তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ৪৩শ’ ছাড়াল



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার বহু অংশে এক প্রবল ভূমিকম্পে অন্তত ৪,৩৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেবল তুরস্কেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২,৯২১ জন। সিরিয়ায় মারা গেছে ১,৪৫১ জন।

তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ইউনুস সিজার বলেন, বলেন, তার দেশে ভূমিকম্পে ২,৯২১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছে ১৫,৮৩৪ জন। আর সিরিয়ার সরকার জানিয়েছে, তাদের আহতের সংখ্যা ৩,৫৩১ জন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান সোমবারের এই ভূমিকম্পকে ১৯৩৯ সালের আরজিনক্যান ভূমিকম্পের পর ‌'সবচেয়ে বড় বিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আগের ওই ভূমিকম্পে ৩৩ হাজার লোক মারা গিয়েছিল।

দুটি দেশেই দুর্গত এলাকাজুড়ে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান চলছে। সোমবার রাতের বেলাতেও চলে উদ্ধারকাজ। তবে গ্রাম ও শহরগুলোয় উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপ অনুসন্ধানের সাথে সাথে এই সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হাজার হাজার মানুষ এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

তুরস্ক সাহায্যের জন্য আন্তর্জাতিক আবেদন জানানোর পর বিশ্ব নেতারা সাহায্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সিরিয়ায় নিহতদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। এই অঞ্চলটির সীমান্তের উভয় পাশে শিবিরগুলোতে লক্ষাধিক সিরীয় শরণার্থীর আবাসস্থল।

বিবিসি সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, সোমবার ভোররাতে গাজিয়ানটেপের কাছে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তখন সব মানুষ ঘুমে। স্থানীয় সময় আনুমানিক বেলা দেড়টায় সেখানে ৭.৫-মাত্রার নতুন এক কম্পন আঘাত হানে।

ভূমিকম্পে দুটি দেশেই শত শত ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে বাঁচাতে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তুরস্ক ও সিরিয়া ছাড়াও লেবানন, সাইপ্রাস এবং ইসরাইলজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ এর কম্পন অনুভব করেন।
এরপর তুরস্কের একই অঞ্চলে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার কেন্দ্রস্থল ছিল কাহরামানমারাস শহরের কাছে।

দুর্গত এলাকা থেকে যেসব মর্মান্তিক ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বাসাবাড়ি ও সড়কে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকদের সন্ধানকারী উদ্ধারকারী দলগুলোকে মরীয়া হয়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

তুরস্কের ১০টি শহর ও প্রদেশের স্কুল এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাতায়, মারাশ এবং আন্তেপের বিমানবন্দরগুলো বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

সিরিয়ায় কী হচ্ছে?
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল প্রতিবেশী তুরস্কে হলেও সিরিয়াতেও বহু শত মানুষ মারা গেছে। এই দুর্যোগের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ভিডিও এবং ছবি উঠে আসছে।

আলেপ্পোর উত্তর-পশ্চিমে এক শহর থেকে পাওয়া এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে ভবনগুলো ধসে পড়ার সাথে সাথে ধুলোর বিশাল মেঘের মধ্য দিয়ে বাসিন্দারা পালিয়ে যাচ্ছে, চিৎকার করছে।

ভূমিকম্পে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকা সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই সেখানে চিকিৎসা সেবা এবং জরুরি সরবরাহের সুযোগ সীমিত।

সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কাজ করা একটি ত্রাণ সংস্থা হোয়াইট হেলমেট জরুরি সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে।

তুরস্ক পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোর একটিতে অবস্থিত।

এর আগে ১৯৯৯ সালে দেশটির উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

সর্বশেষ ভূমিকম্পটি ঘটেছে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পশ্চিমমুখী ‘পূর্ব আনাতোলিয়ান ফল্ট’-এর চারপাশে।

সিসমোলজিস্টরা দীর্ঘকাল ধরে বলে আসছেন যে এই ফল্টটি অত্যন্ত বিপজ্জনক, যদিও গত ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য কিছু হয়নি। তবে অতীতে এই এলাকায় কিছু মারাত্মক ভূমিকম্প হয়েছে।

বিশেষ করে, ১৮৮২ সালের ১৩ অগাস্ট সেখানে ৭.৪-মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যা আজকের রেকর্ড করা ৭.৮-মাত্রার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তা সত্ত্বেও, ১৯ শতকের ওই ভূমিকম্পে অনেক শহরের প্রচুর ক্ষতি হয়। আলেপ্পো শহরে ৭,০০০ মানুষ মারা যায়। শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের আফটারশক চলতে থাকে প্রায় এক বছর ধরে।

   

হুথিদের লক্ষ্য করে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্য হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী। এ গোষ্ঠীর ভূগর্ভস্থ অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র স্টোরেজ সুবিধা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং একটি হেলিকপ্টারে হামলা চালানো হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরান-সমর্থিত এ গোষ্ঠী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এ হামলা চালানো হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হামলায় অংশ নেওয়া বা সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামরিক পদক্ষেপটি ইয়েমেনের আটটি স্থানে ১৮টি হুথি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ছিল। যার মধ্যে ভূগর্ভস্থ অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র স্টোরেজ সুবিধা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং একটি হেলিকপ্টার রয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন বলেছেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল "ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের সক্ষমতা আরও ব্যাহত এবং অবনমিত করা।"

তিনি বলেন, "আমরা হুথিদের কাছে স্পষ্ট করে বলব যে তারা যদি তাদের অবৈধ আক্রমণ বন্ধ না করে, যা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির ক্ষতি করে, পরিবেশের ক্ষতি করে এবং ইয়েমেন এবং অন্যান্য দেশে মানবিক সহায়তা সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় তাহলে তারা পরিণতি ভোগ করবে।"

এই সপ্তাহের শুরুর দিকে হুথিরা যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজে হামলা এবং আমেরিকান ডেস্ট্রয়ারে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলের বন্দর এবং রিসর্ট শহর ইলাতকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

হুথরা ইয়েমেনের সর্বাধিক জনবহুল অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তারা বলছে, ইসরায়েল গাজায় হামলা চালানোর সাথে সাথে ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতেই জাহাজে আক্রমণ চালানো হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে হুথিদের আক্রমণ কয়েক মাস অব্যাহত রয়েছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যকে বিপর্যস্ত করেছে।

;

কলকাতায় ভাষা শহীদদের স্মরণ



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
কলকাতায় ভাষা শহীদদের স্মরণ। বার্তা২৪.কম

কলকাতায় ভাষা শহীদদের স্মরণ। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভাষা ও চেতনা সমিতির উদ্যোগে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের ৮ জন শহীদের স্মরণে বাংলা ভাষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার রবীন্দ্রসদনের উত্তর দিকে একাডেমি অফ ফাইন আর্টসের সামনে রাণুচ্ছায়া মঞ্চে বিকেল পাঁচটায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠানটি ২১ ফেব্রুয়ারি ভোর পাঁচটায় শেষ হয়।

ছবি আঁকা, পথের আলপনা, নাচ- গান - কবিতা - নাটক, গণজাদু, শ্রুতি নাটক, মশাল মিছিল এবং প্রভাতফেরি দিয়ে অনুষ্ঠান সাজানো হয়। বিকেল চারটা থেকে পথে আলপনা দেওয়া শুরু হয়, বিকেল পাঁচটায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় ছায়ানট (কলকাতা) - এর ৭২ জন শিল্পীর কণ্ঠে 'কারার ঐ লৌহকপাট' গানটির মধ্য দিয়ে ১৯৫২ - এর ভাষা অন্দোলনের ৭২ বছরে ভাষা ও চেতনা সমিতির উদ্যোগে ২৬তম সারারাত বাংলা ভাষা উৎসবের উদ্বোধন হয়।

ছবি আঁকা ও পথের আলপনায় অংশগ্রহণ করেন দেবাশিস মল্লিক চৌধুরী, তৌফিক রিয়াজ, নাফিসা ইয়াসমিন, ড. আকিকুল ইসলাম, অধ্যাপক শান্তনু বেজ, যুগল, রেবিনা ও সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। সমবেত সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করেন কৃষ্ণনগর বিশ্বমৈত্রী সংস্কৃতি পরিষদ নদিয়া জেলা উত্তর শাখা, রক্তকরবী, যাদবপুর প্রাক্তনী - এর শিল্পীবৃন্দ। সমবেত নৃত্যে অংশগ্রহণ করেন মৃত্তিকা ( সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দল), তাথৈ (ব্যান্ডেল), স্পন্দন (বর্ধমান), রিদম ( হাওড়া), বিশ্বমৈত্রী সংস্কৃতি পরিষদ, নদিয়া উত্তর জেলা (কৃষ্ণনগর) - এর শিল্পীবৃন্দ।

সমবেত আবৃত্তিতে অংশ নেয় আনন্দমেলা, বাচিকশৈলী, কাব্যপথিক, রবীন্দ্রনাথ বাচিক শিল্পী সংস্থা, স্বপ্না দে ও সহশিল্পীরা, আবৃত্তি শিল্পী সংস্থা, স্বর ও শ্রুতি বিষ্ণুপুর, কবিতাকে ভালোবেসে সহ বেশ কিছু সংস্থা। রাত বারোটায় মশাল মিছিল। রাত একটা থেকে নাটক: ইছাপুর সন্ধিক্ষণের চিরকুট, প্রতিকৃতির হারানের নাতজামাই, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ড্রামা ক্লাবের জেল ডায়েরি, আলিপুর প্রাচ্যের গোলাপের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সারা রাত বহু সংস্থা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলা ভাষাকে ভালোবেসে সবাই একত্রিত হন।

;

মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হলো নাভালনির মৃতদেহ



ziaulziaa
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী নেতা আলেক্সি নাভালনির মৃতদেহ তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

নাভালনির মুখপাত্র শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, আর্কটিক কারাগারে মারা যাওয়ার এক সপ্তাহেরও বেশি পরে তার লাশ হস্তান্তর করা হলো।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে সোচ্চার সমালোচক নাভালনি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি উত্তর সাইবেরিয়ার রাশিয়ার সবচেয়ে কঠিন কারাগারে মারা যান, যেখানে তিনি ১৯ বছরের সাজা ভোগ করছিলেন।

নাভালনির মুখপাত্র কিরা ইয়ারমিশ এক্স-এ বলেছেন, ‘নাভালনির মরদেহ তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যারা আমাদের সঙ্গে এই হস্তান্তর দাবি করেছেন তাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’

গত সপ্তাহে, নাভালনির মা লিউডমিলা নাভালনায়ার কাছে তার ছেলের লাশ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল রাশিয়া কর্তৃপক্ষ।

ইয়ারমিশ আরও বলেন, ‘নাভালনির শেষকৃত্যের পরিকল্পনা এখনও ঠিক করা হয়নি। কারণ, লিউডমিলা ইভানোভনা এখনও সালেখার্ডে রয়েছেন। তাই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এখনও মুলতুবি রয়েছে। আমরা জানি না পরিবার যেভাবে চাইবে আলেক্সির প্রাপ্য হিসাবে এটি পরিচালনা করতে মস্কো কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করবে কিনা।’

;

‘হৃদপিণ্ড বরাবর এক ঘুষি মেরে নাভালনিকে হত্যা করা হয়’



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাশিয়ার বিরোধী নেতা আলেক্সি নাভালনিকে হৃৎপিণ্ড বরাবর এক ঘুষি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন একজন মানবাধিকার কর্মী।

হত্যার ক্ষেত্রে এটি রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির একটি পুরানো পদ্ধতি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এনডিটিভি জানিয়েছে মানবাধিকার গ্রুপ গুলাগু ডট নেটের প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিমির ওসেচকিন নাভালনির কারাগারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অফ লন্ডনকে বলেছেন, ‘এভাবে মানুষ হত্যা কেজিবির বিশেষ বাহিনীর একটি পুরানো পদ্ধতি। তারা তাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল একজন মানুষকে হার্টে একটি ঘুষি মেরে কীভাবে মেরে ফেলা যায়। এটি কেজিবির একটি বৈশিষ্ট্য ছিল।’

সোভিয়েত যুগের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিষেবা কেজিবি ছিল অনেক ভয়ঙ্কর। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯১ সালের ৩ ডিসেম্বর সংস্থাটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরে এটি রাশিয়ায় ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এসভিআর) নামধারণ করা হয় এবং এটি পরে ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) নাম ধারণ করে।

ওসেচকিন দাবি করেছেন যে, প্রাণঘাতী হামলার আগে ৪৭ বছর বয়সি নাভালনিকে তার শরীরকে দুর্বল করার জন্য কঠোর, সাবজিরো তাপমাত্রায় ঘন্টার জন্য বাইরে রাখা হয়েছিল।

কারাগারে কর্মরত একটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে ওসেচকিন বলেন, ‘আমি মনে করি যে, তারা প্রথমে তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঠান্ডায় বাইরে রেখে এবং রক্ত ​​সঞ্চালনকে ন্যূনতমভাবে কমিয়ে দিয়ে তার শরীরকে অবসাদগ্রস্ত করেছিল। এতে করে কাউকে হত্যা করা খুব সহজ হয়ে যায়।’

একটি প্রতিবেদন অনুসারে একজন প্যারামেডিক বলেছেন, যারা কারাগারে মারা যায় তাদের মৃতদেহ সাধারণত সরাসরি ফরেন মেডিসিন ব্যুরোতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, নাভালনির লাশ কোনো কারণে একটি ক্লিনিকাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’

এদিকে, নাভালনির পরিবার এবং সমর্থকরা তাকে হত্যা করার জন্য পুতিনকে অভিযুক্ত করেছেন। যদিও এই অভিযোগ ক্রুদ্ধভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন।

;