জয়দেবপুরের গণ বিক্ষোভ



সার্জেন্ট (অব.) সৈয়দ জহিরুল হক
গ্রাফিক : বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গ্রাফিক : বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পাকিস্তান আমলে, ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে সাধারণ সৈনিক পদে ভর্তি হই। ছয় মাস ট্রেনিং শেষে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টে ব্যাটালিয়ানে জয়দেবপুরে বদলি। সেখানে আমাকে আলফা কোম্পানির ১নং প্লাটুনে পাঠানো হয়। তখন আমার ব্যাটেলিয়ান কমান্ডার ছিলেন লে. কর্নেল (বাঙালি) মাসুদুল হাসান খান। এবং আমার কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন (পাকিস্তানি) মেজর কাজিম কামাল খান। কোম্পানি অফিসার ছিলেন (ক্যাপ্টেন) জেনারেল এ এস এম নাসিম। তিনি ব্যাটেলিয়ান অ্যাডজুটেন্ট পদেও নিয়োজিত ছিলেন। আরেকজন অফিসার ছিলেন জেনারেল (সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট) (বাঙালি) গোলাম হেলাল মুরশেদ খান। তখন ব্যাটেলিয়ান উপঅধিনায়ক ছিলেন (মেজর) জেনারেল জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে তিনি চট্রগ্রাম বদলি হয়ে গেলে (মেজর) জেনারেল কে. এম. শফিউল্লাহ উপঅধিনায়ক পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। যুদ্ধকালীন তিনি ৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। আমি এ সেক্টরের অধীনেই যুদ্ধ করি।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকা গড়ে উঠে ১৯৭০ এর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সেই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাক ভোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচিত হন। কিন্তু পাক সামরিক সরকার তার নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতির মনোভাব প্রকাশ করে। তারা চেয়েছিল ভুট্টোকে ক্ষমতায় বসাতে। এ নিয়ে তখন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ জেগে উঠে। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর গোটাদেশের আপামর জনগণ বিদ্রাহী হয়ে ওঠে। সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সাথে বাঙালি সৈনিকদের ছিল সুসম্পর্ক। কেননা আমরা সবাই বাঙালি।

পাক সামরিক কর্তৃপক্ষ বেঙ্গল রেজিমেন্টের ওপর বিশেষ দৃষ্টি রাখা শুরু করে। ১৯ মার্চ ১৯৭১ দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্যে পাক সামরিক জান্তা সুপরিকল্পিত নীল নকশা তৈরি করে। ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব আরবাবের সাথে প্রায় ৬০/৭০ জন পাকিস্তানি সেনা ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে জয়দেবপুরে আসে। সেকেন্ড বেঙ্গল কী অবস্থায় আছে তা পরিদর্শনের জন্য। কিন্তু তাদের বাস্তব লক্ষ্য ছিল সেকেন্ড বেঙ্গলকে নিরস্ত্র করা। জয়দেবপুরের জনগণ এ সংবাদ জানতে পেরে গণমিছিলের ডাক দেয়। অল্প সমেয়র ভিতর জয়দেবপুর রেল ক্রসিং থেকে শুরু করে চৌরাস্তা পর্যন্ত হাজার হাজার লোক সমবেত হলো। ঐ দিন আবার আমাদের কোম্পানির রেশন আনার জন্য আমরা ৪/৫ জন সৈনিক একটি গাড়িতে করে টাঙ্গাইল থেকে জয়দেবপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হই। আমি নিজেও সেই গাড়িতে ছিলাম। চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছলে জনগণ আমাদের বিস্তারিত ঘটনা জানাল। বলল, আপনারা জয়দেবপুর পৌঁছতে পরবেন না। আপনারা টাঙ্গাইল ফিরে যান। আপনাদের রেশন এবং ফ্রেশের ব্যবস্থা আওয়ামী লীগের নেতারা করে দেবে। পরিস্থিতি উপলব্ধি করার জন্য একজন বাদে আমরা বাকি সেনারা শার্ট লুঙ্গি পরে জনগণের সাথে মিশে যাই। সেদিন চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর বাজার পর্যন্ত ছিল জনতার ঢল। যাতে দ্বিতীয় বেঙ্গল থেকে পাকিস্তানিরা অস্ত্র নিয়ে যেতে না পারে। তারা জয়দেবপুর স্টেশন থেকে দুটি রেলে বগি এনে রাজবাড়ি রেল ক্রসিংয়ের ওপর রেখে দিল। যাতে কোনো পাক সেনা দল জয়দেবপুর থেকে ঢাকায় যেতে না পারে বা ঢাকা থেকে জয়দেপুর প্রবেশ করতে না পারে। অপর দিকে দ্বিতীয় বেঙ্গলের সৈনিকরা পূর্ব থেকেই প্রস্তুত ছিল। তারাও কিছুটা উগ্র ভাবে ছিল। ব্রিগেড কমান্ডার এসে যখন দেখল পরিস্থিতি ভয়াবহ খারাপের দিকে তখন তারা অস্ত্র নেওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যাবার প্রস্তুতি নিল।

গণ বিক্ষোভ দেখে ব্রিগেড কমান্ডার প্রথম গাড়িতে দ্বিতীয় বেঙ্গলের বাঙালি সেনাদের এবং পেছনে দ্বিতীয় গাড়িতে পাক সৈনিকদের নিয়ে জয়দেবপুর থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ফেরত যাবার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রেল ক্রসিংয়ে এসে বাঁধার সম্মুখীন হয়। বিদ্রোহী জনগণ পাকিস্তানি সৈন্যদের আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু যখন দেখল দ্বিতীয় বেঙ্গলের বাঙালি সৈনিকগণ প্রথম গাড়িতে আছে তখন তারা এক কঠিন পরীক্ষায় পড়ে যায়। এদিকে ব্রিগেড কমান্ডার দ্বিতীয় বেঙ্গল অধিনায়ককে আদেশ করল ফায়ার করার জন্য। কিন্তু আমাদের লোকেরা তখন সাইডে কচুরি পানাতে এবং গাছের আগায় ফায়ার করে। এ দেখে ব্রিগেড কমান্ডার গর্জে উঠে বললেন, “তোমার লোকেরা কী গুলি করছে? এখন পর্যন্ত ১০/১২টা লাশ ফেলতে পারল না! হাজার হাজার জনতার সামনে গুলি করলে লাশ পড়ে না এ কেমন কথা? ওদেরকে বলো, সরাসরি মানুষের উপর গুলি করতে।” কিন্তু আমাদের বাঙালি অফিসার ব্রিগেড কমান্ডারকে বুঝিয়ে দিল নিরস্ত্র মানুষের ওপর আমরা গুলি করতে পারি না। অপর দিকে জনতার ভিড়ের মধ্য থেকে দেশি অস্ত্র ও দুটি চাইনিজ রাইফেল দ্বারা পাকিস্তানিদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এ দেখে ব্রিগেডিয়ার আরো রাগান্বিত হয়ে যায়। তখন পাকিস্তানিরা জনগণের ওপর গোলা বর্ষণ করে। এভাবে জনতার ভিড় কমতে থাকে। পরে রেল ক্রসিং থেকে রেলগাড়ির বগিও সরিয়ে ফেলা হয়। ব্রিগেড কমান্ডারও বুঝতে পারে বাঙালি জনতার পাশাপাশি বাঙালি সৈনিকরাও পাকিস্তানিদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। তখন দ্বিতীয় বেঙ্গল কমান্ডার লে. কর্ণেল মাসুদুল হাসান খানকে আদেশ দিয়ে বললেন, যে কোনো উপয়ে হোক আমাদের ঢাকা ক্যান্টেনমেন্টে পৌঁছার ব্যাবস্থা করে দাও। যাবার সময় ব্রিগেড কমান্ডার লে. কর্নেল মাসুদুল হাসানকে ঢাকায় চলে আসতে হুকুম দিয়ে যান। ২১ মার্চ লে. কর্নেল মাসুদুল হাসান ঢাকায় চলে যান। তার স্থলে পাঞ্জাব রেজিমেন্ট থেকে (বাঙালি) লে. কর্নেল রাকিবকে সেকেন্ড বেঙ্গলের অধিনায়কের দায়িত্বে পাঠায়।

এর পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাগণ সেকেন্ড বেঙ্গলকে সর্বদিক দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করত। যেভাবে এদেশের সাধারণ মানুষের মনে আন্দোলনে সাড়া দিয়ে ছিল ঠিক সেভাবেই আমরা যারা বাঙালি সৈনিক ছিলাম তাদের মনেও আন্দোলন সাড়া দিয়ে ছিল। পার্থক্য ছিল আন্দলনের প্রারম্ভিক পর্বে ও প্রস্ততি পর্বে আমরা প্রকাশ্যে আন্দেলনের মাঠে নামি নাই। আমরা সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। ১৯৭১ সালে মার্চের প্রথম থেকেই আমরা সিগন্যাল প্লাটুনের গোপন কোড নম্বরের মাধ্যমে আমাদের বেঙ্গল রেজিমেন্টগুলোর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতাম ও সংবাদ আদান প্রদান করতাম।

১৯৭১ সালে আই এস ডিউটির জন্য আমাদের আলফা কোম্পানিকে টাঙ্গাইলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন আমার কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন মেজর কাজিম কামাল খান এবং (ক্যাপ্টেন) জেনারেল এ এস এম নাসিম সাহেব তখন আমার কোম্পানির অফিসার এবং ব্যাটালিয়ান অ্যাডজুন্টেন্ট পদে নিযুক্ত ছিলেন। টাঙ্গাইলে আসার পর যখন গোটা দেশে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আন্দোলন শুরু করে তখন সম্ভবত ২০ মার্চ আমরা (ক্যাপ্টেন) জেনারেল নাসিম সাহেবের সাথে পরামর্শ করলাম। “দেশের এ পরিস্থিতি আমাদের করণীয় কী?” নাসিম সাহেব আমাদের বললেন, “তোমরা একটু ধৈর্য ধরো। আমরা যারা বাঙালি অফিসাররা আছি সকলের সম্মতিতে একত্রে একসাথে পাক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে হবে।” ২৫ মার্চ রাতে আমাদের সেই সুযোগ এসে যায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ভিতর যতগুলো বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল সবগুলোই একত্রে বিদ্রোহ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। (ক্যাপ্টেন) জেনারেল নাসিম সাহেব আমাদেরকে অস্ত্রাগার থেকে নিজ নিজ গোলাবারুদ সংগ্রহ করতে বললেন। আমি অস্ত্রাগার থেকে চায়না ৭.৬২ এম এম এল এম জি এবং ১২ বাক্স এল এম জির গুলি নিয়ে নিই। মহান মুক্তিযুদ্ধে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এল এমজির মাধ্যমেই আমি যুদ্ধ করেছি। আমাদের সঙ্গে যে সকল পাঞ্জাবি, পাঠান ও বিহারী সৈনিক ছিল তাদের কাছ থেকে আগেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা নিয়ে নেওয়া হয়। ঐ রাত্রেই আনুমানিক ১২টার দিকে মেজর কাজিম কামাল খানসহ যতগুলো পাঞ্জাবি, পাঠান ও বিহারী অফিসার ও সৈনিক ছিল—তাদের সবাইকে হত্যা করা হলো।

ক্যাপ্টেন নাসিম সাহেব আমাদেরকে গাড়িতে উঠতে বললেন। অতিদ্রুত আমাদের কোম্পানির যাবতীয় সামানা ও রেশনসহ গাড়ি লোড করা হলো। সম্ভবত রাত ২টার দিকে আমরা ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। কেননা, তখন আমরা শুনেছিলাম, ময়মনসিংহ বিডিয়ার ক্যাম্পে বাঙালি ও পাকিস্তানিদের মধ্যে গোলাগুলি চলছে। বাঙালি বিডিয়ারদের সাহয্যার্থে আমরা ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। সকালে আমরা মুক্তাগাছা জমিদার বাড়িতে কিছুক্ষণের জন্য নাস্তার করার উদ্দেশ্যে বিশ্রাম নিই। ঐ সময় (ক্যাপ্টেন) জেনারেল নাসিম সাহেব আমাকে বললেন, “তোমার বাড়ি নাকি এখান থেকে খুব কাছে, তুমি বাড়িতে গিয়ে তোমার আত্মীয় স্বজনদের সাথে সাক্ষাত করে ময়মনসিংহে এসে আমাদের সাথে যোগ দেবে।” জবাবে আমি বললাম, “স্যার, আমার পক্ষে বাড়ি যাওয়া সম্ভব নয়। কেননা, বিশেষ করে আমার নানি আমাকে যুদ্ধের ময়দানে না-ও আসতে দিতে পারে। তাই আমি যেতে চাচ্ছি না।”

নাস্তা পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই আমরা খবর পাই বিডিআরদের সাথে পাক বাহিনীর গোলাগুলি বন্ধ হয়েছে এবং সমস্ত বাঙালি বিডিআররা আমাদের সাথে যোগ দিতে চাচ্ছে। আমরা এ সংবাদ শোনার পর পুনরায় ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। ময়মনসিংহে পৌঁছে আমাদের কোম্পানিকে ময়মনসিংহ সার্কিট হাইজ ও ডাক বাংলাসহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়।

আমার কোম্পানির এস জেসিও ছিল সুবেদার নূরল আজিম চৌধুরি এবং প্লাটুন অধিনায়ক ছিলেন সুবেদার মনির আহমেদ এবং প্লাটুনসহ অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন নায়েব সুবেদার জনাব আলী। আমরা ময়মনসিংহে দুদিন থাকার পর পাকিস্তানি জঙ্গি বিমান আমাদের ক্যাম্পের উপর দিয়ে চক্কর দিতে থকে। আমরা বুঝতে পারলাম আমাদের অবস্থান সম্পর্কে তাদেরকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা ঐ দিন ট্রেন যোগে ভৈরবের দিকে রওনা হই। ঐ সময় রাস্তার দুপাশ থেকে হাজার হাজার জনতা আমাদেরকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানায়। এবং বিভিন্ন রকম ফলমূল খাদ্য, সিগারেট, ম্যাচ ইত্যাদি আমাদের ট্রেনে দিয়ে যায়। সকলেই আমাদের জয়যুক্ত হওয়ার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করছিল।

সেখানে পৌঁছে নাসিম সাহেব আমাদেরকে একটি স্কুল বিল্ডিংয়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন। ঐ দিন পাকিস্তান থেকে হঠাৎ করে ক্যাপ্টেন সেলিম সাহেব আমাদের মাঝে উপস্থিত হন। তিনি ইতিপূর্বে আমাদের ব্যাটালিয়ানের অ্যাডজুটেন্ট পদে দায়িত্বে ছিলেন। পরে তাকে পাকিস্তানে বদলি করা হয়। জেনারেল নাসিম সাহেব ও আমরা ক্যাপ্টেন সেলিম সাহেবকে কাছে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। তার কিছুক্ষণ পর দেখা গেল পাকিস্তানি একটি জঙ্গি বিমান ভৈরব শহরের উপর দিয়ে চক্কর চালায়। জঙ্গি বিমানটি চলে যাওয়ার পরপরই আমরা ভৈরব থেকে আশুগঞ্জ চলে যাই। [চলবে…]


ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের স্মৃতি ২ আশুগঞ্জের বিমান হামলা

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;