ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় নিহত বেড়ে ৫ হাজার



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। কমপক্ষে চার হাজার ৯৪০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ২০ হাজার ৪২৬ জন। কেবল তুরস্কে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ৩৮১ জন। আর সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৫৫৯ জন দাঁড়িয়েছে।

দেশ দু’টির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান সোমবারের এই ভূমিকম্পকে ১৯৩৯ সালের আরজিনক্যান ভূমিকম্পের পর ‌'সবচেয়ে বড় বিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আগের ওই ভূমিকম্পে ৩৩ হাজার লোক মারা গিয়েছিল।

দুটি দেশেই দুর্গত এলাকাজুড়ে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান চলছে। সোমবার রাতেও উদ্ধারকাজ চলে। তবে গ্রাম ও শহরগুলোয় উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপ অনুসন্ধানের সাথে সাথে এই সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হাজার হাজার মানুষ এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

তুরস্ক সাহায্যের জন্য আন্তর্জাতিক আবেদন জানানোর পর বিশ্ব নেতারা সাহায্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সিরিয়ায় নিহতদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। এই অঞ্চলটির সীমান্তের উভয় পাশে শিবিরগুলোতে লক্ষাধিক সিরীয় শরণার্থীর আবাসস্থল।

বিবিসি সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, সোমবার ভোররাতে গাজিয়ানটেপের কাছে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তখন সব মানুষ ঘুমে। স্থানীয় সময় আনুমানিক বেলা দেড়টায় সেখানে ৭.৫-মাত্রার নতুন এক কম্পন আঘাত হানে।

তবে কর্মকর্তারা বলেছিলেন, সেটা 'আফটারশক নয়।'

ভূমিকম্পে দুটি দেশেই শত শত ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে বাঁচাতে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তুরস্ক ও সিরিয়া ছাড়াও লেবানন, সাইপ্রাস এবং ইসরাইলজুড়ে লাখ লাখ মানুষ এর কম্পন অনুভব করেন।

এরপর তুরস্কের একই অঞ্চলে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার কেন্দ্রস্থল ছিল কাহরামানমারাস শহরের কাছে।

দুর্গত এলাকা থেকে যেসব মর্মান্তিক ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বাসাবাড়ি ও সড়কে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকদের সন্ধানকারী উদ্ধারকারী দলগুলোকে মরীয়া হয়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

তুরস্কের ১০টি শহর ও প্রদেশের স্কুল এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাতায়, মারাশ এবং আন্তেপের বিমানবন্দরগুলো বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

   

রাম রহিমকে প্যারোলে মুক্তি দিতে আদালতের অনুমতি লাগবে



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতে খুন এবং ধর্ষণের অপরাধে জেল খাটছেন ডেরা সাচা সৌদা প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিং। আদালতের অনুমতি ছাড়া আর তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে না বলে। এমনটাই বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার হাইকোর্ট।

এনডিটিভি জানিয়েছে, হরিয়ানা সরকারকে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, রাম রহিমকে প্যারোলে মুক্তি দিতে হলে আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ৫০ দিনের জন্য প্যারোলে জেলের বাইরে বেরিয়েছিলেন রাম রহিম। তার আগে গত নভেম্বরে তাঁকে ২১ দিনের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

ডেরার ম্যানেজার রঞ্জিত সিংকে হত্যা এবং সিরসার আশ্রমে দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন রাম রহিম। তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জেলে থাকাকালীন রাম রহিমের ঘন ঘন প্যারোলে মুক্তি নিয়ে নানা সময়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি শিরোমণি গুরুদ্বার নিবন্ধন কমিটি তার এই প্যারোলে মুক্তির বিরোধিতা করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই মামলাতেই উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামীতে রাম রহিমকে প্যারোলে মুক্তি দিতে হলে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হবে। অনুমতি ছাড়া আর মুক্তি পাবেন না তিনি।

শুনানিতে রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, রাম রহিমের মতো ঘন ঘন মুক্তি পেয়েছেন, এমন আর একজন অপরাধীর উদাহরণও তারা দেখাতে পারবেন কি না।

রাম রহিমের ঘন ঘন এই মুক্তি পাওয়া নিয়ে সরব হয়েছিল দিল্লির নারী কমিশনও। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি সংগঠন তার প্যারোলের বিরোধিতা করেছে।

তবে হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানে সিরসা এলাকায় রাম রহিমের ডেরার প্রচুর সংখ্যক ভক্ত থাকার জন্য তিনি রাজনৈতিক দলগুলোরও অনুগ্রহ পেয়ে থাকেন বলে একটি অংশের অভিযোগ রয়েছে।

;

গাজায় ত্রাণ বিতরণের সারিতে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি, নিহত ১০৪



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গাজার দক্ষিণ-পশ্চিমে ত্রাণ বিতরণের পয়েন্টে সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ১০৪ জন নিহত ও ৭৬০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর জানায় কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা এলাকাটি ক্ষুধা সংকটে ছিল।  

ইসরায়েলি বাহিনীর এই হামলার ঘটনাকে ‘‘গণহত্যা’’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলের চলমান হামলা "গণহত্যা যুদ্ধের" অংশ।

বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার একমাত্র উপায় হিসেবে যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বানও জানায় মন্ত্রণালয়টি। 

প্রতিবেদনে জানানো হয়, আটা বহনকারী ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো দেশটির আল-রশিদ স্ট্রিটে জমায়েত হয়েছিল। সেখানেই ইসরায়েল এ হামলা চালায়। 

ঘটনাটির একটি ভিডিও ফুটেজ আল জাজিরা যাচাই করেছে। ফুটেজে দেখা যায় নিহত ও আহতদের ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমরা আটা আনতে গিয়েছিলাম। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে অনেক মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন।

;

রাশিয়া থেকে নিজেদের তৈরি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করলো ইরান



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমাদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের তৈরি একটি গবেষণা স্যাটেলাইট কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করেছে রাশিয়া।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ‘পারস-১’ নামের স্যাটেলাইটটি বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার ভোস্টোচনি কসমোড্রোম থেকে মস্কোর সয়ুজ রকেট দ্বারা উৎক্ষেপণ করা হয়।

ইরানের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ইসা জারেপুর বলেছেন, ‘পার্স-১ সম্পূর্ণভাবে দেশীয় উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি।’

ইরান দাবি করেছে, এটি তার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দ্বারা একটি গবেষণা স্যাটেলাইট।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে নিজস্ব রকেট ব্যবহার করে কক্ষপথে একই সঙ্গে তিনটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল ইরান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা সরকারগুলো বারবার ইরানকে এই ধরনের উৎক্ষেপণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছে, একই প্রযুক্তি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের ওই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে তেহরান।

২০১৮ সালে একটি যুগান্তকারী পারমাণবিক চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার অধীনে থেকেও তার পারমাণবিক কর্মকাণ্ডকে সম্প্রসারিত করেছে তেহরান।

২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়া কাজাখস্তান থেকে কক্ষপথে ইরানের রিমোট-সেন্সিং ‘খৈয়াম’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল, যা দুই দেশের মধ্যে গভীর বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার প্রতিফলন ঘটিয়েছিল।

এভাবে ইরানসহ পশ্চিমাদের দ্বারা বঞ্চিত অন্যান্য দেশের সাথে তার মিত্রতা জোরদার করার চেষ্টা করেছে মস্কো।

এ ছাড়াও রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য সামরিক ড্রোন সরবরাহ করার অভিযোগ করেছে পশ্চিমারা।

চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ক্ষেত্রে ইরানের সমর্থনের জন্য শীঘ্রই তেহরানের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে তারা।

;

চীনের ১৯টি যুদ্ধবিমান ও ৭টি নৌযান সনাক্ত করেছে তাইওয়ান



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমএনডি) জানিয়েছে, দেশটি বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা পর্যন্ত নিজেদের জলসীমায় চীনের ১৯টি সামরিক বিমান এবং ৭টি নৌযান সনাক্ত করেছে।

তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, ওই ১৯টি বিমানের মধ্যে ১২টি তাইওয়ান প্রণালীর মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে।

তাইওয়ান নিউজ জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের পর চীনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে ওই জলসীমায় বিমান, নৌজাহাজ এবং বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে তাইওয়ান।

এক্স-এ শেয়ার করা এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় তাইওয়ানের আশেপাশে চীনের ১৯টি যুদ্ধবিমান এবং ৭টি নৌজাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে ১২টি বিমান তাইওয়ান প্রণালীর মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে। তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিক্রিয়া হিসাবে যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনীর জাহাজ এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।’

তাইওয়ান নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিজুড়ে নিজেদের এলাকায় চীনা যুদ্ধবিমান ২৫৩ বার এবং নৌজাহাজ ১৫০ বার সনাক্ত করেছে তাইওয়ান।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তাইওয়ানের আশেপাশে সামরিক বিমান এবং নৌজাহাজের টহল তীব্র করেছে চীন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের নেতৃত্বদানকারী মার্কিন অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো সতর্ক করে বলেছিলেন, চীন শীঘ্রই তাইওয়ানের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য সামরিক মহড়া ব্যবহার করার ক্ষমতা পেতে পারে।

পাপারো আরও বলেছিলেন, ‘চীনে অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত সমস্যা এবং পিএলএ-এর মধ্যে দুর্নীতি সঙক্রান্ত কেলেঙ্কারি থাকা সত্ত্বেও বেইজিংয়ের নেতৃত্ব তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় অটল।’

;