উমরা ফি বাড়ছে না কমছে?

মুফতি এনায়েতুল্লাহ, বিভাগীয় প্রধান, ইসলাম, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
পবিত্র কাবা তাওয়াফ করছেন উমরাযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কাবা তাওয়াফ করছেন উমরাযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তিন বছরের মধ্যে একাধিকবার উমরাপালন করলে অতিরিক্ত ২ হাজার রিয়াল প্রদানের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হলেও উমরা পালনের খরচ এ বছর থেকে বাড়বে। প্রথমবারের মতো উমরা ভিসার ওপর সৌদি সরকারের নতুন ফি আরোপসহ কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে এই খরচ বাড়বে। তবে শেষ পর্যন্ত কী পরিমাণ খরচ বাড়বে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও ধর্ম মন্ত্রণালয় দেয়নি।

উমরা ফি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু রিপোর্টের কারণে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ওইসব রিপোর্টে হজ, উমরা ও ভিজিট ভিসার ওপর ৩০০ সৌদি রিয়াল ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। তবে ঢাকাস্থ সৌদি আরব দূতাবাস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি সরকার এক মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিজিট ভিসার ফি ২ হাজার রিয়াল থেকে কমিয়ে ৩০০ রিয়াল, তিন মাসের মালট্রিপোল ভিসার ফি ৫ হাজার রিয়াল থেকে কমিয়ে ৩০০ রিয়াল, হজ ভিসা ও উমরা ভিসা ফি ৩০০ রিয়াল এবং চার দিনের ট্রানজিট ভিসা ফি ৩০০ রিয়াল নির্ধারণ করেছে।

এতদিন উমরা ভিসার জন্য কোনো ফি ছিলো না। এবার প্রথমবারের মতো ভিসা ফি নির্ধারণ করা হলো। সেই সঙ্গে এবার প্রথমবারের মতো হোটেল ও যাতায়াতের খরচ অনলাইনে পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে ভিসার সময় খরচ বাড়বে। কারণ আগেও এসব অপশন ছিল, কিন্তু ভিসা আবেদনের সময় অনলাইনে পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক ছিল না। ফলে অনেকে নিজস্ব খরচে বিমানবন্দর থেকে মক্কায় যেতেন এবং হোটেলে থাকার খরচও নিজে বহন করতেন। আগে উমরার যে সিস্টেম (ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন) থেকে আবেদন করা হয় এবং ফি পেমেন্ট করা হয় সেখানে ভিসা ফির স্থানে লেখা থাকত ‘ফ্রি।’

আগে নিয়ম ছিল সৌদি উমরা কোম্পানি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে দিতো, যার মধ্যে শুধু এয়ারপোর্ট থেকে মক্কা যাতায়াত যুক্ত ছিল। বাংলাদেশি এজেন্সিগুলো ওই দেশের এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিসাপেক্ষে ২৫০-৩০০ রিয়াল মোফা ফি প্রদান করত। আর উমরা ভিসার অনুমতিপত্র তথা মোফার জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করত। যারা শুধু এজেন্সির মাধ্যমে উমরা ভিসা নিতো তাদের ক্ষেত্রে এ ফিই বাংলাদেশের এজেন্সিগুলো মোফা ফি হিসেবে ৬০০০ থেকে ১১০০০ টাকা পর্যন্ত উমরা ভিসা করার জন্য নিতো।

এবার নতুন করে যে ৩০০ রিয়াল ভিসা ফি আরোপের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া নতুনভাবে নির্ধারিত করা হয়েছে মোফা ফি সাড়ে ৮৮ রিয়াল, বিভিন্ন ট্যাক্স সাড়ে ৯ রিয়াল, ইন্সুরেন্স ফি ১১০ রিয়াল, ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম বাবদ ১০৫ রিয়াল, স্থানীয় বিভিন্ন পরিষেবা ফি ১০৫ রিয়াল। সর্বমোট ৭০৮ রিয়াল।

উমরা এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, এখন থেকে উমরার যাবতীয় ফি আইবিএনের মাধ্যমে পরিশোধ করে বাসা বা হোটেল বুকিং দিতে হবে। এতে সামগ্রিকভাবে উমরা খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসবের ফলে প্রত্যেক উমরাকারীর খরচ বাড়বে অন্তত ১১ হাজার টাকা।

সৌদি সরকার চলতি বছর (১৪৪১ হিজরি) এক কোটি উমরাযাত্রীর ভিসা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ১৪৪০ হিজরিতে সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ৭৫ লাখ উমরাযাত্রী উমরা পালন করেছেন।

এদিকে, ১৩ মহররম সৌদি আরবের দক্ষিণ এশীয় হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সংস্থা মোয়সসাসার গভর্ণিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. রাফাত ইসমাঈল বিন ইবরাহিম বদর এক চিঠিতে মক্কাস্থ বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর (হজ) মো. মাকসুদুর রহমানকে জানিয়েছেন, ১৪৪১ হিজরিতে হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রত্যেক হজ এজেন্সিকে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট এসোসিয়েশন (আয়াটা)-এর সদস্য লাভ করতে হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে আয়াটা সদস্যপদ গ্রহণ করতে না পারলে সৌদি ই-হজ সিষ্টেমে হজ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে না।

ওই সার্কুলার জারির পর আয়াটাবিহীন হজ এজেন্সিগুলোর মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। কারণ আয়াটা সদসপদ সংগ্রহ করতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি জমা রাখতে হয়। আয়াটাবিহীন একটি হজ এজেন্সির স্বত্বাধিকারী বলেন, হঠাৎ করে আয়াটা সদস্যপদ গ্রহণের নির্দেশনা জারি হওয়ায় অনেক হজ এজেন্সিই জামানতের অর্থ যোগাতে না পেরে এবার হজের কাজে অংশ নিতে পারবে না। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে লিমিটেড হজ এজেন্সিগুলোর আয়াটা সদসপদ লাভের অনুমতি মিলতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়।

এতসব জটিলতা সত্বেও একশ্রেণির অসাধু হজ এজেন্সি খুব কম দামে উমরার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। উমরা পালনে সহায়তার নামে অনেক হজ এজেন্সি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে এমন গুরুতর অভিযোগও আছে। বিশেষ করে অল্প টাকায় উমরা পালনের সব বিষয়ের দায়িত্ব নেওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ঠকিয়ে থাকেন তারা মানুষকে। আকর্ষণীয় এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পত্রিকায় অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোভনীয় এসব বিজ্ঞাপনে থ্রী স্টার হোটেল, সৌদি আরবে গাইড, পরিবহণ ইত্যাদি সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে গিয়ে মুসল্লিরা এর কোনোটিই পান না। ফলে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। তাই প্রতারক হজ এজেন্সি, হজ গ্রুপ থেকে সাবধান থাকা জরুরি।

এ দিকে বাংলাদেশ থেকে উমরার যাত্রী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হতে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হাবের কর্মকর্তারা।

ইতোমধ্যে বেশিরভাগ উমরা এজেন্সি লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করলেও এখনও বৈধ উমরা এজেন্সির তালিকা প্রকাশ হয়নি। বৈধ এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। সেখান থেকে অ্যাপ্রোভাল আসার পর উমরার কাজ শুরু করতে পারবে এজেন্সিগুলো।

আপনার মতামত লিখুন :