আশুগঞ্জের বিমান হামলা



সার্জেন্ট (অব.) সৈয়দ জহিরুল হক
গ্রাফিক : বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গ্রাফিক : বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের স্মৃতি ১ ● জয়দেবপুরের গণ বিক্ষোভ


আশুগঞ্জে আমাদেরকে ভৈরব নদীর পাড় ঘেঁষে উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে ডিফেন্স নিতে বলা হয়। ব্রিজের পূর্ব পাড়ে একটি এইচএমজি বসানো হয়। আর আমাকে বলা হয় দক্ষিণ প্রান্তে নদীর পাড় ঘেঁষে এলএমজি নিয়ে অবস্থান করতে। যেন ঢাকা থেকে নদীপথে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আসলে তাদেরকে আটকে ধ্বংস করতে পারি। কিছু পাবলিক এসে আমার এলএমজির বাংকারকে খুব মজবুত করে সেল্টারসহ করে দিল। আশুগঞ্জে সম্ভবত আমরা ২/৩ দিন অবস্থান করি। তারপর একদিন ভোরে দেখি ৪টি জঙ্গি বিমান আমাদের ডিফেন্সের উপর চক্কর লাগিয়ে আমাদের বিভিন্ন বাংকারের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। একমাত্র আমার পজিশনটাই যুদ্ধবিমানগুলোর দৃষ্টির অগোচরে ছিল। তাই আমি শুরু থেকে ওদের আক্রমণের গতিধারা লক্ষ করে আসছি। ৪টি যুদ্ধবিমানের প্রবল আক্রমণের মুখে আমাদের ডিফেন্স টিকতে পারল না। সম্ভবত ২০/২৫ মিনিট বা আধাঘণ্টা যুদ্ধ বিমানের গোলাবর্ষণের পর আমাদের কোম্পানির সৈনিকগণ উইড্রল করতে শুরু করে। হঠাৎ একটি যুদ্ধবিমান আমার বাংকারকে লক্ষ্য করে গুলি করতে শুর করে। তখন আমি যুদ্ধবিমানের উদ্দেশ্যে গুলি করতে শুরু করি। আমি একসময় লক্ষ করি আমাদের সৈনিকদের গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না। শুধুমাত্র পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলোর গুলাগুলির আওয়াজ শোনা যায়। তখন আমি বুঝতে পারলাম, আমাকে একা ফেলে রেখে বাকিরা সব চলে গেছে অথবা শহীদ হয়ে গেছে।

চিন্তিত হয়ে পড়ে আমি আল্লাহকে ডাকতে শুরু করলাম। তখন বুঝতে পারলাম একমাত্র আল্লাহই আমার সাহয্যকারী। যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে আমার এলএমজির দিয়ে শর্ট ব্রাশফায়ার মারতে শুরু করলাম। আমি খুব হিসাব করে গুলি খরচ করে যাচ্ছিলাম। একসময় আমার বাংকারকে লক্ষ্য করে গোলা নিক্ষেপ করার জন্য যেই ড্রাইভ করে ঐ মুহূর্তে আমি যুদ্ধমিবানকে লক্ষ্য করে লং ব্রাশফায়ার করি। ঐ সময় আল্লাহর অসীম মেহেরবানীতে গোলাটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আমার সামনে অদূরে নদীর মধ্যে পড়ে যায়। আমি শুধু একাই যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছি। আর প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রতিক্ষায় আল্লাহকে ডাকছি। প্রায় একঘণ্টা পর দুটি ফাইটার চলে গেল এবং দুটি যুদ্ধবিমানই আমার ডিফেন্স লক্ষ্য করে গুলি নিক্ষেপ করতে থাকল। আমিও ক্ষণে ক্ষণে যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে বৃথা গুলি চালিয়ে যাচ্ছি। যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে আমার গুলি ছোঁড়ার কারণে যুদ্ধবিমানটি আমার বাংকারের ওপর সঠিকভাবে গুলি নিক্ষেপ করতে পারছিল না। কেননা, আমার চেয়ে ওর মৃত্যুর ভয়টাই ছিল বেশি। আমি একাই গুলি করছি।

আমার একার গুলি করার শব্দ শোনতে পেরে নাসিম সাহেব আমাদের ব্যাটালিয়নের বি কিউএম এইচ ফরাজ আমদে সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে আমার থেকে ৪/৫শ গজ পেছনে গ্রামের ভিতরের একটি গাছ তলায় এসে আমাকে ডাকলেন। আমি নাসিম সাহেবকে ডাকতে দেখে উপরের দিকে ইশারা করে বুঝালাম, আমি বাংকার থেকে উঠতে পারছি না। অগত্যা ব্যর্থ হয়ে তিনি ফিরে গেলেন। তখন আমার মন আরো দুর্বল হয়ে পড়ল। বুঝলাম, হয়তো আমার এখানেই মৃত্যু হবে নতুবা বেঁচে থাকলেও আমি আমার কোম্পানি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব। ভাবছি অনেক কিছু। আমাদের দেশের টাকা দিয়ে যে যুদ্ধ বিমান ও গোলা বারুদ কেনা হয়েছিল সেগুলো দিয়েই আজ তারা আমাদের হত্যা করে যাচ্ছে। যে যুদ্ধবিমানগুলো আমাদের রক্ষার জন্য বিদেশ থেকে কেনা হয়েছিল সেগুলো সেগুলা দিয়েই আমাদেরকে ও দেশের সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করছে। যুদ্ধ বিমানের বিরুদ্ধে গুলি চালিয়ে যাচ্ছি। নিজেকে বাঁচানোর জন্য এবং একটি যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করার আশায়। এভাবে সম্ভবত আরও ঘণ্টাখানিক চলল।

কিছুক্ষণ পর পালাক্রমে দুটি যুদ্ধবিমান ঢাকায় চলে যায় এবং ঢাকা থেকে দুটি যুদ্ধ বিমান এসে গুলিবর্ষণ শুরু করে। আমি হিসাব করে গুলি খরচ করছি। এভাবে প্রায় ৮ বাক্স গুলি শেষ হয়ে যায়। এমন সময় দেখি, যুদ্ধ বিমানের সাথে দুটি হেলিকপ্টার আসে। যেখানে আমাদের কোম্পানি হেডকোয়ার্টার ছিল সেখানে আমাদের ডিফেন্সের পেছনে ঐ হেলিকপ্টার থেকে রশি বেয়ে পাকিস্তানের কমান্ডো সৈনিকরা নামছে। এবং যে রাস্তাটি সম্ভবত সার কারখানার দিকে গিয়েছে ঐ রাস্তার ওপর কমান্ডোরা এসে অবস্থান নিচ্ছে। এ দেখে আমি বাঁচার আশা একেবারে ছেড়ে দিলাম। রীতিমতো কালেমা পড়া শুরু করলাম। এবং যুদ্ধ বিমানকে লক্ষ্য করে এলএমজির শর্ট ব্রাশফায়ার দিয়ে যাচ্ছিলাম। আল্লাহর অসীম মেহেরবানিতে একটু পরেই দেখি একটি যুদ্ধবিমান চলে গেল। অপর যুদ্ধবিমানটা বারবার চক্কর দিয়ে আমাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করতে থাকল। আমি অসহায়ের মতো নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম। দেখলাম, আরো দুটি হেলিকপ্টার আরো কিছু কমান্ডো আগের জায়গায় নামিয়ে দিল। তখন আমার বুঝতে বাকি রইল না, নিশ্চিত আমি মারা যাব নতুবা কমান্ডোদের হাতে ধরা পড়ব। এদিকে যুদ্ধবিমানকে গুলি করতে করতে করতে আমার এলএমজির গুলি শেষ হবার পথে। শেষ ম্যাগজিনের চেইনটা এলএমজির সাথে লাগালাম। যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে আরো দু/তিনবার শর্ট ব্রাশফায়ার করে চলে যাবার প্রস্তুতি নিলাম।

এলএমজি ও খালি ম্যাগজিনের বাক্সগুলো ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে কাঁধে ঝোলালাম। আল্লাহর নাম নিয়ে কালেমা পড়তে পড়তে বাংকার থেকে বের হলাম। (ক্যাপ্টেন) জেনারেল নাসিম সাহেবকে যে পথ দিয়ে যেতে দেখেছি সে পথ ধরে দৌড়াতে শুরু করলাম। তখনও যুদ্ধবিমান আকাশে চক্কর দিচ্ছিল। আমি দৌড়ে একটি গ্রামের ভিতর প্রবেশ করি। সর্বদাই গাছপালার আড় রেখে অগ্রসর হতে থাকি। লোকদের জিজ্ঞাসা করি আমাদের সৈনিকেরা কোথায় গিয়েছে। তারা আমাকে দক্ষিণ পূর্ব দিকে একটি প্রাইমারি স্কুল দেখিয়ে দেয়। আমি তখন সেই স্কুলের দিকে যাই। সেখানে যাবার পর (ক্যাপ্টেন) জেনারেল নাসিম সাহেবকে দেখতে পাই। তাকে দেখতে পেয়ে আমি অনেকটাই স্বস্তি ফিরে পেলাম। সেখানে ২০/২৫ জন সৈনিক ভাইদেরকে দেখতে পেলাম। বাকি সৈনিকরা কে কোথায় রয়েছে বা কে কে শহিদ হয়েছে এরা কেউ বলতে পারে না। যা হোক দুপুরে ওখানে খাওয়া-দাওয়ার পর (ক্যাপ্টেন) জেনারেল নাসিম সাহেব আমাদের স্কুল ঘরে বসিয়ে একটি ছোট দরবার নিলেন।

তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে বললেন, “তোমরা খাঁটি মনে বলো, আমার সাথে কে কে থাকতে চাও? আর কে কে চলে যেতে চাও? যারা চলে যেতে চাও তারা আমার কাছে তোমাদের অস্ত্র গোলা জমা দিয়ে চলে যেতে পার। যারা আমার সাথে থাকতে চাও তারা হাত তোলো।” তখন আমরা যে কয়জন সেখানে ছিলাম প্রত্যেকে হাত তুলে স্বীকারোক্তি দিয়ে ওয়াদা করলাম, “আমরা মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত অথবা দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত আপনার সাথেই থাকব।” আমাদের কথা শুনে (ক্যাপ্টেন) জেনারেল নাসিম সাহেব বেশ সন্তুষ্ট হলেন এবং বললেন, “আমরা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সেনা বিদ্রোহ করেছি। আমাদের ফিরে যাওয়া আর সম্ভব নয়। গোটা দেশ এবং দেশের জনগণও যদি পাকিস্তানের পক্ষে হয়ে যায় তবুও আমাদেরকে যুদ্ধ চালিয়েই যেতে হবে। ভিয়েতনামের মতো আমাদের এ যুদ্ধ আজীবনের যুদ্ধ। তবে একটা কথা মনে রেখো, যদি কোনো দিন আমরা দেশ স্বাধীন করতে পারি, তবে সেদিন, তোমাদের একটা বিরাট মর্যাদা হবে। যা তোমরা এখন কল্পনাও করতে পারবে না। আর তোমরাই হবে এ দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিক।”

সেদিন এ কথাটা আমার নিকট উপহাসমূলক মনে হয়েছিল। আজও তেমনি মনে হয়। বাস্তবতা বড় কঠিন। তখন আমাদের একটাই স্বপ্ন ছিল, দেশ ও জাতিকে স্বাধীন করা। অতঃপর তিনি আমাদেরকে সিলেটের তেলিয়াপারা গার্ডেনে নিয়ে যান।

তেলিয়াপাড়ার যুদ্ধ


ক্যাপ্টেন সেলিম সাহেব এবং ক্যাপ্টেন নাসিম সাহেব আমাদেরকে তেলিয়াপাড়া টি গার্ডেনে যে জায়গায় নিয়ে যান সেটা ছিল পাক আর্মির সাজানো ফাঁদ। তা নাসিম সাহেব জানতেন না। আমরা যখন ওদের এ্যাম্বুসের ঘেরাওয়ের ভিতর প্রবেশ করি তখন ছিল গভীর রাত। হঠাৎ ৩ দিক থেকে গুলি শুরু হলো। আমরা উপায় না দেখে পাল্টা গুলি করতে করতে পেছন দিক থেকে বের হয়ে আসি। সারা রাত পাক বাহিনীর সাথে গুলাগুলি চলতে থাকে। নাসিম সাহেব আমাদেরকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসেন। সেলিম সাহেবের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নাই। পরে মাধবপুরে তাকে দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে সেলিম সাহেব ছিলেন পকিস্তানের গুপ্তচর। সেলিম সাহেব আমাদেরকে যতগুলো অপারেশনে নিয়ে গিয়েছিল সবকটি অপারেশনই ছিল আমাদের ধরা পরার মতো। কিন্তু মহান আল্লাহর একান্ত ইচ্ছা আমাদেরকে রক্ষা করেছে। আল্লাহ প্রদত্ত নাসিম সাহেবের উপস্থিত বুদ্ধি আর আমাদের অসীম সাহসিকতা প্রতিবারই শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করে তাদের ষড়যন্ত্র তছনছ করে দিয়েছে। মাধবপুরের যুদ্ধটাও ছিল ক্যাপ্টেন সেলিম সহেবের চক্রান্ত। সে পাকিস্তানি বাহিনীকে আমাদের ডিফেন্সের পিছন দিক থেকে সরাসরি আক্রমণের রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিল। এসব কারণে পরে তাকে বন্দী করে হত্যা করা হয়। [চলবে]

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;