নতুন বছর পড়ুন গত বছরের বিভিন্ন পুরস্কার পাওয়া বই



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
নতুন বছরের পাঠ-তালিকায় রাখুন পুরস্কারপ্রাপ্ত বই

নতুন বছরের পাঠ-তালিকায় রাখুন পুরস্কারপ্রাপ্ত বই

  • Font increase
  • Font Decrease

হাল আমলের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যিক আর. আর. মার্টিন বলেছিলেন, “একজন পাঠক তার মৃত্যুর আগে হাজারটা জীবন যাপন করে।” কথাটা যে মিথ্যা না তা কেবল সত্যিকার পাঠকই জানেন। আর তাই বই সামনে নেবার আগেই সতর্ক হতে হয় পাঠককে, কোন জীবনটা সে যাপন করতে যাচ্ছে। নতুন বছর। গৃহিণীর সংসার থেকে সংসদ সদস্যের দিনপঞ্জি—সবকিছুতে চলছে পরিকল্পনার তোড়জোর। নতুন বছরে লাভ-ক্ষতির সমীকরণ মেলাতে শুরু করেছে সবাই। বইপ্রেমীদের অনেকেই লিস্ট করছে আসছে বছর কোন কোন বই পড়া যায়। ইতোমধ্যে ছোট-বড় একটা লিস্ট করেও ফেলেছে কেউ কেউ। সেই লিস্টে যদি ২০১৯ সালের নোবেল বা পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া বইটি যোগ হয়; তাহলে বোধ হয় মন্দ হয় না।

গোটা ২০১৯ সাল জুড়ে অনেক বই বিভিন্ন শাখায় খ্যাতি অর্জন করেছে। জিতে নিয়েছে এক বা একাধিক পুরস্কার। বর্তমানে আলোচিত কিছু পুরস্কার পাওয়া ফিকশন বইকে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য আজকের প্রচেষ্টা।

কোস্টা বুক এওয়ার্ডস
কোস্টা বুক এওয়ার্ডসকে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সমাদৃত এওয়ার্ড বলে গণ্য করা হয়। পুরস্কার পায় শুধু যুক্তরাজ্য আর আয়ারল্যান্ডের লেখকেরা। পাঁচটা ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে আছে—প্রথম উপন্যাস, উপন্যাস, জীবনী, কবিতা এবং শিশুতোষ। নির্বাচিত পাঁচের মধ্যে থেকে আবার একটিকে নির্বাচন করা হয় বছরের সেরা বই হিসাবে। এবছর পুরস্কার পেয়েছে The Cut out Girl: A Story of War and Family, Lost and Found।

উঠে এসেছে যুদ্ধ, সমাজ আর ইতিহাসের উপাদান 

রচয়িতা বার্ট ভান এস-এর কলমে উঠে আসা ইহুদি তরুণীর দুর্দান্ত গল্প বইটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হল্যান্ডে অবস্থান করা সেই তরুণী নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে আত্মগোপন করে। তারপর এগিয়ে চলে নাটকীয়তা। ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি গ্রন্থটিকে কোস্টা বুক অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করা হয়।

এন্ড্রু কার্নেগি মেডেল
পুরস্কারের নাম এন্ড্রু কার্নেগি মেডেলস্ ফর এক্সিলেন্স ইন ফিকশন এন্ড ননফিকশন। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত আগের বছরের বই এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হতে পারে। এওয়ার্ড প্রদান করে আমেরিকান লাইব্রেরি এসোসিয়েশন আর তদারকি করে পেশাদার পর্যবেক্ষকের টিম। ২০১৯ সালে পুরস্কার গলায় তুলেছে রেবেকা মাক্কাই-এর The Great Believers।

প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার আখ্যান এ বইটি 

১৯৮৫ সালে শিকাগো আর্ট গ্যালারির পরিচালক ইয়েল টিসম্যানকে নিয়ে এগিয়ে গেছে গল্প। অবিশ্বাস্য সব আর্টের সংগ্রহ ছিল তার কাছে। ঠিক যে সময়টাতে ক্যারিয়ারে প্রোজ্জ্বল হতে শুরু করেছে; তখনই চারপাশে বেড়ে যায় এইডসের প্রকোপ। কাছে শুধু টিকে থাকে বন্ধু নিকোর ছোট্ট বোন। বইটি পুরস্কৃত হয় ২৭ জানুয়ারি।

অডি এওয়ার্ডস
অডিও পাবলিশার্স এসোসিয়েশন (APA) উদ্যোগে দেওয়া হয় অডি এওয়ার্ড। আধুনিক সময়ে অডিওবুক অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হিসাবে দেখা দিয়েছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই প্রায় ২৯টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয় অডি এওয়ার্ডস। ২০১৯ সালে Children of Blood and Bone বইটি মনোনীত হয়। টমি আদিয়েমির রচনাটি পাঠ করেছেন বাহনি টারপিন।

জাদু আর সামাজিক অবস্থা উঠে এসেছে যুগপৎভাবে 

কেন্দ্রিয় চরিত্র জেলিয়ে আদেবোলা এবং উড়িষ্যার মাটিতে এক জাদুময় পটভূমিতে বিস্তৃত হয়েছে আখ্যান। অনেকটা কাল্পনিক হলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার ছায়া পাওয়া যায়। মার্চ মাসের ৪ তারিখ বইটি নির্বাচিত হয় অডি এওয়ার্ডের জন্য। 

ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস্ সার্কেল এওয়ার্ডস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরো একটি সম্মানজনক পুরস্কারের নাম ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস্ সার্কেল এওয়ার্ড। সাহিত্যের ভিন্ন ছয়টি শাখায় এই পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে—আত্মজীবনী, জীবনী, সমালোচনা, ফিকশন, নন-ফিকশন এবং কবিতা। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে লেখকের প্রথম বইকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ফিকশন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে নেয় Milkman।

মিল্কম্যান-বইয়ের প্রচ্ছদ 

অ্যানা বার্নসের লেখা এই উপন্যাসের পটভূমি নির্মিত হয়েছে কৌতূলোদ্দীপক এবং ভয়ানক এক বেনামা শহরে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে নারী; যার রহস্যজনক পদক্ষেপগুলো পাঠককে বুঁদ করে রাখবে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। বইটি নির্বাচিত হয় ১৪ মার্চ।

এডগার এওয়ার্ড
আমেরিকার রহস্য উপন্যাস লেখকদের জন্য প্রদত্ত সম্মানিত পুরস্কার এডগার এওয়ার্ড। দেওয়া হয় সেরা রহস্য উপন্যাস, নন-ফিকশন এবং টেলিভিশনের জন্য। ২০১৯ সালে সেই পুরস্কার জিতে নেয় ওয়াল্টার মোজলের Down the River Unto the Sea। জো কিং অলিভার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা। কিন্তু জটিলতার মধ্য দিয়ে সরকারি গোয়েন্দা বিভাগ থেকে প্রাইভেট ডিটেকটিভে পরিণত হন।

রহস্য উপন্যাস হিসাবে জিতে নেয় পুরস্কার 

টিন-এজ মেয়ের সাহায্যে চালু করেন এক এজেন্সি। এরমধ্যে এক ভদ্রমহিলা কেস পাঠায়; যাতে জো নিজেই জড়িত ছিল একসময়। এক রহস্যময় জটিল পরিস্থিতিতে এগিয়ে চলে কেস। বইটি পুরস্কার পায় ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল। 

পুলিৎজার প্রাইজ
সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, অনলাইন সাংবাদিকতা, সাহিত্য, সংগীতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেওয়া হয় পুলিৎজার পুরস্কার। বিশ্বব্যাপী নোবেল আর বুকার পুরস্কারের পরেই সমাদৃত পুলিৎজার। রিচার্ড পাওয়ার্স-এর The Overstory নির্বাচিত হয় ২০২৯ সালের প্রতিযোগিতায়।

বইটি পুলিৎজার পুরস্কার পায় সেরা ফিকশন ক্যাটাগরিতে

আমাদের পৃথিবীর সাথেই আরেকটা পৃথিবী আছে—বৃহৎ, মন্থর, সম্পদশালী এবং প্রায়ই আমাদের কাছে অদৃশ্য। মূলত গল্পটা রচিত হয়েছে সৃজনশীল মানুষগুলো এবং তাদের পৃথক পৃথিবী নিয়ে। ২৫ এপ্রিল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। 

বেস্ট ট্রান্সলেটেড বুক এওয়ার্ডস
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক লেখাই শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ডে এগিয়ে যায়। আফ্রিকা, এশিয়া কিংবা ইউরোপের সেই সব সেরা লেখাকে ইংরেজিতে নেবার প্রয়াসেই আয়োজিত হয়েছে বেস্ট ট্রান্সলেটেড বুক এওয়ার্ডস। বিভিন্ন ভাষার উপন্যাস এবং কবিতা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনূদিত হলেই তা মনোনয়ন পেতে পারে। এই দফায় নির্বাচিত হয় প্যাট্রিক চামোইসিওর Slave Old Man। বস্তুত এটি অনূদিত হয়েছে ফরাসি ঔপন্যাসিক লিন্ডা কাভারডালের লেখা ‘ক্রিওলে’ থেকে।

মূল বইটি লেখা হয়েছে ফরাসি ভাষায় 

আখ্যানের পটভূমি নির্মিত হয়েছে এক বৃদ্ধ দাসের ভয়ানক পলায়ন প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে। মালিক আর তার বিভৎস সব হাউন্ডগুলোকে ফাঁকি দিয়ে দাসের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল রোমাঞ্চকর। বইতে দাস ব্যবসার নির্মম দিকগুলোর সাথে সাথে সেই জীবনকে চিত্রিত করা হয়েছে দারুণ প্রাঞ্জলতা নিয়ে। শ্রেষ্ঠ হিসাবে বইটির নাম ঘোষিত হয় ৩১ মে।

স্টোকার এওয়ার্ড
ভূতে মানুষের অবিশ্বাস থাকাতেও ভূতের গল্প ভালোবাসে। সে কারণেই গড়ে উঠেছে হরর জনরা। ডার্ক ফ্যান্টাসি এবং হরর উপন্যাসের জন্য দেওয়া হয় স্টোকার এওয়ার্ড। পুরস্কার প্রদান করে হরর রাইটার্স এসোসিয়েশন। গেল বছর তা হাতিয়ে নিয়েছে পল ট্রেমলের ‘দ্য কেবিন এট দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। এক বিকেলে উঠানে ঘাসফড়িং ধরার সময় ওয়েন এক আগন্তুকের মুখোমুখি হয়।

বইটি হরর জনরায় এক নতুন মাইলফলক

আস্তে আস্তে আরো তিনজন অপরিচিত আসে এবং ওয়েনকে উঠিয়ে নিতে যায়। তাদের দাবি, পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য ওয়েনকে প্রয়োজন। এক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি ফেলে দিয়ে শুরু হয়েছে গল্প; যা ধরে রেখেছে শেষ পৃষ্ঠা অব্দি। ১১ মে বইটিকে সেরা হিসাবে নির্বাচিত করে স্টোকার বোর্ড। 


আরো পড়ুন ➥ ২০১৯ সালে প্রকাশিত সেরা নন-ফিকশন বইগুলো

ভ্রমণগদ্য হোক সৃজনশীল চর্চার গন্তব্য



জাকারিয়া মন্ডল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ বিষয়ক লেখা সাহিত্য কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস, চৈনিক ফা হিয়েন ও হিউয়েন সাং, আরব পর্যটক সুলেমান ও আল মাসুদি, পারস্যের পর্যটক আল বিরুনি, ইতালির মার্কো পোলো, মরক্কোর ইবনে বতুতা প্রমুখ বিশ্বখ্যাতরা সাহিত্য করেননি। তারা করেছিলেন ডকুমেন্টেশন। যা দেখেছিলেন তাই লিখেছিলেন। ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন। মুঘল, নবাবী, এমনকি ব্রিটিশ আমলের পর্যটকদের বিবরণেও ওই ধারাটাই বজায় ছিলো। এখনও অনেক পর্যটক এ ধারার চর্চা করে চলেছেন।

তবে পৃথিবী আধুনিকতার পথে ধাবিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্নধারার চর্চার চলও শুরু হয়ে যায়। যেমন, সৈয়দ মুজতবা আলীকে আমরা ডকুমেন্টেশনের চেয়ে রম্যরসে অধিক মনোযোগ দিতে দেখি। পরবর্তীতে আরও অনেকে এমন চর্চার অনুসারি হয়ে ওঠেন। ফলে ভ্রমণের বিবরণ সাহিত্যঘেঁষা হয়ে উঠতে শুরু করে। ভ্রমণের বেসিক বিবরণ ও সাহিত্যের মধ্যে ব্যবধান কমতে শুরু করে। এখন অনেকেই ভ্রমণ লেখাকে সাহিত্যে আত্তীকরণ করতে আগ্রহী। সাংবাদিক ও কবি মাহমুদ হাফিজ ভ্রমণগদ্য নামে যে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি বের করে চলেছেন, তাতে পত্রিকার নামের সঙ্গে লেখা রয়েছে ‘ভ্রমণ সাহিত্যের কাগজ’।

‘ভ্রামণিক’ নামে ভ্রমণ লেখকদের নতুন একটা পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করারও অন্যতম পুরোধা বলা যায় মাহমুদ হাফিজকে। সদালাপী ও বিনয়ী মানুষটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় বছর কয়েক আগে, এয়ার এশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী এক ফ্লাইটে। অল ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবা) নামে একটি সংগঠন তখন মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সম্মেলন আয়োজন করেছিলো। সেখানে আমন্ত্রণ ছিলো ঢাকা শহরের বাঘা বাঘা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার জনক আলমগীর হোসেন তখন তারই জন্ম দেওয়া বাংলানিউজ২৪.কমের এডিটর ইন চিফ। তারও আমন্ত্রণ ছিলো আয়েবা সম্মেলনে। কিন্তু, তিনি নিজে না গিয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকার সাংবাদিক অতিথিদের একই ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর নেওয়া হচ্ছিলো।

প্লেন আকাশে ওঠার পর মাহমুদ হাফিজ ভাই আমাকে খুঁজে বের করলেন। ওটাই যে প্রথম পরিচয়, কথা শুরুর পর সেটা ভুলেই গেলাম। এরপর গত কয়েক বছরে বহুবার হাফিজ ভাই এর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কখনোই ভ্রমণ ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তাকে কথা বলতে শুনিনি।

ঢাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ লেখকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভ্রমণ নিয়ে কথা বলেন। নিজে লেখেন। অপরকে লেখতে উৎসাহিত করেন। তার উৎসাহে অনেক ভ্রামণিক লেখক হয়ে উঠেছেন। ভ্রমণ লেখকদের নিয়ে নিয়মিত ‘প্রাতরাশ আড্ডা’ আয়োজনেরও প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। ভ্রমণ লেখকদের যেমন সংগঠিত করেছেন, তেমনি লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন ‘ভ্রমণগদ্য’ পত্রিকায়। যে পত্রিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রবাসী লেখকদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছেন তিনি।

এরই মধ্যে পঞ্চম বছরে এগিয়ে চলেছে ভ্রমণগদ্য। প্রকাশিত হয়েছে ৯টি সংখ্যা। সর্বশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ পেয়েছে এ বছরের বইমেলায়। এ সংখ্যায় ভ্রমণগদ্যের পাশাপাশি কবিতাও দেখা গেছে।

যেহেতু যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ হওয়ার জন্য দিন দিন ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেহেতু ভ্রমণ লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে। ঘুরে এসে অনেকেই কিছু না কিছু লিখতে চান। তাই মাহমুদ হাফিজের ভ্রমণগদ্য প্রতিষ্ঠিত ভ্রমণ লেখকদের পাশাপাশি নতুনদের জন্যও নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া প্ল্যাটফর্ম। এমন উদ্যোগের সমালোচনা চলে না। তবু দুএকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক বৈকি।

ফেসবুকীয় যুগের লেখকদের সাহস পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চেয়ে অনেক বেশি। ভ্রমণগদ্যের কোনো কোনো লেখাতেও আমরা এমন সাহসী হঠকারিতার ছাপ পাচ্ছি। কেউ কেউ যা ইচ্ছা তাই লিখে দিচ্ছেন। ভ্রমণস্থলের চেয়ে ঢের বেশি আমিময় হয়ে উঠছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভ্রমণের গল্প পড়ছি, নাকি লেখকের ভাবনা, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পছন্দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি তা বুঝে ওঠা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ছবিতে বিষয়বস্তু, স্থান বা স্থাপনার চেয়ে নিজেই অধিক প্রকট হচ্ছেন লেখক। লেখার টেবিলে সময় কম দেওয়ার কারণে কাউকে কোট করার ক্ষেত্রে বই এর নাম, এমনকি লেখকের নামেও ভুল রয়ে যাচ্ছে। এমন উদাহরণ যতো এড়ানো যায় মতোই মঙ্গল।

মনে রাখতে হবে, ভ্রমণ লেখা হলো সরেজমিন প্রতিবেদনের মতো, যা অকাট্য দলিল হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। প্রকাশনার এই সঙ্কটকালে লেখালেখি চর্চার যে প্লাটফর্ম ভ্রমণগদ্য তৈরি করে দিয়েছে, সেটা যেনো নষ্ট না হয়। আমরা আশা করবো, মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য ভ্রামণিকদের সৃজনশীল চর্চার প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠবে।

জাকারিয়া মন্ডল: প্রধান বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আমাদের বার্তা

;

ভ্রামণিক কবি কাজল চক্রবর্তী ১২ দিনের সফরে বাংলাদেশে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কবি কাজল চক্রবর্তী

কবি কাজল চক্রবর্তী

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমবঙ্গের আশির দশকের স্বনামখ্যাত ভ্রামণিক, কবি ও সাংস্কৃতিক খবর সম্পাদক কাজল চক্রবর্তী এখন বাংলাদেশে। ভ্রমণ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি শনিবার (১৪ মে) বিকেলে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকার কবি সাবেদ আল সাদ। আজ (১৫ মে) থেকে দেশজুড়ে কাজল চক্রবর্তীর সাহিত্যসফর শুরু হচ্ছে।

রোববার বিকালে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে স্বরচিত কবিতাপাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। কলকাতার কবি কাজল সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন। টাঙ্গাইল পাবলিক লাইব্ররি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মুখ্য উদ্যোক্তা কবি মাহমুদ কামাল। সভাপতিত্ব করবেন কবি সাবেদ আল সাদ।

সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্ত্বরে মৃদঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন আয়োজন করেছে ‘মতিহারের সবুজে’ শীর্ষক কবিতা আড্ডা। কবি অনীক মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত আড্ডার কবি কাজল চক্রবর্তী। প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ।

রাজশাহী থেকে পরদিন মঙ্গলবার কাজল চক্রবর্তী ছুটবেন বগুড়ায়। সেখানে ইসলাম রফিকের পরিচালনায় আয়োজিত হবে বগুড়া লেখক চক্র কর্তৃক সাহিত্য অনুষ্ঠান। কাজল চক্রবর্তী থাকবেন মুখ্য অতিথি। কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত কবির ঢাকাবাসকালে আয়োজিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। ২০ মে শুক্রবার ভোরে মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য লিটল ম্যাগাজিন ঢাকায় ভ্রামণিক-কবিদের এক প্রাতঃরাশ আড্ডার আয়োজন করেছে। কবি ও ভ্রামণিক কাজল চক্রবর্তী আড্ডার অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই আড্ডাটি শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য।

এদিন বিকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র্রে কবি আনোয়ার কামালের ‘এবং মানুষ’ আয়োজিত ‘এবং উৎসব’কবিতাসন্ধ্যায় কাজল চক্রবর্তী মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

২১ মে শনিবার বিকালে কাটাবনের কবিতা ক্যাফেতে ‘বিন্দু বিসর্গ’ পত্রিকা কাজল চক্রবর্তীকে সংবর্ধনা দেবে। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। পরদিনই কাজল রওনা হবেন চট্টগ্রাম। ২২ মে রোববার চট্টগ্রামের হাটখোলা ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে কথা ও কবিতা অনুষ্ঠানের। আবৃত্তি ও কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানটি হবে চট্টগ্রাম মোহাম্মদ আলী সড়কে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের কার্যালয়ে।

পরবর্তী চারদিন কাজল চক্রবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও বান্দরবানের ভ্রমণস্থানগুলো ভ্রমণ করবেন। ২৬ মে তার কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।

;

আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে



সহিদুল আলম স্বপন
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃষ্টি ঝড়া মিষ্টি চোখে ভালোবাসার

এক ঝিলিক রোদের
আকাশ হলে তুমি,
ইলোরার রংধনুরা পালিয়ে গেল
অমিষেয় ভীষন ল্জ্জায়,
এ বুঝি স্বপ্নের ভেলায় দিগন্ত পাড়ে
লাজুক প্রেমের লুকোচুরি লুকেচুরি খেলা।

আবিরের ঐ আলতা মেশানো গোধূলিরা
যেন মেঘ হতে চায়
নিজের রং বিকিয়ে;
আনমনে শুনি আমি সুখের
রিনিঝিনি তোমার চিরায়ত ভালোবাসার সপ্তসুরে।

ম্যাকব্যাথের উচ্চাভিলাষী সুখের কাছে
ট্রয়ের ধ্বংস বড়ই বেমানান,
যেখানে প্রেমের ফেরিওয়াল চিৎকার করে
প্রেম সওদা নিয়ে ঘুড়েনা
জীবনের বাঁকে বাঁকে
প্রেমের সিন্দাবাদ হয়ে তুমি সাঁতরে বেড়াও
আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে।


--জেনেভা, সুইটজারল্যান্ড।

;

মনোহারী মধুকর



শরীফুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি তাঁকে আজও দেখিনি
অথচ আমি তাঁর প্রেমে পড়ে আছি
বোঝা গেল প্রেমে পড়ার জন্য
দেখাটা খুব জরুরি নয়
তবে অনিবার্য কিনা তা বলতে পারবনা
তবুও ক্রমশ নীল ডানা মেলে
বেগচ্যুত বাতাস মায়াবী রোদের পানে যায়
অতল পিয়াসি এই মন সমর্পণ করে নূহের প্লাবন
বিরামচিহ্নহীন ভাবে আমি তাঁর পানে চেয়ে থাকি
হৃদপিণ্ডে ক্রমশই বাড়ে হৈচৈ ,
আমি তাঁর জ্যোৎস্না লুটে নেই
হিমু সেজে আড়ালে দাঁড়াই
ঠিক তাঁর লাবণ্য রেখা বরাবর।

জানি তুমি দিগন্তের চাইতেও বহু দূরে
কখনো তাঁতের শাড়ি, গায়ে আলতা, হাতে রেশমি চুড়ি ,
প্রিয়ন্তি, ওটি আমার দেয়া নাম
তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল
তবুও মাঝেমধ্যে আমরা তর্কে জড়াতাম ,
তিনি ছিলেন সেক্যুলার
আর আমি?
সময়ের ক্রীতদাস
আজও রোদের হলুদ মেখে বসে থাকেন তিনি
সমান্তরাল শব্দ শুনবে বলে
আমি তাঁর নীল মুখ দেখে পরাজয় মেনে নেই
তাঁর বাদামি শরীরে তখনও জ্যোৎস্নার প্লাবন
অশান্ত বারিধারা মনোহারী মধুকর
অথচ অজস্র দ্বিধা আমারও আছে
আমরাও আছে আদর্শের খসড়া, বসন্তের নির্দয়,
আমি তাঁর লুকোনো হারেম আজও দেখিনি
তবুও অজানা মেলোডি বুকে নিয়ে
নির্বিকার স্বপ্ন দেখি
লোভীর মতই তাঁকে ভালবাসতে চাই।

;