রাত হলেই নষ্ট হতে ইচ্ছে করে

স্নিগ্ধা বাউল
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

মা

আমি মায়েরে অন্ধকূপ ভেবে রাখছিলাম, জলজ
গুটিয়ে এক হস্তিশাবক, তৃষ্ণার ঠোঁট
চামড়াভেদী কাঠামোয় মায়ের চোখ
বলেছিল ইতিহাসের গল্প
ধূসর সেসব আমায় শিস দিয়ে ডেকে যায়
যেন আমি কান পেতে আছি এখনো পেটের ভিতর
বাইরে বড় হবার আশায়;
কোষগুলো ইতর মাছের মতো
জন্মের আগেও জানাত না তারাও মানুষ হবে
মানচিত্র তৈরি করবে গ্লোবাল নামক পৃথিবীর
খনি খুঁড়ে ফুটো করে রাখবে নিজস্ব জরায়ু—

আমি ত্বক পেতে রেখেছিলাম
পাখি ভেবে বন্ধুর গালে,
সাপেরও অধিক খোলসের কৌটায় যাদের সহবাস
নিঃশব্দে গিলে খায় সহস্র পথ, যে পথে প্রবেশ
বিশ্বাসীর ছদ্মনামে,

আমি মাকে গল্প বলি
আমাদের দুর্লভ দুর্ভাগ্যের গল্প
পরিহাসের চলচ্চিত্র হতেই পারে তা তোমাদের,
কেননা তোমরা জানতে বিলাসিতা
অভিনব কায়দায় ঠকানোর কসরত আর
ভেজাল টিটকারি,

অপেক্ষা করো, একদিন তোমারও হবে এমন
কুকুরের জন্ম, আঠায় আলাদা করতে পারবে না
অন্ধকারের খামগুলো—
বিলাসী গরম লোহার তাতানো ঠান্ডা হোক মান্যবর
অনেক তো হলো,

মায়ের কাছে ফেরত যাই আবার,
অশিক্ষিত মা, তবুও অহংকার করার মতো ঘ্রাণ
এত উষ্ণ স্পর্শ, জঠর যেন।

প্রার্থনার বৈয়াম

আমি যখন তারে ভাবছিলাম
সে নাই তখন
ইত্যকার দিনের আলোর তারে না পাই
হাত বাড়াই এবং নখের ডগায় ভাসাই ডমুর ফুল
সে তখন নাই
পাখির ঠোঁটে তখন বাসার নতুন চিহ্ন
দিনান্তে নিশান্তে সংবাদে সে নাই
এমন বসন্ত ঝড় পালায় বিচিত্রিতায়
ভাবছিলাম কিন্তু
বক ফুলের থোকায়, নদীর বালির ঘরে
আচমকা লুকায়ে লুকায়ে শীতের রৈদের মতো
অশ্বত্থের পাতায় থাকুম;
নাই সে তখন
জানতই না আমি ভাবুম তারে
ধূপের মতো জায়নামাজ বিছায়া ডাকুম বাকুম
থাকুম এমন ডাকুম তারে,

তবুও ডাকছিলাম তারে
মসজিদ মন্দিরর ছাড়ে

স্বপ্ন নষ্ট নীড়ের রাত

রাত হলেই নষ্ট হতে ইচ্ছে করে
কামিনী ফুলের মতো,
ডাগর ডাগর সাপের বিষ
পেয়ালা ভর্তি চা পানের রাজ্য
রাত হয় এখানে
তালপাতার অন্ধকারে
মায়ের আঁচলে চাবির গুচ্ছ সম্পদের রাত।
রাত আসে ভোরের আগেই
গাজর ফুলের মালা নিয়ে চক্রাকার বন্ধু
নষ্ট প্রেমিকের কাছে রাত যায়
এদিকে থামে না ট্রেনের হুইসেল
সিলিং ফ্যান নিয়ে আসে ভূমিকম্প
রাত আসে না এখনো
স্বপ্ন নষ্ট নীড়ের রাত।

আপনার মতামত লিখুন :