ভারতের ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ বন্ধ!



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শ্রীনগর জামে মসজিদ, ভারত

শ্রীনগর জামে মসজিদ, ভারত

  • Font increase
  • Font Decrease

আন্দোলন ঠেকাতে দীর্ঘ দিন যাবত বন্ধ ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগর জামে মসজিদ। স্থানীয় মুসলমানদের দাবি সত্ত্বেও, তা নামাজের খুলে না দেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। ঐতিহাসিক এই মসজিদ শ্রীনগরবাসীর গর্বের বিষয়। কিন্তু দীর্ঘ দিন যাবত মসজিদের দরোজা তালাবদ্ধ।

শ্রীনগরের জামে মসজিদটি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। একতলা মসজিদটি দেখতে অনেকটা রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো। এর নির্মাণশৈলী যেকোনো দর্শনার্থীর নজর কাড়ে। ১৩৯৪ সালে সুলতান শিকান্দার শাহ সাইয়্যেদুল আউলিয়া সাইয়্যেদ আলী হামদানির ছেলে মীর মোহাম্মাদ হামাদানির নির্দেশে মসজিদটি নির্মাণ করেন। মূল মসজিদ, মসজিদের আঙিনাসহ আশপাশ এলাকা মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ লোক এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। লাইলাতুল কদর, ঈদের জামাত ও অন্যান্য বিশেষ দিনে মুসল্লিদের ভিড় দেখা যায় বেশি।

মসজিদের মোট পরিধি ১ লাখ ৪৬ হাজার বর্গফুট। মসজিদের ভেতরে রয়েছে ৩৭৮টি সম্পূর্ণ গাছের পিলার, যার মধ্যে ২১ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট পিলার ৩৪৬টি। আর ৪৮ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট পিলার রয়েছে ৩২টি। শহরের শতকরা ৯৬ ভাগ মুসলিম হলেও নানা কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে ঐতিহাসিক এ মসজিদ।

মসজিদটি ঐতিহ্যবাহী হওয়ায় স্থানীয়রা তাতে নামাজের জন্য ভিড় করেন

 

প্রতি শুক্রবার কাশ্মীরের মুসলিমরা এ মসজিদে এসে জুমার নামাজ পড়তে সমবেত হন। শুধু তাই নয়, যেকোনো রাজনৈতিক অধিকারের আন্দোলনে এ মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। অনেক সময় উত্তেজনা, শঙ্কা ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই দুই বছরের অধিকাংশ সময় ধরে এ মসজিদ বন্ধ।

এ দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে মসজিদের প্রধান ইমামকে ঘরবন্দী করে রাখা হয়। যেন তিনি মসজিদে প্রবেশ করতে না পারেন। পাশাপাশি মুসল্লিদের প্রবেশে বন্ধ রাখতে মসজিদের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকে। টিন দিয়ে চারপাশ ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়েও বাধা দেওয়া হয় মুসল্লিদের। শুধুমাত্র সপ্তাহের অন্যদিনগুলোতে নামাজ পড়া যায়। তবে অন্য সময়ের তুলনায় সেখানে খুবই অল্প কয়েকজন মুসল্লি নামাজ পড়তে আসেন। সেই সংখ্যা একেবারেই কম।

দীর্ঘকাল বন্ধ থাকায় ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অধিকাংশ মুসলিমের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর ক্ষোভ। গত ৫০ বছর যাবত এ মসজিদে নামাজ পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বাশির আহমদ (৬৫)। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে অতি সূক্ষ্ম কিছুর অনুপস্থিতি সর্বদা অনুভব করছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এসোসিয়েট প্রেসের পক্ষ থেকে বন্ধ রাখার কারণ সম্পর্কে কয়েক বার জানতে চাইলেও কিছুই জানায়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। অবশ্য আগে কর্মকর্তারা বলতেন যে সরকার বাধ্য হয়ে মসজিদ বন্ধ রেখেছেন; কারণ মসজিদের পরিচালনা কমিটি এখানকার ভারতবিরোধী আন্দোলন বন্ধ করতে সক্ষম নন।

তালাবদ্ধ মসজিদের প্রধান ফটক

 

গত দুই বছর ধরে কাশ্মীরের অনেক মসজিদ ও মাজার নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ ছিল। এছাড়া করোনা মহামারিকালের লকডাউনেও কয়েক মাস বন্ধ থাকে এসব প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম। মূলত ২০১৯ সালে ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে দীর্ঘকালের আধা-স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বিলুপ্তির পর মসজিদটি বন্ধ রাখা হয়।

মসজিদ বন্ধের দুঃসহ স্মৃতি অতীতেও কাঁদিয়েছে কাশ্মীরিদের। ১৮১৯ সালে শিখ শাসকরা দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ঐতিহাসিক এ মসজিদ বন্ধ রেখেছিল। গত ১৫ বছরে ভারত সরকারের পর্যায়ক্রমিক নিষেধাজ্ঞা ও লকডাউনে অনেক দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকে এ মসজিদ। কিন্তু বর্তমানের নিষেধাজ্ঞা ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর সবচেয়ে গুরুতর বলে মনে করছেন অনেকে। সরকারি তথ্য অনুসারে ২০০৮, ২০১০ ও ২০১৬ সালে সব মিলিয়ে ২৫০ দিন পর্যন্ত মসজিদটি বন্ধ ছিল।

গ্র্যান্ড মসজিদের কর্মকর্তা আলতাফ আহমদ ভাট জানান, মানুষ এ মসজিদে এসে ধ্যান করত, আধ্যাত্মিকতা অনুভব করব। এখানকার মিরেওয়ায়েজ পদ্ধতি খুতবা প্রদানের একটি অনন্য রীতি। সামাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতি বিষয়ক আলোচনাই ছিল এ মসজিদের মূল ধর্মীয় কাজ। আমি মনে করি, তারা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে না পারলে এটি তাদের অযোগ্যতা। আমরা এখানে আমাদের আওয়াজ তুলেছি। আর তা সবসময় রাজনৈতিক কারণে হয় না। আমি মনে করি, এটি কোনও যুক্তি নয়।

ইসলামি গানের মডেল হলেন মিশা সওদাগর



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইসলামি গানের মডেল হলেন মিশা সওদাগর

ইসলামি গানের মডেল হলেন মিশা সওদাগর

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবের শিল্পী মুহাম্মদ বদরুজ্জামানের কণ্ঠে 'মইরা গেলে ফিইরা আসে না' শিরোনামে ইসলামি সংগীতের মডেল হলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেতা মিশা সওদাগর। সংগীতটির কথা লিখেছেন রফিকুল ইসলাম তাওহিদ, সুর করেছেন মুহাম্মদ বদরুজ্জামান। ভিডিও বানিয়েছেন নির্মাতা ইয়ামিন এলান।

গাজীপুর পুবাইলের মনোরম লোকেশনে নির্মিত সংগীতটি ১ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৩০মিনিটে ইসলামি সংগীত প্রকাশের পরিচিত প্লাটফর্ম 'হলি টিউনে' রিলিজ হবে।

প্রথমবারের মত ইসলামি সংগীতে অভিনয় করা নিয়ে মিশা সওদাগর বলেন, ‘আমি বরাবরই ধর্মীয় আয়োজনগুলোতে থাকার চেষ্টা করি। ধর্মীয় বিধি-বিধানও মেনে চলার চেষ্টা করি। সেই দিক থেকে এ কাজটি করার জন্য আগ্রহী হয়েছি। আমার এ কাজটি দেখে যদি একজন মানুষের ভেতরও সৎভাবে বাঁচার ইচ্ছে জাগে তাহলে অমি সার্থক।’ গানটির প্রেক্ষাপট নিয়েও তিনি কথা বলেন।

তার ভাষ্য, গল্পের শুরুতে দেখা যাবে আমি নানাভাবে অর্থ উপার্জন করি। এর মধ্যে একদিন আমার একমাত্র শিশুকন্যা সন্তানটি মারা যায়। তারপর আমার মধ্যে উপলব্ধি হয় কেন এত অর্থ উপার্জন করছি। সত্যি বলতে একজন মানুষকে সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন পড়েনা। তবুও আমরা অনেক অন্যায় পথে উপার্জন করছি। আমি বিশ্বাস করি, যারা এটি দেখবেন তাদের মধ্যে কিছুটা হলেও নাড়া দেবে।’

সংগীতটির সুরকার ও গায়ক মুহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, মইরা গেলে ফিইরা আসে না সংগীতটি মানুষকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। অত্যন্ত গোছালো ও সহজসরল এবং হৃদয়ছোঁয়া কথামালায় সাজানো হয়েছে এই মরমি সংগীতটি। আশা করি শ্রোতারা পছন্দ করবেন।

;

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন অনুিষ্ঠত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন অনুিষ্ঠত

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন অনুিষ্ঠত

  • Font increase
  • Font Decrease

তিন হাজারের বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে মিরপুররের জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ‘আবনায়ে আরজাবাদ সম্মেলন’। সম্মেলনে বিশেষ নসিহত ও দোয়া পরিচালনা করেন শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি তাজুল ইসলাম।

শনিবার (১২ নভেম্বর) সকাল নয়টায় শুরু হওয়া সম্মেলন শেষ হয় আসরের নামাজের আগে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিগত পঞ্চাশ বছরে আরজাবাদ মাদরাসা থেকে হাফেজ, মাওলানা ও মুফতিসহ প্রাক্তন ছাত্ররা দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে কাটিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামিয়া আরজাবাদের মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া। অনুষ্ঠান পরিচালন করেন মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়জি মাসুম, মুফতি মাহমুদুল হাসান ও মাওলানা সাইফুদ্দিন ইয়াহইয়া ফাহিম।


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা রহুল আমিন উজানভী, মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা মুঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কামেসী, মাওলানা শামছুল আরেফিন খান, মুফতি এনায়েতুল্লাহ, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান ও প্রমুখ।

দেশের অন্যতম দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজধানীর জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ, মিরপুর। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদিসের দরস শুরু হয়। এর আগে থেকেই হিফজসহ অন্যান্য বিভাগ চালু ছিল। পরবর্তী সময়ে পবিত্র রমজান মাসে তাফসির ও ফেরাকে বাতেলাসহ বিশেষ কোর্স চালু হয়। ২০০০ সালে খোলা হয় ইফতা বিভাগ।

ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরজাবাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.), মাওলানা মোস্তফা আজাদ (রহ.), মাওলানা রিজাউল কারিম ইসলামাবাদী (রহ.)-এর মতো গুণীজনদের স্মৃতি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিদের দায়িত্ব পালন করছেন আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.)-এর বড় ছেলে মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।

সম্মেলনে আরজাবাদ মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। এ উপলক্ষে মাসিক পয়গামে হক্বের একটি বিশেষ সংখ্যা বের করা হয়। সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে আরজাবাদ মাদরাসার মরহুম, সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষকদের জীবনী দিয়ে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন স্মারক উপহার দেওয়া হয়।

;

শনিবার জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শনিবার জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন

শনিবার জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা আর বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজধানীর মিরপুরের জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ‘আবনায়ে আরজাবাদ সম্মেলন’।

শনিবার (১২ নভেম্বর) সকাল নয়টা থেকে শুরু হয়ে আয়োজন চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। আয়োজনে যোগ দিতে ইতোমধ্যেই প্রায় তিন হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। যাদের মধ্যে বিগত পঞ্চাশ বছরে আরজাবাদ মাদরাসা থেকে হাফেজ, মাওলানা ও মুফতিদের পাশাপাশি বিভিন্ন কোর্সের শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন ছাত্ররা রয়েছেন।

পারস্পরিক সহযোগিতা, চেনা-জানা ও সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী সম্মেলনটি কর্তৃপক্ষ হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালন করতে যাচ্ছে। প্রাক্তন ছাত্রদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আরজাবাদ মাদরাসা থেকে হিফজ, দাওরায়ে হাদিস ও ইফতা সমাপ্তকারী ছাত্রদের পাশাপাশি রমজানের বিশেষ কোর্স এবং আরজাবাদ মাদরাসায় যেকোনো এক বছর পড়ালেখা করেছেন এমন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

দেশের অন্যতম দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজধানীর জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ, মিরপুর। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদিসের দরস শুরু হয়। এর আগে থেকেই হিফজসহ অন্যান্য বিভাগ চালু ছিল। পরবর্তী সময়ে পবিত্র রমজান মাসে তাফসির ও ফেরাকে বাতেলাসহ বিশেষ কোর্স চালু হয়। ২০০০ সালে খোলা হয় ইফতা বিভাগ।

ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরজাবাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.), মাওলানা মোস্তফা আজাদ (রহ.), মাওলানা রিজাউল কারিম ইসলামাবাদী (রহ.)-এর মতো গুণীজনদের স্মৃতি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিদের দায়িত্ব পালন করছেন আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.)-এর বড় ছেলে মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।

মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া জানিয়েছেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনীতে সময়ের যোগ্য সারথিরা হাজির হবেন। যেখানে তাদের শৈশব, শিক্ষাকাল ও গড়ে ওঠার নানা ইতিহাস রচিত হয়েছে। অর্ধ শতবর্ষের গৌরবগাঁথাময় পুনর্মিলনীর এই আয়োজন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে। আমাদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত। শুধু অপেক্ষা অনুষ্ঠানের।

জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন দীর্ঘদিনের স্বপ্নে ফসল উল্লেখ করে সম্মেলনের প্রচার উপ-কমিটির প্রধান মুফতি এনায়েতুল্লাহ জানান, জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন ‘আবনায়ে আরজাবাদ সম্মেলন-২২’ নামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনকে সফল ও সুন্দর করতে একাধিক উপ-কমিটি গঠিত হয়েছে। দেশের নানা সেক্টরে আলো ছড়ানো আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা একে-অপরের সঙ্গে শেয়ার করবেন। সম্মেলনে আরজাবাদ মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের বিশেষ সম্মাননা জানানো হবে। এ উপলক্ষে মাসিক পয়গামে হক্বের একটি বিশেষ সংখ্যা বের করা হয়েছে। সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে আরজবাবাদ মাদরাসার মরহুম, সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষকদের জীবনী দিয়ে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে বিভিন্ন স্মারক সম্বলিত উপহার।

সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে অংশ নিতে আসা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নির্মানাধীন নতুন ভবনের নিচতলায় অবস্থিত বুথ থেকে টোকেন সংগ্রহ করতে হবে। প্রথম বুথে ১-৫০০, দ্বিতীয় বুথে ৫০১-১০০০, তৃতীয় বুথে ১০০১-১৫০০, চতুর্থ বুথে ১৫০১-২০০০ ও পঞ্চম বুথে ২০০১-২৫০০ ক্রমিক নম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিতরা দুটি টোকেন সংগ্রহ করবেন। একটি খাবারের, অন্যটি গিফট সংগ্রহের। টোকেনে খাবার ও গিফট সংগ্রহের স্থান উল্লেখ থাকবে। এছাড়া প্রধান ফটকের বাইরে অভ্যর্থনা বুথ থাকবে যেকোনো সমস্যা, পরামর্শ কিংবা অনুসন্ধানের জন্য।

;

ডিসেম্বরে হেফাজতের সম্মেলন, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন হেফাজত আমির



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ঢাকা মহানগর কমিটি সম্প্রসারণ ও চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিসেম্বরে উলামা মাশায়েখ সম্মেলন ও কারাবন্দী হেফাজত নেতা-কর্মীদের মুক্তি এবং হেফাজতের নামে ২০১৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত হওয়া সকল মামলা প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেবেন হেফাজত আমির।

সোমবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় সংগঠনের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রচার সম্পাদক মুফতী কেফায়েতুল্লাহ আজহারী।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, নায়েবে আমীর মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলিল, মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম,  মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা মীর ইদরীস, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবাহানী, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আজহারী, সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার, মাওলানা রাশেদ বিন নূর।

বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহনগর কমিটি সম্প্রসারণ এবং পুনঃবিন্যাস করা হয়। এছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী ও কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানীকে যুগ্মসচিব করা হয়।

এছাড়াও মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আযহারীকে প্রচার সম্পাদক ও মাওলানা রাশেদ বিন নূরকে দফতর সম্পাদক করা হয়।

মাওলানা তাজুল ইসলামকে আহবায়ক এবং মাওলানা মাওলানা লোকমান হাকিমকে সদস্য সচিব করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

বৈঠকে কারাবন্দী হেফাজত নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও হেফাজতের নামে ২০১৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত  হওয়া  সকল মামলা প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমীরে হেফাজতের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়াও আগামী ১৭ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে ব্যক্তি উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ের যে কোনো  কাজে হেফাজতের পদ পদবী ব্যবহার না করার জন্য আমীরে হেফাজত সকল দায়িত্বশীলদের সতর্ক করেন।

জেলা কমিটি গঠন করার জন্য মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট সাব কমিটি গঠন করা হয়। এতে আরো আছেন, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী,  মাওলানা মীর ইদরীস,  মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী ও মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আজহারী।

;