প্রেমিকা হত্যার ১১ বছর পর কারামুক্ত হবেন অস্কার পিস্টোরিয়াস



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: জোহানেসবার্গে একটি পুরষ্কার অনুষ্ঠান রিভা-অস্কার

ছবি: জোহানেসবার্গে একটি পুরষ্কার অনুষ্ঠান রিভা-অস্কার

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রেমিকা রিভা স্টিনক্যাম্পকে হত্যার প্রায় ১১ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে জেল থেকে মুক্তি পাবেন সাবেক প্যারালিম্পিক চ্যাম্পিয়ন অস্কার পিস্টোরিয়াস। তবে শর্তসাপেক্ষে তিনি মুক্ত হবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন ।

দক্ষিণ আফ্রিকার অলিম্পিক অ্যাথলিট ও গ্লোবাল স্টার পিস্টোরিয়াস ২০১৩ সালের ভালোবাসা দিবসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াতে নিজ বাড়িতে রিভা স্টিনক্যাম্পকে গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে জেলে পাঠানো হয় এবং কারাবাসের শাস্তি হয়।

শুক্রবার (২৪নভেম্বর)  স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ছবি: হত্যার কয়েক সপ্তাহ আগে পিস্টোরিয়াস তার প্রেমিকা রিভা স্টিনক্যাম্পের সাথে 


অস্কার পিস্টোরিয়াস তার প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে প্রায় ১১ বছর কারাবাস করেছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই বন্দী জীবন থেকে মুক্তি পাবেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ৩৭ বছর বয়সী পিস্টোরিয়াসের ৫ জানুয়ারি থেকে প্যারোল (বন্দীর শর্তাধীন মুক্তি) মঞ্জুর করা হয়েছে। সেদিন তিনি শর্তসাপেক্ষে মুক্ত হবেন এবং ২০২৯ সালের ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার এই প্যারোল কার্যক্রম চলমান থাকবে। এ সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি শর্তসাপেক্ষে আইনি নির্দেশনা মেনে চলবেন।

পুলিশ প্রশাসন সেসব শর্ত সম্পর্কে বলেন, তিনি অনুমতি ছাড়া তার প্রিটোরিয়া এলাকা ছেড়ে যেতে পারবেন না। তাকে অবশ্যই একটি ‘রাগ ব্যবস্থাপনা প্রোগ্রাম’ এ নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনি অবশ্যই কমিউনিটির সেবা কার্যক্রমে উপস্থিত থাকবেন।

কারাগারের মুখপাত্র সিঙ্গাবাখো নক্সুমালো বলেছেন, প্যারোলের অর্থ সাজা শেষ হওয়া নয়। এটি এখনও সাজার একটি অংশ। ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে এসব শর্ত মেনে চলতে হবে।

২০১৩ সালে ঘটনার পর তিনি বলেছিলেন, ভোরের দিকে তাকে অনুপ্রবেশকারী ভেবে একটি বাথরুমের দরজা দিয়ে বন্দুক থেকে গুলি চালায়। এতে মৃত্যু হয় তারকা প্রেমিকা রিভা স্টিনক্যাম্পের। তার আইনজীবীরাও এই সত্য প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা করে।

কিন্তু রিভা স্টিনক্যাম্প এর বাবা মা বাদী হয়ে অস্কার পিস্টোরিয়াসের বিরুদ্ধে জোরদার শাস্তির আবেদন চালায়। ফলে প্রথমে শাস্তি কম হলেও গুরতর হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাভোগ করেন তিনি।

সে সময় গ্লোবাল তারকার হুট করে হত্যাকারী হয়ে যাওয়ার সংবাদ অনেক টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে শিরোনামে ভাসছিল তার নাম।

রিভা স্টিনক্যাম্পের মা প্যারোলের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘পিস্টোরিয়াস ইচ্ছাকৃতভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি বিশ্বাস করি সে জানত যে দরজায় রীভাই ছিল। এটি তার উদ্দেশ্যপূর্ণ হত্যাকাণ্ড ‘

প্রসিকিউশন যুক্তি দিয়েছিল, হত্যাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং তিনি তার মডেল প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। যখন সে একটি ওয়াশরুমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তখন তাকে হত্যা করেন অস্কার পিস্টোরিয়াস।

ছবি: অস্কার পিস্টোরিয়াস

পিস্টোরিয়াসের মুক্ত হতে এখনও দুই মাস বাকি!

২০১৪ সালে সাবেক ক্রীড়াবিদ পিস্টোরিয়াসকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গৃহবন্দী অবস্থায় চাচার বাড়িতে অবস্থান করেছেন ১ বছর। সে সময় তার বিচারকার্য  চলমান থাকায় কোথাও যাওয়ার অনুমতি ছিল না তার। এক বছর পর সুপ্রিম কোর্ট হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করলে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ঘটনা গুরতর বলে বিবেচিত হওয়ার পরে তা বাড়িয়ে ১৩ বছর এবং পাঁচ মাস করা হয়েছিল। প্যারোল বোর্ড তাকে চলতি বছরের মার্চে প্যারোলে প্রত্যাখ্যান করার পর শুক্রবার তার মামলা আবার বিবেচনা করে।

পিস্টোরিয়াস কখন প্যারোলের জন্য যোগ্য হবেন তা গণনা করার জন্য তার আইনজীবী সাংবিধানিক আদালতে আবেদন করে।  তার মামলা নিয়ে যাওয়ার পরে দ্বিতীয় প্যারোলের শুনানির সিদ্ধান্ত আসে। তাকে প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল যে তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে যোগ্য হবেন। গুরুতর অপরাধীরা কমপক্ষে অর্ধেক সাজা ভোগ করার পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্যারোলের জন্য যোগ্য হয়।

জুন স্টিনক্যাম্প তার বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘আমি অস্কারের কথা বিশ্বাস করি না যে তিনি টয়লেটে থাকা ব্যক্তিটিকে একজন চোর ভেবেছিল। আমার মেয়ে নিশ্চয়ই বাঁচার জন্য চেষ্টা করছিল এবং সে সময় তাকে হত্যা করা হয়।’ তার স্বামী ব্যারি স্টিনক্যাম্প তার সাথে মূল বিচারের বাদী ছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ৮০ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

ছবি: অস্কার পিস্টোরিয়াস কিভাবে কৃত্রিম পা ছাড়া হাঁটেন তা আদালতে প্রদর্শন করছেন 

পিস্টোরিয়াস ১৯৮৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১১ মাস বয়সে জন্মগত ত্রুটির কারণে তার উভয় পা হাঁটুর নীচে কেটে দেওয়া হয়েছিল। তিনি অলিম্পিকের মতো আসরে প্যারালিম্পিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়েছিলেন এবং প্রথম ডাবল অ্যাম্পুটি হয়েছিলেন। সেই থেকে তিনি তারকা খেলোয়াড় হিসেবে দর্শক জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকেন।

তার কৃত্রিম ব্লেডের কারণে তিনি ব্লেড রানার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পিস্টোরিয়াস অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তারকা এবং সবচেয়ে বিখ্যাত প্যারালিম্পিক ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।



   

ইয়েমেন উপকূলে তেল ট্যাঙ্কারে হামলা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে ইয়েমেন উপকূলে গ্রীকের একটি তেল ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজটির সামান্য ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড এ কথা জানিয়েছে।

বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সেন্টকম বলেছে, ১৮ মে রাত ১টার (সানা সময়) দিকে ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরে গ্রীক মালিকানাধীন একটি তেল ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে জাহাজ বিধ্বংসী একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। জাহাজটি পানামা পতাকাবাহী ছিল।

সেন্টকমের বার্তায় বলা হয়, জাহাজটি সম্প্রতি রাশিয়ায় নোঙর করে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল।পরে জাহাজটি ফের যাত্রা শুরু করে।

এরআগে মেরিটাইম সিকিউরিটি ফার্ম অ্যামব্রে এ হামলার কথা জানিয়ে বলেছিল, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মোখা নগরী উপকূলে জাহাজটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

;

নেতানিয়াহুকে গ্যান্টজের হুমকি



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসরােয়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ধর্মান্ধের পথ ছেড়ে জাতির স্বার্থ রক্ষার কথা বলেন ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গ্যান্টজ। তিনি গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা না থাকলে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন।

শনিবার (১৮ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গাজার জন্য ৮ জুনের মধ্যে ছয়টি কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনার দাবি করেছেন গ্যান্টজ।

গ্যান্টজের এ ধরনের মন্তব্য ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ও নেতানিয়ানহু সরকারের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ফাটলের চিত্র তুলে ধরেছে। গ্যান্টজ গাজায় ৬ টি কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য ৮ জুনের মধ্যে একটি পরিকল্পনা করার ওপরও জোর দেন । যার মধ্যে আছে গাজায় হামাস শাসনের অবসান এবং অঞ্চলটিতে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, ‘‌নেতানিয়াহু যদি জাতীয় বিষয়কে ব্যক্তিগত বিষয়ের ওপর স্থান দেন, তাহলে এ সংগ্রামে আমাদের পাশে পাবেন। কিন্তু তিনি যদি ধর্মান্ধের পথ বেছে নেন এবং পুরো জাতিকে অতল গহ্বরে নিয়ে যান, তাহলে আমরা এ সরকার ছাড়তে বাধ্য হব। ’

অবশ্য নেতানিয়াহু তার এই মন্তব্যকে ফালতু কথা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এর অর্ধ ইসরায়েলের পরাজয়।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন গাজায় বেসামরিক ও সামরকি শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য ইসরায়েলের যে কোনো পরিকল্পনা নেই তা যেন নেতানিয়ানহু জনসম্মুখে বলেন।

;

‘একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক’ রোধে কানাডায় প্রশাসনিক চাপ 



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে জনসাধারণের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় সব মহাসাগরে প্লাস্টিকের পরিমাণের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন দেশে নেওয়া হচ্ছে আইনি বা বিকল্প ব্যবহারযোগ্য পণ্যের উৎপাদনের পদক্ষেপ।

সম্প্রতি কানাডার পার্লামেন্টে প্লাস্টিক দূষণ রোধের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কনজারভেটিভ দল থেকে আবারও দাবি তোলা হয়। এর আগে ২০২০ সালে প্রথম দাবিটি তোলা হয়েছিল। দেশটির সংবাদমাধ্যম সিবিসির প্রতিবেদনে সে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

মূলত, একক-ব্যবহারের প্লাস্টিক হল ডিসপোজেবল প্লাস্টিক যা একবার ব্যবহার করে ফেলে দিতে হয়। পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিকের পানীয়ের বোতল ও বোতলের ক্যাপ, খাবারের মোড়ক, প্লাস্টিকের প্যাকেট, প্লাস্টিকের মোড়ক, স্ট্র, স্টিরার্স, স্টাইরোফোমের কাপ বা প্লেট, এয়ারবাড, প্লাস্টিকের কাপ-প্লেট-চামচ-গ্লাস-ছুরি, ট্রে, মিষ্টির বাক্স বাঁধার রিবন, থার্মোকল, স্টিয়ারার, সিগারেটের প্যাকেট, আইসক্রিম ও ক্যান্ডি স্টিক ইত্যাদি হল একক-ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক।

সিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়,  টরন্টো ইউনিভার্সিটি অব আর্থ সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মরিয়ম ডায়মন্ড বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি  প্লাস্টিক উৎপাদন করেছি যা শেষ পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ন্যানোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে পরিবেশকে দূষিত করছে এবং এতে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে।’

ডায়মন্ড বলেছেন, বৃহত্তর পরিবেশ ঝুঁকির আশঙ্কাকে প্রাধান্য না দিয়ে প্লাস্টিকের এমন অধিক ব্যবহার দেখে  তিনি উদ্বিগ্ন। 

ডায়মন্ড সায়েন্টিস্ট কোয়ালিশন ফর অ্যান ইফেক্টিভ প্লাস্টিক ট্রিটির সদস্য এবং রাসায়নিক দূষণের আন্তর্জাতিক প্যানেলেরও ভাইস-চেয়ার। তার পরামর্শ হল- তরল জাতীয় খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্লাস্টিক স্ট্র পরিহার করতে হবে। যাদের  শারীরিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে তারা ছাড়া বাকিদের স্ট্র ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করেন তিনি।  প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করার কোনো দরকার নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কনজারভেটিভ দলের এমপি কোরি টোচর গত মাসে হাউস অফ কমন্সে সি-৩৮০ বিল নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, কানাডিয়ান এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন অ্যাক্টের অধীনে বিষাক্ত পদার্থ হিসেবে উৎপাদিত প্লাস্টিক আইটেমগুলোকে তালিকাভুক্ত করে সেসব নিধনের পদক্ষেপ নেওয়াটা জরুরি। 

অবশ্য এমন একটি তালিকা এরই মধ্যে করা হয়েছে যার অন্যতম উপাদান এই একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক। এই তালিকাটি ছিল ফেডারেল সরকারের একক-ব্যবহারের প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার জন্য একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ, যা বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া পদক্ষেপ।

হাউসে টোচরের বিল নিয়ে বিতর্ক হওয়ার পাঁচ দিন পরে, কনজারভেটিভ এমপি ব্র্যান্ডেন লেসলি একটি আট মিনিটের ভিডিও পোস্টে বলেন, পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ ব্যবহার বাড়াতে হবে। কেনাকাটা, খাওয়া, সমুদ্রে ভ্রমণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্লাস্টিক এড়িয়ে এর বিকল্প ব্যবহারে ঝুঁকতে হবে।

ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসোর্স এবং পরিবেশগত গবেষণার স্কুলের অধ্যাপক টনি ওয়াকার বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।’ 

উল্লেখ্য, কানাডার পরিসংখ্যান অনুযায়ী,, ২০১৬ সালে কানাডার ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার টন। ২০১৯ সালে সেই প্লাস্টিক দূষণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ১৪০ টনে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবেই ২০২০ সালে দেশটিতে সি-৩৮০ বিল উত্থাপন করা হয়। সেই ফেডারেল মূল্যায়নে বলা হয়, যেহেতু প্লাস্টিক খুব ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং পরিবেশে স্থায়ী অবস্থান নেয়, তাই প্লাস্টিক দূষণের পরিমাণ সময়ের সাথে সাথে বাড়তেই থাকবে। প্লাস্টিক দূষণের ফলে পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের উপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে তাতে উদ্বেগ বাড়ছে। এর সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।’

ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) অনুসারে, একক-ব্যবহারের প্লাস্টিক ধীরে ধীরে এবং ধীরে ধীরে প্লাস্টিকের ছোট ছোট টুকরোতে ভেঙে যায় যা মাইক্রোপ্লাস্টিক নামে পরিচিত। এসব প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কারণ এটি অ-বায়োডিগ্রেডেবল এবং পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হতে কয়েক বছর সময় নেয়। প্লাস্টিকের ব্যাগগু পঁচতে হাজার হাজার বছর সময় লাগতে পারে, এতে মাটি এবং জল দূষিত হয়। প্লাস্টিক তৈরি করতে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিকগুলো প্রাণীর টিস্যুতে স্থানান্তরিত হয় এবং অবশেষে, মানব খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে।

কোনো প্লাস্টিকই বায়োডিগ্রেডেবল নয়। তবে কোনো প্লাস্টিক ১০০ মাইক্রনের থেকে পাতলা হলে, তার চরিত্র বেশি ভঙ্গুর হয়। অর্থাৎ, অল্পসময়ের মধ্যেই ছোটো ছোটো টুকরোতে ভেঙে যায় এই ধরনের প্লাস্টিক। যা আমাদের কাছে পরিচিত মাইক্রোপ্লাস্টিক নামে। সাধারণ প্লাস্টিক পণ্যের থেকেও আণুবীক্ষণিক এই প্লাস্টিক কণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। এই সংক্রান্ত একাধিক তথ্যও সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট থেকে শুরু করে গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ-সর্বত্রই হদিশ মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের। বাস্ততন্ত্রের ক্ষতিসাধন তো বটেই, খাদ্য এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে মানুষের দেহেও অবাধে প্রবেশ করছে মাইক্রোপ্লাস্টিক।

;

আরাকান আর্মির দখলে মিয়ানমারের বুথিডং শহর



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মিয়ানমারে লড়াইরত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) দাবি করেছে, জান্তা বাহিনীর কাছ থেকে তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডং শহর  দখল করে নিয়েছে।

রোববার (১৯ মে) যুক্তরাজ্যের বার্তাসংস্থা রয়টার্সের কাছে আরাকান আর্মি (এএ) এ দাবি করে বলেছে, কয়েক সপ্তাহ লড়াইয়ের পর শনিবার রাতে তারা শহরটির দখল নিতে সক্ষম হয়।

এদিকে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আরাকান আর্মি শহর থেকে তাদের বিতাড়িত করছে। তবে এএ অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেছে।

শহর দখল বিষয়ে আরাকান আর্মির এক মুখপাত্র খিন থু খা রয়টার্সকে জানান, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শহর বুথিডং শহর কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ের পর জান্তা বাহিনীর কাছ থেকে দখল নিতে সক্ষম হয়েছে।

এক টেলিফোন বার্তায় তিনি রয়টার্সের প্রতিনিধিকে জানান, শনিবার রাতে সামরিক জান্তার কাছ থেকে বুথিডং শহরের সেনা ঘাটি আরাকান আর্মি পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে এবং সেইসঙ্গে পুরো শহরটি তারা নিয়ন্ত্রণ করছে।

অপরদিকে, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, আরাকান আর্মি তাদেরকে জোর করে বুথিডং ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিতাড়িত করছে।

এ বিষয়ে ‘ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন অ্যাডভোকেসি' গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা নে সান লুউন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, শহরতলির কয়েকটি এলাকায় আরাকান আর্মির সদস্যরা রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করে এবং এসময় কারো কারো বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আরাকান আর্মির বুথিডং শহরের দখলের বিষয়ে জান্তা বাহিনীর কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেনি রয়টার্স।

;