‘সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ড গঠন জরুরি’

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশে গ্র্যান্ড মুফতি প্রসঙ্গে আলেমদের অভিমত, ছবি: বার্তা২৪.কম

বাংলাদেশে গ্র্যান্ড মুফতি প্রসঙ্গে আলেমদের অভিমত, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

‘বাংলাদেশে গ্র্যান্ড মুফতি নিয়োগের দাবি’র প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রাজ্ঞ আলেম, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আলেম-উলামা ও ইসলামবিষয়ক জনপ্রিয় কয়েকজন লেখকের মতামত। এসব মতামতে ওঠে এসেছে ‘ফিকহে ইসলামিতে বিশেষজ্ঞ মুফতিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় ফতোয়া বোর্ড গঠন এবং ইলম ও আমলে জ্যেষ্ঠ মনীষীকে ‘প্রধান মুফতি’ মনোনয়ন করা।

ড. মাওলানা শামসুল হক সিদ্দিক
চেয়ারম্যান, আবহাস এডুকেশনাল এন্ড রিসার্চ সোসাইটি
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি সুপ্রিম ফতোয়া বোর্ড এবং একজন গ্র্যান্ড মুফতির নিয়োগ অপরিহার্য হয়ে ওঠেছে।

কোনো বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক হতে পারে, হওয়া স্বাভাবিক। মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনা, অভিজ্ঞতা, পরিবেশ-পরিস্থিতি, ব্যক্তিমানসের বিভিন্নতা ইত্যাদি তর্ক-বিতর্ক জিইয়ে রাখার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বুদ্ধির উৎকর্ষ সাধনের জন্যও চিন্তার স্বাধীনতা তথা তর্ক-বিতর্কের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকা প্রয়োজন। তবে তর্ক-বিতর্কের বিষয়টি একাডেমিক পর্যায়ে সীমিত রাখা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে ধর্মীয় বিষয়ের বির্তক সর্বসাধারণের পর্যায়ে নিয়ে এলে ধর্ম বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়। এমনকি অনেকের অন্তরে ধর্ম বিষয়ে অনীহা ও বিতৃষ্ণা তৈরি হতে শুরু করে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বিভিন্ন দেশে গ্র্যান্ড মুফতির পদ তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন এই পদটি ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে মতানৈক্য নিরোধ করে সাধারণ মানুষের ধর্মচর্চা অনেক সহজ করে দিয়েছে।

যেমন বর্তমান প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ আবদুল্লাহ আলে শায়খ, মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি শাওকি ইবরাহিম আবদুল কারিম আল্লাম- জুমা, জামাত, তারাবি ও ঈদের নামাজ ঘরে পড়া হবে নাকি মসজিদে পড়া হবে, মসজিদ খোলা কি বন্ধ থাকবে- এ ব্যাপারে তাদের কথাই চূড়ান্ত।

অবশ্য গ্র্যান্ড মুফতিকে সহায়তার জন্য একটি সুপ্রিম ফতোয়া বোর্ড রয়েছে। এই বোর্ডের সদস্যদের পরামর্শক্রমেই গ্র্যান্ড মুফতি ফতোয়া চূড়ান্ত করেন। মিসরের সুপ্রিম ফতোয়া বোর্ডটি ‘দারুল ইফতা আল মিসরিয়াহ’ নামে ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রথম গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ পান শায়খ হাসসুনা আন নাওয়াবি। আর সৌদি আরবের সুপ্রিম ফতোয়া বোর্ডটি ‘আল লাজনা আল ইলমিইয়্যা লিলবুহুস ওয়াল ইফতা’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে। সৌদিতে প্রথম গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ পান- শায়খ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আলে শায়খ।

ফতোয়া বিষয়ে আমাদের দেশে যে নৈরাজ্য ও উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ চলছে, এ অবস্থায় সরকারিভাবে একটি সুপ্রিম ফতোয়া বোর্ড এবং মন্ত্রীর পদমর্যায় একজন গ্র্যান্ড মুফতি নিয়োগ দেওয়া অপরিহার্য হয়ে ওঠেছে।

রশীদ জামীল
কলাম লেখক ও বহু গ্রন্থ প্রণেতা
গ্র্যান্ড মুফতির প্রয়োজন আছে কি না- তারও আগে যে প্রশ্নটি সামনে আসবে এবং অমীমাংসিত থেকে যাবে, তা হলো- তিনি কীভাবে বা কাদের দ্বারা নির্ধারিত হবেন! আমার ধারণা, তার নিয়োগ-বিধি বা মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েই কিয়ামতের আগে একমত হওয়া যাবে না।

একজন গ্র্যান্ড মুফতি অথবা একটি জাতীয় ফতওয়া বোর্ড থাকা দরকার; নীতিগতভাবে এই পয়েন্টে কারোই দ্বিমত আছে বলে মনে হয় না। তেমন কিছু একটা থাকলে শরয়ি বিষয়ে অবিভক্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যেত। অন্তত সাম্প্রতিক পনেরো, সত্তর এবং তিনশ তেরো’র অস্বস্থিকর বিবৃতি পাল্টা বিবৃতির পর কেউ যদি ফতওয়া বোর্ড বা গ্র্যান্ড মুফতির ব্যাপারটাকে জরুরতে মুয়াক্কেদা আলাল কেফায়া বলে ফতওয়া দেন, আমি সেটাকে চোখ বন্ধ করে সমর্থন জানাবো।

আমাদের জাতিগত একটি সমস্যা হলো- আমরা সবসময় সমাধানের মধ্যেই নতুন করে সমস্যা তৈরি করি। যিনি বড়, ভাবি সব বিষয়ে তিনি বলবেন এবং তিনি যা বলবেন- সেটাই হবে শেষ কথা। অথচ উচিত ছিল যেটা যার বিষয়, তিনিই সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন। এখানে সিনিয়রিটি-জুনিয়রিটির সূত্র প্রয়োগ করা হবে না। কেউ দেশের প্রসিদ্ধ শায়খুল হাদিস। তার মানে এই নয় যে, ‘ত্রিভূজের তিন কোণের সমষ্টি দু সমকোণ’- জ্যামিতির এই সূত্রটিও তাকে ব্যাখ্যা করতে হবে এবং এ ব্যাপারে তাকেই ফতওয়া দিতে হবে!

যে কথাটি বললে অনেকেই কপালে ভাঁজ ফেলে আমার দিকে তাকাবেন, আমরা আমাদের মাথায় একটি বিষয় সেট করে বসে আছি, যিনি যতবড় বুজুর্গ, তার ফতোয়া ততোবেশি মজবুত হবে। দেশের শীর্ষ কিছু আলেম যদি কোনো ফতোয়া দেন, তাহলে সেটার ওপরে আর কোনো কথা থাকবে না! কেউ আমাদের বুঝিয়ে বলে না- বড় মুহাদ্দিস, বড় মুফাসসির বা বড় বুজুর্গ হওয়া এক জিনিস, আর মুফতি হওয়া অন্য জিনিস। যার কাজ তারই সাজে, অন্যে করলে ভেজাল বাড়ে!

শীর্ষ আলেমরা জাতীয় ব্যাপারে কথা বলবেন। শরয়ি মাসয়ালা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে ফতোয়া বোর্ড সিদ্ধান্ত দেবে। অন্যরা তার আলোকে কথা বলবেন। এমনটাই তো হওয়া উচিত ছিল। তাহলে অন্তত সময় সময় জাতিকে বিব্রত হতে হতো না।

ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন রব্বানী
সহকারী অধ্যাপক, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
প্রধান মুফতির পদটি মুসলিম রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। সর্বশেষ ইসলামি খিলাফত ওসমানী আমলে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ পদ সৃষ্টি করা হয়। ভারত উপমহাদেশে মুঘল আমল পর্যন্ত গ্র্যান্ড মুফতির পদ বহাল ছিলো। সর্বশেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর শাহ ফযলে রাসূল কাদরি বাদাউনিকে (১৭৯৮-১৮৭২) মুঘল সম্র্রাজ্যের প্রধান মুফতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্র্যান্ড মুফতি রয়েছেন। এমনকি অনেক অমুসলিম দেশেও এ পদ রয়েছে। আমরা মুফতি ইসমাঈল মেনকের নাম উল্লেখ করতে পারি। তিনি জিম্বাবুয়ের গ্র্যান্ড মুফতি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন কারণে সর্বমহলে নির্ভরযোগ্য একজন গ্র্যান্ড মুফতির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশেষত তিনি উলামায়ে কেরামের ঐক্যসহ সর্বাবস্থায় ইসলামের পক্ষে একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে কাজ করবেন। ইসলাম সম্পর্কে অপপ্রচার, ভুল ধারণা ও বিষোদগারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মোকাবেলা করতে কাজ করেবেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে ঊর্ধ্বে রেখে সকলের নির্ভরতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারবেন।

অতএব যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, দক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা সবকিছু ঠিক রেখে এমন একটি দায়িত্বশীল পদ সৃষ্টি করতে পারলে এদেশের মুসলিম জনসাধারণ তো বটেই- আলেম-উলামা ও সরকারের জন্য তা ইতিবাচক হবে।

মাওলানা জামীল আহমাদ
মুহাদ্দিস, দারুল উলুম রামপুরা বনশ্রী মাদরাসা ঢাকা
বাংলাদেশ। আমাদের প্রিয় এ ভূখণ্ডটি অনেক দেশের তুলনায় ছোট, যদিও লোকসংখ্যা বেশি। এদেশের অধিকাংশ মানুষ ইসলামের প্রতি দুর্বল। এ অঞ্চলের মানুষকে দ্বীন বুঝানো অনেক সহজ। তথাপি এদেশের উলামায়ে কেরাম সার্বজনীন ও দ্বীনের কল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বরাবরই দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পিছিয়ে থাকেন। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও মুসলিম সোসাইটিতে একজন থাকেন সর্বজন বরিত, তার কথাই শিরোধার্য হয়। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও কখনও সাহাবি হজরত সাদ বিন মুয়ায (রা.)-এর পরামর্শ মেনে নিয়েছেন। হজরত উমর (রা.) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কে ডানে বসিয়ে দেশ পরিচালনা করেছেন। হজরত যায়েদ বিন হারেসা (রা.)-এর ফতোয়াকে মাথা পেতে নিয়েছেন। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) খালকে কোরআনের মাসয়ালায় দিয়েছেন নেতৃত্ব।

আমরা কেন পারি না এমন একজনকে গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে মেনে নিতে? আমরা সবাই যেন এ ব্যাপারে একমত হয়ে গেছি যে, আর যাই হোক কোনোভাবেই ঐক্যমত পোষণ করা যাবে না, এক প্লাটফর্মে আসা যাবে না। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে বড়োই প্রয়োজন একজন দূরদর্শী রাহবারের। যার মেধা, পাণ্ডিত্য, দূরদর্শিতা ও কৌশলী সিদ্ধান্ত জাতির আস্থা জোগাবে। ছোটখাটো মতভেদ ভুলে তাকেই আপন করে নেবে। সবাই একসুরে গাইবে সাম্যের গান।

মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী
খতিব, বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মিরপুর, ঢাকা
সৌদি আরবসহ বিশ্বের বহু মুসলিম দেশে গ্র্যান্ড মুফতি রয়েছে। বিভিন্ন অস্থিরতা ও সঙ্কটকালীন মুহূর্তে তাদের একটি ফতোয়ায় পাল্টে যায় গোটা দেশের দৃশ্যপট। সমকালীন ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের দেশের মান্যবর মুফতিদের মতপার্থক্যপূর্ণ ফতোয়ায় বেশি বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষ। তারা আলেমদের মত পার্থক্য দেখে সিদ্ধান্তহীনতার রোগে ভোগেন। এগুলো নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচুর সমালোচনা হয়। পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুফান বইতে থাকে। দিন দিন এসব কারণে এলিট সোসাইটি থেকে শুরু করে নিম্নমহল পর্যন্ত আলেমদের ব্যাপারে ভুল বার্তা যায়।

ইসলাম ফোবিয়ায় ভুগতে থাকা মানুষেরা আলেমদের নিয়ে ট্রল করে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশে একজন প্রধান মুফতি বা গ্র্যান্ড মুফতি প্রয়োজন। যিনি ধর্মীয় ক্ষেত্রে আপামর জনসাধারণের আস্থার প্রতীক হবেন, দেশসেরা মুফতিদের মেধা, মনন ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে বাস্তবতার নিরিখে বিবাদমান ইস্যুগুলোর সঠিক সমাধান দেবেন। সুতরাং সরকারের উচিত গ্রহণযোগ্য একজন মুফতিকে গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া।

এক্ষেত্রে সরকারকেও ভিন্নমত গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হবে। ‘সব ফতোয়া সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুসারে হতে হবে’ এমন মনোভাব সরকারের থাকলে গ্র্যান্ড মুফতির পদটি হাস্যকর পদে পরিণত হয়ে আস্থার শূন্যতা সৃষ্টি হবে। সুতরাং সার্বিক কল্যাণের জন্য গ্র্যান্ড মুফতি নিয়োগ দিয়ে সরকারকেই গ্র্যান্ড মুফতির সম্মান ও আস্থা রক্ষায় বদ্ধপরিকর হতে হবে।

শফকত হোসাইন চাটগামী
পরিচালক, দারুল কারীম মাদরাসা বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশে ধর্মীয় বিষয়গুলো সমাধানে যেভাবে সিদ্ধান্তহীনতা দেখা যায়, তা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন ইসলামি রাষ্ট্র ও দেশে একজন গ্র্যান্ড মুফতি তথা ধর্মীয় বিষয় সমাধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকেন। বাংলাদেশেও একজন গ্র্যান্ড মুফতি এই মুহূর্তে বেশি প্রয়োজন। সরকার উদ্যোগ নিয়ে আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি সুরাহা করতে পারেন। এতে করে আগামীতে ধর্মীয় ইস্যুতে তার নেতৃত্বেই সব কিছুর চূড়ান্ত ফায়সালা হবে।

মুফতি মুনীরুল ইসলাম
সহকারী পরিচালক, মাদরাসা কাসিমুল উলুম গাজীপুর
গ্র্যান্ড মুফতি হলে ইখতিলাফ কমে আসবে। আমাদের বহু-বিভক্তের দেশে এর চেয়ে উত্তম কাজ আর হতে পারে না। এটা হওয়া জরুরি। তার আগে অনৈক্যের দেশে গ্র্যান্ড মুফতি বানাতে আবার ঐক্য দরকার। এটা এমন হতে পারে- সব মতের আলেমদের নিয়ে নির্বাচিত ব্যক্তিকে সরকারিভাবে অনুমোদন দেওয়া। তাতে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ধর্মীয় বিষয়াদী সম্পর্কে মেনে নিতে সহজ হবে।

মাওলানা মুইনুল ইসলাম
শিক্ষক, জামিয়াতুস সুন্নাহ, শিবচর, মাদারীপুর
পৃথিবী ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। মানুষের মাঝে বাড়ছে অনৈক্য, বিভেদ- বিদ্বেষও। ‘ঐক্য’ ইসলামের মূল বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। ‘বিচ্ছিন্ন হয়ো না’ কোরআনের অমোঘ আহবান। মানুষের মাঝে বিভেদ কমাতে, ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দুতে মানুষকে একত্রিত করতে সর্বজনমান্য একক ব্যক্তিত্বের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও প্রতিষ্ঠা একটি সুন্দর পন্থা। ধর্মীয় সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রেও দেশভিত্তিক এই পন্থা কার্যকর করা গেলে মানুষ বহু বিষয়ে অস্পষ্টতা ও সিদ্ধান্তহীনতা- ফলত নানা অস্থিরতা থেকে বেঁচে যাবেন। এজন্য আমাদের দেশে যদি ইসলামি সকল ঘরানার সমন্বিত উদ্যোগে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় একজন মুফতিয়ে আজম বা গ্র্যান্ড মুফতি নির্বাচন করা যেতো, তাহলে এ জাতির বড়ই উপকার হতো।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশে গ্র্যান্ড মুফতি নিয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে

‘গ্র্যান্ড মুফতির পদ সৃষ্টি সময়ের দাবি’