কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১০)



জিনি লকারবি ।। অনুবাদ: আলম খোরশেদ
বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈশ্বর কাউকে বলেন ‘থাকো’, কাউকে ‘যাও’

[পূর্ব প্রকাশের পর] “আমি হাসপাতালের কাজ চালিয়ে যেতে থাকি। আমার বিভাগ ছিল ক্যান্সার গবেষণা ও রেডিওথেরাপি, কিন্তু শহরে এরকম দাঙ্গাহাঙ্গামা ও হত্যাকাণ্ড, বিশেষ করে বন্দর এলাকায় সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসকে কেন্দ্র করে, চলতে থাকায় আমাকে অধিকাংশ সময়ই কাটাতে হচ্ছিল জরুরি বিভাগে।”

“২৬শে মার্চ রাতে ঘুমাতে যাবার সময় আমি রেবার কাছে স্বীকার করি যে, আমার খুব অস্থির ও বিষণ্ন লাগছে। আমি তাকে ব্যাখ্যা করে বলি, কাছেপিঠে কোথাও গুলির শব্দ পেলেই সে যেন বিছানা ছেড়ে মেঝেতে নেমে যায়। রাত দশটায় ঠিকই গোলাগুলি শুরু হলো।”

আমরা দুজন, এবং আমাদের পারিবারিক বন্ধু ও সাহায্যকারী, হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে খাবার টেবিলের নিচে আশ্রয় নিই এবং বাকি রাত সেখানেই কাটাই। সকালে আমরা আমাদের বিপজ্জনক অবস্থানের কথা উপলব্ধি করি। একটা রাস্তার একেবারে শেষ মাথায়, সেনাছাউনি থেকে মাত্র দু’শ গজ দূরে আমাদের বাড়ির অবস্থান। দুই দিক থেকেই আসা বুলেটগুলো আমাদের মাথার ওপর, চারপাশ এমনকি বাড়ির ভেতর দিয়েও ছুটে যাচ্ছিল। আমরা যে-এলাকায় ছিলাম সেটি ছিল শহরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল। আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরের মোড়েই কমপক্ষে সাত হাজার লোককে নির্বিচারে মেরে ফেলা হয়েছিল। রাস্তার ধারের খোলা ড্রেনে গলেপচে যাবার জন্য ফেলে দেওয়া লাশের স্তূপ থেকে একজন আহত ব্যক্তি হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া গিয়েছিল ঘটনার কয়েকদিন পর।

“আমরা যেটুকু খাবার ও কাপড়চোপড় সঙ্গে নেওয়া সম্ভব নিয়ে মেডিকেল কলেজের উদ্দেশে রওনা দিই। আমরা তিনজন রেডিওথেরাপি বিভাগে আশ্রয় নিয়ে চারপাশটা একটু গুছিয়ে নিই। আমরা সেখানে তখনও পর্যন্ত রয়ে যাওয়া রোগীদের জন্য পরিবেশটাকে যতটা সম্ভব হাসপাতালতুল্য করে তুলি। নার্সদের প্রায় সবাই-ই চলে গিয়েছিল; কেবল পাঁচজন ডাক্তার তখনও ছিলেন। আমাদের কোনো খাবার, পানি কিংবা বিদ্যুৎ ছিল না। অষুধপত্রের কোনো অভাব ছিল না, অভাব ছিল কেবল সেগুলো প্রয়োগের জন্য দক্ষ মানুষগুলোর।”

আমি যতদিন বাঁচব, আমার চোখের দিকে কাতর চোখে চেয়ে থাকা এক বাবার মুখের অভিব্যক্তির কথা আমার মনে থাকবে। “আমি আপনাকে যত টাকা চান দেব”, তিনি দম না ফেলে বলেন। “শুধু আমার বাচ্চাগুলোকে বাঁচান।” তার পাশেই স্ট্রেচারে শোয়ানো ছিল তিনটি শিশু, এরই মধ্যে মৃত।

“একজন বৃদ্ধও মারা যাচ্ছিলেন। তিনি একটু পানি পান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পাঁচশ সিটের এই সাততলা হাসপাতালের কোথাও এক ফোঁটা পানি ছিল না তাঁকে দেওয়ার মতো। আমি রোগীর শিরায় ঢোকানোর জীবাণুমুক্ত তরলের বোতল খুলে তাঁর শেষ ইচ্ছাটুকু পূরণ করি।”

“বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা সাহসের সঙ্গে চেষ্টা করে যাচ্ছিল পাহাড়চূড়ায় তাদের কৌশলগত অবস্থানগুলো ধরে রাখার জন্য। ২৮শে মার্চের রাতের বেলায় সব আলো নিভে যায়। সেই অন্ধকারের মধ্যে পাকিস্তানি সেনারা শহরে ঢুকে পড়ে জোরপূর্বক। কেউ কেউ এসেছিল সাঁজোয়া যানে চড়ে, বাকিরা ড্রেনের ভেতর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে। ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদে সজ্জিত পাকিস্তানি সৈন্যদের বিপুল সংখ্যাধিক্যের কাছে হার মেনে বাঙালি সেনারা এক পর্যায়ে পশ্চাদাপসরণ করে।”

“আমার দেওয়া সদুপদেশ উপেক্ষা করে রেবা স্নান করার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। সিকি মাইল দূরে নার্সদের হোস্টেলে তখনও পানি ছিল। সে যখন স্নান করছিল ঠিক তখনই সেই দালানটিতে বেশ কিছু কামানের গোলা এসে আঘাত করে। পানির তোড়ের শব্দে এবং অনেকদিন বাদে পরিচ্ছন্ন হতে পারার আনন্দে রেবা সেই গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায়নি। অল্প যে-কটা মেয়ে ছিল সেখানে তারা পালানোর আগে রেবার বাথরুমের দরজায় আঘাত করে তাকে সচেতন করে। সে তাড়াতাড়ি কাপড় পাল্টে দৌড়ে আসতে থাকে আমাদের কাছে। আমি তাকে হোঁচট খেয়ে জুতোজোড়া খুইয়ে পড়ে যেতে দেখলে, কোনোমতে খালি পায়েই তাকে টেনে নিয়ে আসি নিরাপদ আশ্রয়ে।”

বাঙালিদের প্রতিরোধ ভেঙে গেলে, পাকিস্তানি সেনারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একজন ক্যাপ্টেন একদিন হাসপাতালে এসে, কর্মচারীদেরকে বেদম মারপিট করে বলে, “আমি যদি এখানে কোনো গোলাবারুদ পাই তাহলে পুরো হাসপাতালটা উড়িয়ে দিয়ে প্রত্যেককে গুলি করে মারব।”

“আরেক ক্যাপ্টেন ওপরের তলায় গিয়ে জানালায় দাঁড়িয়ে তার নিশানা পরীক্ষা করতে শুরু করে। তার দৃষ্টিসীমায় যে কোনো পথচারীকে দেখলেই তাকে মাটিতে শুয়ে পড়ার হুকুম দিত এবং তার পরপরই গর্জে উঠত তার অস্ত্র। আমিও যে কোনো দিন সেই প্রাণঘাতী হুকুম শোনার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকি।”

৩১শে মার্চ হাসপাতালের এক প্রান্তে অবস্থিত ডাক্তারদের হোস্টেলে বসে আমরা খাচ্ছিলাম। হসপাতালের মূল লবিতে আসার পর আমরা ওপরতলায় বুটের লাথির শব্দ পাচ্ছিলাম।

হঠাৎ করে দেখি এক সেন্ট্রি আমাদের দিকে বন্দুক তাক করে আছে। “আমরা এই বিল্ডিং থেকে গুলির শব্দ পেয়েছি। আমরা এ জায়গাটা ভালো করে তল্লাশি করে দেখব,” সে ব্যাখ্যা করে বলে।

“আমাদেরকে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে নিয়ে একটা ব্যক্তিগত ঘরে আটকে রাখা হয়। আমরা কোনো অপরাধ করিনি, মাতৃভাষা ছাড়া আমাদের আর কোনো দোষ নেই। আমরা যে বাঙালি ছিলাম!”

“একজন ক্যাপ্টেন ও তার কিছু চেলা দুদ্দাড় করে এসে ঘরে ঢোকে। হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তারা একজন বিহারি রোগীর দেখা পায়, যে-তাদের কাছে অভিযোগ করে, গত পাঁচদিন ধরে নাকি তার ব্যান্ডেজ বদল করা হয়নি। একজন উর্দুভাষী রোগীর সঙ্গে এরকম অশ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করার জন্য ক্যাপ্টেন সাহেব রাগে ফুঁসছিলেন। তিনি আমাদের দিকে তাঁর বন্দুক উঁচিয়ে ধরেন। তাঁর এক স্বদেশী, পশ্চিম পাকিস্তানের এক মেডিকেল শিক্ষার্থী, তাঁকে মিনতি করে বলে: ‘আমাদের হাসপাতালে মাত্র পাঁচজন ডাক্তার আছেন। তাঁরা হয়তো এমন সামান্য একটি বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় পাননি।’ ক্যাপ্টেন তার যুক্তিতে কান দেন না। বন্দুক উঁচু করে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সবাইকেই মরতে হবে’।”

“ঠিক ঐ মুহূর্তে বারান্দায় পাহারারত এক সৈনিক দৌড়ে এসে চিৎকার করে বলে, ‘তাড়াতাড়ি আসুন, আমরা একজন বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনাকে দেখতে পেয়েছি।’ ক্যাপ্টেন তখন ঠিক একটা গুলির মতো ছিটকে গেলেন। তাঁর লোকেরাও তাঁকে অনুসরণ করল। (কেউ কেউ তক্ষুণি অভিযানে নেমে পড়তে চাইছিল, তবে অনেকেই বিকাল চারটার জলখাবারের জন্য সটকে পড়ার তালে ছিল।) হঠাৎ আমি লক্ষ করি যে, সবাই চলে গেছে। একজন সৈন্যও সেখানে ছিল না আমাদের পাহারা দেবার জন্য।”

“বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে আমরা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে, বিল্ডিংয়ের বাইরে বেরিয়ে একটা অল্পব্যবহৃত ফটক গলে পড়ন্ত বিকেলের অন্ধকারে মিশে যাই। তারপর, তখনও মুক্তিবাহিনীর দখলে থাকা এলাকায় অবস্থিত আমার এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা আর একবারের জন্যও থামিনি। তবে সেটা ছিল স্রেফ একরাতের বন্দোবস্ত। পরদিন ভোরে সিলভেস্টার, রেবা, আমি আর দুই মুসলিম ডাক্তার শহর ছেড়ে পালাই। আমার মাথায় ছিল, পটিয়া পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে সোজা ভারত চলে যাওয়ার চিন্তা। তখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছিল। আমি এর আগে চিকিৎসা-ত্রাণের কাজ করেছি, নিশ্চয়ই সেখানকার কোনো শিবিরে আমি কাজ পেয়ে যাব। কিন্তু রেবা, যে-তখন তিন মাসের গর্ভবতী ছিল, যথেষ্ট ধকল পুইয়েছে এর মধ্যে। সে আর দৌড়ঝাঁপ করতে চাইল না।”

‘আমি আমাদের বাড়ির গির্জার একটি মেয়েকে চিনি, মালুমঘাট হাসপাতালে কাজ করে,’ রেবা বলে, ‘চলো আমরা সেখানেই যাই। তারা নিশ্চয়ই আমাদের ঢুকতে দেবে।’

“আমি একটু সংশয়ে ছিলাম, সেটা স্রেফ আমরা একেবারে আগন্তুক বলে নয়, আমার ‘খ্রিস্টান’ পরিচয়টা নিয়েও। অবশ্যই আমি খ্রিস্টান ছিলাম। খ্রিস্টান পরিবারেই আমার জন্ম। কিন্তু উচ্চশিক্ষা আমার দৃষ্টিকে প্রসারিত করে দিয়েছে। আমি তখন ভাবতাম যে, আপনি বাইবেল পড়লে বাইবেলে বিশ্বাস করবেন, আর বিজ্ঞান পড়লে বিশ্বাস করবেন বিজ্ঞানেই। যারা মনে করেন বাইবেলই সত্য, তাঁদের ওখানে গিয়ে আশ্রয় নেবার ব্যাপারটা আমাকে তেমন টানেনি, কিন্তু আমি এও বুঝেছিলাম যে, রেবার ওপর আর চাপ দেওয়া যাবে না।”

“আমরা এপ্রিলের ৪ তারিখ, রবিবার শেষ বিকালে মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছাই। আমাদেরকে তাদের গ্রহণ করার ব্যাপারে দুশ্চিন্তার তেমন কিছু ছিল না। রেবা তার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে, এবং বেকি ডেইভি, হাসপাতালের ম্যাট্রন, বাকিটা করেন। তিনি আমাদের থাকার জায়গারও ব্যবস্থা করেন। আমাদের গেরস্থালির প্রয়োজনগুলোও তিনিই মেটান। তিনি আমার স্ত্রীর জন্য শাড়ি, পেটিকোট ও জুতার বন্দোবস্ত করেন। তিনি একজন দারুণ মানুষ ছিলেন।”

“ধর্মীয় ব্যাপারগুলোতে আমরা দাশ পরিবারের সঙ্গে জোট বাঁধি। তাঁরা ঈশ্বর ও বাইবেল বিষয়ে তাঁদের সোজাসাপ্টা চিন্তাভাবনাসমূহ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেননি; তাঁরা খ্রিস্টের জীবন যাপন করতেন। আমাকে তাঁরা তাঁদের সঙ্গে প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করতেন। আমি আন্তরিকভাবেই এই প্রার্থনা ব্যাপারটাকে একটু পরখ করে দেখতে চেয়েছিলাম। তিনি আসলে কে এবং তিনি ঠিক কতটা করতে পারেন, আমাদের জন্য সেটা প্রমাণের একটা সুযোগ আমি দিতে চেয়েছিলাম ঈশ্বরকে।”

ডা: পিটারের সঙ্গে আপনাদের আবারও দেখা হবে। [চলবে]


কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৯)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৮)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৭)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৬)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৫)

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;