে, রঙের বৈচিত্র্য আছে, থমকে থাকা ভাব আছে। শীতের কি আলাদা কোনো গন্ধ আছে? নিশ্চয় থাকবে। প্রকৃতির প্রতিটি অধ্যায়ই আলাদা ও বৈচিত্রময়। রূপে, রসে, গন্ধে ভিন্নতর। প্রকৃতির প্রভাব মানুষের শরীর ও মনের পাশাপাশি চেতনার অন্তর্মূলেও প্রভাব বিস্তার করে আনন্দ, বেদনা, হর্ষ ও উল্লাসে।

এই শীতে তিনি কোন অনুভূতিকে আঁকড়ে ধরবেন? কোন গন্ধ টেনে নেবেন হৃদয়ের মর্মমূলে? বাইরের হাল্কা কুয়াশায় মোড়ানো সন্ধ্যা-রাতের অস্তিত্ব ছুঁয়ে তাঁর খুবই ইচ্ছে করছে বাগানে কাঞ্চন গাছের কাছে চলে যেতে। বুক ভরে কাঞ্চন ফুলের মৃদ্যু গন্ধ নিতে। সেই গন্ধে কী ক্যাভিনের বুকে লুকানো গন্ধের রেশ থাকবে? যা তিনি বছরের পর বছর বহন করে চলেছেন।

অসমাপ্ত বাক্যের শেষে তিনবিন্দু যতিচিহ্নের মতো একটা উপসংহারহীন অলস মেদুরতা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে ম্যারিকে। তাঁর মনে হচ্ছে, তিনি যেন অনেক স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন সর্বনাশের উপকূল।

[পরবর্তী কিস্তি আগামী শুক্রবার]

আরও পড়ুন: ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-১৩

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

  • Font increase
  • Font Decrease

ফারজানা করিম। পেশাগত জীবনে তিনি বহুদিন ধরেই সংবাদ উপস্থাপনা করছে। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতার সঙ্গে জড়িত ফারজানা করিম। লিখেছেন শতাধিক কবিতা। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পাখি পৃথিবী'।

প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া পান তিনি। জলকণা , না বলা কথা, মী , শূন্যতা , ভালোবাসার আড়ালে, জলে ভাসা পদ্য , শেষ বিকেলের আলো, দূরে কোথাওসহ বেশকিছু গ্রন্থ প্রকাশ হয় তার। এবারের বইমেলাতেও শোভা পাবে তাঁর নতুন এক গ্রন্থ। নাম- বিচ্ছিন্ন কবিতারা। আসছে তাম্রলিপি প্রকাশনী থেকে,২১ নম্বর প্যাভিলিয়ন। পাওয়া যাবে ১০ তারিখ থেকে।

গতকাল ফেসবুকের এক পোস্টে ফারজানা করিম লিখেন, এবারে কাজের ভিড়ে আমার কবিতাগুলো বেশ কষ্ট পেয়েছে। ওদের শরীরে হাত দিয়েছি , ওদের ঠিকঠাক গড়ে নিয়েছি বেশ কষ্ট করে। আচ্ছা ওরা তো আমার সন্তান। ওদের কে কি আমি মানুষের ভালোবাসার পাত্র করে গড়ে তুলতে পারলাম শেষ পর্যন্ত? ছেড়ে দিলাম আমার প্রিয় পাঠকদের জন্য। তাঁরাই আলোচনা সমালোচনা করে নাহয় ঠিক করে নেবেন। বিচ্ছিন্ন কবিতারা আপনাদের ছোঁয়ার অপেক্ষায় প্রিয় পাঠক। দেখা হবে বইমেলায় যদি বেঁচে থাকি।

উল্লেখ্য, ফারজানা করিমের জন্ম ১৩ জুলাই চট্টগ্রামে। বেড়ে ওঠা এবং পড়ালেখা সবই চট্টগ্রামে। পড়ালেখা শেষ করেছেন ইংরেজি সাহিত্য এবং ফিল্ম এন্ড মিডিয়া থেকে। ২০০৩ সাল থেকে এখন অবধি সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ করছেন।

;

হাসান হাফিজের কবিতাগুচ্ছ



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে তুমি আত্মপরিচয়

তুমি এক অগ্নিক্ষরা ইতিহাস আবেগের দিন
নক্ষত্রস্পর্ধায় তুমি জ্বলজ্বলে উদার আকাশ
তুমি শুধু বাঙালিরই নও, এই ঋদ্ধি রক্তঋণ
মাতৃভাষা ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের প্রকাশ
আজ তুমি বিশ্বমানবের, গোটা বিশ্বসভ্যতার
তারুণ্যের দুঃসাহসে অহঙ্কৃত প্রাণ বলিদান
একুশে তোমার পুণ্য শাশ্বত সুরেলা গান
নয় মাত্র বাঙালির সম্পত্তি ও ঐতিহ্য একার-
ব্রহ্মা-ের কোন্ দূরে প্রান্তদেশ সিয়েরা লিওনে
রাষ্ট্রভাষা হয়েছো তুমিও ছন্দে নূপুরে নিক্কণে
বাংলাভাষা তোমার ধ্রুপদী লয় সুছন্দিত তান
নতুন সংস্কৃতিগর্ব বহুমূল্য জাগৃতি ও জয়গান
অক্ষয় অপরাজেয় উপেক্ষিত ভাষার সম্মান
আন্দোলনে অভ্যুদয়ে মুক্তিযুদ্ধে স্বয়ম্ভু সোপান
দোতারা শাপলা ফুল দোয়েলের চঞ্চলতা শিস
বাঘের হুঙ্কারে দর্পী স্বৈরাচার ভয়ে নিরুদ্দিশ।

একুশ প্রকৃত অর্থে মুক্তছন্দা বহতা নদীর নাম
এই সত্য বিশ্ববুকে আমরাই এঁকে রাখলাম।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাষা যতো পায় যেন সপ্রীতি লালন
বিকাশেরও সমান সুযোগ শ্রদ্ধা স্থিতি সংরক্ষণ
একুশে অমূল্য এক পাথেয় প্রেরণা উৎসভূমি
আত্মপরিচয় পেতে দুর্বিনীত বিদ্রোহও তুমি॥

পোড়ানো ও নিমজ্জন

ভুল করে ভালোবাসলে
দণ্ড ও লাঞ্ছনা
প্রাপ্য হবে, হোক।
তোমাকে পুড়িয়ে দিক
আমার দু’চোখ।
নদী যদি হতে পারো
ডুবে মরবো আনন্দেই-
সুতরাং নদী হতে
কোনো বাধা বিপত্তি তো নেই!

মেরুদণ্ড

হাতড়ে দেখি, নেই।
আমারও নেই, তোমারও নেই,
রাজ্যব্যাপী কারোরই নেই।
কোথায় গেল? কোথায় গেল
রিমান্ড চেয়ে তলব করো,
ফায়দা যে কী, তাও বুঝি না।

তত্ত্ব তালাশ করতে গিয়ে
হদ্দ বেকুব বনছি রে ভাই
এই শরমের শুমার যে নাই
কোন্ বনে যাই দুঃখ শুকাই
লজ্জা পেয়ে কোন্ঠে লুকাই
ক্ষতস্থানের নাই প্রশমন
বুঝলি সোনা ও পোড়া মন
ধুঁকছি জাড়ে শীতকামড়ে
কিন্তু আগুন? কোথায় মেলে?
ছুটছি আশার স্বপ্ন ফেলে
নাহ কিছু নাই বুঝলি রে ভাই
ফায়দা তোলার মওকাও নাই
হাতড়ে দেখি সাঁতরে দেখি
আজব কাণ্ড হচ্ছে এ কি
ভীরুতার স্বগত সংলাপ

ভয় পাই নিজেকেই।
কীভাবে যে মুখোমুখি হবো!
কতো পাপ প্রস্তরের ঋণ
জমা হয়ে আছে।
এই কষ্ট বলি কার কাছে?
নিজের ভুবনই ক্রমে
অনাত্মীয় অচেনা হয়েছে
এই দ্বন্দ্ব সংশয়ের কাঁটা
মনে ও মগজে বেঁধে
নীরবে ঝরায় রক্ত
শক্ত কোনো প্রতিরোধ
গড়বার সামর্থ্য যে নেই
নিঃস্বতার সঙ্গে বসবাস
করে করে বাকি আয়ু
শেষ হবে হোক!

আকুল আর্তি

রঙধনু রঙ
যায় মিলিয়ে
তোমার স্মৃতি
জাগনা থাকে
মিলায় না সে
খুঁড়তে থাকে
ছুঁড়তে থাকে
পাথর নুড়ি
ভুলবো তোমায়?
কেমন করে
নাই যে তেমন
হ্যাডম কিংবা সিনাজুরি!

রঙধনু রঙ
হবেই ফিকে
তোমার ছোঁড়া
তীর নিশানা
আসবে ফিরে
আমার দিকে,
এফোঁড় ওফোঁড়
হলেম যদি
কার কি কিছু
যায় বা আসে?
দিন রজনী
কাঁপছে ত্রাসে
চাইছে যেতে
বনের বাসে
কিন্তু সাহস
হচ্ছে না তার
তোমার বিজয়
অঙ্কিত রয়
সাঁঝ সকালের
দূর্বাঘাসে

রঙধনু গো
তোমার সঙ্গী
করবে আমায়
এ পোড়ামুখ
কোথায় রাখি?
আঁধার নেমে
এই চরাচর
সন্ধ্যাতারায়
বিষণœ স্বর
কোথায় পাখি
কোথায় পালক
যাচ্ছে বেড়ে
দহন ও ধক্
ও রঙধনু
তোমার মতোন
হতেম যদি
স্মৃতির ছোবল
এড়িয়ে যাবার
সুযোগ হতো
দিন প্রতিদিন
মরার কষ্ট
আর হতো না!

চরাচরে প্রশ্নই প্রবল

বসন্ত আসবে বলে
অপেক্ষায় ছিলে তুমি
শীতকাল বড়ো বেশি প্রলম্বিত
সব গাছ রুক্ষ শীর্ণ
ঝরাপাতা ধুলোর সংসারে
অপেক্ষার বন্দিশে বেজেছে
বিচ্ছেদী বেহাগ...
কোনোদিন উঠবে না রোদ?
গাছ কবে ফিরে পাবে পাতা
প্রতীক্ষার পালা হবে শেষ
আয়ু সলতে নিভে নিভে যায়
গাঙপাড়ে স্তব্ধতার এলানো চাদর
নৌকা আছে মাঝি নাই
ওম খুঁজছে তালি তাপ্পি সংবলিত
গরিবি কাঁথায়
পারাপার কবে শুরু ফের?
এ প্রশ্নের বিশদ উত্তর
ধরাধামে কারো জানা নেই
---

;

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজে



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শুরু থেকেই প্রশাসন বা আমলাতন্ত্রের সদস্যগণ জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মৌলিক ও সৃজনশীল লেখালেখিতে লিপ্ত রয়েছেন। অনেকের লেখা কালজয়ী সাহিত্যের অংশেও পরিণত হয়েছে। বিশেষত, তাদের স্মৃতি, বিশ্লেষণ, তথ্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের স্বচ্ছ ও সচল ধারাভাষ্য রূপে গৃহীত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে এমন বইয়ের সংখ্যা কম নয়, যা পাঠকপ্রিয়তা ও বৈশিষ্ট্যময়তায় মৌলিক সম্পদ রূপে বিবেচিত।

কাজী হাবিবুল আউয়াল (জন্ম: ২১ জানুয়ারি ১৯৫৬) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। পেশাগত জীবনের গুরু দায়িত্ব সামাল দিয়েও তিনি রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি গ্রন্থ।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'জীবন পাতার জলছাপ' (আত্ম-চরিত), 'ট্রাজেকটরি অব এ জুডিশিয়াল অফিসার' এবং 'মেমোরিজ অফ আরলি লাইফ'। এবারের একুশের বইমেলায় অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'স্টুডেন্ট ওয়েজ' কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে জীবনস্মৃতি ভিত্তিক গ্রন্থ 'জীবন খাতার কয়েক পাতা'।

কাজী হাবিবুল আউয়াল ১৯৫৬ সালের ২১ জানুয়ারি পিতার কর্মস্থল কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের সারিকাইত গ্রামে। তার পিতা কাজী আবদুল আউয়াল কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) ও জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। তার মাতা বেগম নাফিসা খাতুন।

১৯৭২ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ’স হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এল এল.বি (অনার্স) ও ১৯৭৮ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পান ১৯৮০ সালে এবং সে বছর ঢাকা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের বিচার ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মজীবন শুরু করেন উপজেলা মুন্সেফ হিসেবে। তিনি প্রেষণে সহকারী সচিব ও উপ সচিব হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৭ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০০ সালে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ২০০৪ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০৭ সালের ২৮ জুন তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। সেখান থেকে তাকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ জুন তার চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ায় সরকার।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল হাবিবুল আউয়ালের। কিন্তু ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি পিআরএল বাতিল করে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে সেই চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। তিনি ২০১৭ সালে জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। সরকারি চাকরি থেকে পরিপূর্ণ অবসরে যাওয়ার পর তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শহরের পরিবেশে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও পৈত্রিক জনপদ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপের গ্রামীণ জীবন ও পরিবেশকে বিস্মৃত হন নি। গ্রন্থে তিনি বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে নগরজীবন আর গ্রামীণ বাস্তবতাকে উপস্থাপন করেছেন।

প্রকাশক মাশফিকউল্লাহ তন্ময় বার্তা২৪.কমকে জানান, পিতার সরকারি চাকরির বদলিজনিত কারণে লেখক দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন। বইতে তিনি পরিবার ও নিকটজনদের পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি শৈশব ও কৈশোরে দেখা সমাজ, পারির্পাশ্বিকতা, অভাব, দারিদ্র এবং প্রার্চুযহীন অবিলাসী, নিরাভরণ, সাধারণ ও সরল জীবনাচরণের চিত্র তুলে ধরেছেন। শিকড়ের টানে তিনি পিতৃপুরুষদের জন্মস্থান সন্দ্বীপের গ্রামের বাড়িতে একাধিকবার বেড়াতে গেছেন এবং গ্রামের বাড়ি, গ্রাম ও সন্দ্বীপের বিবিধ বিবরণ তুলে ধরেছেন গভীর মমতায়। তিনি নিজের দেখা ইতিহাসের উপজীব্য রাজনীতির বির্বতন এবং বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন বস্তুনিষ্ঠ ও উপভোগ্য ভাষায়।

লেখক স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিদের কথা বলতে গিয়ে সমকালীন নগরজীবন, পারির্পাশ্বিকতা ও অনেক ঘটনার রসালো বিবরণ দিয়েছেন, যা পাঠকের বিনোদনের খোরাক হতে পারে।

প্রকাশক আরও জানান, এটি লেখকের আত্মজীবনী নয়, শৈশব ও কৈশোরের খানিকটা স্মৃতিচারণ। নিজ জীবনের বিগত একটি সময়ের দৃশ্যপট তিনি সময়ান্তরে অনাগত আরেকটি সময়ে তুলনায় উপস্থাপন করেছেন। ফলে বইটি গ্রামীণ ও শহরের বিন্যাস, সাংস্কৃতিক পালাবদল ও ঘটমান রাজনৈতিক রূপান্তরকে কাঠামোবদ্ধ করেছে এবং সাম্প্রতিক অতীতের প্রাণবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। এবারের একুশের বইমেলার প্রথম দিন থেকেই বইটি পাওয়া যাবে স্টুডেন্ট ওয়েজ-এর ২৬ নম্বর প্যাভিলিয়নে।

;

যারা পেলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০২২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২২ ঘোষণা করা হয়েছে। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় এ বছর ১১টি ক্যাটাগরিতে ১৫ জন এই পুরস্কার পাচ্ছেন।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।


বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ প্রাপ্তরা হলেন— কবিতায় ফারুক মাহমুদ ও তারিক সুজাত, কথাসাহিত্যে তাপস মজুমদার ও পারভেজ হোসেন, প্রবন্ধ বা গবেষণায় মাসুদুজ্জামান, অনুবাদে আলম খোরশেদ, নাটকে মিলন কান্তি দে ও ফরিদ আহমদ দুলাল, শিশুসাহিত্যে ধ্রুব এষ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় মুহাম্মদ শামসুল হক, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় সুভাষ সিংহ রায়, বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে মোকারম হোসেন, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনীতে ইকতিয়ার চৌধুরী, ফোকলোরে আবদুল খালেক ও মুহম্মদ আবদুল জলিল।

;