কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১৫)



জিনি লকারবি ।। অনুবাদ: আলম খোরশেদ
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

মালুমঘাট থেকে পলায়ন

[পূর্ব প্রকাশের পর] ২৬শে এপ্রিল, সোমবার

রাষ্ট্রদূত মি. হামেল ও তাঁর স্ত্রী এবং আরো কজন দূতাবাসকর্মী বিমানবন্দরে আসেন আমাদেরকে বিদায় জানাতে। “আপনাদের ব্যাংকক যাত্রা শুভ হোক।” তাঁরা বলেন।

আমাদের আনন্দ ও বিস্ময়কে কল্পনা করতে চেষ্টা করুন, যখন আমরা বিশাল ব্যাংকক বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ জনতার ভিড়ের ভেতর থেকে ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ড অ্যালাইয়েন্স মিশনারি অতিথিনিবাসের ম্যানেজার, রেভারেন্ড বিল কার্লসনকে বেরিয়ে আসতে দেখি! তিনি একটি ট্রাক ও দুটো ভক্সওয়াগন বাস নিয়ে এসেছিলেন আমাদেরকে গেস্ট হাউসে নিয়ে যাবার জন্য।

চমৎকার অতিথিনিবাসটিতে বনি কার্লসন আমাদেরকে নম্রভাবে অভ্যর্থনা করেন এবং আমাদের যার যার ঘরে পৌঁছে দেন। আমরা তখন আর শরণার্থী ছিলাম না, আমরা তখন মার্কিন পর্যটক।

সে-রাতে পরে বনি আমাদেরকে একপাশে ডেকে নিয়ে বলেন, “আমি আরো তিনটা দলকে তাদের দ্বিতীয় স্বদেশ থেকে উদ্ধার করে এনেছি: ভিয়েতনাম, লাউস ও কাম্পুচিয়া থেকে। আমি জানি, তোমরা যতটা না অনুধাবন করতে পারছো, তার চেয়ে অনেক বেশি চাপের মধ্যে রয়েছো। আমি তাই বলব, ব্যাংককের যা কিছু নৈসর্গিক ও সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য রয়েছে সেগুলোর স্বাদ নাও বরং এই সুযোগে।

আমাদের খুব পছন্দ হয় তাঁর পরামর্শ, এবং আমরা সেই অনুযায়ী শহরের দৃশ্যাবলি দেখতে বেরোই ও নানারকম আনন্দ করি। অবশ্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল কেনাকাটা করা, বিশেষ করে আমার ও লিনের জন্য। আমাদের একটা ভালো অজুহাতও ছিল: আমরা আসার সময় যেসব জিনিসপত্র আমাদের সেই বিখ্যাত ব্যাগে ভরতে পারিনি, সেগুলোর অভাব পূরণ করা।

কোনো এক কেনাকাটা অভিযান থেকে ফেরার পর আমি একটা আনন্দের খবর পাই যে, আমার বাড়ি থেকে ফোন এসেছিল, এবং তারা আবার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফোন করবে। তাদেরকে এই নিশ্চয়তা দিতে পারাটা, যে আমরা সবাই নিরাপদে আছি, এর অনুভূতিটাই চমৎকার, কেননা গত কয়েক সপ্তাহে যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

কার্লসনেরা আমাদের স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা করার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়েছিলেন। তাঁরা আমাদের জন্য অসাধারণ সব খাবারের বন্দোবস্ত করেছিলেন এবং সবসময় গাড়ি ও তথ্যাদি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। একুশটি বাচ্চার চঞ্চলতা তাঁরা সহ্য করেছিলেন, সঙ্গে সম্ভবত সমান অস্থির তেরোজন প্রাপ্তবয়স্কেরও। সত্যি বলতে কি, যেহেতু স্বীকারোক্তি প্রদান অত্মার সুস্বাস্থ্যের জন্য কল্যাণকর, আমি স্বীকার করছি যে, আমাদের অতিথিনিবাসে এক সপ্তাহ থাকাকালীন সময়ে একমাত্র যে-জানালাটি ভাঙনের শিকার হয়েছিল, সেটি ভেঙেছিলাম আসলে আমি। আমি বিশুদ্ধ বাতাস ঘরে ঢোকাতে গিয়ে বোধহয় একটু জোরেই তাতে ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিলাম, আর অমনি ফটাস!

আমাদের নিজস্ব মিশন এসোসিয়েশন অভ ব্যাপ্টিস্টস থেকে আসা খবর অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য ব্যাংককে। মিশনের নেতা ও কর্মীরা ছিলেন বিশেষ উৎসাহী। চেরি হিল, নিউ জার্সির সদরদপ্তর থেকে আমাদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে এবং আমাদের জন্য অব্যাহত প্রার্থনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঠানো অনেক চিঠিপত্র পেয়েছিলাম আমরা। আর বাস্তব চিন্তায়, তাঁরা আমাদের জন্য ক্রেডিট কার্ড এবং অগ্রিম অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। পরিবার ও বন্ধুদের কাছে আমাদের সংবাদ ও তথ্যাদি পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করেছিলেন।

একদিন অতিথিনিবাসে ফিরে আসার পর বনি কার্লসন জানালেন, “আপনাদের আরো সদস্য আসছেন আজ।”

এই কথা বলা শেষ করতে না করতেই গুর্‌গানসদের বহন করে একটা ট্যাক্সি এসে ঢোকে। নিজেদের অভিজ্ঞতাগুলো ভাগ করে নিতে উদগ্রীব এবং মার্চের সেই সন্ধ্যায় তাঁদের শেষ দেখার পর কী কী ঘটেছিল জানতে আকুল আমরা সবাই একসঙ্গে কথা বলে উঠি।

জাহাজ তাদেরকে কোলকাতা নিয়ে গিয়েছিল, যেখানে রিপোর্টাররা অবতরণকারী যাত্রীদের পাকড়াও করে তাদের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য। কয়েকজন বিদেশি বাঙালিদেরকে সমর্থন করে, কিন্তু আমাদের মিশনারিরা বলেন, “আমরা কিছু বলতে অস্বীকার করছি, যারা বাংলাদেশে রয়ে গেছেন তাঁদের নিরাপত্তার কথা ভেবে।”

গুর্‌গানস ব্যাখ্যা করে বলেন, জাহাজের যাত্রীদেরকে তাঁদের যার যার দূতাবাস আতিথেয়তা দেয়, যতদিন না তাঁরা কোলকাতা থেকে অন্যত্র যাত্রা করেন। গুর্‌গানসরা দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করাচির উদ্দেশে রওনা হন এবং সেখান থেকে উত্তরে যান তাঁদের কন্যার সঙ্গে মিলিত হবার জন্য।

ভিক, ডন ও রিড তখনও পূর্ব পাকিস্তানে রয়ে গিয়েছিলেন। অনেক পরেই কেবল আমরা জানতে পারি, সেই দিনগুলোতে সেখানে থাকার অর্থ আসলে কী ছিল।

তাঁর ব্যক্তিগত ডায়রিতে ডা. ডন কেচাম হৃদয় খুলে বর্ণনা করেন সেইদিনগুলোর কিছু ঘটনা। আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ, সেসবের একটি ঘটনা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য।

“২১শে এপ্রিল, সকাল সাড়ে পাঁচটা”

“সাতসকালেই আমি তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে গিয়ে বাংলাদেশি কর্মচারীদের আমাদের দ্রুত দেশত্যাগের কথা জানাই। এটা তাদের একেবারে কাঁপিয়ে দেয়, এবং তাদেরকে বারবার এই কথা বলে আশ্বস্ত করতে হয় যে, ভিক ও আমি কোথাও যাচ্ছি না। বাড়ি ফিরে এসে শেষ মুহূর্তের কিছু কাজ সারি, তিনটা গাড়ি ও ট্রেলারে মালপত্র ভরি এবং রওনা হয়ে যাই।”

“জে ওয়াল্শ (যে খুব চেয়েছিল রয়ে যেতে কিন্তু দলের সঙ্গে তাকে যেতেই হচ্ছিল ভ্রমণের দাপ্তরিক দায়িত্বাদি পালনের জন্য।) একটা ল্যান্ডরোভার চালাচ্ছিলেন, যেমনটা করেছিলাম আমি ও জো ডিকুক। আমরা একজন দেশি ড্রাইভারকেও সঙ্গে নিয়েছিলাম আমাদের নিজেদের জন্য একটি গাড়িকে ফিরিয়ে আনার কাজে। ঈশ্বর আমাদেরকে একটি মেঘাচ্ছন্ন, বৃষ্টিভেজা দিন উপহার দিয়েছিলেন। যাত্রীবোঝাই গাড়ির ভেতরের গরম কমিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করার পাশাপাশি তা বিমান থেকে গুলিবর্ষণের সম্ভাবনাও কমিয়ে দিয়েছিল।”

“স্বাভাবিক অবস্থায় বার্মার সীমান্ত বন্ধই থাকে, তবে বার্মা সরকার পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে দলে দলে শরণার্থী যাওয়াতে চোখ বন্ধ করে রেখেছিল কিছুটা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও তাদেরকে আমাদের আগমনের কথা জানিয়ে রেখেছিল, ফলে সীমান্তে তারও প্রস্তুতি নিতে হচ্ছিল তাদের। বাইবেলের শ্লোক ১০৫ এর কথা না ভেবে পারছিলাম না আমি:

‘যখন সেখানে খুব কম সংখ্যক, হ্যাঁ খুব কম সংখ্যক মানুষ ছিল দলে, এবং তার মধ্যে ছিল অচেনা লোকজনও।
যখন তারা এক দেশ থেকে আরেক দেশে যায়, যখন এক জনগোষ্ঠী থেকে আরেক রাজার দেশে;
তিনি তাদের ক্ষতি করতে দেন না কাউকে, হ্যাঁ তিনি রাজাদেরও ভর্ৎসনা করেন এজন্য;
এই বলে, যে, আমার আপন মানুষকে তুমি স্পর্শ কোরো না, ক্ষতি কোরো না আমার নবির।”
ধন্যবাদ প্রভু।

“জে নৌকার ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। জোয়ার ছিল না, তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নৌকোয় মাল ভর্তি করা হয় এবং যাত্রীরা তাতে উঠে পড়েন। সবাই ওঠার পর আমি সেখানে গিয়ে পৌঁছাই, যেহেতু আমি টাকা পয়সা ভাঙানোর কাজ করছিলাম বাজারে। ফলত আমি আমার পরিবারের শেষ চুম্বনের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হই। কিট, ঈশ্বর মঙ্গল করুন তাঁর, ছিল খুবই সাহসী। সে কখনোই দমে যায়নি। ডেভিড ও মার্টি বাবাকে ছেড়ে যাবার কষ্ট, আর তিন মাইল চওড়া নদী নৌকায় পাড়ি দেবার উত্তেজনার দোলাচলের মধ্যে দুলছিল। আমার বেকি কেঁদে ফেলেছিল।”

“নুহের নৌকো ধীরে স্রোতে ভেসে গিয়েছিল এবং ভারী বুক নিয়ে আমি তীরে দাঁড়িয়ে ছিলাম একা।”

“আমরা তিনটা গাড়ি নিয়েছিলাম, কিন্তু এখন কেবল দুজন ড্রাইভার থাকাতে আমি আমার গাড়িখানি এক দেশি বন্ধুর কাছে রেখে আসি। ফেরার পথে কীসব দৃশ্যই না চোখে পড়েছিল আমাদের! রাস্তার দুপাশে স্রোতের মতো হেঁটে যাচ্ছিল গরিব হিন্দু শরণার্থীর দল। বাবা বহন করছেন গৃহস্থ সামগ্রী, অন্তঃসত্ত্বা কোনো নারী একটি বাচ্চাকে কোলে ও আরেকটি অনিচ্ছুক শিশুকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল। সবার গতিমুখ দক্ষিণ দিকে, বহুমাইল দূরের কোনো অজানা গন্তব্যের পানে।”

“চমৎকার মেঘেদের অনাগোনা ছিল আকাশে! দিনটা কী করে এমন সুন্দর আর হৃদয় কিভাবে এতখানি ভারী হতে পারে? আমি ভাবি। গ্রামের দিকটা কী শান্তিপূর্ণ... কে বিশ্বাস করবে যে, সেখানে একটা যুদ্ধ চলছিল? একদল সৈন্য, গম্ভীর, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সামনে কী অপেক্ষমাণ, তা ভেবে খানিকটা উদ্বিগ্ন।”

“সন্ধ্যা ৬টা। হাসপাতালে ফেরত আসা। গাড়িবারান্দায় দেশি কর্মীদের ভিড়, আমাকে ফিরে আসতে দেখে তাদের মুখ উজ্জ্বল। সূর্যাস্তের দিকে শেষ একশত গজ গাড়ি চালানো আমার, আর ঈশ্বর আমার জন্য বিশেষ করে সুন্দর এক সূর্যাস্ত রচনা করেছিলেন। আমি নিজেকে এতক্ষণ চেপে রেখেছিলাম, কিন্তু সেই সূর্যাস্ত আমার সব বাঁধ ভেঙে দিয়েছিল। আমি গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণ কেঁদে নিই।”

“ডা. কেচামের অবশ্য তাঁর হৃদয়ের সবচেয়ে নিকটবর্তী বিষয় নিয়েও মাথা ঘামানোর মতো সময় ছিল না। বিপদগ্রস্ত দেশি কর্মীদের দায়িত্ব এবং কেবল তাঁর ও ভিক ওল্‌সেনের ওপর পুরো হাসপাতালের ভার, তাঁকে সারাক্ষণ দখল করে রাখত।”

“এই দুজনকে আরো পুরোপুরিভাবে ঈশ্বরের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্যই বোধ হয় ভিক একটি ফালতু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়েন, যার কারণে তাঁর ওপর একটা অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করতে হয়।”

“একেবারে পুরোপুরি গলে যাওয়া একটা কনুই,” ডন কেচাম বর্ণনা করেন।
পরে, ভিক আমাদের সবাইকে লেখেন, “আমি খুবই আনন্দিত যে, তোমরা কেচামের থেকে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিলে।”

“পুলের তলা দিয়ে অনেক পানিই বয়ে যাবে, আমরা আমাদের জোরপূর্বক দেশত্যাগের সময় সংঘটিত এই দুর্ঘটনা, এবং মালুমঘাট ও চট্টগামের আরো অনেক সংকট সম্পর্কে জানার আগে।”

“জীবিত কৃতজ্ঞ বাঙালিরা এখনো নিঃস্বার্থ আমেরিকান মিশনারিদের বীরত্বের কথা বলে। অনেক হিন্দুকে আশ্রয় দিয়ে এবং আরো অনেকের জন্য মিলিটারিদের সঙ্গে দেনদরবার করে, মালুমঘাটে ডন কেচাম ও ভিক ওল্‌সেন, এবং চিটাগাংয়ে রিড মিনিখ ঈশ্বরের কৃপায় সেই দিনগুলোতে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানোর নায়ক হয়েছিলেন।”

কেবল তাদের প্রাণই বাঁচেনি, অগুণিত ক্ষেত্রে তাদের বিষয়সম্পত্তিও রক্ষা পেয়েছিল বৈকি। আবারও আমি ডা. কেচামের ডায়রি থেকে পড়ছি:

৮ই মে

দিনটা বেশ শান্তিপূর্ণভাবেই শুরু হয়েছিল, কিন্তু শেষের দিকে একেবারে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল। বিকেল চারটার দিকে খবর আসে মিলিটারিরা ডুলাহাজরার দিকে বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে। আমি আমার মোটরসাইকেলে লাফিয়ে উঠে দ্রুতই সেই গ্রামের ভেতরে গেলাম সেখানে কী হচ্ছে দেখার জন্য। মিলিটারি তখন চলে গেছে, তবে যাওয়ার আগে গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী এক হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে যায়। বাঁশের ঘর দুতিনটা পুড়ে একেবারে ছাই হয়ে যায়, তবে কাদা ও সিমেন্ট দিয়ে বানানো মূল বসতভিটাটি তখনও টিকে ছিল। সেটাও জ্বলছিল, তবে তখনও কিছুটা অক্ষত ছিল। আমি সেখানে গিয়ে দেখি অন্তত জনাপঞ্চাশেক লোক বাক্সপ্যাটরার তালা ভেঙে লুটতরাজ চালাচ্ছে।

“কী করা যায়? নীতিগতভাবে আমার কিছু করা উচিত, আমি তাই কিছু লোককে দৈহিকভাবে বাধা দিয়ে, বাকিদেরও তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হই এবং দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে একটা গাড়ি ও কিছু লোকজন নিয়ে আসি যতটা পারি তাদের জিনিসপত্র উদ্ধার করার জন্য। প্রতিবেশি পড়ে গেলে তাকে লাথি মারা বিষয়ে, একটা বাণীও প্রচার করি আমি। তারপর আমি তাদেরকে বলি যে, সব জিনিসপত্র হাসপাতালে তালাবদ্ধ করে রাখা হবে যতদিন না তার বৈধ মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যায়, এই বলে আমি স্থানত্যাগ করি। হাসপাতালের কর্মচারীরা, ঈশ্বরের অশীর্বাদে, অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল সেদিন, যেহেতু আমি তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলাম।”

এটা অনেক ঘটনার একটি মাত্র যেখানে দেশিরা ডন ও ভিকের ওপর অবিশ্বাস্য আস্থা রেখেছেন। তাঁরা তাঁদের মূল্যবান জিনিসপত্র এনে হাসপাতালে রেখেছেন, একটা রশিদ পর্যন্ত চাননি তার জন্য। এঁরা আমেরিকানদের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের বেলায় একেবারে শিশুর মতো ছিল।

অন্য দিকে, ‘থাইল্যান্ডের আমেরিকান পর্যটকেরা’, তাদের সব চিন্তা ছিল পূর্ব পাকিস্তানকে নিয়ে, যে-তিনজন সেখানে পড়ে রয়েছেন তাঁদেরকে নিয়ে, আর কত তাড়াতাড়ি আবার সেখানে ফিরতে পারা যাবে, তা নিয়ে। [চলবে]


কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১৪)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১৩)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১২)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১১)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১০)

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;