গাইবান্ধার ‘গায়েবি মসজিদ’ কাহিনি



তোফায়েল হোসেন জাকির, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাইবান্ধা
জামালপুর শাহী মসজিদ, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা, ছবি : বার্তা২৪.কম

জামালপুর শাহী মসজিদ, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা, ছবি : বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জামালপুর শাহী মসজিদ। এটি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের পূর্বপাশে অবস্থিত। এই মসজিদকে ঘিরে রয়েছে নানা ইতিহাস। শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদটি দেখেতে প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় করেছেন।

পুরোনো এই মসজিদ সম্পর্কে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ইংরেজ শাসনামলে মসজিদটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাটির নিচে চাপা পড়ে। মসজিদ এলাকায় কোনো লোকবসতি না থাকায় বনজঙ্গলে ছেয়ে থাকা মসজিদটি সম্পর্কে মানুষজন খুব একটা জানার সুযোগ পায়নি।

ষাটের দশকের প্রথম দিকে গাইবান্ধা মহকুমা প্রশাসক হক্কানি কুতুবউদ্দিন নামে এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি এসডিও হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি স্থানীয়দের কাছে ওই মসজিদের কথা শোনেন। পরে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় মসজিদটি অনুসন্ধান শুরু করেন।

কিন্তু মসজিদটির জায়গায় বিশাল বট গাজ গজিয়ে ওঠায় মসজিদটি বটবৃক্ষের আড়ালে ঢাকা পড়ে ছিল। হঠাৎ একদিন প্রচণ্ড ঝড়ে বট গাছটি ভেঙে পড়লে স্থানীয় লোকজন মসজিদটি দেখতে পায়। সেই থেকে মানুষ মসজিদটিকে গায়েবি মসজিদ হিসেবে অবহিত করতে থাকে।

জনশ্রুতি আছে, মসজিদটি উদ্ধারের কিছুদিন পর সিলেট থেকে আগত এক কামেল পুরুষ হজরত শাহ্ জামাল (রহ.) স্বপরিবারে ওই এলাকায় আগমন করেন। তিনি মসজিদটি দেখাশুনা শুরু করেন। সেই থেকে মসজিদটির নামকরণ হয় জামালপুর শাহী মসজিদ।

জামালপুর শাহী মসজিদ, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা, ছবি : বার্তা২৪.কম

 

মসজিদের ইতিহাস প্রসঙ্গে লোকমুখে আরও প্রচলিত আছে, তৎকালীন সময়ে সৈয়দ ভোম আলী ভারতের শিলিগুড়ি থেকে সুলতান মাহমুদের আমলে হজরত খাজা মঈন উদ্দিন চিশতির নির্দেশে ইসলাম প্রচারের জন্য এই এলাকায় এসে হজরত শাহ জামালের সঙ্গে মিলিত হন। সম্ভবতঃ তারাই এই মসজিদ নির্মাণ করেন। এ হিসেবে মসজিদটি প্রায় ৭০০ বছর আগে নির্মিত।

এর পর হজরত শাহ জামালের নামানুসারে ইউনিয়ন ও গ্রামের নামকরণ করা হয়- ‘জামালপুর।’ মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে পীরে কামেল হজরত শাহ জামাল (রহ.)-এর মাজার।

মসজিদের জমির কাগজপত্রে দেখা যায়, ৪০ সনের রেকর্ড অনুযায়ী মসজিদের ১৬ শতক জমির মালিক ছিলেন বড় জামালপুর গ্রামের মরহুম খন্দকার আবদুল মজিদ গং। পরবর্তীতে মসজিদের নামে তারা জমিটি লিখে দেন। ফলে এ মসজিদের দাতা আবদুল মজিদ গং।

জামালপুর শাহী মসজিদের মোয়াজ্জিন হাফেজ মো. মাহাবুর রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, মসজিদটি বাহির থেকে অনেক বড় মনে হলেও মসজিদের ভেতরে শুধুমাত্র দুই কাতারে ৬০ জন মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় করা যায়। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এলাকার লোকজন মসজিদের মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে সামনের দিকে (সংযুক্ত) মসজিদ ভবন নির্মাণ করা হয়েছ। মসজিদের ২য় তলার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন প্রায় ৭’শ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজহার আলী সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, প্রতি শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষজন মসজিদে মান্নতের নগদ টাকা, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, চাল ও মিষ্টি নিয়ে আসেন। অনেকে রান্না খাবারও শিন্নি হিসেবে বিতরণ করেন। এলাকাবাসীর ধারণা, যে কেউ যেকোনো নিয়তে মান্নত করলে আল্লাহর অশেষ রহমতে তা পূরণ হয়।

তিনি আরও জানান, ধর্মপ্রাণ মানুষের সাহায্য-সহযোহিতা ও মান্নতের অর্থ ইত্যাদি দিয়ে স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে মসজিদ পরিচালিত হচ্ছে।

জামালপুর শাহী মসজিদ কমিটির সভাপতি খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন বার্তা২৪.কমকে জানান, আগের চেয়ে মসজিদটি অনেক বড় করে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আরও অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। অর্থাভাবে মসজিদের সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন অনুিষ্ঠত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন অনুিষ্ঠত

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন অনুিষ্ঠত

  • Font increase
  • Font Decrease

তিন হাজারের বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে মিরপুররের জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ‘আবনায়ে আরজাবাদ সম্মেলন’। সম্মেলনে বিশেষ নসিহত ও দোয়া পরিচালনা করেন শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি তাজুল ইসলাম।

শনিবার (১২ নভেম্বর) সকাল নয়টায় শুরু হওয়া সম্মেলন শেষ হয় আসরের নামাজের আগে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিগত পঞ্চাশ বছরে আরজাবাদ মাদরাসা থেকে হাফেজ, মাওলানা ও মুফতিসহ প্রাক্তন ছাত্ররা দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে কাটিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামিয়া আরজাবাদের মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া। অনুষ্ঠান পরিচালন করেন মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়জি মাসুম, মুফতি মাহমুদুল হাসান ও মাওলানা সাইফুদ্দিন ইয়াহইয়া ফাহিম।


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা রহুল আমিন উজানভী, মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা মুঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কামেসী, মাওলানা শামছুল আরেফিন খান, মুফতি এনায়েতুল্লাহ, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান ও প্রমুখ।

দেশের অন্যতম দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজধানীর জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ, মিরপুর। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদিসের দরস শুরু হয়। এর আগে থেকেই হিফজসহ অন্যান্য বিভাগ চালু ছিল। পরবর্তী সময়ে পবিত্র রমজান মাসে তাফসির ও ফেরাকে বাতেলাসহ বিশেষ কোর্স চালু হয়। ২০০০ সালে খোলা হয় ইফতা বিভাগ।

ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরজাবাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.), মাওলানা মোস্তফা আজাদ (রহ.), মাওলানা রিজাউল কারিম ইসলামাবাদী (রহ.)-এর মতো গুণীজনদের স্মৃতি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিদের দায়িত্ব পালন করছেন আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.)-এর বড় ছেলে মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।

সম্মেলনে আরজাবাদ মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। এ উপলক্ষে মাসিক পয়গামে হক্বের একটি বিশেষ সংখ্যা বের করা হয়। সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে আরজাবাদ মাদরাসার মরহুম, সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষকদের জীবনী দিয়ে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন স্মারক উপহার দেওয়া হয়।

;

শনিবার জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শনিবার জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন

শনিবার জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা আর বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজধানীর মিরপুরের জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ‘আবনায়ে আরজাবাদ সম্মেলন’।

শনিবার (১২ নভেম্বর) সকাল নয়টা থেকে শুরু হয়ে আয়োজন চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। আয়োজনে যোগ দিতে ইতোমধ্যেই প্রায় তিন হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। যাদের মধ্যে বিগত পঞ্চাশ বছরে আরজাবাদ মাদরাসা থেকে হাফেজ, মাওলানা ও মুফতিদের পাশাপাশি বিভিন্ন কোর্সের শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন ছাত্ররা রয়েছেন।

পারস্পরিক সহযোগিতা, চেনা-জানা ও সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী সম্মেলনটি কর্তৃপক্ষ হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালন করতে যাচ্ছে। প্রাক্তন ছাত্রদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আরজাবাদ মাদরাসা থেকে হিফজ, দাওরায়ে হাদিস ও ইফতা সমাপ্তকারী ছাত্রদের পাশাপাশি রমজানের বিশেষ কোর্স এবং আরজাবাদ মাদরাসায় যেকোনো এক বছর পড়ালেখা করেছেন এমন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

দেশের অন্যতম দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজধানীর জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ, মিরপুর। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদিসের দরস শুরু হয়। এর আগে থেকেই হিফজসহ অন্যান্য বিভাগ চালু ছিল। পরবর্তী সময়ে পবিত্র রমজান মাসে তাফসির ও ফেরাকে বাতেলাসহ বিশেষ কোর্স চালু হয়। ২০০০ সালে খোলা হয় ইফতা বিভাগ।

ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরজাবাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.), মাওলানা মোস্তফা আজাদ (রহ.), মাওলানা রিজাউল কারিম ইসলামাবাদী (রহ.)-এর মতো গুণীজনদের স্মৃতি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিদের দায়িত্ব পালন করছেন আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.)-এর বড় ছেলে মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।

মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া জানিয়েছেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনীতে সময়ের যোগ্য সারথিরা হাজির হবেন। যেখানে তাদের শৈশব, শিক্ষাকাল ও গড়ে ওঠার নানা ইতিহাস রচিত হয়েছে। অর্ধ শতবর্ষের গৌরবগাঁথাময় পুনর্মিলনীর এই আয়োজন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে। আমাদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত। শুধু অপেক্ষা অনুষ্ঠানের।

জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন দীর্ঘদিনের স্বপ্নে ফসল উল্লেখ করে সম্মেলনের প্রচার উপ-কমিটির প্রধান মুফতি এনায়েতুল্লাহ জানান, জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন ‘আবনায়ে আরজাবাদ সম্মেলন-২২’ নামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনকে সফল ও সুন্দর করতে একাধিক উপ-কমিটি গঠিত হয়েছে। দেশের নানা সেক্টরে আলো ছড়ানো আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা একে-অপরের সঙ্গে শেয়ার করবেন। সম্মেলনে আরজাবাদ মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের বিশেষ সম্মাননা জানানো হবে। এ উপলক্ষে মাসিক পয়গামে হক্বের একটি বিশেষ সংখ্যা বের করা হয়েছে। সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে আরজবাবাদ মাদরাসার মরহুম, সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষকদের জীবনী দিয়ে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে বিভিন্ন স্মারক সম্বলিত উপহার।

সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে অংশ নিতে আসা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নির্মানাধীন নতুন ভবনের নিচতলায় অবস্থিত বুথ থেকে টোকেন সংগ্রহ করতে হবে। প্রথম বুথে ১-৫০০, দ্বিতীয় বুথে ৫০১-১০০০, তৃতীয় বুথে ১০০১-১৫০০, চতুর্থ বুথে ১৫০১-২০০০ ও পঞ্চম বুথে ২০০১-২৫০০ ক্রমিক নম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিতরা দুটি টোকেন সংগ্রহ করবেন। একটি খাবারের, অন্যটি গিফট সংগ্রহের। টোকেনে খাবার ও গিফট সংগ্রহের স্থান উল্লেখ থাকবে। এছাড়া প্রধান ফটকের বাইরে অভ্যর্থনা বুথ থাকবে যেকোনো সমস্যা, পরামর্শ কিংবা অনুসন্ধানের জন্য।

;

ডিসেম্বরে হেফাজতের সম্মেলন, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন হেফাজত আমির



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ঢাকা মহানগর কমিটি সম্প্রসারণ ও চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিসেম্বরে উলামা মাশায়েখ সম্মেলন ও কারাবন্দী হেফাজত নেতা-কর্মীদের মুক্তি এবং হেফাজতের নামে ২০১৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত হওয়া সকল মামলা প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেবেন হেফাজত আমির।

সোমবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় সংগঠনের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রচার সম্পাদক মুফতী কেফায়েতুল্লাহ আজহারী।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, নায়েবে আমীর মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলিল, মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম,  মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা মীর ইদরীস, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবাহানী, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আজহারী, সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার, মাওলানা রাশেদ বিন নূর।

বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহনগর কমিটি সম্প্রসারণ এবং পুনঃবিন্যাস করা হয়। এছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী ও কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানীকে যুগ্মসচিব করা হয়।

এছাড়াও মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আযহারীকে প্রচার সম্পাদক ও মাওলানা রাশেদ বিন নূরকে দফতর সম্পাদক করা হয়।

মাওলানা তাজুল ইসলামকে আহবায়ক এবং মাওলানা মাওলানা লোকমান হাকিমকে সদস্য সচিব করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

বৈঠকে কারাবন্দী হেফাজত নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও হেফাজতের নামে ২০১৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত  হওয়া  সকল মামলা প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমীরে হেফাজতের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়াও আগামী ১৭ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে ব্যক্তি উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ের যে কোনো  কাজে হেফাজতের পদ পদবী ব্যবহার না করার জন্য আমীরে হেফাজত সকল দায়িত্বশীলদের সতর্ক করেন।

জেলা কমিটি গঠন করার জন্য মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট সাব কমিটি গঠন করা হয়। এতে আরো আছেন, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী,  মাওলানা মীর ইদরীস,  মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী ও মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আজহারী।

;

বিশ্ব ইজতেমা শুরু ১৩ জানুয়ারি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পুরোনো ছবি: বার্তা২৪.কম

পুরোনো ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মহামারির কারণে দুই বছর বিরতি দিয়ে ২০২৩ সালে প্রথম পর্ব শুরু হবে ১৩ জানুয়ারি, শেষ হবে ১৫ জানুয়ারি। আর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ২০ জানুয়ারি, যা ২২ জানুয়ারি শেষ হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ তথ্য জানান।

সভায় বিশ্ব ইজতেমার স্থান টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীর ও আশপাশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে গত দুই বছর ঐতিহাসিক বিশ্ব ইজতেমা হয়নি। এবার কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আগামী ২০২৩ সালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত আকারে টঙ্গীর মাঠে বিশ্ব ইজতেমা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা জানেন ইজতেমা করতে গিয়ে মতবিরোধ চলছিল এবং এখনও আছে। মতবিরোধ নিরসনে এর আগে আমরা দুই ভাগে ইজতেমা করার পরামর্শ দিয়েছিলাম, সেভাবে তারা সুসম্পন্ন করেছে। এবারও ঠিক সেভাবেই। এক দলের নেতা হলেন জনাব জুবায়ের (মাওলানা জুবায়ের আহমদ), অন্যদলের নেতা হচ্ছেন ওয়াসেক সাহেব (মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম)। তারা দুজনেই আগে একসঙ্গে তাবলিগ করতেন, এখন ওনারা দুজন দুপ্রান্তে চলে গেছেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে, একটু দূরে বসা, মাস্ক পরা এবং টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবে না- এই ধরনের কাজগুলো করতে হবে। আমরা নেতাদের কাছে আবেদন করেছি, গতবার যে জেলা থেকে যত লোক এসেছেন, এবার যাতে এ সংখ্যাটা কমিয়ে আনেন।

সভায় ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান দুলাল, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

;