ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-১৫



মাহফুজ পারভেজ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

[পঞ্চদশ কিস্তি]

কদিন ধরেই ম্যারি ভাবছেন জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। সামনের দিনগুলোর নানা পরিকল্পনাও তার ভাবনার জগতকে স্পর্শ করছে বার বার। এসব চিন্তা-ভাবনায় ক্যাভিনের প্রসঙ্গও বার বার চলে আসছে। এখন যদি ক্যাভিন অকস্মাৎ দেখা করতে আসে, তাহলে কেমন হবে?

ম্যারি হিসাব করে দেখেন ক্যাভিনের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা ও অসাক্ষাতের সময়কাল আঠারো বছর অতিক্রম করেছে। ক্যাভিন কিছুদিন আগেই পঞ্চাশে পা দিয়েছে। ম্যারিও অর্ধশতাব্দীর চৌকাঠের দিকে গুটিগুটি এগোচ্ছেন। ম্যারির সঙ্গে ক্যাভিনের বয়সের দূরত্ব তিন বছরের বেশি নয়। প্রথম তারুণ্যের সম্পর্ক, আবেগ ও উচ্ছ্বাসের দিনগুলো পেরিয়ে দুজনেই এখন পরিণত ও অভিজ্ঞ। তবু বয়সের অভিঘাত এখনও দু’জনকে তেমন কাবু করতে পারেনি। ক্যাভিন তেজি ঘোড়ার মতো দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ম্যারি চরম নিঃসঙ্গতাকে বুকে চেপেও সচল।

আসলে দু’জনেই কর্মজীবনের বিপুল ব্যস্ততায় নিজেদের অতিসচল রাখতে বাধ্য হয়েছেন। ম্যারির ক্ষেত্রে পরিবারের দাবি, চারপাশের লোকজন এবং পরিচিতদের প্রয়োজনীয়তা, সর্বোপরি বেঁচে থাকার অত্যন্ত কেজো চাহিদাগুলো মিটিয়ে অতি অল্প সময়ই অবশিষ্ট থাকে, যাকে লোকে বলে অবসর। ক্যাভিন চলে যাওয়ার পর অফুরন্ত সময় ম্যারি পেলেও অখণ্ড ও ভারমুক্ত অবসর পায় নি। এমন অবসর, যাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে নিশ্চিন্তে চলে যাওয়া যায় প্রকৃতির কাছে বা কোনো অজানা জনপদে।

ম্যারির ক্ষেত্রে একাকীত্বের একটা অভিঘাত ছিল। আঘাত সামলানোর জন্য সময় দরকার ছিল তার। টমাসকে লালন-পালনের দায় ছিল। নতুন করে ক্যারিয়ার গড়ার চাপ ছিল। এসবের মধ্যে অবসর পাওয়া হয় নি ম্যারির। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন বড় আকারে আর্ট ভিলেজ তৈরির আগে তিনি অবসর বের করে কোথাও কিছুদিন ঘুরে আসবেন।

নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে কখন যে ম্যারি বাগানে গিয়ে আনমনে পায়চারি করছিলেন, নিজেরও তা খেয়াল নেই। চমকে উঠলেন পেছন থেকে পল্লবীর গলা শুনে,

“সুপ্রভাত!”

পল্লবীর দিকে ফিরে হাসলেন ম্যারি।

“কখন এলে তুমি?”

“এই তো এলাম। শোন এই গাছটা চেনো? ওই যে বড় বড় পাতা? লম্বাটে ফুল। বাইরের পাপড়িটা খসখসে খয়েরি। আর ভেতরে সাদা পাপড়ি। এর শক্ত শক্ত ফল হয়। আর তার ভেতরে বীজগুলো আরশোলার ডানার মতো। ছেড়ে দিলে ঘূর্ণিপাক খেতে খেতে নামে। নামটা  বইয়ে আছে। সবাই পড়েছে  ছোটবেলায়। কিন্তু এই গাছটাকে অনেকেই নামে চেনে না। কলকাতায় আমাদের স্কুলের কাছে এই গাছটা ছিল বলে আমি চিনি। ওর নাম মুচকুন্দ। কেউ কেউ বলেন কনকচাঁপা।”

“নামটা শুনেছি মনে হচ্ছে। তুমি তো বেশ গাছ চেনো!”

“ওই দু’-চারটে। গাছ চেনা সহজ। সামনের লেকের পাড়ে ছোট্ট পার্কটায় অনেক গাছে নাম লেখা রয়েছে। তবে সেগুলো ছাড়াও গাছ আছে যার নাম আমি জানি। থাক ও-সব কথা। চল সামনের লেকে গিয়েই বসি। সঙ্গে একটু চা নিয়ে কথা বলি তোমার সাথে।

“চা-ওয়ালা এই সময় পাবে না। লোকজন নেই, ছুটির দিনও নয় আজ। তার উপর মহামারির ছায়ায় পুরো পৃথিবীর মতোই বিষণ্ণ হয়ে আছে আমাদের এই ছোট্ট ক্যাম্পাস শহর।”

“তা ঠিক। তবু চলো আজ বাইরেই বসি।”

“চলো। কিন্তু আমার মধ্যে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক করছে। তুমি কি আগেও এতটা ফিলসফিক আর গাছপাগল ছিলে?”

কোনও উত্তর দেয় না পল্লবী। আলগা হাসিতে পথ চলতে চলতে শুধু ফিকে করে দেয় ম্যারির প্রশ্নটাকে। পরিণত বয়সের পথে বুঝি মানুষের ঝুলিতে চুপ করে থাকার নানা কৌশল ভরে দিয়ে যায়।

বেশ খানিকটা সময় চুপ থেকে পল্লবী বলে,

“গৃহী মানুষের মতো সব পথিকও চায় একটা গাছ। যার তলায় বসে মিলবে ফেলে আসা পথের দিকে তাকানোর অবসর। মাথার উপরে সেই গাছ কত ফুল কত ফলের অভিজ্ঞতা দিয়ে এক একটা বর্ষবলয় আঁকবে তার অন্তরে। সব কুঁড়ি ফুল হয় না বা সব ফুল থেকে ফল। তবু গাছকে পথিক কি ভুলতে পারে! জীবনের পূরণ না হওয়া সম্ভাবনা, অসমাপ্ত গল্পগুলো গাছের পাশাপাশি ঘুমিয়ে থাকে ক্লান্ত পথিকের মনেও।”

ততক্ষণে লেক সামনে নিয়ে ছোট্ট পার্কের বেঞ্চিতে বসে তন্ময় হয়ে পল্লবীর কথা শুনছিলেন ম্যারি। আসলে মেয়েটি কি বলতে চায়? শুধু কথা বলার জন্য কথা বলে না এই মেয়ে। অনেক গভীর, স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল মেয়েটিকে ম্যারি এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেন নি। বরং তিনি মাথার উপরে পাকুড় গাছটার সঙ্গে একাত্মবোধ করেন। সংগোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। তারপর সরাসরি তাকিয়ে থাকেন পল্লবীর দিকে। আচমকাই কথা বলে পল্লবী,

“ক্যাভিনের সঙ্গে কথা হয়?”

একটা ঝাঁকি অনুভব করেন ম্যারি। সেটা বুঝতে দেন না পল্লবীকে। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি স্বাভাবিক গলায় উত্তর দেন,

“না রে। ওর সঙ্গে দেখা তো হয়ই নি অনেক দিন। কথাও হয় নি।”

“মনে পড়ে ওর কথা?”

“জানি না। কিন্তু টের পাই, কেমন করে যেন একটা ক্ষীণ যোগসূত্র রয়েই গিয়েছে।”

“কেন বল তো?”

“কে জানে!”

“এই বয়সে এসে আর এড়াচ্ছো কেন? সত্য স্বীকারের আনন্দকে নস্যাৎ করে লাভ নেই কোনো।”

“তা নেই। আবার অকপটে আমার মনের কথা বলব, তেমন পরিবেশ আর মানুষ কোথায়? আর নিজের একান্ত সব কথা শেয়ার করাও বিব্রতকর মনে হয় আমার কাছে।”

চুপ করে ম্যারির কথাগুলো শুনে পল্লবী। কিছুই বলে না মেয়েটি। ম্যারিও তাকিয়ে থাকেন পল্লবীর দিকে। ম্যারির মনের কথাটা মুখে প্রায় এসে গিয়েছিল আজ। তবু পারলেন না। কে আটকাল তাকে! সংস্কার কিংবা সংকোচ? তিনি দীর্ঘ বেদনার গল্পগুলো এই মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলার একটা সুপ্ত আকাঙ্খা নিজের মধ্যে সংগোপনে রেখে দেন।

লেকের পাড়ে পার্কের ঢালে একটি পুরনো পাকুড় গাছের গুঁড়িটাকে কেন্দ্র করে বসেছিল দু’জনে। এক সঙ্গেই উঠে দাঁড়াল হঠাৎই। এই অদ্ভুত সমাপতনে দু’জনেই‌ হেসে ফেললেন। সেই রেশটুকু নিয়ে ধীর পায়ে হাঁটতে থাকে দু’জনে। পরস্পরের বিপরীতে। গন্তব্য দু’জনেরই আলাদা। মাঝখানের ফারাক বাড়তে বাড়তে একসময় সেই ঘন পাতায় ছাওয়া পাকুড় গাছটার নজর থেকে মিলিয়ে যান দু’জনে। দু’জনের মনেই বহু দিনের লালন করা একটা প্রশ্ন আর একটা উত্তর। তারা দুজনেই জানে, আবার কখনও হয়তো এই গাছের তলায় দেখা হবে তাদের।  হয়তো পাকুড় গাছটার বর্ষবলয়ে সে দিনও আঁকা হবে গৃহী হয়েও দুই পথিকের না-হওয়া প্রশ্নোত্তরের ইঙ্গিত।

[পরবর্তী কিস্তি আগামী শুক্রবার]

আরও পড়ুন:ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-১৪

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

  • Font increase
  • Font Decrease

ফারজানা করিম। পেশাগত জীবনে তিনি বহুদিন ধরেই সংবাদ উপস্থাপনা করছে। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতার সঙ্গে জড়িত ফারজানা করিম। লিখেছেন শতাধিক কবিতা। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পাখি পৃথিবী'।

প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া পান তিনি। জলকণা , না বলা কথা, মী , শূন্যতা , ভালোবাসার আড়ালে, জলে ভাসা পদ্য , শেষ বিকেলের আলো, দূরে কোথাওসহ বেশকিছু গ্রন্থ প্রকাশ হয় তার। এবারের বইমেলাতেও শোভা পাবে তাঁর নতুন এক গ্রন্থ। নাম- বিচ্ছিন্ন কবিতারা। আসছে তাম্রলিপি প্রকাশনী থেকে,২১ নম্বর প্যাভিলিয়ন। পাওয়া যাবে ১০ তারিখ থেকে।

গতকাল ফেসবুকের এক পোস্টে ফারজানা করিম লিখেন, এবারে কাজের ভিড়ে আমার কবিতাগুলো বেশ কষ্ট পেয়েছে। ওদের শরীরে হাত দিয়েছি , ওদের ঠিকঠাক গড়ে নিয়েছি বেশ কষ্ট করে। আচ্ছা ওরা তো আমার সন্তান। ওদের কে কি আমি মানুষের ভালোবাসার পাত্র করে গড়ে তুলতে পারলাম শেষ পর্যন্ত? ছেড়ে দিলাম আমার প্রিয় পাঠকদের জন্য। তাঁরাই আলোচনা সমালোচনা করে নাহয় ঠিক করে নেবেন। বিচ্ছিন্ন কবিতারা আপনাদের ছোঁয়ার অপেক্ষায় প্রিয় পাঠক। দেখা হবে বইমেলায় যদি বেঁচে থাকি।

উল্লেখ্য, ফারজানা করিমের জন্ম ১৩ জুলাই চট্টগ্রামে। বেড়ে ওঠা এবং পড়ালেখা সবই চট্টগ্রামে। পড়ালেখা শেষ করেছেন ইংরেজি সাহিত্য এবং ফিল্ম এন্ড মিডিয়া থেকে। ২০০৩ সাল থেকে এখন অবধি সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ করছেন।

;

হাসান হাফিজের কবিতাগুচ্ছ



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে তুমি আত্মপরিচয়

তুমি এক অগ্নিক্ষরা ইতিহাস আবেগের দিন
নক্ষত্রস্পর্ধায় তুমি জ্বলজ্বলে উদার আকাশ
তুমি শুধু বাঙালিরই নও, এই ঋদ্ধি রক্তঋণ
মাতৃভাষা ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের প্রকাশ
আজ তুমি বিশ্বমানবের, গোটা বিশ্বসভ্যতার
তারুণ্যের দুঃসাহসে অহঙ্কৃত প্রাণ বলিদান
একুশে তোমার পুণ্য শাশ্বত সুরেলা গান
নয় মাত্র বাঙালির সম্পত্তি ও ঐতিহ্য একার-
ব্রহ্মা-ের কোন্ দূরে প্রান্তদেশ সিয়েরা লিওনে
রাষ্ট্রভাষা হয়েছো তুমিও ছন্দে নূপুরে নিক্কণে
বাংলাভাষা তোমার ধ্রুপদী লয় সুছন্দিত তান
নতুন সংস্কৃতিগর্ব বহুমূল্য জাগৃতি ও জয়গান
অক্ষয় অপরাজেয় উপেক্ষিত ভাষার সম্মান
আন্দোলনে অভ্যুদয়ে মুক্তিযুদ্ধে স্বয়ম্ভু সোপান
দোতারা শাপলা ফুল দোয়েলের চঞ্চলতা শিস
বাঘের হুঙ্কারে দর্পী স্বৈরাচার ভয়ে নিরুদ্দিশ।

একুশ প্রকৃত অর্থে মুক্তছন্দা বহতা নদীর নাম
এই সত্য বিশ্ববুকে আমরাই এঁকে রাখলাম।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাষা যতো পায় যেন সপ্রীতি লালন
বিকাশেরও সমান সুযোগ শ্রদ্ধা স্থিতি সংরক্ষণ
একুশে অমূল্য এক পাথেয় প্রেরণা উৎসভূমি
আত্মপরিচয় পেতে দুর্বিনীত বিদ্রোহও তুমি॥

পোড়ানো ও নিমজ্জন

ভুল করে ভালোবাসলে
দণ্ড ও লাঞ্ছনা
প্রাপ্য হবে, হোক।
তোমাকে পুড়িয়ে দিক
আমার দু’চোখ।
নদী যদি হতে পারো
ডুবে মরবো আনন্দেই-
সুতরাং নদী হতে
কোনো বাধা বিপত্তি তো নেই!

মেরুদণ্ড

হাতড়ে দেখি, নেই।
আমারও নেই, তোমারও নেই,
রাজ্যব্যাপী কারোরই নেই।
কোথায় গেল? কোথায় গেল
রিমান্ড চেয়ে তলব করো,
ফায়দা যে কী, তাও বুঝি না।

তত্ত্ব তালাশ করতে গিয়ে
হদ্দ বেকুব বনছি রে ভাই
এই শরমের শুমার যে নাই
কোন্ বনে যাই দুঃখ শুকাই
লজ্জা পেয়ে কোন্ঠে লুকাই
ক্ষতস্থানের নাই প্রশমন
বুঝলি সোনা ও পোড়া মন
ধুঁকছি জাড়ে শীতকামড়ে
কিন্তু আগুন? কোথায় মেলে?
ছুটছি আশার স্বপ্ন ফেলে
নাহ কিছু নাই বুঝলি রে ভাই
ফায়দা তোলার মওকাও নাই
হাতড়ে দেখি সাঁতরে দেখি
আজব কাণ্ড হচ্ছে এ কি
ভীরুতার স্বগত সংলাপ

ভয় পাই নিজেকেই।
কীভাবে যে মুখোমুখি হবো!
কতো পাপ প্রস্তরের ঋণ
জমা হয়ে আছে।
এই কষ্ট বলি কার কাছে?
নিজের ভুবনই ক্রমে
অনাত্মীয় অচেনা হয়েছে
এই দ্বন্দ্ব সংশয়ের কাঁটা
মনে ও মগজে বেঁধে
নীরবে ঝরায় রক্ত
শক্ত কোনো প্রতিরোধ
গড়বার সামর্থ্য যে নেই
নিঃস্বতার সঙ্গে বসবাস
করে করে বাকি আয়ু
শেষ হবে হোক!

আকুল আর্তি

রঙধনু রঙ
যায় মিলিয়ে
তোমার স্মৃতি
জাগনা থাকে
মিলায় না সে
খুঁড়তে থাকে
ছুঁড়তে থাকে
পাথর নুড়ি
ভুলবো তোমায়?
কেমন করে
নাই যে তেমন
হ্যাডম কিংবা সিনাজুরি!

রঙধনু রঙ
হবেই ফিকে
তোমার ছোঁড়া
তীর নিশানা
আসবে ফিরে
আমার দিকে,
এফোঁড় ওফোঁড়
হলেম যদি
কার কি কিছু
যায় বা আসে?
দিন রজনী
কাঁপছে ত্রাসে
চাইছে যেতে
বনের বাসে
কিন্তু সাহস
হচ্ছে না তার
তোমার বিজয়
অঙ্কিত রয়
সাঁঝ সকালের
দূর্বাঘাসে

রঙধনু গো
তোমার সঙ্গী
করবে আমায়
এ পোড়ামুখ
কোথায় রাখি?
আঁধার নেমে
এই চরাচর
সন্ধ্যাতারায়
বিষণœ স্বর
কোথায় পাখি
কোথায় পালক
যাচ্ছে বেড়ে
দহন ও ধক্
ও রঙধনু
তোমার মতোন
হতেম যদি
স্মৃতির ছোবল
এড়িয়ে যাবার
সুযোগ হতো
দিন প্রতিদিন
মরার কষ্ট
আর হতো না!

চরাচরে প্রশ্নই প্রবল

বসন্ত আসবে বলে
অপেক্ষায় ছিলে তুমি
শীতকাল বড়ো বেশি প্রলম্বিত
সব গাছ রুক্ষ শীর্ণ
ঝরাপাতা ধুলোর সংসারে
অপেক্ষার বন্দিশে বেজেছে
বিচ্ছেদী বেহাগ...
কোনোদিন উঠবে না রোদ?
গাছ কবে ফিরে পাবে পাতা
প্রতীক্ষার পালা হবে শেষ
আয়ু সলতে নিভে নিভে যায়
গাঙপাড়ে স্তব্ধতার এলানো চাদর
নৌকা আছে মাঝি নাই
ওম খুঁজছে তালি তাপ্পি সংবলিত
গরিবি কাঁথায়
পারাপার কবে শুরু ফের?
এ প্রশ্নের বিশদ উত্তর
ধরাধামে কারো জানা নেই
---

;

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজে



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শুরু থেকেই প্রশাসন বা আমলাতন্ত্রের সদস্যগণ জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মৌলিক ও সৃজনশীল লেখালেখিতে লিপ্ত রয়েছেন। অনেকের লেখা কালজয়ী সাহিত্যের অংশেও পরিণত হয়েছে। বিশেষত, তাদের স্মৃতি, বিশ্লেষণ, তথ্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের স্বচ্ছ ও সচল ধারাভাষ্য রূপে গৃহীত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে এমন বইয়ের সংখ্যা কম নয়, যা পাঠকপ্রিয়তা ও বৈশিষ্ট্যময়তায় মৌলিক সম্পদ রূপে বিবেচিত।

কাজী হাবিবুল আউয়াল (জন্ম: ২১ জানুয়ারি ১৯৫৬) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। পেশাগত জীবনের গুরু দায়িত্ব সামাল দিয়েও তিনি রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি গ্রন্থ।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'জীবন পাতার জলছাপ' (আত্ম-চরিত), 'ট্রাজেকটরি অব এ জুডিশিয়াল অফিসার' এবং 'মেমোরিজ অফ আরলি লাইফ'। এবারের একুশের বইমেলায় অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'স্টুডেন্ট ওয়েজ' কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে জীবনস্মৃতি ভিত্তিক গ্রন্থ 'জীবন খাতার কয়েক পাতা'।

কাজী হাবিবুল আউয়াল ১৯৫৬ সালের ২১ জানুয়ারি পিতার কর্মস্থল কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের সারিকাইত গ্রামে। তার পিতা কাজী আবদুল আউয়াল কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) ও জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। তার মাতা বেগম নাফিসা খাতুন।

১৯৭২ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ’স হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এল এল.বি (অনার্স) ও ১৯৭৮ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পান ১৯৮০ সালে এবং সে বছর ঢাকা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের বিচার ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মজীবন শুরু করেন উপজেলা মুন্সেফ হিসেবে। তিনি প্রেষণে সহকারী সচিব ও উপ সচিব হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৭ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০০ সালে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ২০০৪ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০৭ সালের ২৮ জুন তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। সেখান থেকে তাকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ জুন তার চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ায় সরকার।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল হাবিবুল আউয়ালের। কিন্তু ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি পিআরএল বাতিল করে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে সেই চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। তিনি ২০১৭ সালে জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। সরকারি চাকরি থেকে পরিপূর্ণ অবসরে যাওয়ার পর তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শহরের পরিবেশে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও পৈত্রিক জনপদ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপের গ্রামীণ জীবন ও পরিবেশকে বিস্মৃত হন নি। গ্রন্থে তিনি বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে নগরজীবন আর গ্রামীণ বাস্তবতাকে উপস্থাপন করেছেন।

প্রকাশক মাশফিকউল্লাহ তন্ময় বার্তা২৪.কমকে জানান, পিতার সরকারি চাকরির বদলিজনিত কারণে লেখক দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন। বইতে তিনি পরিবার ও নিকটজনদের পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি শৈশব ও কৈশোরে দেখা সমাজ, পারির্পাশ্বিকতা, অভাব, দারিদ্র এবং প্রার্চুযহীন অবিলাসী, নিরাভরণ, সাধারণ ও সরল জীবনাচরণের চিত্র তুলে ধরেছেন। শিকড়ের টানে তিনি পিতৃপুরুষদের জন্মস্থান সন্দ্বীপের গ্রামের বাড়িতে একাধিকবার বেড়াতে গেছেন এবং গ্রামের বাড়ি, গ্রাম ও সন্দ্বীপের বিবিধ বিবরণ তুলে ধরেছেন গভীর মমতায়। তিনি নিজের দেখা ইতিহাসের উপজীব্য রাজনীতির বির্বতন এবং বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন বস্তুনিষ্ঠ ও উপভোগ্য ভাষায়।

লেখক স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিদের কথা বলতে গিয়ে সমকালীন নগরজীবন, পারির্পাশ্বিকতা ও অনেক ঘটনার রসালো বিবরণ দিয়েছেন, যা পাঠকের বিনোদনের খোরাক হতে পারে।

প্রকাশক আরও জানান, এটি লেখকের আত্মজীবনী নয়, শৈশব ও কৈশোরের খানিকটা স্মৃতিচারণ। নিজ জীবনের বিগত একটি সময়ের দৃশ্যপট তিনি সময়ান্তরে অনাগত আরেকটি সময়ে তুলনায় উপস্থাপন করেছেন। ফলে বইটি গ্রামীণ ও শহরের বিন্যাস, সাংস্কৃতিক পালাবদল ও ঘটমান রাজনৈতিক রূপান্তরকে কাঠামোবদ্ধ করেছে এবং সাম্প্রতিক অতীতের প্রাণবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। এবারের একুশের বইমেলার প্রথম দিন থেকেই বইটি পাওয়া যাবে স্টুডেন্ট ওয়েজ-এর ২৬ নম্বর প্যাভিলিয়নে।

;

যারা পেলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০২২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২২ ঘোষণা করা হয়েছে। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় এ বছর ১১টি ক্যাটাগরিতে ১৫ জন এই পুরস্কার পাচ্ছেন।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।


বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ প্রাপ্তরা হলেন— কবিতায় ফারুক মাহমুদ ও তারিক সুজাত, কথাসাহিত্যে তাপস মজুমদার ও পারভেজ হোসেন, প্রবন্ধ বা গবেষণায় মাসুদুজ্জামান, অনুবাদে আলম খোরশেদ, নাটকে মিলন কান্তি দে ও ফরিদ আহমদ দুলাল, শিশুসাহিত্যে ধ্রুব এষ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় মুহাম্মদ শামসুল হক, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় সুভাষ সিংহ রায়, বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে মোকারম হোসেন, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনীতে ইকতিয়ার চৌধুরী, ফোকলোরে আবদুল খালেক ও মুহম্মদ আবদুল জলিল।

;