ইউনেস্কো পুরস্কার পেল কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর মসজিদ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর জামে মসজিদ

কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর জামে মসজিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা বা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে দেড় শ’ বছরের পুরোনো দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। প্রাচীন এ মসজিদটি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মসজিদ অবস্থিত।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) ইউনেস্কোর এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অফিস থেকে অনলাইনে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

ফিজি থেকে শুরু করে কাজাখাস্তান পর্যন্ত এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের শ্রেষ্ঠ কাজগুলোকে প্রতিবছর স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এ পুরস্কারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ডস ফর কালচারাল হেরিটেজ কনসারভেশন।’

২০২১ সালে ছয়টি দেশের নয়টি স্থাপনাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছে কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থাপনা এ বছর ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে।

পুরোনো মসজিদের পাশে নতুন তৈরি মসজিদ

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর ইউনিয়নের এই মসজিদটি ১৮৬৮ সালে নির্মাণ করা হয়। তখনকার জনসংখ্যার বিবেচনায় এটি ছোট আকারে নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর মসজিদটি একাধিকবার সম্প্রসারণ করা হয়। কালের পরিক্রমায় মসজিদের অবকাঠামো ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাচ্ছিল। কয়েক বছর আগে মসজিদটিকে সংস্কার করে পুরনো রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন সেখানকার সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ এ সংস্কার কাজের নেতৃত্ব দেন। ২০১৮ সালে এর সংস্কার কাজ শেষ হয়। পুরোনো মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয় নতুন আরেকটি মসজিদ। পুরোনো মসজিদটি এখন লাইব্রেরি এবং মক্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাবার জন্য তিনি আবেদন করেন।

ইউনেস্কো এক বিবৃতিতে জানায়, এসব স্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যের যে বৈচিত্র্য ধরে রাখা হয়েছে সেটি সত্যিই প্রশংসার বিষয়। যেসব স্থাপনা পুরস্কার পেয়েছে সেগুলোতে টেকসই উন্নয়নের নানা দিক রয়েছে। পুরোনো স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ঠিকমতো হয়েছে কি না সেটি বিশ্লেষণ করে দেখে ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞ কমিটি। সংস্কারের মাধ্যমে পুরনো রূপ দেওয়া হয়েছে দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদকে।

মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেড় শ’ বছর আগে এই মসজিদটি নির্মাণের সঙ্গে আমার পূর্বপুরুষদের ভূমিকা ছিল। ১৮৬৮-তে এর গোড়াপত্তন। ১৯৬৮ সালে আমার আব্বা (প্রয়াত অধ্যাপক হামিদুর রহমান) তৈরি করেন মসজিদের মিনার। বংশ পরম্পরায় আমি এর দায়িত্ব নিই। স্থানীয় জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মসজিদ সংস্কারের প্রয়োজন পড়ে। আমাদের লক্ষ্য ছিল, পুরোনোকে সঙ্গে নিয়ে নতুনের কথা বলা। এরপর আমাদের পথ চলায় যুক্ত হলেন স্থপতি আবু সাঈদ।

মসজিদটি দেখতে খুব সুন্দর

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ জানান, পুরোনো স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি এবং বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগকে উৎসাহ দেয় ইউনেস্কো। সেজন্য ২০০০ সাল থেকে এ পুরষ্কার চালু করেছে ইউনেস্কো। দোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদ ইউনেস্কোর মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে। সাধারণত বাংলাদেশে পুরোনো মসজিদ ভেঙ্গে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এক্ষেত্রে পুরোনোটা রেখে নতুনটা তৈরি করা হয়েছে এবং পুরোনোটাকে একেবারে আদি অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

অহঙ্কারমুক্ত জীবন, জান্নাত লাভের কারণ



মো. আকতার হোসেন, অতিথি লেখক, ইসলাম
নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন লোককে পছন্দ করেন না, যে বড় হওয়ার গৌরব করে ও অহঙ্কার করে

নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন লোককে পছন্দ করেন না, যে বড় হওয়ার গৌরব করে ও অহঙ্কার করে

  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষ যখন নিজকে অন্যকোনো মানুষ থেকে উন্নত, উত্তম, ক্ষমতাধর কিংবা বড় মনে করে অথবা কাউকে কোনোভাবে নিজের চেয়ে হেয় মনে করে তখন তার এই মানসিকতাকে অহঙ্কার বলে। এটি একটি মানসিক অনুভূতি, তবে কাজে-কর্মে এর প্রকাশ ঘটে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, অহঙ্কার একমাত্র আল্লাহর অধিকার। কোনো মানুষ যখন গর্ব অহঙ্কার করে তখন মূলত সে আল্লাহর অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। কারণ মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত নিয়েই অহঙ্কারে লিপ্ত হয়।

আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে সবাইকে তার নেয়ামত ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, মেধা ও যোগ্যতা সমানভাবে প্রদান করেন না। তার এই নেয়ামত কাউকে দেন আবার কাউকে দেন না, কারও ক্ষেত্রে কমবেশি করেন। মানুষের উচিত হলো, আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। মানুষ যখন আল্লাহর নেয়ামতের কথা ভুলে এটাকে নিজের সম্পদ কিংবা উপার্জন মনে করে, তখনই অহঙ্কারের সূত্রপাত হয়। অহঙ্কারের কারণে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।

কোরআন ও হাদিসে অহঙ্কারী ব্যক্তির পরিণতি ও শাস্তি সম্পর্কে বিশদ আলোকপাত করা হয়েছে। আল্লাহ অহঙ্কারীকে ভালোবাসেন না ও পছন্দ করেন না। কোরআনে কারিমের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহর ঘোষণা-

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন লোককে পছন্দ করেন না, যে বড় হওয়ার গৌরব করে ও অহঙ্কার করে।’ –সুরা আন নিসা : ৩৬

‘মানুষের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে রেখে কথা বলো না এবং পৃথিবীতে গর্বের সঙ্গে চলবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো বড়াইকারী ও অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না।’ -সুরা লুকমান : ১৮

‘যাতে তোমাদের যতটুকুই ক্ষতি হয়ে গেছে সে জন্য তোমরা হতাশ না হও এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন তাতে তোমরা খুশিতে আত্মহারা না হও। আল্লাহ এমন লোকদেরকে পছন্দ করেন না, যারা নিজেদেরকে বড় মনে করে এবং অহঙ্কার করে।’ –সুরা হাদিদ : ২৩

অহঙ্কারী ব্যক্তির সর্বশেষ পরিণতি হলো- জাহান্নাম। কেননা সে অহঙ্কারের মাধ্যমে আল্লাহর গোলামি হতে নিজেকে মুক্ত করে বেপরোয়া হয়ে যায়। নিজকে অনেক বড় ও ক্ষমতাবান এবং শক্তিশালী মনে করে এবং মানুষকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মনে করে।

এ প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহঙ্কার রয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এক ব্যক্তি বললেন, কোনো ব্যক্তি পছন্দ করে তার কাপড় সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক (তাও কি অহঙ্কার?) হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। প্রকৃতপক্ষে অহঙ্কার হলো- আল্লাহর গোলামি থেকে বেপরোয়া হওয়া এবং মানুষকে অবজ্ঞা করা।’ –সহিহ মুসলিম

শুধু পরকাল নয়, মহান আল্লাহ অহঙ্কারের শাস্তি দুনিয়াতেও প্রদান করে থাকেন। ইতিহাসে দেখা যায়, পূর্বের অনেক জাতিকে ধন-সম্পদ ও শাসনক্ষমতা নিয়ে অহঙ্কার ও বাড়াবাড়ির কারণে আল্লাহ দুনিয়াতেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করেছেন।

ইরশাদ হয়েছে, ‘এমন কত জনপদ আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, সেখানকার লোকেরা ধন-সম্পদের অহঙ্কার করত। এই যে তাদের বাড়িঘর পড়ে আছে, যেখানে তাদের পর কম লোকই বসবাস করেছে। শেষ পর্যন্ত আমি (এ সবেরই) ওয়ারিশ হয়েছি।’ –সুরা কাসাস : ৫৮

আদ, সামুদ, মাদিয়ান ও লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়ের ধ্বংসের ইতিহাস কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া পূর্ববর্তী আরও অনেক শাসক ও ক্ষমতাধরদের অহঙ্কার প্রদর্শন করায় আল্লাহ তাদের সমুচিত শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাদের করুণ পরিণতির ইতিহাস বিশ্ববাসীর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ফেরাউন, হামান, নমরুদের মতো শাসকদের ইতিহাস আজো মানুষ ঘৃণাভরে স্মরণ করে।

প্রকৃত মুমিন ও আল্লাহর দ্বীনের পথের দায়ীরা (ইসলামের পথে আহ্বানকারী) যেকোনো অবস্থায় গর্ব ও অহঙ্কার পরিত্যাগ করবে। তাদের কথা, কাজ ও আচরণে অহঙ্কার নয় বিনয় প্রকাশ পাবে। কেননা মুমিনের ভূষণ আর অহঙ্কার খোদাদ্রোহী ও আখেরাতে অবিশ্বাসীদের ভূষণ।

মুমিনদের উদ্দেশে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মাটির বুকে গর্বের সঙ্গে চলবে না। নিশ্চয়ই তুমি কখনও পদচাপে জমিনকে বিদীর্ণ করতে পারবে না, আর পাহাড়ের সমান উঁচু হতেও পারবে না।’ –সুরা বনি ইসরাইল : ৩৭

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা আমার কাছে এই মর্মে অহি প্রেরণ করেছেন, তোমরা সকলে বিনয়ী হও, যাতে কেউ কারোর সঙ্গে বাড়াবাড়ি করতে না পারে এবং কেউ কারোর সঙ্গে গর্ব করতে না পারে। -সুনানে আবু দাউদ

অনেক মানুষ আছে, যারা দামি ও মূল্যবান পোশাক পরিধান করে অহঙ্কার প্রকাশ করে। তাদের ব্যাপারে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত স্বীয় বস্ত্র মাটির ওপর দিয়ে টেনে চলে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। তখন হজরত আবু বকর (রা.) বলেন, আমার লুঙ্গি অসতর্ক অবস্থায় ঢিলা হয়ে পায়ের গিরার নিচে চলে যায়, যদি না আমি তা ভালোভাবে বেঁধে রাখি। অতঃপর রাসুল (সা.) বলেন, তুমি তা অহঙ্কারবশত কর না। -সহিহ বোখারি

অহঙ্কার নেক আমল নষ্ট করে দেয়। অহঙ্কার থেকে বাঁচতে আল্লাহ প্রদত্ত ধন-সম্পদ, জ্ঞান যোগ্যতাকে আল্লাহ প্রদত্ত দয়া, রহমত ও নেয়ামত ভেবে এসবের শোকরিয়া আদায় করতে হবে। আর যে ব্যক্তি এসব নেয়ামত পাননি তার জন্য মহান রবের দরবারে দোয়া করতে হবে। যাতে আল্লাহ তাকেও এসব নেয়ামত দান করেন। আর এই মানসিকতা পোষণ করতে হবে, আমি যে ইবাদত-বন্দেগি করছি তা আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের তুলনায় অতি নগণ্য। কাজেই আমার গর্ব করার কিছুই নেই। আল্লাহ প্রদত্ত এ নেয়ামত যেকোনো মুহূর্তে ছিনিয়ে নিতে পারেন, তিনি একজন বাদশাকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ফকিরে পরিণত করতে পারেন। আমাদের সব নেয়ামত আল্লাহর দান। আর এ নিয়ে গর্ব করার অর্থ, দানকারীর দানের অবজ্ঞা করা। অতএব আমাদের সর্বদা সাবধান থাকতে হবে যাতে কখনোই সম্পদ, শক্তি, ক্ষমতা, শিক্ষা, সৌন্দর্য, পেশা বা অন্যকোনো নেয়ামতের কারণে অহঙ্কার না করি এবং হেয়প্রতিপন্ন না করি।

;

আল্লাহতায়ালা যাদের ভালোবাসেন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন

আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন

  • Font increase
  • Font Decrease

মহান আল্লাহর ভালোবাসা ও তার সন্তুষ্টি অর্জন মুমিন জীবনের পরম লক্ষ্য। আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমের বিভিন্ন স্থানে এমন কিছু গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর কারণে ওই বান্দাদের তিনি ভালোবাসেন। আল্লাহতায়ালার ভালোবাসার মানুষদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে-
১. ‘আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ -সুরা বাকারা : ১৯৫
২. ‘আল্লাহ পবিত্র মানুষদের ভালোবাসেন।’ -সুরা তওবা : ১০৮
৩. ‘আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।’ –সুরা বাকারা : ২২২
৪. ‘আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।’ -সুরা আলে ইমরান : ৭৬
৫. ‘আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।’ -সুরা আলে ইমরান : ১৪৬
৬. ‘আল্লাহ (তার ওপর) নির্ভরকারীদের ভালোবাসেন।’ -সুরা আলে ইমরান : ১৫৯
৭. ‘আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠদের ভালোবাসেন।’ -সুরা মায়িদা : ৪২

বুজুর্গ আলেমরা বলেছেন, আল্লাহতায়ালা ও বান্দার সম্পর্ক পারস্পরিক। মূলত বান্দা যখন আল্লাহমুখী হয়, তখন আল্লাহতায়ালা তাকে ভালোবাসার ছায়ায় আশ্রয় দেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়াকে ভালোবাসে, আল্লাহও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়াকে ভালোবাসেন; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়াকে অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়াকে অপছন্দ করেন।’ –সহিহ বোখারি : ৬৫০৮

যেভাবে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া যায়
আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা লাভে প্রথম কাজ হলো- জাগতিক সম্পর্কগুলোকে ছিন্ন করা। অর্থাৎ গায়রুল্লাহর ভালোবাসাকে মন থেকে বের করে দেওয়া। কেননা দুই জিনিসের ভালোবাসা এক অন্তরে জমা হতে পারে না। পাশাপাশি আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, তার গুণাবলি ও নেয়ামতগুলোর কথা স্মরণ করা এবং তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা।

আল্লাহর প্রতি অনুরাগ
যেহেতু মুমিন আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, তাই মুমিন তার অন্তরে সবসময় আল্লাহর প্রতি অনুরাগ অনুভব করবে। অনুরাগ হলো এমন প্রিয় ও কাঙ্ক্ষিত বস্তু, যার কিছুটা জানা ও কিছুটা অজানা, তাকে পরিপূর্ণ জানা ও দেখার সহজাত আগ্রহ। অনুরাগ ভালোবাসার জন্য অপরিহার্য। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার পবিত্র চেহারার দর্শন এবং আপনার সাক্ষাতের প্রতি অনুরাগ ও আগ্রহ প্রার্থনা করছি।’ -সুনানে নাসায়ি : ১৩০৫

অনুরাগীর প্রতি আল্লাহর অঙ্গীকার
যারা আল্লাহর প্রতি অনুরাগ পোষণ করে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর অঙ্গীকার হলো, ‘যে আল্লাহর সাক্ষাতের আশা পোষণ করে, তার জন্য আল্লাহর নির্ধারিত সময় অবশ্যই আছে।’ -সুরা আনকাবুত : ৫

ভালোবাসার পুরস্কার সন্তুষ্টি
যারা আল্লাহকে ভালোবাসে এবং তার ওপর সন্তুষ্ট থাকে, তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কার হলো তার সন্তুষ্টি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।’ -সুরা তওবা : ১০০

আল্লাহর ওপর সন্তুষ্টিতেই সৌভাগ্য
বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের বিষয় হলো, আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারা। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষের সৌভাগ্যের অন্যতম হলো- আল্লাহ তার জন্য যে ফায়সালা করেছেন তার ওপর সন্তুষ্ট থাকা।’ -তিরমিজি : ২১৫১
আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকার অর্থ হলো- অন্তরে কোনো দ্বিধা ও আপত্তি না থাকা এবং মুখে অসন্তোষ প্রকাশ না করা। যখন বান্দা আল্লাহর সিদ্ধান্তে পুরোপুরি সন্তুষ্ট থাকে, তখন তার মনের ভেতর কোনো কষ্ট অনুভব করে না।

;

ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ

মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ

  • Font increase
  • Font Decrease

মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু বিশেষ সময় কিংবা মুহূর্তকে মহান আল্লাহ তাদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ করেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম সময় হলো- রাতের শেষ ভাগ। হজরত আমর ইবনে আবাসা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাতের শেষ ভাগে মহান প্রভু আল্লাহ বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন। সুতরাং তুমি এই সময় আল্লাহর স্মরণ করতে পারলে তা করো।’ –সহিহ বোখরি : ১১৪৫

তা ছাড়া মহান আল্লাহ সকাল-সন্ধ্যাকেও ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে তৈরি করেছেন। পবিত্র কোরআনে হজরত দাউদ (আ.) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমি (আল্লাহ) নিয়োজিত করেছি পর্বতকে, যাতে তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং সমবেত বিহঙ্গকুলকেও। সবাই ছিল তার অনুগত।’ –সুরা সাদ : ১৮-১৯

বর্ণিত আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, সকাল-সন্ধ্যায় শুধু মানুষই নয়। গোটা সৃষ্টি জগৎই আল্লাহর তাসবিহে নিয়োজিত থাকে। সুতরাং এই দুটি সময়ও মুমিনের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

বান্দার দৈনিক আমলগুলো মহান আল্লাহর দরবারে দুই কিস্তিতে পেশ করা হয়। দিনের আমল দিন শেষে রাত আসার আগে। আর রাতের আমল প্রতি রাতের শেষে দিনের সূর্য উদিত হওয়ার আগে।

হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সামনে পাঁচটি কথা বললেন, আল্লাহ কখনও নিদ্রা যান না। নিদ্রিত হওয়া তার সাজেও না। তিনি তার ইচ্ছানুসারে তুলাদণ্ড নামান এবং উত্তোলন করেন। দিনের আগেই রাতের সব আমল তার কাছে উত্থিত করা হয় এবং রাতের আগেই দিনের সব আমল তার কাছে উত্থিত করা হয়। এবং তার পর্দা হলো নুর (বা জ্যোতি)। -সহিহ মুসলিম : ২৯৩

মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি সময় হলো, সিজদা। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সিজদারত বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী। সুতরাং সে সময় বেশি বেশি দোয়া করো।’ –সহিহ মুসলিম : ৪৮২

আজানের সময়ও মুমিনের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মুয়াজ্জিন আজান দেয়, আসমানের দুয়ার খুলে যায় ও দোয়া কবুল হয়।’ -মাজমাউজ যাওয়ায়েদ : ১৮৮৪

আজানের পর থেকে নিয়ে ইকামতের মধ্যবর্তী সময়টিও গুরুত্বের দিক থেকে কম নয়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দোয়া কবুল হয়। সুতরাং তোমরা দোয়া করো।’ –মেশকাত : ৬৭১

এ ছাড়া ইকামত, সৈন্য সমাবেশ ও বৃষ্টির সময় মহান আল্লাহ মানুষের দোয়া কবুল করেন। তাই এই মুহূর্তগুলোকেও অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দোয়া কবুলের সুযোগ সন্ধান করো সৈন্য সমাবেশ, নামাজের ইকামত ও বৃষ্টি বর্ষণের সময়।’ -বায়হাকি

জুমার দিন বেলা ডুবার পূর্ব মুহূর্তটিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের ১২টি মুহূর্ত। তার একটি মুহূর্ত এমন, যখন কোনো মুসলিম কিছু চাইলে আল্লাহ তা তাকে দান করেন। তোমরা আসরের পরের শেষ মুহূর্তে তা অনুসন্ধান করো।’ –সহিহ বোখারি : ৬০৩৭

এ ছাড়া ইফতারের সময়, কদরের রাতে, আরাফার ময়দানে অবস্থানের সময় ও কাবাঘরের সামনে অবস্থানের সময়টুকু বান্দার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

 

;

নামাজে কাতার সংযুক্ত করে দাঁড়ানোর ফজিলত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করা অনেক ফজিলতের কাজ, সওয়াবের আমল

বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করা অনেক ফজিলতের কাজ, সওয়াবের আমল

  • Font increase
  • Font Decrease

আমরা জানি, আল্লাহতায়ালার সামনে ফেরেশতারা গায়ে গায়ে লেগে লেগে মিলে মিলে দাঁড়ায়। তারা কাতারের মাঝে কোনো ফাঁকা রাখে না। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অমনোযোগীতা ও অসাবধনতার কারণে আমরা কাতারের মাঝে বেশ ফাঁকা রেখেই নামাজে দাঁড়িয়ে যাই; ফলে কাতার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করা অনেক ফজিলতের কাজ, সওয়াবের আমল।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি (বিচ্ছিন্ন) কাতারকে যুক্ত করবে আল্লাহতায়ালা তাকে (তার রহমতের সঙ্গে) যুক্ত করবেন। আর যে কাতারকে বিচ্ছিন্ন করবে আল্লাহ তাকে (তার রহমত থেকে) বিচ্ছিন্ন করবেন।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৬৬৬

বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো, এর দ্বারা মহান আল্লাহর রহমত লাভ হয় এবং ফেরেশতাদের দোয়া-ইস্তেগফার লাভ হয়।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যারা (বিচ্ছিন্ন) কাতারকে যুক্ত করে আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর রহমত নাজিল করেন এবং তার ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া-ইস্তেগফার করে। আর যে কাতারের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে আল্লাহ তাদের মর্যাদা সমুন্নত করেন।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ : ৯৯৫

কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানো
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম সব বিষয়ে ডান দিক পছন্দ করতেন। কাতারের ক্ষেত্রেও একই কথা। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) যখন নবীজীর পেছনে নামাজ পড়তেন তখন কাতারের ডান দিকে দাঁড়াতে চেষ্টা করতেন। হজরত বারা ইবনে আযেব (রা.) বলেন, ‘আমরা যখন হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে নামাজ পড়তাম তার ডানে দাঁড়ানো পছন্দ করতাম।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৬১৫

হাদিস শরিফে কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানোর বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যারা কাতারের ডান দিকে দাঁড়ায় আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর রহমত নাজিল করেন এবং তার ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া-ইস্তেগফার করে।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৬৭৬

সুতরাং প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের স্বাভাবিকভাবেই কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা দরকার। কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে, কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানোর জন্য সামনের কাতারের বাম দিক খালি রেখে পেছনের কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানো হবে। বরং চেষ্টা করবে, না হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই নামাজে দাঁড়াবে।

;