পারস্যের আশ্চর্য গ্রাম ‘কান্দোভান’



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পারস্যের আশ্চর্য গ্রাম কান্দোভান

পারস্যের আশ্চর্য গ্রাম কান্দোভান

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের নাম তখনও ইরান হয়নি। পারস্যদেশ নামে সারা বিশ্বে মশহুর। সেসময় পত্তন হয় এক গ্রামের। দূর থেকে দেখলে মনে হয় অবিকল উইয়ের ঢিবির মতো। যদিও উই নয়, ঢিবিগুলো মানুষের আবাস। উত্তর-পশ্চিম ইরানের  পাহাড়ি কোলে এক ঐতিহাসিক প্রত্যন্ত গ্রাম কান্দোভান । আধুনিক যুগেও এখানকার বাসিন্দারা ঢিবির মতো গুহায় থাকেন সেই আশ্চর্য গ্রামে।

'কান্দোভান' নামটি ফার্সি শব্দ 'কান্দো' থেকে । এর অর্থ স্থানীয় তুর্কি উপভাষায় 'করণ'। যার অর্থ মৌচাক। বাড়িগুলোর ডাকনাম 'করণ'। হাজার হাজার বছর আগে এখানে এক আগ্নেয়গিরির ঘুম ভাঙে। নির্গত লাভা ঠান্ডা হওয়ার পর অঞ্চলটিতে উষ্ণ ঢিবির জন্ম।

প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, কান্দোভানের ইতিহাস ১০ হাজার বছরেরও বেশি পূর্বের। অঞ্চলটিতে প্রথম বসতি স্থাপন করে প্রাগৈতিহাসিক মানুষেরা। কান্দোভানের আশপাশের অঞ্চলে সহস্রাব্দ ধরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। এর মধ্যে মেডিস, অ্যাকেমেনিডস, পার্থিয়ান, সাসানিড অন্যতম। গোষ্ঠীগুলো তাদের ব্যবহার্য জিনিস, মৃৎপাত্র কিংবা অন্যান্য শিল্পকর্মের মধ্যে রেখে গেছে তাঁদের সভ্যতার চিহ্ন।

সময় ছুটে চলে। সময়ের সঙ্গে ছুটতে ছুটতে এই এলাকায় বাড়ে জনবসতি। প্রসারিত হয় গ্রাম। পরিবারদলোর প্রয়োজনেই আবশ্যিক হয় গুহাবাড়ির সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন। গ্রামবাসীরা পানীয় ও সেচের জন্য নিকটবর্তী ঝরনা থেকে জল গ্রামে আনার জন্য তৈরি করে জলের চ্যানেল। কিন্তু বাড়ির ঐতিহ্যবাহী আকার, আকৃতি ও কাঠামো বদল করেননি তাঁরা।

ইরানে যখন ইসলামি স্বর্ণযুগ, তখন কান্দোভানের আশপাশের অঞ্চলটি বৃত্তি ও শিক্ষার আদর্শ কেন্দ্রে পরিণত হয়। পণ্ডিত-দার্শনিকদের কাছেও প্রিয় ছিল এই এলাকা। 

১১ এবং ১২ শতকে সেলজুক তুর্কিরা এই অঞ্চলে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। কান্দোভান সুপ্রাচীন বাণিজ্যপথ সিল্ক রোডের নিকটবর্তী হওয়ায় বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফলে কান্দোভান অনেক উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, বিশেষ করে ২০ শতকে। এই সময় নগরায়ণের ফলে কান্দোভান অনেক বেশি আধুনিক হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় সাতশো বছর আগে কিছু মানুষ মঙ্গোল হানাদারদের হাত থেকে বাঁচতে এই টিলাগুলোতে বসতি স্থাপন শুরু করে। আর এখন? ইরানের তাবরিজ শহরের কাছে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের প্রাচীন এই গ্রাম আয়তনে বেড়েছে। প্রায় সাড়ে ছ'শো মানুষের নিবাস কান্দোভানে। এখানকার মানুষের আয়ের উৎস কৃষি ও ভেড়া পালন। ভালো আয় আসে পর্যটন থেকেও। হস্তশিল্প তৈরি করে বিক্রিও করেন স্থানীয়রা। 

নিবাসীদের প্রচেষ্টায় একেকটা বাড়ি এখন হেরিটেজ হোটেল। ঘরগুলো শীতকালে উষ্ণ এবং গ্রীষ্মে শীতল। এমনটা কীভাবে সম্ভব? ঘরগুলোর দেওয়াল প্রায় দুই মিটার পুরু। মেদবহুল এই দেওয়ালই গ্রীষ্মে শীতল বাতাস প্রবাহিত করে এবং শীতকালে উষ্ণ বাতাস আটকে রাখে। বছরের যে-কোনো সময়েই ঘরগুলো থাকে আরামদায়ক।

কান্দোভানের ঢিবির মতো গুহাবাড়িগুলোর অনন্য নকশা এবং নির্মাণ গ্রামের প্রধান আকর্ষণ। ঘরগুলো আগ্নেয়গিরির ছাই ও শিলা কেটে এমনভাবে তৈরি, যা নিয়েছে শঙ্কু আকৃতি। বাসিন্দাদের নিবিড় শ্রম ও ধৈর্য না থাকলে এমন শৈলীর ঘর বানানো অসম্ভব। দরজা খুলে একচিলতে ঘরটায় ঢুকে বাইরেটা দেখলে মনে উঠবে খুশির তুফান। না, কেবল বাইরে নয়, ঘরের ভিতরটাও পাল্লা দিয়ে পরিপাটি। মেঝেতে পাতা কার্পেট, ঐতিহ্যশালী কম্বল, কুশন, কাঠ-পোড়া চুলা, রঙিন ট্যাপেস্ট্রি বা পর্দা দেখে মন ছুঁয়ে যাবে যেকারোই।

বাড়িগুলোর বেশিরভাগই দোতলা। যদিও সেগুলো কিছু ক্ষেত্রে তিন, এমনকী চার তলাও। ভিতর থেকে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় ঘরগুলো। গ্রামীণ মানুষ এই পাহাড়ের মধ্যে কেবল আবাস নয়, তৈরি করেছে চারণভূমি, গুদামসহ নানান কর্মশালাও। মাল্টি-স্টোর হাউস এবং সিঁড়িগুলো সাধারণত প্রতিটি তলের সঙ্গে অন্য তলের সংযোগের জন্য তৈরি।

গ্রামটিতে রয়েছে গণশৌচালয়, জলের কল, মসজিদসহ সমস্ত সুবিধা। মসজিদটি কান্দোভানের বৃহত্তম করণগুলোর মধ্যে একটি। বাড়িগুলোর অনন্য স্থাপত্য, সুন্দর উপত্যকা, মনোরম আবহাওয়া, জৈব দুগ্ধ, বাদাম ও ঔষধি গাছ, মধু এবং কারুশিল্প অঞ্চলটিকে ইরানের অন্যতম পর্যটন অঞ্চলে পরিণত করেছে। কান্দোভানের বাড়িগুলো ভূমিকম্প-প্রতিরোধী। কারণ প্রাকৃতিক এই শিলা শক্তিশালী এবং নমনীয়। গ্রামে রয়েছে রোগা গলির গোলকধাঁধা। ইতিহাস, স্থাপত্য এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে কান্দোভান এখনও এক বিস্ময়।

   

ইতিহাসের পাতায় আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইব্রাহিম মজসিদে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের হত্যাকাণ্ড

ইব্রাহিম মজসিদে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের হত্যাকাণ্ড

  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষ মরণশীল, তবে তাদের কীর্তি নয়! জীবনসীমা সীমিত হলেও, মানব সভ্যতার ইতিহাস সদ্য ফোটা ফুলের মতো তাজা থাকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। প্রতিটি দিনই ইতিহাস বয়ে নিয়ে আসে তার কোনো না কোনো স্মৃতি। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। আজকের দিনে ঘটে যাওয়া কিছু ঐতিহাসিক ঘটনায় চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক!

ইব্রাহিম মসজিদ
 

৩৮ বছর বয়েসি মার্কিন বংশোদ্ভুত ইহুদি ‍চিকিৎসক বারুচ গোল্ডস্টেইন ৩০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেন। ১৯৯৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার সকালে মাচপেলা গুহার ইব্রাহিম মসজিদে জড়ো হওয়া মুসল্লিদের ওপর হামলা করেন তিনি। রোজাদার নামাজিদের ওপর ১০ মিনিট ধরে ১০০টি গুলি করেন তিনি। সেনাসদস্যের পোশাক পরিহিত গোল্ডস্টেইনকে ঘটনার পর মসজিদেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ফিলিপাইনের প্রতম নারী প্রেসিডেন্ট কোরাজন অ্যাকুইনো

১৯৮৬ সালের এইদিনে ফিলিপাইনের নতুন এবং প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট কোরাজন অ্যাকুইনো শপথগ্রহণ করেছিলেন। সেইসঙ্গে ফার্দিনান্দ মার্কোসের একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটে। ১৯৮৬ সালে থেকে একটানা ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তার শাসনের অধীনে ছিল দেশটি। তিনি ফিলিপাইনের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত হননি।

সনি লিস্টনকে বক্সিং-এ পরাজিত করেন ক্যাসিয়াস ক্লে

ক্যাসিয়াস ক্লে বক্সিংয়ের ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন ১৯৬৪ সালে। আজকের দিনি সনি লিস্টনকে হারিয়ে বিজয়ীর মুকুট অর্জন করেন ক্লে। মিয়ামি বিচে অনুষ্ঠিত হওয়া ‘দ্য ওয়ার্ল্ড বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন’-এর এই লড়াইটি অনেক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল।

সময় যত বাড়তে থাকে, ইতিহাসের পাতা তত মলিন হতে থাকে! তবে ইতিহাসের ঘটনাগুলো যুগ যুগ ধরে অমলিন রয়ে যায়।     

 

;

অভাবের সংসারে মেরিন অ্যাকাডেমির ভর্তি ফি মিলছে না শামীমের!



মৃত‌্যুঞ্জয় রায়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাতক্ষীরা
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

মা-বাবার স্বপ্ন, ছেলে-মেয়ে বড় হয়ে লেখাপড়া করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবে। সে লক্ষ্যে যদি সন্তান এমন ভর্তির সুযোগ পায়, তাহলে দেখা যায় খুশির বন্যায় ভেসে যায় পরিবার। অথচ এর উল্টোটা হলে হতাশা এসে গ্রাস করে সবাইকে। স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় মন থাকে আচ্ছন্ন।

তেমনি দুঃখজনক একটি ঘটনা ঘটতে চলেছে সাতক্ষীরার ছেলে শামীম কবির নীরবের পরিবারে!

সে তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণে চট্টগ্রামের মেরিন অ্যাকাডেমিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু অভাব-অনটনের সংসারে তা যেন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে চলেছে! অর্থের অভাবে চোখেমুখে অন্ধকার দেখছে শামীমের পরিবার!

তার মা-বাবার দুঃশ্চিন্তার একটাই কারণ যে, ছেলেকে মেরিন অ্যাকাডেমিতে কীভাবেই-বা ভর্তি করাবেন আর তার লেখাপড়ার খরচ চালাবেনই-বা কী করে! অভাবের সংসারে দু’বেলা ভাতই জোটে না, সেখানে ছেলের ভর্তির টাকা, লেখাপড়ার খরচ কীভাবে জোগাবেন তারা, তা ভেবে হতাশায় ভেঙে পড়েছে শামীমের মা-বাবা!

সুযোগ পেয়েও চট্টগ্রামের মেরিন অ্যাকাডেমিতে ভর্তির অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে সাতক্ষীরা শহরের চা-বিক্রেতার ছেলে শামীম কবির নীরবের!

জানা গেছে, মেরিন অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হতে লাগবে ৫০ হাজার টাকা! এ ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষাসহ বিভিন্ন খরচসহ প্রায় এক লাখ টাকার দরকার হবে তার। কিন্তু গরিব চা-বিক্রেতা বাবার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। সে কারণে মেরিন অ্যাকাডেমিতে ভর্তিতে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন শামীম ও তার পরিবারের সবাই।

সাতক্ষীরায় চা বিক্রেতা ছিদ্দিক মোড়ল, স্ত্রী ও মেরিন অ্যাকাডেমিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শামীম কবির নীরব

মেধা তালিকায় শামীমের স্থান ৩৫তম

চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মেরিন অ্যাকাডেমিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শামীম কবির নীরব মেধা তালিকায় ৩৫তম স্থান অধিকার করেন। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ভর্তির শেষ সময়। এর মধ্যে ভর্তি হতে পারলে তার আসনটি শূন্য ঘোষিত হবে। এরপর সে আসনে অন্য কাউকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।

জানা যায়, শামীম কবির নীরবের বাবা ছিদ্দিক মোড়ল সাতক্ষীরা শহরের শিশু হাসপাতালের উল্টোদিকে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে চা বিক্রি করে চলে তাদের সংসার।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চা বিক্রি করে সংসার চালানো এমনিতে দায় তাদের। এর মধ্যে ছেলে শামীমকে লেখাপড়া করিয়েছেন তিনি। ছিদ্দিক মোড়ল জানিয়েছেন, এই অভাব-অনটনের মধ্যে সামান্য চা বিক্রি করে কী করে ছেলের ভর্তির জন্য একলাখ টাকা জোগাড় করবেন, তা তিনি ভেবে পাচ্ছেন না! এ নিয়ে একেবারে ভেঙে পড়েছেন তিনি।

শামীম ২০২০ সালে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনস স্কুল থেকে মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ এবং ২০২২ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

শামীম বার্তা২৪কে বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মেরিন অ্যাকাডেমিতে ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। এতে মেধা তালিকায় ৩৫তম স্থান অধিকার করেছি।

এখন ভর্তি হতে ৫০ হাজার টাকা লাগবে। এ ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষায় আরো ১০ হাজার টাকাসহ অন্যান্য খরচ দিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার মতো লাগবে বলে জেনেছি।

আমার বাবা সামান্য চায়ের দোকানদার। আমার জন্ম গরিব পরিবারে! কী দিয়ে কী করবো, তা বুঝতে পারছি না! আমি কি তাহলে মেরিন অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হতে পারবো না! এমন কেউ কি নেই যিনি আমাদের বিপদের এই দিনে সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারেন! আমার পরিবারের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসতে পারেন!

শামীমের বাবা ছিদ্দিক মোড়ল বলেন, তিন ছেলের মধ্যে শামীম বড়। ছেলের সাফল্যে আমরা অনেক খুশি! ছোট একটা চায়ের দোকানে পাঁচজনের সংসার চলে।

যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়াতে গিয়ে ছেলের পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। অনেক কষ্টে প্রতি মাসে সেই টাকা জুগিয়েছি। বর্তমান বাজারে সব জিনিসের যে দাম, তাতে আমাদের পাঁচজনের সংসার ঠিক মতো চলে না। ভর্তির এত টাকা কোথা থেকে পাবো!

তিনি বলেন, সমাজের কোনো দানশীল ব্যক্তি যদি ছেলেটার লেখাপড়ার ভার বহন করে, তাহলে সারাজীবনের জন্য কৃতজ্ঞ থাকবো! কেউ যদি আমার ছেলের বৃত্তির ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে আমার ছেলে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে। বাবার সঙ্গে দোকানে কাজ করেও এসএসসিতে গোল্ডেন ‘এ প্লাস’ পেয়েছে শামীম।

আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যদি সে ভর্তি হতে না পারে, তাহলে ওর আসন শূন্য ঘোষণা করবে মেরিন অ্যাকাডেমি। কেউ কি আছেন আমাদের এ স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসার!

;

ইতিহাসের পাতায় আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
প্রিন্স চার্লস এবং লেডি ডায়ানা

প্রিন্স চার্লস এবং লেডি ডায়ানা

  • Font increase
  • Font Decrease

মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘটে নানা ঘটনা। বছর পার হয়ে গেলেও, সেসব স্মৃতি রয়ে যায় অমলিন। বছর পরিবর্তনের সাথে সাথে সেই তারিখগুলো তার ইতিহাসের স্মৃতি বয়ে নিয়ে আসে বার বার। আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ইতিহাসের পাতা স্মৃতিচারণ করলে পাওয়া যায় বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা। চলুন তবে আজ জেনে নিই, না জানা অনেক কিছু।

১৯৫৫ সালে এই দিনে যুক্তরাজ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। তুষারপাতের ফলে ৩০ ফুট মোটা স্তর পড়ে এবং ৭০টির বেশি রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এইদিন অতিরিক্ত কম তাপমাত্রার কারণে হাজার হাজার ভেড়া মারা গিয়েছিল।

কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষকতা ছেড়ে ব্রিটেনের রাজ পরিবারে লেডি ডায়ানার প্রবেশের পথ প্রশস্ত হয়েছিল এই দিনেই। ১৯৮১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রিন্স চার্লস এবং লেডি ডায়ানার বাগদান সম্পন্ন হয়। ব্রিটিশ রাজ পরিবারের এই বিয়ে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে সাড়া জাগানো বিয়ের অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০২২ সালের এই দিনে রাশিয়ার বর্তমান নেতা ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে একটি ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধ দ্বিতীয় বছর পেরিয়ে তিনে, সহসাই এ যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। দিন দিন সংকট আরও জটিল হওয়ায় ক্লান্ত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন ইউক্রেনের নাগরিকরা।

৮ম পোপ গ্রেগরি ১৫৮২ সালে আজকের তারিখে দিন গণনার নতুন পদ্ধতি ঘোষণা করেছিলেন। সেই দিনপঞ্জিকা ‘গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার’ নামে পরিচিত ছিল।

১৭৩৯ সালে কার্নালের যুদ্ধে ইরানের শাসক নাদির শাহের সেনাবাহিনী ভারতের মুঘল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের বাহিনীকে পরাজিত করেছিল।

;

৪ মাসের শিশুর বিশ্ব রেকর্ড



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শিশু কৈবল্যের বিশ্ব রেকর্ড

শিশু কৈবল্যের বিশ্ব রেকর্ড

  • Font increase
  • Font Decrease

কোনটা পাখি, কোনটা বই! শাকসবজি, ছবি-নবকজাতকদের বুদ্ধিমত্তায় এসব চিহ্নিত করা দুষ্কর ব্যাপার। সাধারণত দেড়-দু’বছর বয়েসে শিশুরা এসব আলাদা করতে শুরু করে।

মাত্র ৪ মাস বয়স। এসময় শিশুরা সাধারণত বুকের ওপর ভর দেওয়া শিখতে শুরু করে। শারীরিক অসুবিধা হলে কান্না করা ছাড়া আর বিশেষ কোনো ভাব প্রকাশ করতে সামর্থ্য হওয়ার কথা নয়! প্রতিদিন দেখা পারিবারিক সদস্যদের চিনতেও অনেক শিশু হিমশিম খায়। সেই বয়সেইসর্বোচ্চ জিনিস চিহ্নিত করতে পারার বিশ্ব রেকর্ড অর্জন করা, যেন অবিশ্বাস্য ব্যাপার!   

২-৪ টি নয়, পুরো ১২০টির বেশি চিহ্নিত করে নোবেল ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেসের সনদ অর্জন করেছে ৪ মাস বয়সী শিশু। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের নাদিগামা শহরে জন্ম হয়েছিল সেই শিশুর। তার নাম কৈবল্য। তার মা হেমার নজরেই প্রথম মেয়ের প্রতিভা ধরা পড়ে এবং তিনি তা প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন।

একটি ভিডিওতে শিশু কন্যার বিভিন্ন বস্তু চিনতে পারার একটি ভিডিও করে তিনি কর্তৃপক্ষকে পাঠায়। যা দেখে নোবেল ওয়ার্ল্ড রেকর্ড দলের সকল অবাক হয়ে যায়। তারপর তারা শিশু কৈবল্যের প্রতিভা পরীক্ষা করে এবং তাকে যোগ্য মনে করে স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।

কৈবল্যের বাবা মা এতে অনেক বেশি আনন্দিত। মেয়ের জন্য তারা সকলের কাছে আশির্বাদ প্রার্থনা করেন। সকলের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।   

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

;