দুই শতাধিক বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে বুরকিনা ফাসোর সেনাবাহিনী



ziaulziaa
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) নতুন একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুরকিনা ফাসোর সামরিক বাহিনী গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দুটি গ্রামে কমপক্ষে ৫৬ জন শিশুসহ ২২৩ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।’

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নন্দিন ও সোরোর উত্তরাঞ্চলীয় গ্রামে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গণহত্যার ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক অধিকার গোষ্ঠীটি বলেছে, গণহত্যাটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক সামরিক অভিযানের অংশ বলে ধারণা হচ্ছে।

বুরকিনা ফাসোর সেনারা ননদিনে ২০ শিশুসহ কমপক্ষে ৪৪ জনকে এবং কাছাকাছি সোরোতে ৩৬ জন শিশুসহ ১৭৯ জনকে হত্যা করে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, তারা গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে কয়েক ডজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের শেয়ার করা ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করেছে।

তারা জীবিতদের দ্বারা নিহতদের নামের তালিকাও পেয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে আটটি গণকবরের ভূ-অবস্থান সনাক্ত করেছে বলে জানা গেছে।

গত ২৪ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ব্যারাক এবং ঘাঁটিসহ সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং ধর্মীয় স্থানগুলোর মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে দেশজুড়ে হামলা চালায়। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক, সেনা এবং মিলিশিয়া সদস্য নিহত হন।

বুরকিনা ফাসোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মাহামুদু সানা ওই হামলাকে একযোগে এবং সমন্বিত আক্রমণ হিসাবে অভিহিত করে নিন্দা করলেও নন্দিন এবং সোরোতে বেসামরিকদের গণহত্যার বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি।

রয়টার্স জানিয়েছে, আল-কায়েদা, আইএসআইএল (আইএসআইএস) এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াইয়ের ফলে বেসামরিক লোকেরা মারা পড়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বর্তমানে বুরকিনা ফাসোর প্রায় অর্ধেক সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চলমান সহিংসতায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং দুই মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বে একটি সামরিক সরকার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যিনি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে একটি অভ্যুত্থানেন মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিলেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বুর্কিনা ফাসোর থিউ জেলার মধ্যে নন্দিন এবং সোরোকে আল-কায়েদার সহযোগী জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিম (জেএনআইএম) দ্বারা অবরুদ্ধ করা অনেক গ্রামের মধ্যে একটি বলে মনে করা হয়।

এইচআরডব্লিউ-এর নির্বাহী পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, ‘নন্দিন এবং সোরো গ্রামে গণহত্যা হলো বুরকিনা ফাসোর সামরিক বাহিনী কর্তৃক বিদ্রোহ বিরোধী অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সর্বশেষ গণহত্যা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের নৃশংসতা প্রতিরোধ ও তদন্ত করতে বুর্কিনাবে কর্তৃপক্ষের বারবার ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে। মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধের একটি বিশ্বাসযোগ্য তদন্তকে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।’

জাতিসংঘ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নকে তদন্ত সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

   

ভারতে ৭২ ঘণ্টায় হিটস্ট্রোকে ১৫ জনের মৃত্যু



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ভারতের বিভিন্ন এলাকা। অহসনীয় গরমে অতিষ্ঠ এসব এলাকার বাসিন্দারা। গত তিনদিনে হিটস্ট্রোকে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। এরমধ্যে রাজধানী দিল্লিতে প্রাণ গেছে পাঁচজনের। অন্যদিকে নয়ডায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১০ জন।

এছাড়াও দিল্লির হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোকের কারণে অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

বুধবার (১৯ জুন) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দুস্থান টাইমস ও এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. অজয় ​​শুক্লা জানান, হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে রাম মনোহর হাসপাতালে ২২ জন ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচজন। এছাড়াও ১২-১৩ জন লাইফ সাপোর্টে আছেন।

রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের সিনিয়র এক ডাক্তার জানান, হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ। মৃত্যুহার বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি রোগীকে হাসপাতালে দেরি করে আনা ও অসচেতনতাকে দায়ী করছেন।

তিনি আরও জানান, হিটস্ট্রোকে যাদের মৃত্যু হচ্ছে তাদের অধিকাংশই পেশায় শ্রমিক। এজন্য আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। শ্রমিকদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। যারা হিটস্ট্রোকে পড়ছেন তাদের হাসপাতালে আনার আগে ঠান্ডায় রাখতে হবে। বেশি বেশি পানি পান করাতে হবে।

এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া অফিস দেশটির রাজধানীতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। শহরের বাসিন্দাদের দীর্ঘ সময় বাইরে না থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

গত একমাস ধরে দিল্লির বাসিন্দারা তীব্র তাপপ্রবাহে ভুগছেন। শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখন ৩৫ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির কাছাকাছি। দিনভর গরমের কারণে নলকূপেও গরম পানি বের হচ্ছে। এমনকি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষগুলোতে গরমের কারণে অস্বস্তি বিরাজ করছে।

দেশটির আবহাওয়া অফিস এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, উত্তর ভারতের বেশিরভাগ অংশে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতি আগামী ২৪ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকতে পারে। পরবর্তীতে তা হ্রাস পেতে পারে।

;

গেম কন্ট্রোলের সঙ্গে জ্যান্ত সাপ ফ্রি! (ভিডিও)



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একজন গ্রাহক অনলাইনে অর্ডার করেছিলেন একটি গেম কন্ট্রোলারের। সেটি কুরিয়ারে পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে ডেলিভারি বক্সে পাওয়া গেছে একটি জীবন্ত পদ্মগোখরা সাপও, তবে একদম ফ্রি!

সাপটির দংশনের হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন গ্রাহক। সেই সঙ্গে ডেলিভারি বক্সে থাকা সাপটির ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্নাটক রাজ্যে।

মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) বেঙ্গালুরু শহরের একজন নারী গ্রাহক এভাবেই ফ্রি-তে পাওয়া ঘটনাটির মজাদার বর্ণনা দেন। তার নাম তানভি

বুধবার (১৯ জুন) ভারতের এনডিটিভির খবর বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের দ্য ইনডিপেনডেন্ট এ খবর জানায়।

তানভি ১৭ জুন এক্সে জীবন্ত সাপের ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, আমি অ্যামাজনে ‘এক্সবক্স কন্ট্রোলার’ (গেম কন্ট্রোলার) অর্ডার করেছিলাম। সেটি পেয়েছি। সেইসঙ্গে একটি সাপ পেয়েছি একদম ফ্রি।

পরে সাপটিকে মুক্ত পরিবেশে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ভারতের কর্নাটক রাজ্যে পদ্মগোখরা সাপ অহরহই দেখা মেলে।

;

২৪ বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে পুতিন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দীর্ঘ সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই দুই দিনের সফরে উত্তর কোরিয়ায় পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। স্থানীয় সময় বুধবার (১৯ জুন) রাত ৩টার দিকে তিনি পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছেন। পুতিনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন।

পুতিনকে স্বাগত জানাতে রাত ৩টায় বিমানবন্দরের টারমাকে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিম। উত্তর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রাথমিক সাক্ষাতে দুই রাষ্ট্রপ্রধান যথেষ্ট আবেগঘন ছিলেন। বিমানবন্দরে নামার পর কিম জং উন রুশ প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানান। এত রাত্রে তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য পুতিন কিমকে ধন্যবাদ জানান।

দীর্ঘ ২৪ বছর পর ‍উত্তর কোরিয়া সফরে এসেছেন পুতিন। সর্বশেষ ২০০০ সালের জুলাইয়ে তিনি পিয়ংইয়ং সফর করেন।
উত্তর কোরিয়া যাওয়ার আগে মঙ্গলবার (১৮ জুন) পূর্ব সাইবেরিয়ার শহর ইয়াকুতস্কে যান পুতিন। সেখান থেকে তিনি উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন। এ সময় অন্তত একটি যুদ্ধ বিমান পুতিনের বিমানকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়।

পুতিনের সঙ্গে সফরে দেশটির বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি প্রতিনিধিদল রয়েছে। এসব ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও পুতিনের জ্বালানিবিষয়ক প্রধান উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক।

সফরে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে একটি অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন পুতিনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ।

তিনি বলেন, চুক্তিটি দেশ দুটির মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়াবে। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশ দুটির মধ্যে যা হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় রেখেই এই চুক্তি সই করা হবে। তবে এ চুক্তি সরাসরি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না।

উত্তর কোরিয়ার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভিয়েতনাম সফরে যাবেন এবং বাণিজ্যসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

;

২১ বাংলাদেশিসহ মক্কায় ৫৭৭ হজযাত্রীর মৃত্যু



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবে এ বছর হজ পালনে গিয়ে কমপক্ষে ৫৭৭ জন হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশিরভাগেরই মৃত্যুর কারণ তীব্র গরম। এদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মিশর থেকে আসা হজযাত্রী ৩২৩ জন। এর বাইরে মৃতদের তালিকায় জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সেনেগালের হজযাত্রীরাও রয়েছেন। এছাড়া ২১ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে ১৭ জন এবং পরে চারজন। মারা যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ ও তিনজন নারী। তাদের মধ্যে মক্কায় ১৬ জন, মদিনায় চারজন এবং মিনায় একজন মারা গেছেন।

মক্কার পার্শ্ববর্তী বৃহত্তম আল-মুয়াইসেম হাসপাতালের মর্গ থেকে হজযাত্রী মৃত্যুর সংখ্যাটি পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত হজযাত্রীদের মধ্যে ৫৭৫ জনই মারা গেছেন হিটস্ট্রোক ও গরমজনিত অন্যান্য শারীরিক সমস্যায়। এছাড়া ২ জন মারা গেছেন পাথর নিক্ষেপের সময় পদদলিত হয়ে।

এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ হজযাত্রী মৃত্যুর বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে তীব্র গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে ২ হাজারেরও বেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলোর মধ্যে একটি হজ। প্রতি বছর সৌদি আরবে হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লাখ লাখ মানুষ জড়ো হন। এ বছর হজ মৌসুমে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ১৮ লাখের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করেছেন।

;