সরকারি খরচে হজে যাচ্ছেন ৭১ জন, বাড়তে পারে নামের তালিকা



মুফতি এনায়েতুল্লাহ অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রীয় খরচে পবিত্র হজ পালনের সুযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্ত বছর না ঘুরতেই পাল্টে গেল। এ বছর সরকারি খরচে হজে যাচ্ছেন ৭১ জন। তবে সূত্রে জানা গেছে, নামের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। নতুন তালিকায় সাংবাদিক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও রাজনৈতিক নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারের আর্থিক সহায়তায় হজপালনে যাওয়া ব্যক্তিদের নামে ইতিমধ্যে আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সচিব, বর্তমান বিচারপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। এতে সরকারের খরচ হবে প্রায় তিন কোটি টাকা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পাওয়া সাপেক্ষে তারা আগামী ৬ জুন সৌদি আরব যাবেন। হজ শেষে তাদের দেশে ফেরার কথা আগামী ১০ জুলাই। সরকারি খরচে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা বিমানের টিকিট বাবদ ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা জমা দেবেন। এর বাইরে প্রত্যেক হজযাত্রীকে নিজ দায়িত্বে কোরবানি (দমে শোকর)-এর খরচ বাবদ আটশত সৌদি রিয়াল পৃথকভাবে সঙ্গে নিতে হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইট ভাড়ার বাইরে সব খরচ সরকার বহন করবে। এমনকি হজে যাওয়ার আগে সবাইকে খাবার বাবদ ৩৫ হাজার টাকা করে হজ অফিস থেকে নগদ প্রদান করা হবে। এভাবে একেকজনের পেছনে সরকারের খরচ হবে প্রায় চার লাখ টাকা।

প্রজ্ঞাপন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ বছর রাষ্ট্রীয় খরচে যারা হজে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ২৩ জন। আরও রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. কুদ্দুস খান ও বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামান। তালিকায় প্রবীণ রাজনীতিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মো. মঞ্জুরুল আহসান খানের নামও রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, গাড়িচালক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন তালিকায়। তাদের মধ্যে চার দম্পতি রয়েছেন। রয়েছেন ভাই-বোনও।

এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৫৬২ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮০ হাজার ৬৯৫ জনসহ মোট ৮৫ হাজার ২৫৭ জন হজ করতে যাবেন। ইতোমধ্যে হজযাত্রার ফ্লাইট শুরু হয়েছে এবং ১৭ হাজার ১৪১ জন হজযাত্রী সৌদি আরব গমন করেছেন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার সর্বনিম্ন প্যাকেজ প্রায় পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ধার্য করা হয়। আর, বেসরকারিভাবে সর্বনিম্ন প্যাকেজ প্রায় পাঁচ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

২০২৩ সালে সরকারিভাবে হজ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছিলো ছয় লাখ ৮৩ হাজার টাকা। বেসরকারি প্যাকেজে খরচের সর্বনিম্ন সীমা ছয় লাখ ৭২ হাজার টাকা স্থির করা হয়।

রাষ্ট্রীয় খরচে যারা হজে যাচ্ছেন

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে রয়েছেন জামালপুরের মো. আ. করিম, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, নড়াইলের শেখ নওশের আলী, রাজবাড়ির মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, গাইবান্ধার মো. তাজুল ইসলাম সরকার, কুমিল্লার বাহার উদ্দিন রেজা (বীর প্রতীক) ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম, গোপালগঞ্জের মো. ফিরোজ ফকির, বরিশালের আল্লামা হারুন-অর-রশিদ, ঝালকাঠির তাজুল ইসলাম চৌধুরী, রংপুরের আনোয়ারা বেগম, মো. ফজলাল রহমান, ঝিনাইদহের মো. নুরুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের মো. আবদুস সবুর ফারুকি, মো. নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী বিউটি বেগম।

নাম রয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মো. মঞ্জুরুল আহসান খান, নেত্রকোনার মো. কামরুজ্জামান ও গোপালগঞ্জের খান ইবনে আসিফের।

আর নাম রয়েছে- সংসদ ভবনের অভ্যর্থনাকারী মো. সাজ্জাদ হোসেন, কমিটি শাখা-৮ এর মো. জজ মিয়া, রংপুরের হাফেজ মো. রফিকুল ইসলাম ফারাজী, টাঙ্গাইলের মো. মোন্তাজ আলী, টাঙ্গাইলের কে এম ইমদাদুল আলম (শামিম), গোপালগঞ্জের মো. আ. মান্নান খাঁন ও তার স্ত্রী মাকসুদা আক্তার, গোপালগঞ্জের হাবিবুর রহমান, রংপুরের মো. জয়নাল আবেদীন প্রধান, ঢাকা মিরপুরের মো. আ. মালেক, গাইবান্ধার মো. তোফাজ্জল হোসেন, জয়পুরহাটের মোছা. মাহফুজা বেগম, নাটোরের মো. মারুফ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আসলাম উদ্দিন, প্রেস উইংয়ের মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিস সহায়ক পারুল পারভীন, ব্যক্তিগত সহকারী মো. আজহারুল হক, সহকারী সচিব মীর এমদাদ হোসেন, সহকারী সচিব মোসা. আমেনা খানম, গাড়িচালক মো. আবুল কালাম, গাড়িচালক মোছা. মমতাজ বেগম, উচ্চমান সহকারী মোসা. ছালমা বেগম, ওয়ার্ক চার্জড লাইনম্যান মো. মাইনুদ্দিন, সহকারী সাইন অপারেটর মো. মিজানুর রহমান, ওয়ার্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. আবুল কাশেম, পাওয়ার মেশিন অপারেটর আবু তাহের, সহকারী সচিব মো. মোতাহের হোসেন ও তার স্ত্রী মোসা. হাফেজা আক্তার, পুলিশ পরিদর্শক মো. লুৎফুর রহমান, বার্তাবাহক ফখরুদ্দিন আহমেদ, সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর খন্দকার আজিজুর রহমান ও মো. সাজিদুর রহমান, পরিছন্নতা কর্মী গোলাপ মিয়া, মো. আব্দুল মান্নান, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর উচ্চমান সহকারী মো. মিজানুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গাড়িচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন ও তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম, মুন্সিগঞ্জের এ কে এম মজিবুর রহমান, ধানমন্ডির অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. জাকির হোসেন, সর্বপ্রাপ্ত সচিব মো. কুদ্দুস খান, নাটোরের বর্ষিয়ান নেতা মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ মোল্লার দুই সন্তান সুলতানা পান্না ও মো. মেহেদী হাসান, কুমিল্লার মো. মকবুল হোসেন, জামালপুরের ফারুক আহমেদ, বরগুনার মো. আব্দুল আলীম (বাবুল), ময়মনসিংহের মো. রফিকুল ইসলাম, পটুয়াখালীর মো. আব্দুস সাত্তার আকন, খুলনার বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামান, পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমান।

২০২৩ সালে রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করেন মাত্র ২৩ জন

প্রতিবছরই কয়েক শ মানুষকে রাষ্ট্রীয় খরচে হজ পালনের জন্য পাঠানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় ২০২২ সালে বঙ্গভবন, গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনীতিক, সাংবাদিক, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২৫৪ জনকে হজে পাঠানো হয়েছিল।

২০২৩ সালে রাষ্ট্রীয় খরচে হজ পালনের জন্য পাঁচ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। আবেদনকারীদের মধ্যে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও তাদের গানম্যান, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, ক্ষমতাসীন দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নাম থাকায় এটা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি রাষ্ট্রীয় খরচে পছন্দের লোক পাঠাতে কোটা দাবি করেছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সদস্যরা। তাদের বেশির ভাগ সদস্যই নিজ সুপারিশে অন্তত দুজন করে হজে পাঠানোর সুযোগ চেয়েছিলেন। ফলে সরকারি টাকায় হজে যেতে আবেদনকারীদের নানামুখী চাপ, সমালোচনা ও তদবিরে জেরবার হয়ে উঠেন ধর্ম মন্ত্রণালয়। পরে হজের খরচ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় খরচে হজে যাওয়ার লাগাম টানে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী মাত্র ২৩ জন রাষ্ট্রীয় খরচে হজে যান। তবে, তাদের বিমান ভাড়া বাবদ এক লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা পরিশোধ করতে হয়।

আইনে কী আছে?

রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রী পাঠানোর বিষয়টি বিদ্যমান হজ ও উমরা ব্যবস্থাপনা বিধিমালাতেই আছে। বিধিমালার ২৪ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকার প্রয়োজনীয়সংখ্যক অসচ্ছল ব্যক্তিকে হজ করিবার উদ্দেশ্যে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করিতে পারিবে। পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার এই সহযোগিতার পরিমাণ নির্ধারণ করিতে পারিবে।’ এর ভিত্তিতেই প্রতিবছরই কয়েক শ মানুষ রাষ্ট্রীয় খরচে হজে যাচ্ছেন। কয়েক দশক ধরেই এই চর্চা চলে আসছে।

হজ ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় অসচ্ছল মুসলমানদের এই সুযোগ দেওয়ার বিধান থাকলেও অসচ্ছলরা সুযোগ পান খুবই কম। মূলত সরকারের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনীতিক, সাংবাদিক, মসজিদের ইমামসহ কিছু মানুষ প্রতিবছর সরকারি খরচে হজে যান।

সরকারি খরচে হজের বিধান

কেউ রাষ্ট্রীয় খরচে হজ পালন করলে তার হজ আদায় হবে বলে অভিমত দিয়েছেন ইসলামি স্কলাররা। উত্তরা বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল হাসান বার্তা২৪.কমকে বলেন, রাষ্ট্রীয় খরচে কেউ হজ করলে তার ফরজিয়ত আদায় হয়ে যাবে। কেননা হজের জন্য সক্ষমতা শর্ত। আর হজের যাবতীয় খরচ সরকারের পক্ষ থেকে তার নামে বরাদ্দ করা হয়। আর তখন তিনি সেই সম্পদের মালিক হয়ে যান। অবশ্য সক্ষম মুসলিম ব্যক্তির জন্য নিজের উপার্জিত পবিত্র সম্পদ দ্বারা হজ করাই উত্তম বলে তিনি মত দেন।

   

ইমান পাকা করার গল্প শোনালেন মোহাম্মদ আলীর নাতি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মসজিদের হারামে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

মসজিদের হারামে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা (বক্সার) মোহাম্মদ আলীর নাতি বিয়াজিও ওয়ালশ। তিনিও একজন প্রখ্যাত মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) যোদ্ধা। সম্প্রতি মক্কা-মদিনা সফর করেছেন তিনি। আল আরাবিয়া ইংরেজির কাছে বর্ণনা করেছেন উমরা পালনের ‘অবিশ্বাস্য’ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেছেন, এই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলতে পারবেন না!

গত এপ্রিলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ঝটিকা সফরের সময় ২৫ বছর বয়সী বিয়াজিও মক্কায় যাত্রাবিরতি দেন এবং প্রথমবারের মতো পবিত্র উমরা পালন করেন।

মক্কা যাওয়ার পথে বিয়াজিও ওয়ালশের গাড়িচালক তার জন্য একজন গাইড জোগাড় করেছেন। এই গাইডই তাদের উমরার পুরো সময়টা সঙ্গ দেন। তবে এই গাইড ইংরেজিতে খুব দুর্বল। এই গাইড আরবিতে উচ্চ স্বরে দোয়া করার সময় ওয়ালশ তাকে অনুসরণ করেন এবং কাবার চারপাশ প্রদক্ষিণ করেন।

এই অভিজ্ঞতা বর্ণনায় ওয়ালশ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যিনি ছিলেন তিনি আসলে ইংরেজি বলতে পারেননি। কিন্তু তিনি আমাদের যা বলছিলেন সব আবৃত্তি করতে বললেন। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, আমি সত্যিই আরবি বলতে পারি না। কিন্তু তিনি যা বলছিলেন তার সবই আবৃত্তি করছিলাম।’

ওয়ালশ বলেন, ‘আমাদের দারুণ কৌশলে গাইড করা হয়েছে। লোকেরা আমাদের আবৃত্তিতে চমকিত হচ্ছিল। এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা যা আমি কখনই ভুলতে পারব না! আমি আশা করি, আমার পরিবার এটি অনুভব করতে পারবে।’

ওয়ালশ গত মার্চে আল আরাবিয়া ইংলিশকে বলেছিলেন, তিনি তার ইমান শক্ত করার একটি নতুন যাত্রায় ছিলেন। এবারের রমজান মাসে সবগুলো রোজাই করেছেন তিনি।

পবিত্র কাবার সামনে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উমরা ছিল তার জন্য সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো এবং ইসলামের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি সুযোগ। ওয়ালশ বলেন, ‘আমরা এক জীবনে এটাই করি। আমরা আরও আল্লাহর প্রতি সচেতন হতে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে চাই।’

এই ক্রীড়াবিদ মনে করেন, আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে তার কথা বলা এবং ইসলাম গ্রহণ করায় লজ্জা না পাওয়া মুসলমানদের সম্পর্কে মানুষের ধারণায় পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।

তার দাদা মোহাম্মদ আলীসহ অনেক ক্রীড়াবিদ আছেন, যারা মুসলিম হওয়া নিয়ে গর্ববোধ করতেন। তারা মুসলিম হওয়ার অর্থ কী সে প্রশ্নে একটি দুর্দান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন- যোগ করেন ওয়ালশ। এ সময় সাবেক রুশ মিক্সড মার্শাল আর্টিস্ট খাবিব আব্দুলমানাপোভিক নুরমাগোমেদভের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গত এপ্রিলে ছিল সৌদি আরবে ওয়ালশের দ্বিতীয় সফর। গত ফেব্রুয়ারিতে কিংডম এরিনাতে অনুষ্ঠিত ডিএফএল চ্যাম্পিয়ন বনাম বেলেটর চ্যাম্পিয়নস ফাইট কার্ডের অংশ হিসেবে রিয়াদের এমএমএতে তরুণ পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে ওয়েলশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

ওয়ালশ বলেন, তিনি সৌদি আরবের সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে, সুস্বাদু স্থানীয় খাবার চেখে দেখতে এবং নতুন নতুন মানুষের সাক্ষাৎ উপভোগ করছেন।

;

সিলেট থেকে ছেড়ে গেল প্রথম হজ ফ্লাইট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেট থেকে মদিনায় হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

বুধবার (২২মে) বিকেল ৩টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনী ফ্লাইটে ৩৮৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বিমানের বিজি-২৩৭ ফ্লাইটটি মদিনার উদ্দেশে সিলেট ছেড়ে যায়।

এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ডিস্ট্রিক ম্যানেজার শাহনেওয়াজ মজুমদার।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ২৯ জন হজযাত্রী নিয়ে এসে ফ্লাইটটি সিলেটের ৩৬০ জনসহ মোট ৩৮৯ জন নিয়ে মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলের হজযাত্রীদের জন্য এবার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫টি ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৫টি ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৯৫ হজযাত্রী পরিবহন করা হবে। প্রথম দিনের ফ্লাইট ছাড়া বাকিগুলো পরিচালিত হবে সিলেট-জেদ্দা রুটে। বাকি চারটি ফ্লাইটের শিডিউল হচ্ছে আগামী ১, ৩, ৬ ও ৯ জুন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থানীয় কমিটির সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এমপি এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

;

সৌদি পৌঁছেছেন ৩৪ হাজার ৭৪১ হজযাত্রী



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছর হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৭৪১ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২২ মে) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।

হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৭৪৭ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩০ হাজার ৯৯৪ জন সৌদিতে গিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৮৪ হাজার ২৪টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।

হেল্প ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ৮৭টি ফ্লাইট সৌদিতে গিয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৯টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ২৮টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২০টি ফ্লাইট রয়েছে। হজ ফ্লাইট শুরুর পর থেকে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত ৮৪ হাজার ২৪ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু হয়েছে।

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মো. লুৎফর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার তিনি মক্কায় মারা যান। এ নিয়ে হজ করতে গিয়ে মোট তিনজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে মক্কায় দুইজন এবং মদিনায় একজন মারা যান।

এ বছর সৌদি আরবে হজ করতে গিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মো. আসাদুজ্জামান নামে এক হজযাত্রী মারা যান। গত ১৫ মে তিনি মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মো. মোস্তফা (৮৯) নামে এক বৃদ্ধ গত শনিবার (১৮ মে) মক্কায় মারা যান।

গত ৯ মে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৪১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এর মাধ্যমেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শেষ হবে ১০ জুন।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২০ জুন এবং শেষ হবে ২২ জুলাই।

;

উমরা ভিসায় হজ নয়, না মানলে কঠোর শাস্তি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
উমরা ভিসায় হজ নয়, না মানলে কঠোর শাস্তি, ছবি: সংগৃহীত

উমরা ভিসায় হজ নয়, না মানলে কঠোর শাস্তি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

উমরার পারমিট বা ভিসা দিয়ে হজপালন করা যাবে না বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও উমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আগামী ২৪ মে (১৬ জিলকদ) থেকে ২৬ জুন (২০ জিলহজ) পর্যন্ত হজের স্থানগুলোতে দেশটি কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। এ সময়ে শুধুমাত্র হজের অনুমোদন নিয়েই কেবল হজ করা যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত ১৯ মে সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হজ পারমিট ছাড়া মক্কায় প্রবেশে স্থানীয় নাগরিক, দর্শনার্থী ও প্রবাসীদের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। পবিত্র মক্কা শহর, সেন্ট্রাল হারাম এলাকা, মিনার, আরাফাত, মুজদালিফা, রুসাইফার হারামাইন ট্রেন স্টেশন, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং হজযাত্রীদের গ্রুপে হজের অনুমতি ছাড়া ধরা পড়লে জরিমানা করা হবে। আর নির্দেশনা লঙ্ঘন করে মক্কায় প্রবেশ করলে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে।

আগামী ২ জুন (২৫ জিলকদ) থেকে ২০ জুন (১৪ জিলহজ) পর্যন্ত এ নির্দেশনা থাকবে। এ সময়ে নিয়ম লঙ্ঘনকারী বাসিন্দাদের তাদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে এবং সৌদি আরবে পুনরায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। তা ছাড়া এ নির্দেশনা বারবার লঙ্ঘন করলে পুনরায় ১০ হাজার সৌদি রিয়াল (২ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৪ টাকা) জরিমানা করা হবে।

সৌদি বার্তা সংস্থা আরও জানায়, আর বিনা অনুমতিতে হজ করে হজবিষয়ক নির্দেশনা লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন করে ধরা পড়লে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল (১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭২ টাকা) জরিমানা করা হবে এবং ব্যবহৃত গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

তা ছাড়া পরিবহন করা মানুষের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জরিমানার পরিমাণ আরো বাড়বে। আর নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী প্রবাসী হলে সাজাভোগের পর তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ২০ লাখের বেশি মানুষ হজপালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

;